তালেবানের হাতে ছয় মাস ধরে জিম্মি পাঁচ বাংলাদেশি

June 16, 2011, 7:10 AM, Hits: 2055

তালেবানের হাতে ছয় মাস ধরে জিম্মি পাঁচ বাংলাদেশি


জুলকার নাইন : ঢাকা থেকে : আফগান তালেবানদের হাতে অপহরণের ৬ মাস পরও মুক্তি পায়নি পাঁচ বাংলাদেশি। বিভিন্ন সূত্রে তাদের জীবিত থাকার খবর নিশ্চিত হওয়া গেলেও তাদের মুক্তি মিলছে না। অপহৃতদের সহকর্মী ও স্বজনদের অভিযোগ, আফগানিস্তানে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ দক্ষিণ কোরিয়ার সামহোয়ান করপোরেশনের অবহেলায়ই মুক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না তাদের। বিভিন্ন সময় তালেবানরা যোগাযোগ করলেও কোম্পানির পক্ষ থেকে তাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করা হচ্ছে না। এমনকি সামহোয়ান করপোরেশনের পক্ষ থেকেও আফগান সরকারের কাছে জোরালো কোনো আবেদনও জানানো হয়নি। সরকারের পক্ষ থেকে সর্বশেষ গত মঙ্গলবার ঢাকায় নিযুক্ত আফগান রাষ্ট্রদূতকে জিম্মি মুক্তির বিষয়ে তাগাদা দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

জানা যায়, গতবছর ১৭ ডিসেম্বর আফগানিস্তানের বলখ প্রদেশের রাজধানী মাজার-ই-শরিফের বাইবোগা নামক স্থান থেকে তালেবানরা সাত বাংলাদেশিকে অপহরণ করে। সে সময় ঘটনাস্থলে আলতাফ হোসেন নামের একজন বাংলাদেশি প্রকৌশলীকে তারা গুলি করে হত্যা করে। ওই দিন রাতেই তারা অপহৃত সাতজনের মধ্যে মুজিবুর রহমান ও আবুল খায়ের নামের দুজনকে ছেড়ে দেয়। কিন্তু এখনো তালেবানদের হাতে আটক পাঁচ জিম্মি হলেন টাঙ্গাইলের আমিনুল ইসলাম, শফিউল ইসলাম খোকন, লাবলু রহমান, রাজশাহীর মাহবুব আলী এবং চট্টগ্রামের ইমাম উদ্দিন।

জিম্মি অবস্থা থেকে মুক্তির পরপরই মুজিবুর রহমান মাজার-ই-শরিফ থেকে এ প্রতিবেদককে জানান, অপহরণকারী তালেবানরা ছেড়ে দেওয়া আবুল খায়েরের কাছে ফোন করে মুক্তিপণসহ অন্যান্য দাবি জানিয়েছিল। আদর্শগত কয়েকটি দাবির কথা বলা হলেও মুক্তিপণই তাদের মূল দাবি। সূত্র জানায়, পাঁচ বাংলাদেশির মুক্তির জন্য ৩ লাখ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় দুই কোটি ১০ লাখ টাকা) মুক্তিপণ দাবি করে তালেবানরা। তাদের শর্ত ছিল, মুক্তিপণ পরিশোধের পাশাপাশি অপহৃত বাংলাদেশিদের বিনিময়ে আফগান সরকারের হাতে আটক ৪০ তালেবানের মুক্তি দিতে হবে এবং আফগানিস্তান থেকে কোরীয়দের চলে যেতে হবে।

আফগানিস্তানে কর্মরত বাংলাদেশের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের এক কর্মকর্তা গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে টেলিফোনে জানান, জিম্মি হওয়ার পরপরই আফগান সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করে বাংলাদেশ সরকার। আফগানিস্তানে বাংলাদেশের স্থায়ী দূতাবাস না থাকায় কাজাখিস্তানে বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে যোগাযোগ করা হয়। আফগান সরকার কয়েক দিনের মধ্যেই অপহৃতদের অবস্থান নিশ্চিত করতে পারে বলে জানায় এবং উদ্ধারে অভিযানও চালায়। তবে সেসব অভিযান সফল হয়নি। সবর্শেষ গত দুই মাস আগেও একটি ভিডিও পাঠিয়েছে তালেবানরা তাতে জীবিত দেখা গেছে বাংলাদেশিদের। তবে ভিডিওতে কোনো বাংলাদেশির কোনো বক্তব্য নেই। তিনি বলেন, মূলত বাংলাদেশিদের অপহরণ করার কোনো কারণ নেই। শুধু কোরীয় কোম্পানিতে কাজ করার জন্যই তাদেরকে জিম্মি করা হয়। কোরীয়দের আরও কয়েকটি কোম্পানির সঙ্গে তালেবানদের কিছু সমস্যা আছে। জিম্মি বাংলাদেশিদের সহকর্মী ইঞ্জিনিয়ার এস এম আলমগীর বলেন, শুধু আফগান সরকার ও সামহোয়ান করপোরেশনের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারলেই তাদের উদ্ধার সম্ভব। তিনি বলেন, এখন অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যেন বাংলাদেশিদের জীবনের কোনো মূল্যই দিচ্ছে না কোম্পানিটি। যেখানে তালেবানদের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে জিম্মি মুক্তি সম্ভব।

এদিকে বাংলাদেশিদের মুক্তির বিষয়ে তাগাদা দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি। মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ঢাকায় নিযুক্ত আফগান রাষ্ট্রদূত আবদুল রহিম ওরাজ সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ তাগাদা দেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাষ্ট্রদূতকে বলেন, বাংলাদেশি জিম্মিদের মুক্তির বিষয়ে আশু পদক্ষেপ নিতে হবে। জিম্মিদের শারীরিক নিরাপত্তার জন্য সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বল করতে হবে। যত দ্রুত সম্ভব তাদেরকে মুক্ত করে দেশে ফিরিয়ে দিতে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আফগান প্রশাসনকে জানাতে বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, রাষ্ট্রদূত পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে দ্রুত মুক্তির বিষয়ে আশ্বস্ত করেন।

 
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ