যথাযথ ভাব গাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে লস অ্যাঞ্জেলেসে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত

February 24, 2011, 11:44 AM, Hits: 1612

 যথাযথ ভাব গাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে লস অ্যাঞ্জেলেসে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত

 

সাকিল আলম : হ-বাংলা নিউজ  : লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে : কবির কলমের কালি নয়, তার এই পংতির জম্ম যেন তার রক্তের অক্ষরে লেখা আমাদের বায়ান্নর মহান একুশ। আমাদের অজড় অমর স্বতন্ত্র অস্তিত্বের একুশ। মাথা না নোয়াবার দিন একুশ।  অমর একুশে ফেব্রয়ারী।  মহান শহীদ দিবস যা পেয়েছে বিশ্ব স্বীকৃতি। পরিচিতিতে যোগ করেছে আরেকটি বিশেষণ-শিরোনামে যা আজ আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস।

100_0892_-_L_A_-_21-_SaKiL


ফেব্রুয়ারি এলেই প্রতিটি বাঙালির বুকের ভেতর বেজে উঠবে আলতাফ মাহমুদের সেই সুরে আবদুল গাফফার চৌধুরীর লেখায় সেই চির অমস্নান গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি’- অবিস্মরণীয় এ গানের সাথে নগ্নপায়ে প্রভাত ফেরীর মাধ্যমে শ্রদ্ধাঞ্জলী প্রদর্শন করা হয় -ভোলেনি বাঙ্গালি। সালাম, বরকত বুকের রক্ত ঝরানো বেদনা-বিধুর একটি দিন। যতকাল বাংলা থাকবে, বাঙালি থাকবে, ততকাল  কালো ব্যাচ পরে নগ্ন পায়ে শিশিরসিক্ত পথ মাড়িয়ে আবালবৃদ্ধবনিতা সমবেত হবে শহীদ বেদীতে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য।

ভাষাশহীদদের শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নিরবতা পালনের মধ্য দিয়ে সভার কার্যক্রম শুরু হয়।১৯৫২ সালের এই দিনে (৮ ফাল্গুন, ১৩৫৯) বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে আন্দোলনরত ছাত্রদের ওপর পুলিশের গুলিবর্ষণে শহীদ হন সালাম, বরকত, রফিক জব্বার। মায়ের মুখের ভাষার মর্যাদা রাখতে বুকের রক্ত ঢেলে বাঙ্গালি যে ইতিহাস রচনা করেছিল, তাই আজ স্বীকৃতি পেয়েছে বিশ্ব দরবারে। বাঙ্গালির অমর একুশে আজ বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসাবে। বিশ্বের সকল জাতির মাতৃভাষা রক্ষার দিন হিসাবে জাতিসংঘ বেছে নেয় এই দিনটিকে।’মাগো, ওরা বলে, সবার কথা কেড়ে নেবে/ তোমার কোলে শুয়ে/ গল্প শুনতে দেবে না। বলো, মা তাই কি হয়? তাইতো আমার দেরী হচ্ছে, তোমার জন্যে কথার ঝুড়ি নিয়ে, তবেই না বাড়ী ফিরবো,  মায়ের সে মান রেখেছিল দেশের অকুতোভয় ভাষা সৈনিকরা। লস অ্যাঞ্জেলেসের  বাংলদেশীরা শহীদ বেদিতে ফুল দিয়ে তাদের প্রাণের ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন ।

মধ্যরাত পর্যন্ত চলে একুশের অনুষ্ঠান। এই আয়োজন,ধর্ম, বর্ণ পেশা, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে শহীদদের স্মরণে অংশ নেয় প্রভাত ফেরিতে শিশুরাও যোগ দেয়। নারী, শিশু, তরুণ-তরুণী, শিক্ষক-শিক্ষিকা, ছাত্রছাত্রী, ব্যবসায়ী, পেশাজীবী, সমাজকর্মী, সাংস্কৃতিক কর্মী, রাজনীতিবিদ সবাই এখানে একাকার। হাতে ছিল লাল, সাদা, নীল, বেগুনী, গোলাপিসহ নানা রঙের ফুল। বিদেশীদের শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

 


 
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ