শুভ নববর্ষ ১৪১৮ : নববর্ষে সবাইকে হলিউড বাংলার শুভেচ্ছা

April 14, 2011, 11:41 AM, Hits: 1391

শুভ নববর্ষ ১৪১৮ : নববর্ষে সবাইকে হলিউড বাংলার শুভেচ্ছা


<font color=


'এসো হে বৈশাখ, এসো এসো/তাপস নিঃশ্বাস বায়ে মুমূর্ষূরে দাও উড়ায়ে/বৎসরের আবর্জনা দূর হয়ে যাক.../মুছে যাক গ্লানি ঘুচে যাক জরা/অগি্নস্নানে শুচি হোক ধরা।' শাশ্বত সেই শুচিশুভ্রতার স্বপ্নে অতীতের জীর্ণ মালিন্যকে পেছনে ফেলে আজ নতুন বছরকে বরণ করে নেয়ার দিন। নতুন স্বপ্নের হালখাতা খোলার দিন। তাই নববর্ষ বাঙালি ঐতিহ্যের অহঙ্কার।

আজ পহেলা বৈশাখ। বাংলা ১৪১৮ সনের প্রথম দিন। ধর্ম এবং সামাজিক ও ভৌগোলিক অবস্থান নির্বিশেষে বিশ্বব্যাপী ছড়াইয়া থাকা বাঙালি জনগোষ্ঠীর একমাত্র সর্বজনীন উৎসবের দিনও বটে। পহেলা বৈশাখের সহিত বাঙালির নাড়ির সম্পর্ক। এই সম্পর্ক যেমন আবহমানকালের, তেমনি তাহা কেবল বাংলাদেশের সীমানার মধ্যে আবদ্ধ নহে। বাংলাদেশ ছাড়াও পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও ত্রিপুরায় ব্যাপকভাবে এই দিনটি উদযাপিত হয়। শুধু তাহাই নহে, দেশের বাহিরে বসবাসরত বিপুল সংখ্যক বাঙালির মাধ্যমে বাংলা নববর্ষের আমেজ ছড়াইয়া পড়িয়াছে বিশ্বব্যাপী। আমেরিকা, ব্রিটেন, সুইডেন ও অস্ট্রেলিয়াসহ বিশ্বের দেশে দেশে সাড়ম্বরে উদযাপিত হয় বাংলা নববর্ষ। চার শতাধিক বৎসর আগে মুঘল সম্রাট আকবরের প্রবর্তিত বাংলা বর্ষপঞ্জি সম্পর্কেও একই কথা প্রযোজ্য। আমাদের দেশে সরকারি-বেসরকারি প্রায় সকল কার্যই ইংরেজি বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী সম্পাদিত হইলেও বাংলা বর্ষপঞ্জির সহিত জনগণের হূদয়ের বন্ধন এখনও অটুট। চর্যাপদ কিংবা খনার বচন হইতে শুরু করিয়া সামপ্রতিক সাহিত্যে শুধু নহে, আমাদের কৃষি উৎপাদন এবং ঋতুবৈচিত্র্যেও তাহা উজ্জ্বলভাবে প্রতিভাত।

পহেলা বৈশাখের তাৎপর্য যে শুধু বর্ষবিদায় কিংবা বর্ষবরণের মধ্যে সীমিত নহে তাহাও বলার অপেক্ষা রাখে না। একদা গ্রাম-বাংলার কৃষি ও হালখাতাকেন্দ্রিক এই লোক উৎসবটি বহু আগেই দখল করিয়া লইয়াছে আপামর বাঙালির চিত্ত। রচনা করিয়াছে গ্রাম ও নগরের মধ্যে এক দুর্লভ সেতুবন্ধন। এখন পহেলা বৈশাখে উৎসবমুখর হইয়া উঠে সমগ্র দেশ। খোদ রাজধানীতেও মানুষের ঢল নামে। ঘরে ঘরে চলে উষ্ণ শুভেচ্ছা ও উপহার বিনিময়। আমাদের সমাজ ও রাজনীতিতে অনৈক্য ও অসহিষ্ণুতা যে ক্রমেই বাড়িয়া চলিয়াছে তাহা অস্বীকার করিবার উপায় নাই। প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাহার অশুভ প্রভাবও অস্পষ্ট নহে। এই প্রেক্ষাপটে পহেলা বৈশাখের তাৎপর্য এক কথায় অপরিসীমই বলা যায়। দল-মত, ধর্ম ও সামাজিক অবস্থান নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষকে একসূত্রে গ্রথিত করার জাদুকরী ক্ষমতা রহিয়াছে পহেলা বৈশাখের। ইহার মূলে রহিয়াছে ঐক্য, সমপ্রীতি ও সহিষ্ণুতার এক কালোত্তীর্ণ চেতনা। এই চেতনা বাংলার মাটি হইতেই উদ্গত। ইহার শিকড় মাটির অনেক গভীর অবধি বিস্তৃত। ফলে প্রতিকূলতার নানা ঝড়-ঝাপটা সত্ত্বেও পহেলা বৈশাখের আবেদন কখনই মলিন হয় নাই, বরং তাহা আমাদের সাংস্কৃতিক চেতনার অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হইয়াছে। প্রেরণা জোগাইয়াছে রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও।

একটি বৎসর গত হইয়াছে, সূচনা হইয়াছে নূতন একটি বৎসরের। স্বাভাবিকভাবেই যেই প্রত্যাশাটি সবকিছুকে ছাপাইয়া উঠে তাহা হইল বিগত বৎসরের যাবতীয় ভুল-ভ্রান্তি, সংকীর্ণতা ও হানাহানির অবসান হইবে। শান্তি, সমপ্রীতি ও মানবিকতার আলোয় উদ্ভাসিত হইবে সমগ্র দেশ। তবে পহেলা বৈশাখের ক্ষেত্রে এই প্রত্যাশার সহিত নূতন মাত্রা যোগ করিয়াছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের মতো মহান কবিরা। তাহারা বৈশাখের রুদ্ররূপের মধ্যে পরিবর্তন ও প্রগতির পূর্বাভাস প্রত্যক্ষ করিয়াছেন। বৈশাখ যেমন ধূলিধূসর জরাজীর্ণ প্রকৃতিকে ঝাড়িয়া-মুছিয়া তাহাতে নূতন জীবনের সঞ্চার করে, তদ্রূপ বাংলা নববর্ষও আমাদের শত সমস্যাকণ্টকিত জাতীয় জীবনে নূতন আশা ও উদ্দীপনার সঞ্চার করুক_ইহাই প্রত্যাশা। 'মুছে যাক গস্নানি ঘুচে যাক জরা/অগি্নস্নানে শুচি হউক ধরা'_বাংলা নববর্ষের সূচনালগ্নে দেশ কালোত্তীর্ণ এই প্রার্থনা আমাদেরও।

হলিউড থেকে প্রকাশিত প্রথম ও একমাত্র দৈনিক ও জনপ্রিয় বাংলা অনলাইন পত্রিকা হলিউড বাংলার  এর পক্ষে ১৪১৮ বাংলা নববর্ষে সকল পাঠক-লেখক-শুভানুধ্যায়ী সহ বাংলাদেশ, ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা তথা বিশ্ববাসী সকলকে শুভাশীষ জানিয়েছেন  সাঈদ আবেদ (নিপু) - শুভ নববর্ষ।

 

 

 

 

 
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ