প্রস্তাবিত বাজেট ২০১১-১২ সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্র শাখার বাসদ সমর্থক ফোরামের প্রতিক্রিয়া

June 18, 2011, 9:21 AM, Hits: 2037

প্রস্তাবিত বাজেট ২০১১-১২ সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্র শাখার বাসদ সমর্থক ফোরামের প্রতিক্রিয়া


ঋণনির্ভর ও করবৃদ্ধির প্রস্তাবিত বাজেট জনগণের উপর মূল্যবৃদ্ধির চাপ আরো বাড়াব -

বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল বাসদ সমর্থক ফোরাম যুক্তরাষ্ট্র শাখার পক্ষে মো: জামান তপন এক বিবৃতিতে প্রস্তাবিত বাজেট ২০১১-১২ সম্পর্কে সংবাদপত্রে দেয়া প্রতিক্রিয়ায় বলেন, মূল্যস্ফীতিতে জর্জরিত সাধারণ মানুষের কাছে প্রস্তাবিত বাজেট কোনো সুখবর বয়ে আনেনি। ১০% ছাড়িয়ে যাওয়া মূল্যস্ফীতির হারকে আগামী অর্থবছরে ৭.৫০% করার আশাবাদ ব্যক্ত করা হলেও কার্যকর পদক্ষেপ কি নেয়া হবে তা স্পষ্ট নয়। মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে গরীবের জন্য রেশনিং ব্যবস্থা চালু ও টিসিবি-কে সক্রিয় করতে বরাদ্দ দেয়া হয়নি। বরং রাজস্ব আদায় ২৪% বাড়াতে ভ্যাট ও শুল্কের আওতা বা পরিধি বিস্তৃত করার চাপ শেষ পর্যন্ত ক্রেতাসাধারণকেই বহন করতে হবে। ওয়েজ আর্নার বন্ড, পেনশনার ও পারিবারিক সঞ্চয়পত্রের আয়ের উপর করারোপের মাধ্যমে সরকার মধ্যবিত্তের সঞ্চয়ের উপর হাত দিয়েছে। বিদ্যুত ও জ্বালানি খাতে বরাদ্দ প্রধানত ব্যয় হবে বিদেশী ও বেসরকারী বিদ্যুতকেন্দ্র এবং তেল-গ্যাস কোম্পানির কাছ থেকে উচ্চ দামে বিদ্যুৎ ও গ্যাস কেনার লোকসান পোষাতে। ভর্তুকি কমানোর নামে আগামীতে বিদ্যুত ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির ইংগিত দেয়া হয়েছে।


বিবৃতিতে তিনি আরো বলেন, রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে স্থায়ী বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ বা গ্যাস উত্তোলনের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়নি। সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কর আদায় বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়া হলেও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট খাতে বরাদ্দ তেমন বাড়েনি। কৃষিখাতে বরাদ্দ গতবারের তুলনায় কমেছে, কৃষি ভর্তুকিও কমানো হয়েছে। অথচ সামরিক বাহিনীর বাজেট গতবারের তুলনায় ১২১৬ কোটি টাকা বেড়েছে। শিক্ষাখাতে বাজেটের ১১.৪% মাত্র বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা গতবার ছিল ১৩.৫১%। স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ ৫.১%, কৃষিতে ৪.৭%, অথচ প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দ বাজেটের ৬.৫%। প্রস্তাবিত বাজেটের ১১% অর্থই ব্যয় হবে বিগত দিনে নেয়া ঋণের সুদ পরিশোধে। ৪৫,২০৪ কোটি টাকা ঘাটতির প্রস্তাবিত বাজেটেও দেশী-বিদেশী ঋণ থেকে আসবে বাজেটের ২৫%। আয়বর্ধক ও উৎপাদনমূলক কর্মকান্ডে রাষ্ট্রের অংশগ্রহণ সংকুচিত করে ঋণের উপর নির্ভরশীল হয়ে বাজেট তৈরির যৌক্তিকতা প্রশ্নসাপেক্ষ।


তিনি আরো বলেন, ‘সামাজিক নিরাপত্তা জাল’-এর বাহারি নামে গতানুগতিক কিছু খয়রাতি সাহায্য বিতরণের প্রস্তাব করা হলেও গৃহায়ন খাতে ০.৯% বরাদ্দ এবং শিল্প ও অর্থনৈতিক সার্ভিস খাতে ০.৮% বরাদ্দ দিয়ে সাধারণ মানুষের আবাসন ও দেশের শিল্পায়ন কিভাবে সম্ভব তা একটি বড় প্রশ্ন। কৃষিখাতে ৪.৭% বরাদ্দ দিয়ে কৃষির বিকাশ ও দারিদ্র্য বিমোচন সম্ভব নয়। সেবা খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির উপর নির্ভর করে ৭% জিডিপি প্রবৃদ্ধির যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, তা যদি কাগজ কলমে অর্জিত হয়ও-গরীব মানুষের ভাগ্যের কোন পরিবর্তন হবে না। বরং চচচ’র মাধ্যমে বিনিয়োগের ফলে বিদ্যুৎ, যোগাযোগ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ইত্যাদি মৌলিক সেবাগুলো দুর্মূল্য হয়ে গরীব মানুষ আরো দুর্দশায় পড়বে।


বিবৃতিতেমো: জামান তপন  বলেন, ১০ শতাংশ কর দিয়ে অবকাঠামোখাতে বিনিয়োগের নামে কালা টাকা সাদা করার প্রস্তাব আবারও সংবিধান ও নৈতিকতার লংঘণ করা হয়েছে এবং কালো টাকার অর্থনীতিকে উৎসাহিত করা হয়েছে।

 


 
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ