বঙ্গবন্ধুর খুনির ভিসার মেয়াদ বাড়ালেন বাংলাদেশি কূটনীতিক

June 20, 2011, 4:47 PM, Hits: 1842

বঙ্গবন্ধুর খুনির ভিসার মেয়াদ বাড়ালেন বাংলাদেশি কূটনীতিক
জুলকার নাইন : ঢাকা থেকে : বাংলাদেশ সরকার যখন বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত জাতির জনকের মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ঘাতকদের ফিরিয়ে এনে বিচারের রায় কার্যকরের জন্য জোর কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক চেষ্টা চালাচ্ছে, তখনই বাংলাদেশের এক হাইকমিশনার বঙ্গবন্ধুর এক খুনির ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর জন্য আবেদন করলেন এবং মেয়াদ বাড়াতে সক্ষমও হলেন। নাইরোবিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের তৃতীয় সেক্রেটারি (হাইকমিশনারের অনুপস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারের দায়িত্ব পালন করেছেন এক বছর) মো. সাখাওয়াত হোসেন ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধি করান বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন আবদুল মাজেদের।

ক্যাপ্টেন মাজেদ ২০০৯ সালের ১০ জুলাই থেকে কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবিতে অবস্থান করছেন। তার ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর জন্য আবেদন করেন নাইরোবির বাংলাদেশ হাইকমিশনেরই তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার মো. সাখাওয়াত হোসেন। মাজেদের ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর লক্ষ্যে তিনি ২০১০ সালের ৭ জুলাই ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার হিসেবে কেনিয়ার ইমিগ্রেশন দফতরে চিঠি দেন। চিঠিতে সাবেক এক রাষ্ট্রদূতের জন্য বর্তমান হাইকমিশনার পারিবারিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেন। চিঠির একটি কপি বাংলাদেশ প্রতিদিনের হাতে রয়েছে। সে হিসেবে কেনিয়ার কর্তৃপক্ষ কিলার মাজেদের ভিসার মেয়াদও দুই বছর বাড়িয়ে দিয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের এই খুনির নামে ইতোমধ্যেই ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেডঅ্যালার্টও জারি করেছে সরকার। ইন্টারপোল অ্যালার্টে ধারণ করা হয়েছিল ক্যাপ্টেন (অব.) মাজেদ ভারত বা পাকিস্তানে অবস্থান করছেন। কিন্তু বাংলাদেশ হাইকমিশনারের দেওয়া চিঠি অনুসারে মাজেদ ২০০৯ সালের ১০ জুলাই নাইরোবি গিয়েছেন।

হাইকমিশন থেকে কেনিয়ার ইমিগ্রেশনকে দেওয়া চিঠিতে বলা হয়েছিল, 'সদয় অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে, বাংলাদেশ সরকারের সাবেক কূটনীতিক (অব.) আবদুল মাজেদ ১১ জুলাই, ২০০৯ তারিখে কেনিয়ায় এসেছেন। তিনি কেনিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার মো. সাখাওয়াত হোসেনের চাচা। তার ভিসার মেয়াদ ১০ জুলাই, ২০১০ শেষ হতে যাচ্ছে। বার্ধক্য ও অসুস্থতার কারণে তিনি এখানে (নাইরোবি) তার ভ্রাতুষ্পুত্রের সঙ্গে অবস্থান করতে চান।'

চিঠির দ্বিতীয় প্যারায় বলা আছে, 'সংশ্লিষ্ট ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের কাছে হাইকমিশন আবদুল মাজেদের ভিসার মেয়াদ দুই বছর বাড়ানোর অনুরোধ জানাচ্ছি।'

প্রেরক হিসেবে চিঠিতে স্বাক্ষর করেন তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার (বর্তমানে তৃতীয় সচিব) মো. সাখাওয়াত হোসেন। চিঠির সঙ্গে সংযুক্ত আছে আবদুল মাজেদের পাসপোর্ট ও অন্যান্য অনুলিপি।

এ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কেনিয়া সরকার ২০১২ সালের ১০ জুলাই পর্যন্ত কিলার মাজেদের কেনিয়ায় অবস্থানের মেয়াদ বাড়ায়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ২০০৬ সালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগ দেন মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি নাইরোবিতে বাংলাদেশ দূতাবাসে হেড অব চ্যান্সারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এপ্রিলে সরকার কেনিয়ার দূতাবাসে হাইকমিশনার হিসেবে ওয়াহিদুর রহমানকে নিয়োগ দেয়। ২০১০ সালের মার্চ থেকে ওয়াহিদুর রহমানের নিয়োগের আগ পর্যন্ত দূতাবাসের হাইকমিশনার, কাউন্সিলর বা মিনিস্টার হিসেবে কোনো কর্মকর্তা না থাকায় সাখাওয়াত হোসেনই ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।








 
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ