সুপ্রিম কোর্টের রায় - তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল

May 11, 2011, 7:02 AM, Hits: 2513

সুপ্রিম কোর্টের রায় - তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল

http://www.kalerkantho.com/admin/news_images/517/image_517_152665.jpg

এম বদি-উজ-জামান ও আশরাফ-উল-আলম - তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল বলে রায় দিয়েছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত। গতকাল মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রায়ে বলা হয়েছে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারসংবলিত সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল এবং তা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তবে রাষ্ট্র ও জনগণের নিরাপত্তা, শান্তি-শৃঙ্খলা এবং ধারাবাহিকতা রক্ষার স্বার্থে আগামী দুটি (দশম ও একাদশ) জাতীয় সংসদ নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হতে পারে বলে অভিমত দিয়েছেন আদালত। গতকালের রায়ে বলা হয়েছে, এ সময়ের মধ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা পদ থেকে বিদায়ী প্রধান বিচারপতি বা আপিল বিভাগের বিচারপতিদের বাদ দিয়ে জাতীয় সংসদ তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি সংস্কার করে সংবিধান সংশোধন করতে পারে। সংসদের সেই স্বাধীনতা রয়েছে।


প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ গতকাল সকালে এ রায় দেন। সকাল ৯টা ৩৮ মিনিটে বিচারকরা এজলাসে বসেন। এর পরই প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক লিখিত রায় পাঠ করেন। মাত্র দুই মিনিটের মধ্যে রায়ের উল্লেখযোগ্য অংশ ঘোষণা করে বিচারপতিরা এজলাস ত্যাগ করেন।
জানা গেছে, সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে এ রায় দেওয়া হয়েছে। তবে কোন বিচারপতি পক্ষে আর কে বিপক্ষে মত দিয়েছেন, তা জানা যায়নি। এ ছাড়া পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপিও পাওয়া যায়নি।


রায়ে বলা হয়, সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারকের মতামতের ভিত্তিতে আপিল মঞ্জুর করা হলো। ১৯৯৬ সালে করা ত্রয়োদশ সংশোধনী সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে তা বাতিল করা হলো। তবে দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্তমানে যে অবস্থায় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রচলিত আছে, সেই ব্যবস্থার অধীনে অনুষ্ঠিত হতে পারে; যদিও এ ব্যবস্থা আইনসম্মত নয়, তথাপি সময়ের প্রয়োজনে এটাকে আইনগত বৈধতা দেওয়া গেল। রাষ্ট্রের ও জনগণের বৃহত্তর স্বার্থে এটা করা হলো।


রায়ে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হওয়ার বিধানটি বাতিলের সুপারিশ করে বলা হয়, যদি পরবর্তী দুটি জাতীয় সংসদ নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে করতে হয়, তাহলে এ সময়ের মধ্যে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের বাদ দিয়ে অন্য কাউকে প্রধান উপদেষ্টা করতে জাতীয় সংসদ সংবিধান সংশোধন করতে পারে।
রায়ের পর রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের বলেছেন, আদালত সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করেছেন। তবে আদালত বলেছেন, শান্তি-শৃঙ্খলা ও ধারাবাহিকতা রক্ষার স্বার্থে আগামী দুটি নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে করা যাবে। এ সময়ের মধ্যে সংবিধান সংশোধন করতে পারে সংসদ। এ দুই জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা আর বহাল থাকবে না।


তবে ব্যারিস্টার রফিক-উল হক, ড. এম জহির, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম, ব্যারিস্টার রোকনউদ্দিন মাহমুদসহ সংবিধান বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বর্তমান পদ্ধতিতে দেশে পরবর্তী নির্বাচন হবে কি না তা নির্ধারণের দায়িত্ব সংসদের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন আদালত। তাঁরা বলছেন, সংসদ কোনো সিদ্ধান্ত না নিলে দেশে পরবর্তী দুটি নির্বাচন হবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বর্তমান পদ্ধতিতেই।


ব্যারিস্টার রফিক-উল হক, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন এ রায়কে স্ববিরোধী হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, আপিল বিভাগ তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করেছেন। আবার পরবর্তী দুটি নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে করা যেতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন। ফলে এ রায় স্ববিরোধী।


আপিলকারীর আইনজীবী এম আই ফারুকী সাংবাদিকদের বলেন, 'তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা কার্যত সামরিক আইনেরই আরেক রূপ। সামরিক আইন এলে সংবিধানের কিছু ধারা স্থগিত করা হয়, যা ওয়ান-ইলেভেন, জিয়া, এরশাদ ও পাকিস্তান আমলে আমরা দেখেছি। তেমনি তত্ত্বাবধায়ক সরকার এলেও সংবিধানের কিছু ধারা স্থগিত হয়ে পড়ে। এ কারণে আপিল বিভাগের এ রায় সংবিধান ও জনগণের জন্য ভালো হলো।'


সংবিধানের ৫৮গ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হবেন সদ্য বিদায়ী প্রধান বিচারপতি। তাঁকে পাওয়া না গেলে তাঁর আগে অবসর নেওয়া প্রধান বিচারপতি, তাঁকেও না পাওয়া গেলে তাঁর আগে অবসর নেওয়া প্রধান বিচারপতি প্রধান উপদেষ্টা হবেন। কোনো প্রধান বিচারপতিকে পাওয়া না গেলে আপিল বিভাগ থেকে সর্বশেষ অবসর নেওয়া বিচারপতিকে প্রধান উপদেষ্টা করতে হবে। এভাবে আপিল বিভাগ থেকে কোনো বিচারপতি না পাওয়া গেলে প্রধান রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করে গ্রহণযোগ্য কোনো নাগরিককে প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগ করতে হবে।


১৯৯০ সালে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সরকারের পতনের পর ১৯৯১ সালে পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে। তখন এ ব্যবস্থা সংবিধানের অন্তর্ভুক্ত ছিল না। পরে ষষ্ঠ জাতীয় সংসদে বিএনপি সরকার ১৯৯৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি সংবিধানের ৫৮খ, ৫৮গ, ৫৮ঘ ও ৫৮ঙ অনুচ্ছেদ সংশোধন করে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করে, যা সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী নামে পরিচিত। এর পর থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদের সপ্তম, অষ্টম ও নবম_এ তিনটি জাতীয় নির্বাচন হয়েছে।


তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংযোজন করে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী করায় এর বৈধতা নিয়ে ১৯৯৯ সালের অক্টোবরে সুপ্রিম কোর্টের তিন আইনজীবী এম সলিমউল্লাহ, রুহুল কুদ্দুস বাবু ও মো. আবদুল মান্নান খান হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। এই তিন রিট আবেদনকারী আইনজীবীর মধ্যে এম সলিমুল্লাহ মারা গেছেন। রুহুল কুদ্দুস বাবু এখন হাইকোর্টের বিচারপতি। এ কারণে মো. আবদুল মান্নান খানকেই রিট আবেদনকারী হিসেবে ধরা হয়েছে।


রিট আবেদনে বলা হয়েছিল, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বা পদ্ধতি গণতন্ত্রের মৌলিক চেতনার পরিপন্থী। এটা সংবিধানেরও পরিপন্থী। কারণ গণতন্ত্র ও সংবিধানের চেতনা হচ্ছে, সব সময় নির্বাচিত সংসদ বহাল থাকবে। নির্বাচিত সরকারই দেশ পরিচালনা করবে। রিট আবেদনে আরো বলা হয়, প্রধান বিচারপতিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা করা নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগকে পৃথক্করণের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।


ওই রিট আবেদনের ওপর দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০০৪ সালের ২৪ আগস্ট সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বৈধ ঘোষণা করে তিন বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রায় দেন। এ রায়ের বিরুদ্ধে সরাসরি আপিলের অনুমতি দেন আদালত। ফলে আপনাআপনিই আপিল হিসেবে মামলাটি আপিল বিভাগে অন্তর্ভুক্ত হয়। এ আপিলের ওপর গত ১ মার্চ থেকে আপিল বিভাগে শুনানি হয়। শুনানি শেষ হয় ৬ এপ্রিল। গতকাল রায় দেওয়া হয়। এ শুনানিতে অ্যামিকাস কিউরি (আদালতের বন্ধু) হিসেবে সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. কামাল হোসেন, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী বিচারপতি টি এইচ খান, সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল মাহমুদুল ইসলাম, ব্যারিস্টার রফিক-উল হক, ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম, ড. এম জহির, ব্যারিস্টার রোকনউদ্দিন মাহমুদ ও ব্যারিস্টার আজমালুল হোসেন কিউসির মতামত নেওয়া হয়। এই আট অ্যামিকাস কিউরির মধ্যে পাঁচজন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা রাখার পক্ষে, একজন বিপক্ষে এবং দুজন সংস্কার করতে নতুন ফর্মুলা দেন।


'এ রায় সঠিক হয়েছে' : রায় ঘোষণার পর সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় আপিলকারীর আইনজীবী এম আই ফারুকী বলেন, 'রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। রাষ্ট্র, জনগণ ও সংবিধানের জন্য এই রায় ভালো হয়েছে। সংবিধান রক্ষা হয়েছে। আদালত সংবিধানের কথা শুনেছেন।'


রিট আবেদনকারী অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নান খান বলেন, এ রায়ের ফলে গণতন্ত্র শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়াল। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হিসেবে সর্বশেষ অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিকে ও আপিল বিভাগের অন্য বিচারপতি রাখার বিধানটি বিচার বিভাগকে কলুষিত করেছিল। তা থেকে মুক্তি পাওয়া গেল। তিনি বলেন, পূর্ণাঙ্গ রায় হাতে পাওয়ার পর যদি দেখা যায় কোনো অসংগতি আছে, তবে রিভিউ আবেদন করা হবে।


অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, নীতিগতভাবে এ রায় সঠিক হয়েছে। পরবর্তী দুটি নির্বাচন এ রায়ের আলোকে অনুষ্ঠিত না হলে নানা রকম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে এবং এ রায় নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। বিচার বিভাগের মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখা এবং প্রধান বিচারপতিকে সব কিছুর ঊধর্ে্ব রাখার বিষয়টি এ রায়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তিনি আরো বলেন, সংসদ যেকোনো সময় সংবিধান সংশোধন করতে পারে। সে ক্ষেত্রে বিচারপতিদের সংশ্লিষ্ট না করতেই সুপারিশ করা হয়েছে।


এম আমীর-উল ইসলাম বলেন, সংসদকে এখন একটি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। এ রায়ের পর সংসদের কাছে এ দায়িত্ব পড়েছে। সাবেক প্রধান বিচারপতি ও আপিল বিভাগের অন্যান্য বিচারপতিকে বাদ দিয়ে বিকল্প পদ্ধতি খুঁজে বের করতে হবে। সে জন্য সরকার ও বিরোধী দলের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। পরস্পর পরস্পরকে সহযোগিতা করতে হবে।


ড. এম জহির বলেন, 'খুব সুন্দর রায় হয়েছে। বিচারপতিদের তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার মধ্যে না রাখার মত দিয়েছেন আদালত। আমরা এটাই চেয়েছিলাম।'
ব্যারিস্টার রোকনউদ্দিন মাহমুদ বলেন, এ রায়ের ফলে এটাই প্রতীয়মান হয় যে সংসদ সংবিধান সংশোধন না করলে আগামী দুটি নির্বাচন হবে বর্তমান নিয়মেই। তবে সংসদ বিচারপতিদের এ ব্যবস্থার বাইরে রাখতে চাইলে নতুন আইন করতে পারে। আবার আপিল বিভাগের এ সুপারিশ উপেক্ষাও করতে পারে।


'এ রায় স্ববিরোধী' : প্রবীণ আইনজ্ঞ ব্যারিস্টার রফিক-উল হক বলেন, 'এ রায় ভালো। আমরা বলেছিলাম ১৩তম সংশোধনী অবৈধ। যদি অবৈধ নাও হয়, তার পরও বিচারকদের বাদ দেওয়ার কথা বলেছিলাম। কারণ এতে বিচার বিভাগের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হচ্ছে। আমাদের বক্তব্য আপিল বিভাগ গ্রহণ করে সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করেছেন।' তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতি এ রায়ে বড় মনের পরিচয় দিয়েছেন। কেননা তত্ত্বাবধায়ক সরকার থাকলে তিনি হতেন সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল নিরপেক্ষ। এ রায়ের বিরুদ্ধে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের কিছু বলা উচিত হবে না।


তবে ব্যারিস্টার রফিক বলেন, রায়ে বলা হয়েছে, এখন থেকে রায় কার্যকর হবে। আবার বলা হয়েছে, পরবর্তী দুটি নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই হবে। এ ক্ষেত্রে রায়ের এ অংশ স্ববিরোধী হয়েছে।


সাবেক আইনমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ রায়ের পর এক প্রতিক্রিয়ায় সাংবাদিকদের বলেন, এ রায় দেশে রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংকট তৈরি করবে। একটি রাজনৈতিক ইস্যুতে ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে দেশে স্থিতিশীল নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সনি্নবেশিত হয়েছিল। এখন আবার নতুন করে সংকটের দিকে দেশকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, 'রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি এখনো হাতে আসেনি। যতটুকু শুনেছি, ওই রায়ে একদিকে আদালত বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার অসাংবিধানিক। অন্যদিকে আবার বলেছেন, আগামী ১০ বছর এ পদ্ধতিতে নির্বাচন হতে পারে। এ অভিমত থেকে আদালতের স্ববিরোধিতা স্পষ্ট।' রায়ের বিষয়ে তাঁর এ প্রতিক্রিয়া আইনজীবী হিসেবে প্রকাশ করেছেন তিনি, দলীয় নেতা হিসেবে নয়।


সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাসংক্রান্ত ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল এবং সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে আবার ওই সংশোধনীর অধীনে দুটি নির্বাচন করতে পারবে বলে মত দেওয়া আদালতের স্ববিরোধী মন্তব্য। তিনি বলেন, কিভাবে আগামী নির্বাচন করতে হবে, তা সুস্পষ্ট নয় রায়ে। সাবেক প্রধান বিচারপতি ও অন্যান্য বিচারপতিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থায় না রাখার বিষয়টিও স্পষ্ট নয়। এ রায়ে ধূম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে। তিনি আরো বলেন, 'স্পর্শকাতর বিষয়গুলো আদালতে এনে আদালতের ঘাড়ে বন্দুক রেখে একটা রায় নিয়ে তা বাস্তবায়ন করার প্রবণতা দেখা দিয়েছে, যা জাতির জন্য শুভ নয়। দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে এবং নির্বাচন কমিশনের দুর্বলতার কারণে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান অবশ্যই থাকতে হবে। তবে বিচার বিভাগকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সঙ্গে জড়িত করায় বিচার বিভাগ বিতর্কিত হয়েছে। প্রধান বিচারপতি নিয়োগে রাজনীতি ঢুকেছে। আশা করেছিলাম, আপিল বিভাগ একটি স্পষ্ট নির্দেশনা দেবেন; কিন্তু তা দেননি। ফলে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

 


 
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ