বাধা দিলে পাকিস্তানের সাথেও সংঘর্ষে লিপ্ত হতো যুক্তরাষ্ট্র

May 11, 2011, 7:04 AM, Hits: 2356

বাধা দিলে পাকিস্তানের সাথেও সংঘর্ষে লিপ্ত হতো যুক্তরাষ্ট্র
alt


মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, আলকায়েদা প্রধান ওসামা বিন লাদেনের বাসভবনে অভিযানের জন্য পাঠানো মার্কিন কমান্ডো দল বাধার মুখে পড়লে তারা পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর সাথেও সংঘর্ষে লিপ্ত হতো এবং তাদের সে প্রস্তুতি ছিল। পাকিস্তান প্রায় ১০ বছর আগেই ওসামা বিন লাদেনসহ আলকায়েদার শীর্ষ নেতাদের ধরতে সে দেশে একতরফা অভিযান চালানোর অনুমতি দিয়েছিল বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে। তবে পাকিস্তানের তখনকার প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশাররফ তা অস্বীকার করেছেন। খবর নিউইয়র্ক টাইমস, এএফপি, বিবিসি ও অন্যান্য সূত্রের।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সরকারি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে নিউইয়র্ক টাইমসের খবরে বলা হয়, ওবামা আলকায়েদা প্রধানের বিরুদ্ধে ২ মের ওই অভিযান চালানোর ১০ দিন আগে পাকিস্তানের সাথে সংঘর্ষের আশঙ্কার কথা তুলে ধরেছিলেন। এ জন্য লাদেনের বাসভবনে মার্কিন কমান্ডোদের এ অভিযান বাধামুক্ত করতে অতিরিক্ত দু’টি যুদ্ধবিমান পাঠানো হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের একজন সিনিয়র কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এতে বলা হয়, ‘অনেকে ধারণা করতে পারেন আমরা এ বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে পারতাম। তবে এতে পাকিস্তানের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের অবনতি ঘটতে পারে এটা জেনেও প্রেসিডেন্ট সুযোগটি হাতছাড়া করতে চাননি।’
অপর এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, কমান্ডোদের বলা হয়েছিল, তারা যেন যেকোনো ধরনের সংঘর্ষ এড়িয়ে যায়। তবে যদি পাল্টা গুলি চালানোর দরকার হয়, তবে তাদের তা করার ক্ষমতা দেয়া হয়েছিল।
নিউইয়র্ক টাইমসের খবরে আরো বলা হয়, লাদেন মিশনের জন্য দু’টি বিশেষ দলকে প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। এ অভিযানে আলকায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেন নিহত হলে তাকে সমাহিত করার জন্য একটি এবং তিনি গ্রেফতার হলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অপর দল গঠন করা হয়। এতে বলা হয়, পরবর্তী দল উত্তর আরব সাগরে অবস্থান করা জাহাজে করে রওনা হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।
সরকারি কর্মকর্তারা জানান, অভিযানে লাদেনকে গুলি করে হত্যা করার পর তাকে সমুদ্রে সমাহিত করা হয়। এ নিয়ে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের মধ্যে মারাত্মক উত্তেজনা বিরাজ করছে। পাকিস্তান তাদের না জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এ অভিযান চালানের কঠোর সমালোচনা করছে এবং লাদেনকে আশ্রয় দেয়ার যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছে।
অপর দিকে ওয়াশিংটন পাকিস্তানকে না জানিয়ে এ অভিযান চালানোর ব্যাপারে দুঃখ প্রকাশ করতে দৃঢ়ভাবে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
গোপন চুক্তির কথা মোশাররফের অস্বীকারঃ ওসামা বিন লাদেনসহ আলকায়েদার শীর্ষ নেতাদের ধরতে পাকিস্তানে একতরফা অভিযান চালানোর অনুমতি এক দশক আগেই যুক্তরাষ্ট্রকে দেয়া হয়েছিল বলে যে খবর প্রকাশিত হয়েছে তা অস্বীকার করেছেন পাকিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশাররফ। যুক্তরাজ্যের প্রভাবশালী দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান সোমবার দুই দেশের এই গোপন চুক্তির বিষয়টি ফাঁস করে।
পত্রিকাটি জানায়, ২০০১ সালে বিন লাদেন আফগানিস্তানের তোরা বোরা পাহাড় থেকে পালিয়ে বাঁচার পরই বুশ প্রশাসনের সাথে ইসলামাবাদের একটি চুক্তি হয়, যাতে যুক্তরাষ্ট্র আলকায়েদা নেতাদের ধরতে যেকোনো সময় পাকিস্তানি ভূখণ্ডে একতরফা অভিযান চালানোর অনুমোদন পায়।
কিন্তু মোশাররফ পাকিস্তানের বেসরকারি টিভি চ্যানেল ‘এআরওয়াই নিউজকে দেয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে গার্ডিয়ানের এ খবর পুরোপুরি নাকচ করেছেন।’
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে পাকিস্তানে একতরফা সামরিক অভিযানের অনুমতি দিয়ে কখনো কোনো মৌখিক বা লিখিত চুক্তি হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের সিবিএস নিউজ এ খবর দিয়েছে।
বিন লাদেনকে হত্যার পর ইসলামাবাদ-ওয়াশিংটন কূটনৈতিক টানাপড়েনের মধ্যে গার্ডিয়ান গোপন চুক্তির ওই খবর প্রকাশ করে।
এ ধরনের চুক্তির কথা জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা গার্ডিয়ানকে বলেন, ‘বুশ ও মোশাররফের মধ্যে চুক্তি হয়েছিল যে ওসামাকে পাকিস্তানের যেখানেই পাওয়া যাবে সেখানেই অভিযান চালাবে যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা।’
ওই সময় সামরিক শাসক মোশাররফ ছিলেন পাকিস্তানের ক্ষমতায়। আন্দোলনের মুখে ক্ষমতা ছেড়ে এখন যুক্তরাজ্যে রয়েছেন তিনি। তবে ২০০৮ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ছয় মাস পর্যন্ত পাকিস্তানের সেনা শাসনের পরিবর্তনের সময় ওই চুক্তি নবায়ন করা হয় বলে পাকিস্তানের উচ্চপর্যায়ের এক কর্মকর্তা জানান। নির্বাচনের মাধ্যমে শাসনব্যবস্থায় পরিবর্তন আসার পরও মোশাররফ বেশ কিছু দিন প্রেসিডেন্ট পদে বহাল ছিলেন।
সমঝোতার প্রয়াসঃ এ দিকে নিউইয়র্ক টাইমসের খবরে বলা হয়েছে, পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উত্তেজনা প্রশমনের প্রয়াস হিসেবে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র প্রধান লিওন পেনেটা শিগগিরই তার পাকিস্তানি প্রতিপক্ষ ও আইএসআই’র প্রধান লে. জেনারেল আহমদ সুজা পাশার সাথে সাক্ষাৎ করবেন। তারা আলকায়েদার বিরুদ্ধে অভিন্ন যুদ্ধ নিয়ে আলোচনা করবেন বলে একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন। এ দিকে গত রোববার মার্কিন জয়েন্ট চিফ অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল মাইক মুলেন পাকিস্তান সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আশফাক পারভেজ কিয়ানির সাথে কথা বলেছেন।
সিআইএ’র গোয়েন্দা প্রধান বহালঃ পাকিস্তানি পত্রিকায় পরিচয় ফাঁস হওয়ার পরও ইসলামাবাদ থেকে শীর্ষ গোয়েন্দাকে প্রত্যাহারের কোনো পরিকল্পনা নেই মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র। একজন মার্কিন কর্মকর্তা সোমবার এ কথা জানান। দুই দেশের মধ্যে এ নিয়ে চলমান টানাপড়েনের মধ্যেই সিআইয়ের শীর্ষ গুপ্তচরের পরিচয় ফাঁস হলো। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ‘সিআইএ স্টেশন প্রধানকে পাকিস্তান থেকে প্রত্যাহারের কোনো পরিকল্পনা এ মুহূর্তে নেই।’
লাদেনের স্ত্রীদের জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতিঃ পাকিস্তান ওসামা বিন লাদেনের তিন স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে যুক্তরাষ্ট্রকে অনুমতি দিয়েছে। পিটিআই পরিবেশিত খবরে বলা হয়, মার্কিন গোয়েন্দারা পাকিস্তান সরকারের হেফাজতে থাকা লাদেনের তিন স্ত্রীকে সরাসরি জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে। তারা শিগগিরই জিজ্ঞাসাবাদ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। লাদেন নিহত হওয়ার পর এটা ছিল পাকিস্তানের কাছে ওবামা প্রশাসনের অন্যতম দাবি।

 
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ