লঘুচাপ ও পূর্ণিমার জোয়ারে ভাসছে কক্সবাজার জেলার নিম্নাঞ্চল : ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

June 18, 2011, 8:01 AM, Hits: 1902

লঘুচাপ ও পূর্ণিমার জোয়ারে ভাসছে কক্সবাজার জেলার নিম্নাঞ্চল : ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি


DSC07787_-_SaKiL_-_cox_-_0

চঞ্চল দাশগুপ্ত,কক্সবাজার প্রতিনিধি-১৭ জুন ২০১১ : চলমান পূর্ণিমার জোয়ার ও লঘুচাপের প্রভাবে সমুদ্রের পানি বৃদ্ধি ও টানা বৃষ্টিপাতের ফলে কক্সবাজার জেলায় জোয়ারের পানিতে নিম্নাঞ্চলীয় অসংখ্য গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। জলোচ্ছ্বাসে এক হাজার একরেরও বেশি চিংড়ি ঘের তলিয়ে গেছে। হুমকির মুখে পড়েছে কুতুবদিয়া দ্বীপে ১২ কোটি টাকায় ব্যায়ে নির্মিত দেশের সর্বপ্রথম বায়ু বিদ্যুৎ প্রকল্প। সবচেয়ে বেশি তি হয়েছে কুতুবদিয়া ও টেকনাফ উপজেলায়।কুতুবদিয়ায় তিনটি ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা পানির নিচে রয়েছে। কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহি অফিসের কর্মকর্তারা জানান, মৌসুমী নিম্নচাপের প্রভাবে সৃষ্ট এ জলোচ্ছ্বাসে কুতুবদিয়া, ধলঘাটা ও টেকনাফে নির্মাণাধীন প্রতিরা বাঁধে ব্যাপক য়তি হয়েছে।


টেকনাফ উপজেলার শাহপরীর দ্বীপের জালিয়াপাড়া ও পশ্চিম পাড়ার ভাঙ্গা বেড়িবাঁধ দিয়ে জোয়ারের পানি ঢুকে ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া কক্সবাজার শহরতলীর কলাতলী, চরপাড়া, কাঙ্গালী পাড়া, সমিতি পাড়া, নাজিরারটেক, সদর উপজেলার খুরুশকুল, চৌফলদন্ডী, মহেশখালী উপজেলার ধলঘাটা, মাতারবাড়ি, ঘটিভাঙ্গা, পেকুয়া উপজেলার মগনামা, উজানটিয়া, কুতুবদিয়া উপজেলার উত্তর ধুরুং, দণি ধুরুং, আলী আকবর ডেইল ও তাবলারচর এলাকাসহ ৪০টি গ্রাম জোয়ারের পানিতে ভাসছে।

DSC07787_-_SaKiL_-_cox_-_1


জেলা প্রশাসক মো:য়িাস উদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন,জেলার উপকূলিয় এলাকার অসংখ্য চিংড়ি ঘেড়ের বাধ ভেঙ্গে কয়েক কোটি টাকার চিংড়ি মাছ ভেসে গেছে।জলোচ্ছ্বাসে এক হাজার একরেরও বেশি চিংড়ি ঘের তলিয়ে গেছে।কক্সবাজার সৈকতের শত শত ঝাউঁগাছ সমুদ্রের ঢেউয়ের আঘাতে উপড়ে গেছে।এছাড়া মহেশখালী,কুতুবদিয়া,পেকুয়া,টেশনাফ,কক্সবাজার সদরের নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় স্কুল,কলেজ,মাদ্রসাসহ সকল শিক্ষা প্রতিষ্টান বন্ধ ঘোষনা করা হয়েছে। কক্সবাজার শহরের পশ্চিম কুতুবদিয়া পাড়ায় বৃহস্পতিবার দুপুরে ১০ বছরের এক শিশু মারা গেছে।সাগওে মাছ ধরতে যাওয় অনেক ট্রলারের এখনো কোন খবর পাওয়া যায়নি।তবে বেশিরভাগ ট্রলার কুলে ফিওে এসেছে বলে জানিয়েছে জেলা বোট মালিক সমিতি।
স্থানীয় আবাহাওয়া অফিস জানিয়েছে চলমান পূর্ণিমার জোয়ার ও লঘুচাপের প্রভাবে সমুদ্রের পানি বৃদ্ধি ও টানা বৃষ্টিপাতের ফলে জেলার নিন্মাঞ্চলে আরও পানি বৃদ্ধির আশংকা রয়েছে।

DSC07787_-_SaKiL_-_cox_-_2


টেকনাফ----
পূর্ণিমার প্রভাবে সৃষ্ট জোয়ার ও প্রবল বর্ষণে টেকনাফ উপজেলার ২০টি গ্রামের নিম্নাঞ্চল মারাত্বকভাবে প্লাবিত হয়েছে। ফলে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে সহস্রাধিক পরিবার। তিগ্রস্ত হয়েছে নারী শিশুসহ প্রায় ১০ হাজার মানুষ। অতি জোয়ারে প্লাবিত হয়ে নাফনদী সংলগ্ন চিংড়ি ঘের, রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি তিগ্রস্ত হয়েছে। ভেঙে গেছে বেড়িবাঁধের কয়েক কিলোমিটার অংশ। টেকনাফ পৌরসভার জালিয়াপাড়া, চৌধুরীপাড়াসহ সদর ইউনিয়নের প্রায় ২০টি গ্রামের নিচু এলাকায় অস্বাভাবিকভাবে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব এলাকার পানিবন্দি লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে জরুরি ত্রাণ ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা না হলে বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে।

কুতুবদিয়া----
সবচেয়ে বেশি তি হয়েছে কুতুবদিয়া উপজেলায়। কুতুবদিয়ায় ৩টি ইউনিয়নে বেড়ীবাঁধ ভেঙ্গে ও উপচে ৩টি ইউনিয়নের ব্যাপক এলাকা এখন সাগরের পানিতে পাবিত হয়েছে। কুতুবদিয়া উপজেলার উত্তর ধুরুং, দণি ধুরুং, আলী আকবর ডেইল ও তাবলারচর এলাকাসহ ৪০টি গ্রাম জোয়ারের পানিতে ভাসছে। হুমকির মুখে পড়েছে কুতুবদিয়া দ্বীপের বায়ু বিদ্যুৎ প্রকল্প।এখানে তিনটি ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা পানির নিচে রয়েছে। কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহি অফিসের কর্মকর্তারা জানান, মৌসুমী নিম্নচাপের প্রভাবে সৃষ্ট এ জলোচ্ছ্বাসে কুতুবদিয়া, ধলঘাটা ও টেকনাফে নির্মাণাধীন প্রতিরা বাঁধে ব্যাপক য়তি হয়েছে।

পেকুয়া---
জলোচ্ছ্বাসে পেকুয়া উপজেলার নিন্ম এলাকা ব্যাপকভাবে প্লাবিত হয়েছে।পেকুয়ার শাখার পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা মিলন কান্তি ভট্রাচার্য জানান,শুক্রবার সকাল ১০টায় পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের কাঁকপাড়া নামকস্থানে কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৬৪/২বি পোল্ডারে বেড়ীবাঁধ ভেঙ্গে লোকালয়ে সুমুদ্রের পানি ঢুকে যায়। ওই এলাকায় কোথাও কোথাও বেড়ীবাঁধ উপচে পানি ঢুকে। তাছাড়া মগনামা ইউনিয়নে প্রায় ৮ কিলোমিটার বেড়ীবাঁধই ঝুকিপূর্ণ, তৎমধ্যে ৪ কিলোমিটারের বেড়ীবাঁধ মারাত্মক ঝুকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এসব বেড়ীবাধ যে কোন সামুদ্রিক জোয়ারেও ভেঙ্গে যাওয়ার আশংকা রয়েছে।

চকরিয়া-----
চকরিয়ায়ও ব্যাপক ক্ষতি সাদিত হয়েছে।চকরিয়ার বদরখালীর শাখার পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, মাতারবাড়ি, ধলঘাটার ১২ কিলোমিটার বেড়ীবাঁধ জলোচ্ছ্বাসে বিলীন হয়ে গেছে। ওই এলাকায় নিমার্ণাধীন ৬ কিলোমিটার বেড়ীবাঁধের ৮০ শতাংশই ইতোমধ্যে ধ্বংস হয়ে গেছে। এখানকার চিংড়ি ঘের গুলো সাগরের সঙ্গে একাকার হয়ে গেছে। বর্তমানে ওই এলাকার দুইটি ইউনিয়ন জোয়ারভাটার দোলাচলে দুলছে।


 
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ