সংসদ বর্জন করে বার বার হরতাল ডেকে দেশকে ধবংস করাই বিএনপির উদ্দেশ্যঃ সর্ব ইউরোপীয়ান আওয়ামী লীগ

June 13, 2011, 5:12 PM, Hits: 2066

সংসদ বর্জন করে বার বার হরতাল ডেকে দেশকে ধবংস করাই বিএনপির উদ্দেশ্যঃ সর্ব ইউরোপীয়ান আওয়ামী লীগ



বাপ্‌স নিউজ : হল্যান্ড থেকে : সর্ব ইউরোপীয়ান আওয়ামী লীগ এবং সমগ্র ইউরোপের আওয়ামী লীগ শাখা সংগঠনের নেতৃবৃন্দ তাদের যৌথ এক বিবৃতিতে­ বিএনপি­জামায়াত ঘোষিত রবিবার ও সোমবারের ৩৬ ঘন্টার ইসুবিহীন আহূত হরতালের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, নিয়মিত সংসদ বর্জন করে বার বার হরতাল ডেকে দেশকে ধবংস করাই বিএনপির উদ্দেশ্য । প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে নেতৃবৃন্দ আরো জানান, বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া বিলাসবহুল বাড়ীতে এয়ারকণ্ডিশনের শীতল হাওয়ায় বসে হরতাল ঘোষণা করেন। কিন্তু তিনি কি কখনও ভেবে দেখেছেন? যে, এই হরতালের কারণে জনগণকে কতোটা দুর্ভোগে পড়তে হয় ?

জনগণকে কতোটা মাশুল দিতে হয়? স্কুল-কলেজের ছাত্র, ছাত্রীদের পড়াশোনার কতোটা ক্ষতি হয়? খেটে খাওয়া গরীব দুঃখী মানুষকে কতো কষ্টে দিন কাটাতে হয়? দেশের সাধারণ মানুষের প্রতি সামান্যতম মমত্ববোধ থাকলে, যাকে বিএনপির নেতা-কর্মীরা "দেশনেত্রী’ অখ্যায়িত করেন, তিনি কখনও বার বার হরতাল আহবান করে, দেশকে ধবংসের ও সংঘাতের পথে ঠেলে দিতে পারতেন না! নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, ভোগ-বিলাসিতায় ভরা যার জীবন তিনি কি কখনও গরীবের দুঃখ-কষ্ট উপলব্ধি করতে পারেন? মাত্র সেদিন ৫ জুন, বিএনপি হরতাল পালনের নামে আগের রাতে প্রায় ১২/১৩টি বাসে আগুন দিয়ে দেশের অমূল্য সম্পদ ধবংস করেছে।

এক দিনের হরতালে দেশের শত শত কোটি টাকা ক্ষতি হয়, অথচ বিএনপি এই সব বিবেচনায় না রেখে একের পর এক হরতাল আহবান করে, দেশে অস্হিতিশীল পরিস্হিতি সৃষ্টি করে চলেছে। যা কোনক্রমেই মেনে নেয়া যায় না। এই ইসুøবিহীন জনদুর্ভোগের হরতাল ঐক্যবদ্ধ ভাবে ঘৃণা ভরে প্রত্যাখান ও প্রতিহত করা সকলের উচিত ও দায়িত্ব।

বিবৃতিতে- নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, বিএনপি নিয়মিত সংসদ বর্জন করে চলেছেন। অথচ তারা নিলর্জ্জভাবে সংসদ ভাতাসহ নানা সুবিধা ভোগ করছেন। তারা সংসদে যেয়ে জনগণের প্রতি তাদের দায়িত্ব পালন করছেন না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, জননেত্রী শেখ হাসিনাসহ সরকারী দলের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ, বিএনপির প্রতি বার বার আহবান জানিয়ে আস্‌ছেন, সংসদে যোগ দিয়ে, "তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্হা’ বাতিল প্রশ্নে এবং সব বিষয়ে আলোচনা করার জন্য। সংসদীয় গণতন্ত্রে সকল আলোচনার কেন্দ্র বিন্দু হচ্ছে, পবিত্র সংসদ। কিন্তু-বিভিন্ন অজুহাতে বিএনপি পবিত্র সংসদে যেতে একেবারেই নারাজ। তারা সংসদে না যেয়ে তাদের চির দোসর ’৭১-এর যুদ্ধাপরাধী, জামায়াতের সঙ্গে হরতাল আহবান করে, নৈরাজ্য ও সংঘাতের পথ বেছে নিয়েছে। যা জাতির জন্য কিছুতেই মঙ্গল বয়ে আনতে পারে না।

বিবৃতিকারীগণ হলেনঃ সর্ব ইউরোপীয়ান আওয়ামী লীগের সম্মানিত সভাপতি, সর্বজনশ্রদ্ধেয়-শ্রী অনিল দাশ গুপ্ত, সম্মানিত সাধারণ সম্পাদক শ্রদ্ধেয়-জনাব এম. এ. গণি, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সম্মানিত সভাপতি শ্রদ্ধেয়-জনাব সুলতান মোহাম্মদ শরীফ, সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান ফারুক, ইতালি আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহতাব হোসেন, সাধারণ সম্পাদক হাসান ইকবাল, হল্যাণ্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মাঈদ ফারুক, সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা জামান, ফ্রান্স আওয়ামী লীগের সভাপতি বেনজির আহম্মেদ সেলিম, সাধারণ সম্পাদক আবুল কাসেম, অষ্ট্রিয়া আওয়ামী লীগের সভাপতি হাফিজুর রহমান নাসিম, সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম কবির, অষ্ট্রিয়া আওয়ামী লীগ নেতা, লেখক সাংবাদিক এম. নজরুল ইসলাম, বেলজিয়াম আওয়ামী লীগের সভাপতি বজলুর রশিদ বুলু, সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান পলিন, জার্মান আওয়ামী লীগ নেতা আনোয়ার কবির, হাসনাত মিয়া, নুরুল ইসলাম ও মিজানুর রহমান মিজান, ডেনমার্ক আওয়ামী লীগের সভাপতি এম. মোস্তফা মজুমদার বাচ্চু, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী লিংকন, সুইডেন আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী গোলাম আম্বিয়া, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির, ফিণ্ডল্যাণ্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আলী মোহাম্মদ রমজান, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর, স্পেইন আওয়ামী লীগ নেতা জহিরুল ইসলাম নয়ণ, সুইজারল্যাণ্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি জহুরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক তাজুল ইসলাম, পর্তুগাল আওয়ামী লীগের সভাপতি রফিকসহ নরওয়ে, গ্রিকেনল্যাণ্ড এবং সর্ব ইউরোপীয়ান আওয়ামী লীগ ও সমগ্র ইউরোপের আওয়ামী শাখা সংগঠনের অন্যান্য সকল নেতৃবৃন্দ।

সর্ব ইউরোপীয়ান আওয়ামী লীগের সম্মানিত সভাপতি, সর্বজনশ্রদ্ধেয়-শ্রী অনিল দাশ গুপ্ত, আরও বলেন, দেশের সর্বোচ্চ আদালত কর্তৃক "তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্হা’ অবৈধ ঘোষণা’র রায়ের বিরুদ্ধে হরতাল করে, জননির্বাচিত গণতান্ত্রিক ও জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটানো যাবে না। ইউরোপের প্রবীন এই নেতা বিএনপির উদ্দেশ্যে আরও বলেন, আপনারা দেশের মানুষকে আর কতো কষ্ট, আর কতো ভোগান্তি দিবেন? হরতালের নামে জালাও-পোলাও করে, দেশের আর কতো সম্পদ ধবংস করিবেন? অগণতান্ত্রিক "তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্হা’ চিরস্হায়ী হতে পারে না? এই পদ্ধতি বহাল রাখার অর্থই হবে, গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রাকে ধবংস করা !

অতএব, হরতালের মত নৈরাজ্য, সংঘাত ও ধবংসাত্মক পথ পরিহার এবং রবিবার ও সোমবারের আহূত হরতাল প্রত্যাহার করে, চলতি সংসদ অধিবেশনে যোগদিয়ে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা করার জন্য বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি উদাত্ত আহবান জানিয়েছেন, সর্ব ইউরোপীয়ান আওয়ামী লীগের সম্মানিত সভাপতি, সর্বজনশ্রদ্ধেয়-শ্রী অনিল দাশ গুপ্ত।

 


 
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ