নেপালি পাসপোর্টে বাংলাদেশীদের ইরাকে পাঠানোর হিড়িক

June 11, 2011, 8:55 AM, Hits: 3053

নেপালি পাসপোর্টে বাংলাদেশীদের ইরাকে পাঠানোর হিড়িক


মনির হোসেন : নেপালী পাসপোর্টে জাল ভিসা লাগিয়ে বাংলাদেশীদের ইরাক পাঠাচ্ছে একটি আন্তর্জাতিক দালাল সিন্ডিকেট। ঢাকা-দুবাই ও ইরাকে অবস্থান করা শক্তিশালী দালাল সিন্ডিকেটের সদস্যরা তিন দেশের কিছু ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে বিভিন্ন কায়দায় শত শত লোককে ইরাকে পাঠাচ্ছে বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন।


সম্প্রতি দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ইমিগ্রেশন পুলিশের হাতে নেপালী পাসপোর্টসহ আটক হওয়া ৯ বাংলাদেশীকে জিজ্ঞাসাবাদের পর ফিরতি ফ্লাইটে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে ইরাকে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাস সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রে জানা গেছে।


ইমিগ্রেশনের বিশেষ পুলিশ সুপার নাফিউল ইসলামের সাথে গতকাল যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, দুবাই বিমানবন্দর থেকে ৯ প্যাসেঞ্জারকে দেশে ফেরত পাঠানোর খবর তার জানা নেই।
ইরাক থেকে বাংলাদেশ কমিউনিটির এক সদস্য নাম না প্রকাশের শর্তে গতকাল জানান, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে দুবাই এয়ারপোর্টে বাংলাদেশী ও নেপালী পাসপোর্ট ব্যবহার করে ইরাক যাওয়ার অভিযোগে ৯ ব্যক্তিকে ইমিগ্রেশন পুলিশ আটক করে। তাদের কাছে দুই দেশের পাসপোর্ট দেখে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারাও হতবাক হন। ডিপোর্টি প্যাসেঞ্জার হিসেবে তাদের ফিরতি ফ্লাইটে দেশে ফেরত পাঠানো হয়।


ওই ব্যবসায়ী আরো জানান, ঢাকার ফকিরাপুল পানির ট্যাংকি এলাকার একটি ট্রাভেল (নাম বলতে পারেননি) অ্যাজেন্সির দালাল আবদুর রহমান দীর্ঘ দিন থেকে আদম সংগ্রহ করে ভিজিট ভিসায় দুবাই পাঠানোর ব্যবস্থা করছেন। দুবাই বিমানবন্দরে আসার পর ওই যাত্রীদের কাছে থাকা বাংলাদেশী পাসপোর্ট লুকিয়ে ফেলা হচ্ছে। এরপর তাদের হাতে ধরিয়ে দেয়া হচ্ছে ভুয়া ভিসার স্টিকারসহ নেপালী পাসপোর্ট। পরে ওই পাসপোর্টে দুবাই থেকে নাজাত এয়ারওয়েজের ফ্লাইটে ইরাকের সোলেমানি বিমানবন্দরে পাঠানো হচ্ছে। সোলেমানি বিমানবন্দর থেকে ওই যাত্রীদের রিসিভ করছে বাংলাদেশী দালাল জয়নাল আবেদিন। জয়নাল আবেদিন ইরাকে আশরাফ নামে পরিচিত।

সোলেমানি বিমানবন্দর থেকে পরে তাদের সড়ক পথে নেয়া হয় বাগদাদে। তিনি বলেন, প্রতিদিন এ প্রক্রিয়ায় ইরাকে আদম পাঠাচ্ছে সিন্ডিকেটের সদস্যরা। একজন যাত্রীর কাছ থেকে ইরাকে পাঠানো বাবদ নেয়া হচ্ছে এক লাখ ৬০ হাজার থেকে এক লাখ ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত। এ বিষয়টি ইরাকে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত কামাল উদ্দিন আহমেদকেও বাংলাদেশ ব্যবসায়ী কমিউনিটির পক্ষ থেকে অবহিত করা হয়। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, নেপালী পাসপোর্টে ইরাকে বাংলাদেশী আসছে এ খবর ইতোমধ্যে ইরাকি পুলিশ অবহিত হয়েছে।

এরপর থেকেই ইরাকি পুলিশ নেপালী পাসপোর্টে আসা যাত্রীদের চিহ্নিত করতে অভিযান চালাচ্ছে। এতে বাংলাদেশ সর্ম্পকে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হচ্ছে ইরাকিদের মধ্যে। তিনি আরো বলেন, নেপাল থেকে তৈরি হওয়া পাসপোর্টে দালালরা ভুয়া ভিসার মধ্যে নিজেরাই এন্ট্রি স্টিকার লাগিয়ে চার-পাঁচজন করে আবার কখনো ১০ জনের গ্রুপ করে ইরাকে নিয়ে আসছে। অপর এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বর্তমানে ইরাকে অবৈধভাবে যত বিদেশী শ্রমিক অবস্থান করছেন তাদের সবাইকে বের করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে ইরাকের স্থানীয় পত্রিকায় খবর বেরিয়েছে।

বর্তমানে ইরাকে ১৫ হাজারের মতো বাংলাদেশী রয়েছেন। বেশির ভাগ বাংলাদেশী কুর্দিস্থান এলাকায় কাজ করছেন। এ ছাড়া বিদেশী শ্রমিকদের মধ্যে ইন্ডিয়ান ও নেপালী রয়েছে আরো ২০ হাজারের মতো। এদের কারোরই ওয়ার্ক পারমিট নেই। নেপালী পাসপোর্টে বাংলাদেশী আসার কারণে এখন জিয়ারা ভিসায় আসা বাংলাদেশীরা প্রতিনিয়ত হয়রানি হচ্ছেন বলে তিনি জানান।


গতকাল ইরাকে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত কামাল উদ্দিন আহমেদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।

 


 
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ