মালয়েশিয়ায় ১১ জুলাই থেকে নিবন্ধন শুরু - অবৈধ শ্রমিকদের নাম নিবন্ধনে অর্থ লাগবে না

June 25, 2011, 4:30 PM, Hits: 1784

 মালয়েশিয়ায় ১১ জুলাই থেকে নিবন্ধন শুরু -  অবৈধ শ্রমিকদের নাম নিবন্ধনে অর্থ লাগবে না

মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসীদের বৈধ করে নেওয়ার বহুল প্রতীক্ষিত কার্যক্রম ১১ জুলাই থেকে শুরু হচ্ছে। ২৪ জুলাই পর্যন্ত শ্রমিকেরা নিকটস্থ অভিবাসন কার্যালয়ে গিয়ে নাম নিবন্ধন করতে পারবেন। তবে নিবন্ধনের জন্য কাউকে কোনো অর্থ খরচ করতে হবে না। মালয়েশিয়ার বাংলাদেশ দূতাবাস এবং দেশটির সরকারি এক ঘোষণা থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।


দূতাবাস সূত্র জানায়, নাম নিবন্ধনের পর অন্যান্য প্রক্রিয়া শুরু হবে। এ বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এ কার্যক্রম চলবে। এর মাধ্যমে দেশটিতে অবৈধভাবে অবস্থানরত তিন লাখের বেশি বাংলাদেশি শ্রমিক বৈধতা পাবে।


মালয়েশিয়ার বাংলাদেশ হাইকমিশনের শ্রম কাউন্সিলর মন্টু কুমার বিশ্বাস গতকাল শুক্রবার প্রথম আলোকে বলেন, মালয়েশিয়ায় শ্রমিকদের বৈধ করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এখন প্রতিটি কোম্পানির মালিকের কাজ হবে, তাঁর অধীনে সব শ্রমিকের নামের তালিকা তৈরি করে তাঁদের নিয়ে অভিবাসন কার্যালয়ে যাবেন। বৈধ হওয়ার জন্য এটাই প্রথম প্রক্রিয়া। এ জন্য কোথাও কোনো টাকা দিতে হবে না।


মন্টু কুমার বিশ্বাস বলেন, মালয়েশিয়া সরকার পুরো প্রক্রিয়া দূতাবাসে লিখিতভাবে জানাবে। নাম নিবন্ধনের পর যেসব শ্রমিকের পাসপোর্ট নেই, তাঁদের পাসপোর্ট দেওয়া হবে। পাসপোর্ট পাওয়ার পর শ্রমিকেরা মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গিয়ে বৈধ হওয়ার জন্য আঙুলের ছাপ দেবেন, তারপর অন্যান্য প্রক্রিয়া শুরু হবে।


মালয়েশিয়ার ইংরেজি দৈনিক স্টার অনলাইন-এ গতকাল শুক্রবার প্রকাশিত খবরে বলা হয়, বুধবার অবৈধ শ্রমিকদের বৈধ করার বিষয়ে একটি বৈঠক হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন দেশটির উপপ্রধানমন্ত্রী মুহিদ্দিন ইয়াসিন।
স্টার অনলাইন-এ গতকাল দেশটির স্বরাষ্ট্রসচিব মাহমুদ আদমের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, ‘শ্রমিকদের নাম নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় এজেন্ট হিসেবে কাজ করার জন্য মালয়েশিয়ার এক হাজার ৪০০ কোম্পানি আবেদন করেছে। তবে যাচাই-বাছাই করেই আবেদনকারীদের মধ্য থেকে কাজ দেওয়া হবে।’ স্বরাষ্ট্রসচিব জানান, নাম নিবন্ধনের জন্য কোনো শ্রমিককে অর্থ খরচ করতে হবে না। কেউ কোনো শ্রমিকের কাছ থেকে অর্থ নিলে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি।


উপপ্রধানমন্ত্রী বলেন, অবৈধ শ্রমিকদের বৈধ করার এ প্রক্রিয়ার সাংকেতিক নাম দেওয়া হয়েছে ‘সিক্স পি’। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ৬ পি (সিক্স পি) মানে ছয়টি ধাপের একটি প্যাকেজ; যার পূর্ণাঙ্গ রূপ হলো অর্থ নিবন্ধন (রেজিস্ট্রেশন), বৈধকরণ (লিগ্যালাইজেশন), সাধারণ ক্ষমা (অ্যামনেস্টি), তত্ত্বাবধান (সুপারভিশন), বাস্তবায়ন (এনফোর্সমেন্ট) ও নিজ দেশে ফেরত পাঠানো (ডিপোর্টেশন)।
অভিবাসনবিষয়ক বেসরকারি সংস্থাগুলোর জোট কারাম এশিয়ার প্রধান সমন্বয়ক হারুন-অর-রশিদ প্রথম আলোকে বলেন, মালয়েশিয়া সরকারের এ ঘোষণা বিদেশি শ্রমিকদের জন্য স্বস্তির ব্যাপার।
মালয়েশিয়ার বিভিন্ন দৈনিকে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, অবৈধ শ্রমিকদের নিবন্ধনের পর বর্তমান নিয়োগকর্তার অধীনে তাঁদের অনুমোদনপত্র নথিভুক্ত করা হবে। এরপর অবৈধ শ্রমিকেরা পাবেন বৈধতার সনদ। এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে ছয় মাসের মতো সময় লাগবে।


বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, অবৈধ বিদেশি শ্রমিক ও তাঁদের নিয়োগদানকারীরা এ সাধারণ ক্ষমার সুযোগ নিলে তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। কিন্তু কেউ এ সুযোগ নিতে ব্যর্থ হলে জেল-জরিমানার পরই তাঁদের নিজ দেশে ফিরতে হবে।


বাংলাদেশি শ্রমিকদের বৈধতার ক্ষেত্রে পাসপোর্ট একটি বড় প্রতিবন্ধকতা ছিল। কারণ অবৈধ শ্রমিকদের বেশির ভাগেরই পাসপোর্ট নেই। বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন প্রথম আলোকে জানান, যাদের পাসপোর্ট নেই তাঁদের পাসপোর্ট দেওয়া হবে। আর যাদের পুরনো পাসপোর্ট আছে কিন্তু মেয়াদ নেই তাঁদের পাসপোর্টের মেয়াদ ২০১৫ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হবে। তবে ২০১৫ সালের মধ্যে সব পাসপোর্ট যন্ত্রে পাঠযোগ্য পাসপোর্ট (এমআরপি) দেওয়া হবে।



 
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ