'লাদেনের লাশ দেখতে চাই'

May 5, 2011, 2:49 PM, Hits: 2594

'লাদেনের লাশ দেখতে চাই'


 

alt

হ-বাংলা নিউজ  : পাকিস্তানের এবোটাবাদে আমেরিকান কমান্ডোদের অভিযানে নিহত ওসামা বিন লাদেনের মৃতদেহের ছবি প্রকাশ করবে না যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন টেলিভিশন সিবিএসকে এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা গতকাল এ সিদ্ধান্ত জানান। সিবিএসের খবরে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট ওবামা নিহত লাদেনের মৃতদেহের ছবি প্রকাশ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সিবিএস টেলিভিশনে ওবামার এই সাক্ষাৎকার প্রচার হবে আগামী রোববার। লাদেনের লাশের ছবি দেখতে বিশ্ববাসী উদগ্রীব থাকলেও হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র জে কারনি নিশ্চিত করে বলেছেন, বীভৎস ছবি প্রকাশ করা হবে না।
এদিকে নিহত হওয়ার সময় আল কায়দা নেতা ওসামা বিন লাদেনের হাতে কোনো অস্ত্র ছিল না। নেভি সিলস নামের মার্কিন কমান্ডো বাহিনী নিরস্ত্র অবস্থায় তাকে ধরে গুলি করে হত্যা করেছে। লাদেনের সঙ্গে থাকা তার ১২ বছরের মেয়ে পাকিস্তানি তদন্তকারীদের কাছে এ তথ্য ফাঁস করেছে বলে গতকাল আল আরাবিয়া টেলিভিশনের খবরে বলা হয়। লাদেন হত্যার অভিযানের বিষয়ে মার্কিন প্রশাসনের সর্বশেষ বর্ণনাও ঠিক এ রকমই। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র জে কারনি মঙ্গলবার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান, কমান্ডোরা যখন তাকে (লাদেনকে) গুলি করে হত্যা করে, তখন তার হাতে কোনো অস্ত্র ছিল না। যে কক্ষে লাদেন ছিলেন, সেখানে একজন মহিলাও ছিলেন, তিনি তার স্ত্রী। তিনি লাদেনের সামনে মানব ঢাল তৈরি করতে কমান্ডোদের দিকে ছুটে যান এবং গুলিবিদ্ধ হন। তবে তিনি মারা যাননি। অথচ লাদেন নিহত হওয়ার পর সোমবার স্থানীয় সময় বিকেলে মার্কিন ডেপুটি ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাডভাইজর জন ব্রেনান বলেন, সন্ত্রাসী (লাদেন) অন্য কয়েকজনসহ নেভি সিলসের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে লিপ্ত হন। একই দিন পেন্টাগনের এক কর্মকর্তা জানান, নেভি সিলস বাড়িতে যখন হানা দিয়েছিল, তখন তিনি (লাদেন) সেখানে ছিলেন। এ সময় তিনি এক মহিলাকে মানব ঢাল বানিয়ে ছিলেন, যেন তার পক্ষে গুলি করা সহজ হয়। মহিলার পেছনে থেকে তিনি গুলি চালান। ওই মহিলা লাদেনের স্ত্রী এবং বন্দুকযুদ্ধে তিনিও নিহত হন। তবে হোয়াইট হাউস মুখপাত্র জে কারনির বক্তব্য অনুযায়ী অভিযানের সময় লাদেন নিরস্ত্র থাকলেও তাকে হত্যা করা আইনসঙ্গতই ছিল বলে গতকাল মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল এরিক হোল্ডার বলেছেন।
এদিকে মার্কিন প্রশাসনের এ ধরনের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের সুযোগে লাদেনের মৃত্যু নিয়ে বিভিন্ন মহলে সন্দেহ দেখা দেয়। তার মৃত্যুর প্রমাণ চেয়েছে আফগানিস্তানের তালেবান। তার লাশের ছবি দেখতে উদগ্রীব বিশ্ববাসী। মঙ্গলবার নিজস্ব ওয়েবসাইটে দেওয়া এক বিবৃতিতে তালেবান বলেছে, লাদেনের মৃত্যু নিয়ে কোনো মন্তব্যের সময় এখনও হয়নি। বিবৃতিতে বলা হয়, 'লাদেন নিহত হয়েছেন বলে যে দাবি আমেরিকা করেছে, তার কোনো প্রমাণ তারা দেখাতে পারেনি এবং ওসামা বিন লাদেনের ঘনিষ্ঠ সূত্র তার শহীদ হওয়ার খবর নিশ্চিতও করেনি, অস্বীকারও করেনি। সেহেতু এ মুহূর্তে তার মৃত্যু নিয়ে কোনো বিবৃতি দেওয়া আমরা সঙ্গত মনে করছি না।'
এ অবস্থায় লাদেনের মৃতদেহের ছবি প্রকাশ করা নিয়েও পরস্পরবিরোধী বক্তব্য আসছে মার্কিন প্রশাসনের তরফে। মঙ্গলবার প্রেস ব্রিফিংয়ে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র জে কারনি বলেন, লাদেনের মৃতদেহ ছিল অত্যন্ত বীভৎস। এর আগে মৃতদেহের ছবি প্রকাশ করা হবে
কি-না সে বিষয়ে আলোচনা চালাচ্ছেন প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তবে একই দিন মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ প্রধান লিওন প্যানেট্টা বলেন, লাদেনের মৃতদেহের ছবি শিগগিরই প্রকাশ করা হবে। এমনকি বিভিন্ন সূত্রের খবরে বলা হয়, আরব সাগরে লাদেনকে সমাহিত করার ভিডিওচিত্রও প্রকাশ করতে পারে হোয়াইট হাউস। মার্কিন প্রশাসনের তরফে এবোটাবাদের সেই বাড়িতে ৪০ মিনিটের কমান্ডো অভিযানের বিবরণে ঘণ্টায় ঘণ্টায় পরিবর্তন আসায় এমন দাবিও উঠেছে যে লাদেন আসলে নিহত হননি। তিনি এখনও বেঁচে আছেন। তবে লাদেনের মৃতদেহের ছবি প্রকাশের অনুমতি দিতে এখনও ইতস্তত প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। কারণ মৃতদেহটি সম্পূর্ণ রক্তাক্ত এবং ক্ষতবিক্ষত। এ ধরনের বীভৎস ছবি প্রকাশ অনৈতিক হতে পারে। অবশ্য রোববার গভীর রাতের অভিযানে লাদেন নিহত হওয়ার পর সোমবার পাকিস্তানের টেলিভিশনে একটি ভুয়া ছবি প্রকাশ করা হয়। বিষয়টি লাদেনের নিহত হওয়ার বিষয়ে সন্দেহের সূত্রপাত ঘটায়। তবে মঙ্গলবার রাতে সিআইএ পরিচালক লিওন প্যানেট্টা জানান, লাদেনের মৃতদেহের ছবি আমেরিকার হাতে আছে। তার চোখের নিচে এবং হৃৎপিণ্ডে বুলেটের বিশাল গর্ত রয়েছে। এ ছাড়া তার বাড়িতে কমান্ডো অভিযান এবং তার মৃতদেহ সাগরে সমাহিত করার ভিডিওচিত্রও আছে। মৃতদেহের ছবি শিগগিরই প্রকাশ করা হবে। এনবিসির নাইটলি নিউজে কথা বলার সময় প্যানেট্টা আরও বলেন, 'মৃতদেহের ছবি কতটা শালীন করে প্রকাশ করা যায়, সে বিষয়ে আলোচনা চলছে। আমি ছবি দেখেছি। ছবি প্রকাশ করা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।' এর কিছুক্ষণ আগে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র জে কারনি বলেন, লাদেনের মৃতদেহের ছবি অত্যন্ত বীভৎস এবং তা প্রকাশ করা হলে জনমনে ক্ষোভ দানা বাঁধতে পারে। তবে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বিশ্লেষকরা বলেছেন, এমনকি মৃতদেহের ছবি প্রকাশ করা হলেও লাদেনের মৃত্যু নিয়ে বিতর্ক থামবে না। কারণ জীবিত লাদেন যেমন ছিলেন অনেক বিতর্কের হোতা, মৃত লাদেনও এর ব্যতিক্রম হবেন না।
ঊধ্বর্তন মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা সিএনএনকে জানান, লাদেনের মৃতদেহের তিন সেট ছবি তাদের হাতে রয়েছে। প্রথম সেট তোলা হয় অভিযানের সময়। এতে দেখা যায়, দুই মৃত ভাই এবং লাদেনের নিহত ছেলেকে। দ্বিতীয় সেট ছবি সবচেয়ে বেশি শনাক্তযোগ্য। লাদেনের মৃতদেহের এ ছবি তোলা হয় একটি আফগান বিমানঘাঁটিতে। এ ছবিতে তার মাথাকে দেখা যায় ক্ষতবিক্ষত। তবে এতে তার মুখমণ্ডলের ছবি সবচেয়ে বেশি স্পষ্ট। তৃতীয় সেট ছবি তোলা হয় আরব সাগরে মার্কিন যুদ্ধবিমানবাহী জাহাজ ইউএসএস কার্ল ভিনসনে। এতে গোসল করানোর পর কাফনের কাপড় পরানো লাদেনকে দেখা যায় তার সলীল সমাধির দিকে নামানোর সময়।
প্রমাণ চায় তালেবান
তালেবান মুখপাত্র জবিউল্লাহ মুজাহিদ মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে বলেন, এ খবর (লাদেন নিহত হওয়ার) আসছে একতরফাভাবে, ওবামার দফতর থেকে। কিন্তু আমেরিকা তাদের দাবির সপক্ষে কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেনি। অন্যদিকে ওসামা বিন লাদেনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সূত্র তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিতও করেনি, অস্বীকারও করেনি। এ কারণে 'ইসলামিক আমিরাত' (আফগান তালেবান) এ বিষয়ে এখনই কোনো মন্তব্য করাটাকে সমীচীন মনে করছে না। যদিও পাকিস্তানি তালেবান (তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান) এরই মধ্যে লাদেন হত্যার বদলা নিতে আমেরিকা ও পাকিস্তানে হামলা চালানোর ঘোষণা দিয়েছে। তাদের হিটলিস্টের শীর্ষে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি। ইয়েমেনের আল কায়দাও গতকাল লাদেন হত্যার বদলা নেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে। এ অবস্থায় লাদেনের মৃত্যু নিয়ে নানা মন্তব্য ছুড়ছেন ব্লগাররাও। কেউ কেউ বলছেন, লাদেন অনেক আগেই মারা গেছেন; সম্ভবত লিভার বা কিডনি রোগে। কেউ বলছেন, সম্ভবত ২০০১ সালে আফগানিস্তানের তোরাবোরা পাহাড়ে মার্কিন হামলায় তার মৃত্যু হয়েছে। আবার কারও কারও মন্তব্য, সম্ভবত অন্য যে কোনো সময় তিনি নিহত হয়েছেন; কিন্তু সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ অব্যাহত রাখার অজুহাত হিসেবে আমেরিকা তার মৃত্যুর খবর গোপন রেখেছে। আর মার্কিনরা এ মুহূর্তকে তার মৃত্যুর খবর প্রচারের সঠিক সময় বলে বেছে নিয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, ওবামা আমেরিকায় জন্ম নেননি, কাজেই তিনি আমেরিকার বৈধ প্রেসিডেন্ট নন_ এ বিতর্ককে চাপা দিতেই লাদেনের মৃত্যু খবর প্রচারের জন্য এ মুহূর্তটি বেছে নেওয়া হয়েছে। লাদেন অনেক আগেই মারা গেছেন, এ ধারণার সঙ্গে একমত যুদ্ধবিরোধী মার্কিন মানবাধিকারকর্মী সিন্ডি শিহানেরও। নিজের ফেসবুকে শিহান লিখেছেন, লাদেনের মৃত্যুর নতুন খবরটি যদি আপনি বিশ্বাস করেন, তাহলে আপনি একজন স্টুপিড। শিহানের প্রশ্ন, যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে এত দ্রুত লাদেনের ডিএনএ টেস্টের রেজাল্ট পেল? কেন তাকে এত দ্রুত সমাহিত করা হলো? শিহান উল্লেখ করেন, পাকিস্তানের প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টো ২০০৭ সালে বলেছিলেন, লাদেন এরই মধ্যে মারা গেছেন।
হত্যার দৃশ্য দেখেছে
১২ বছরের মেয়ে
ওসামা বিন লাদেনকে হত্যার দৃশ্যটি দেখেছে তার ১২ বছরের মেয়ে। সে দেখেছে, মার্কিন বাহিনী তার বাবাকে গুলি করে হত্যার পর হেলিকপ্টারে উঠিয়ে নিয়ে গেছে। লাদেনের ইয়েমেনি বংশোদ্ভূত স্ত্রীর সঙ্গে বর্তমানে পাকিস্তানের হেফাজতে থাকা এই মেয়ে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইকে এ কথা বলেছে। মার্কিন অভিযানের সময় বেঁচে যাওয়া লাদেনের স্ত্রী-মেয়েসহ ১২ নারী ও শিশু এখন আইএসআইর হেফাজতে। আইএসআইর এক কর্মকর্তা জানান, ১২ বছরের ওই কিশোরী লাদেনের নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিতকারীদের অন্যতম। আটক ১২ জনের মধ্যে নয়জনই শিশু বলে ওই কর্মকর্তা জানান। তাদের এখন জিজ্ঞাবাসাদ করা হচ্ছে। এর মধ্যে পায়ে গুলি লেগে আহত হওয়া লাদেনের স্ত্রীকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তার নাম আমল আল সাদাহ, বয়স ২৭। লাদেনের সর্বশেষ স্ত্রী তিনি। মার্কিন কর্মকর্তারা এখন বলছেন, লাদেনের স্ত্রী নন, অভিযানের সময় অন্য এক নারী নিহত হয়েছিলেন। সম্ভবত তিনি লাদেনের অনুচর শেখ আবু আহমেদের স্ত্রী। আবু আহমেদও অভিযানের সময় নিহত হন। আইএসআইর এক কর্মকর্তা বিবিসিকে জানান, অভিযানের সময় ওই বাড়িতে ১৭-১৮ জন ছিল। লাদেনের ইয়েমেনি বংশোদ্ভূত সর্বশেষ স্ত্রীর বিয়ে হয় ১০ বছর আগে আফগানিস্তানে। তখন তার বয়স ছিল ১৭। লাদেন তাকে একপর্যায়ে ইয়েমেনে পাঠিয়ে দেন; কিন্তু কড়া নজরদারিতে থাকা আল সাদাহ একপর্যায়ে লাদেনের কাছে ফিরে আসেন। এরই মধ্যে আইএসআইকে তিনি বলেছেন, ২০০৫ সাল থেকে তারা এবোটাবাদের সেই বাড়িতে আছেন। লাদেন তার জীবনে মোট পাঁচটি বিয়ে করেন। এক স্ত্রীর সঙ্গে তার বিচ্ছেদ হয়। আল সাদাহ ছাড়া বাকি তিন স্ত্রী আছেন সিরিয়ায়।
ধরা পড়তে চাননি লাদেন
মার্কিন বাহিনীর হাতে জীবিত ধরা পড়তে চাননি লাদেন। একসময় নাসের আল বাহরি নামে এক দেহরক্ষীকে বলেছিলেন, মার্কিন বাহিনীর হাতে জীবিত ধরা পড়ার আগে সে যেন তাকে গুলি চালিয়ে হত্যা করে। ১৯৯৮ সালের আগস্টে আফগানিস্তানে গুহায় লুকিয়ে থাকা অবস্থায় লাদেন আল বাহরির হাতে একটি বন্দুক দেন। আল বাহরি বলেন, তিনি (লাদেন) আমাকে বলেন, 'আমেরিকা যদি কখনও আমাকে ঘিরে ফেলে আমি কখনও চাইব না তাদের হাতে বন্দি হয়ে থাকতে, সে জন্য তোমাকে দায়িত্ব দেওয়া হলো তখন আমাকে হত্যা করার।' লাদেন তাকে আরও বলেন, 'বন্দি হওয়ার চেয়ে মাথায় দুটি বুলেট বিদ্ধ হওয়াকেই আমি পছন্দ করব। আমি শহীদী মরা মরতে চাই। কিন্তু তা অবশ্যই বন্দি অবস্থায় নয়।' আল বাহরি ৬ বছর লাদেনের দেহরক্ষী হিসেবে কাজ করেন। তিনি বলেন, আমি এ জন্য আনন্দিত যে, আমাকে ট্রিগার টিপতে হয়নি।
'আল কায়দার নতুন প্রধানও হবেন ১ নম্বর শত্রু'
সিআইএ প্রধান লিওন প্যানেট্টা মঙ্গলবার জানান, যিনিই আল কায়দার নতুন প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেবেন তিনিই হবেন যুক্তরাষ্ট্রের এক নম্বর শত্রু। আল কায়দার সেকেন্ড ইন কমান্ড লাদেনের ডেপুটি মিসরীয় নাগরিক আয়মান আল জাওয়াহিরি আল কায়দার হাল ধরবেন বলে আশা করা যাচ্ছে। ইতিমধ্যে নতুন প্রধান নির্বাচন নিয়ে আল কায়দা আলোচনা শুরু করেছে বলে জানা গেছে। আল জাওয়াহিরির প্রসঙ্গ টেনে সিবিএস টেলিভিশনকে প্যানেট্টা বলেন, তিনি অতিদ্রুত তালিকার শীর্ষে চলে আসছেন। তবে আল কায়দা যতক্ষণ পর্যন্ত নতুন প্রধানের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা না করবে ততক্ষণ আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করব।
আল কায়দার ৬ শীর্ষ নেতা এখনও পাকিস্তানে
ওসামা বিন লাদেনের মৃত্যুর পরও কুখ্যাত জঙ্গি সংগঠন আল কায়দার ৬ শীর্ষ নেতা এখনও পাকিস্তানে আছেন বলে জানিয়েছেন মার্কিন কংগ্রেসের গোয়েন্দা বিভাগের চেয়ারম্যান মাইক রজার্স। মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।
তিনি বলেন, লাদেন ছাড়া আল কায়দার শীর্ষ ২০ নেতার মধ্যে ১২ জনের মতো এখনও পাকিস্তানে লুকিয়ে আছে বা সীমান্তের আশপাশে ঘোরাঘুরি করছে। এবোটাবাদে সামরিক ঘাঁটির এত কাছে লাদেনের মতো ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী কীভাবে পাকিস্তানের সাহায্য ছাড়া লুকিয়ে থাকলেন তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন। এ ব্যাপারে ফ্রাঙ্ক লটেনবার্গ নামে প্রভাবশালী মার্কিন সিনেটর পাকিস্তানকে সন্ত্রাসের মদদদাতা দেশ হিসেবে মার্কিন সরকারের কোটি কোটি ডলারের অর্থ সাহায্য বন্ধ করে দেওয়ার দাবি জানান।
বিভ্রান্তিকর তথ্য
লাদেন নিহত হওয়ার পর থেকে এ অভিযান নিয়ে নানা বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রচার হতে থাকে। বিভিন্ন মহল তার মৃত্যু নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে। তালেবান তার মৃত্যুর প্রমাণ চেয়েছে। তারা লাদেনের লাশের ছবি দেখতে চেয়েছে। এ পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রশাসনের তরফে জানানো হয়, শিগগির লাদেনের লাশের ছবি প্রকাশ করা হবে।
মঙ্গলবার মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তৈরি করা একটি বিবৃতি পড়ে শোনান হোয়াইট হাউস মুখপাত্র জে কারনি। বিবৃতিতে বলা হয়, প্রেসিডেন্টের নির্দেশে মার্কিন বাহিনীর ছোট্ট একটি দল এবোটাবাদের সুরক্ষিত একটি ভবনে ওসামা বিন লাদেনকে জীবিত অথবা মৃত অবস্থায় ধরার লক্ষ্যে অভিযান চালায়। ওই বাড়ির পাশে দুটি পৃথক ভবনে মার্কিন বাহিনী লাদেনের পরিবারসহ আরও দুটি পরিবারের সন্ধান পায়। কমান্ডোরা ভবনটি খালি করে ফেলে। একই সময় কমান্ডোদের অন্য একটি দল লাদেন যে ভবনে অবস্থান করছিলেন সেই ভবনের দোতলায় ওঠে। দোতলায় কমান্ডোদের ক্রসফায়ারে লাদেনের দুই বার্তাবাহকসহ এক নারী নিহত হন। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, ওই নারীকে মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল। সিনেট ইন্টেলিজেন্স কমিটির চেয়ারম্যান ডাইয়ানে ফিন্সটেইন বলেন, ওই নারী সম্ভবত কোনো বার্তাবাহকের স্ত্রী হবেন। কমান্ডোদের ওই দলটি ভবনটির তিনতলায় লাদেন ও তার পরিবারকে খুঁজে পায়। লাদেন ধরা দেওয়ার পরিবর্তে প্রতিরোধ গড়বেন, এমনটাই ধারণা ছিল। জে কারনি আরও বলেন, লাদেনের স্ত্রী বাধা দিতে গেলে তাকে হত্যা না করে পায়ে গুলি করা হয়। এরপরই লাদেনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ সময় তিনি নিরস্ত্র ছিলেন। লাদেনের প্রতিরোধ সম্পর্কে এর বেশি কিছু জানাতে অস্বীকৃতি জানান কারনি। তিনি বলেন, প্রতিরোধের জন্য আগ্নেয়াস্ত্রই প্রয়োজন এমন নয়। আমি নিশ্চিত, আরও তথ্য পাওয়া গেলে তা আপনাদের সরবরাহ করা হবে।
লাদেনের মরদেহের ছবি দেখে মার্কিন এক কর্মকর্তা বলেন, তার মুখে অন্তত একটি গুলি করা হয়েছে। লাদেনকে আটক না করে কেন গুলি করা হয়েছে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে মার্কিন কর্মকর্তারা বারবারই লাদেনের প্রতিরোধের প্রসঙ্গ তুলেছেন। কারনি বলেন, আমরা প্রবল প্রতিরোধের আশঙ্কা করছিলাম। ওই বাড়িতে সশস্ত্র অনেক মানুষ অবস্থানও করছিল। এর আগে সোমবার এক মার্কিন কর্মকর্তা ওই অভিযানকে 'হত্যার অভিযান' বলে মন্তব্য করেন। একই দিন প্রেসিডেন্ট ওবামার সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলা বিষয়ক উপদেষ্টা জন ব্রেনান বলেন, লাদেনের স্ত্রী মানবঢাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিলেন এবং নিহত হয়েছেন। এসব পরস্পরবিরোধী তথ্য সম্পর্কে জে কারনি প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের তাড়াহুড়া করে তথ্য সরবরাহের মনোভাবকেই দায়ী করেন। লাদেনের পরিবার এখন পাকিস্তান কর্তৃপক্ষের হেফাজতে রয়েছে এবং তাদের নিয়ে কী করা হবে সে সিদ্ধান্ত ইসলামাবাদই নেবে বলে অপর এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান।
'লাদেন বধের অভিযান আইনসঙ্গত'
মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল এরিক হোল্ডার গতকাল সিনেটে এক শুনানিতে বলেন, যে অভিযানে ওসামা বিন লাদেন গুলিতে নিহত হয়েছেন তা ছিল আইনসঙ্গত। কারণ এই হত্যাকাণ্ড ছিল জাতীয় আত্মপ্রতিরক্ষামূলক।
পোশাকে সেলাই করা অর্থ ও ফোন নম্বর
নিহত হওয়ার সময় লাদেনের পোশাকে সেলাই করা অবস্থায় ছিল ৪৫০ ব্রিটিশ পাউন্ড ও দুটি টেলিফোন নম্বর। মার্কিন কর্মকর্তারা এ তথ্য জানান। তাদের দাবি, অবরুদ্ধ হলেই পালানোর প্রস্তুতি হিসেবে পোশাকে এসব অর্থ ও ফোন নম্বর রেখেছিলেন লাদেন।

 
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ