এফবিআই'র ওয়েবসাইটে কোকোর দুর্নীতির তথ্য ফাঁস

June 25, 2011, 6:02 PM, Hits: 2012

এফবিআই'র ওয়েবসাইটে কোকোর দুর্নীতির তথ্য ফাঁস


ঢাকা থেকে :  সিঙ্গাপুরে ২০ কোটি ডলার পাচার মামলায় বাংলাদেশের আদালত বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার কনিষ্ঠ পুত্র আরাফাত রহমান কোকোকে বৃহস্পতিবার ছয় বছরের  কারাদণ্ড দেয়ার অনেক আগেই  যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)’র ওয়েবসাইটে তার দুর্নীতির কাহিনী প্রকাশ করা হয়। সিঙ্গাপুরে কোকোর যৌথ একাউন্টে রাখা ঘুষের মাধ্যমে উপার্জিত প্রায় ৩০ লাখ ডলার উদ্ধার প্রচেষ্টার প্রেক্ষিতে এ তথ্য প্রকাশিত হয়।
যুক্তরাষ্ট্র তার বিভিন্ন কেন্দ্রীয় সংস্থার মাধ্যমে এ ঘুষের ব্যাপারে ব্যাপক তদন্ত  চালায় এবং পাচারকৃত অর্থ উদ্ধার করে। আমেরিকার বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারি ব্যাংকের মাধ্যমে মার্কিন ডলারে ঘুষের অর্থ পরিশোধ করায় এই ব্যবস্থা নেয়া হয়। তাছাড়া সারাবিশ্বে উচ্চপর্যায়ের দুর্নীতি দমনে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা চালাবার ব্যাপারে ২০০৬ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেয়া নীতিমালার সংগেও এই উদ্যোগ সংগতিপূর্ণ।
ওয়েবসাইটে বলা হয়, অবৈধভাবে কাজ পাইয়ে দিতে এবং দুটি পৃথক সরকারি প্রকল্প থেকে কমিশন লাভে দুটি বিদেশী কোম্পানীর পক্ষে ব্যাপক চক্রান্তের মাধ্যমে উপার্জনের অভিযোগে  কোকোর প্রায় ৩০ লাখ ডলারের তহবিল যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ বাজেয়াপ্ত করে।
অপরাধ তদন্ত বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সহকারি এটর্নী জেনারেল ম্যাথিউ ফ্রিডরিক জানান, কোকো ও তার একাধিক ব্যাংক একাউন্টে সিঙ্গাপুরে রক্ষিত অর্থ বাজেয়াপ্ত করার জন্য ২০০৯ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়ার আদালতে মামলা করা হয়।
এফবিআই জানায়, জার্মানীর সিম্ন্সে এজি এবং চায়না হাররার ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানীকে কাজ পাইয়ে দেয়ার বিনিময়ে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পুত্র আরাফাত রহমানকে ঘুষ প্রদানের বিরুদ্ধে বাজেয়াপ্তকরণের এই মামলাটি দায়ের করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়, কোকোর একাউন্টে জমা হওয়া বেশীর ভাগ অর্থই চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পের কাজ পাইয়ে দেয়ার জন্য ঘুষ হিসেবে নেয়া হয়।
ম্যাথিউ ফ্রিডরিক ২০০৯ সালে বলেছিলেন, এই ঘটনায় ঘুষ ও পাচারকৃত অর্থ উদ্ধার এবং বিদেশী দুর্নীতি উদঘাটনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আইনের বিস্তার প্রকাশ পাবে।
ম্যাথিউ দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, ‘ফরেন করাপ্ট প্র্যাকটিসেস অ্যাক্ট (এফসিপিএ)’ লংঘনের দায়ে অভিযুক্ত যে কোন কোম্পানী ও নির্বাহীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অবৈধ সুযোগ গ্রহণে ব্যবহৃত অর্থ পুনরুদ্ধারে আমরা অবশ্যই আমাদের বাজেয়াপ্তকরণ আইন ব্যবহার করব।
সিমেন্স এজি এবং তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন অপর তিনটি কোম্পানী ২০০৯ সালের ১৫ ডিসেম্বর ‘এফসিএ’ লংঘন এবং এ সংক্রান্ত অভিযোগের দায় স্বীকার করে।
বিশেষ করে সিমেন্স বাংলাদেশ ২০০১ সালের মে থেকে ২০০৬ সালের আগষ্ট পর্যন্ত তাদের ঘুষ প্রদানের পরিমাণ অন্তত ৫৩ লক্ষ ১৯ হাজার ৮শ’ ৩৯ ডলার বলে স্বীকার করেছে। এসব অর্থ মোবাইল টেলিফোন প্রকল্পে বাংলাদেশের বিভিন্ন কর্মকর্তার সহায়তা পাওয়ার জন্য বিজনেস কনসালটেন্টদের পেছনে ব্যয় করা হয়। এই অর্থের অন্তত একাংশ যুক্তরাষ্ট্রের একটি ব্যাংক একাউন্ট থেকে পরিশোধ করা হয়।
অভিযোগে জানা যায়, সিমেন্স এজি ও চায়না হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানী ঘুষ বাবদ অর্থ মার্কিন ডলারে পরিশোধ করে। অবৈধ এসব অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সিঙ্গাপুরে কোকো ও তার সহযোগীর একাউন্টে জমা হয়। এ কারণে তা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিচার্য বিষয়ে পরিণত হয়।
বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) নতুন কন্টেইনার টার্মিনাল নির্মাণ ও রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত মোবাইল ফোন কোম্পানী গঠনে ঘুষ দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে কোকোর বিরুদ্ধে ২০০৯ সালের ১৭ মার্চ মামলা দায়ের করে। দুদক জানায়, ঘুষের সমুদয় অর্থ সিঙ্গাপুরে কোকোর একাউন্টে স্থানান্তরিত করা হয়।
এফবিআই’র ওয়েবসাইটে কোকোর দুর্নীতির প্রতিবেদন প্রকাশের আগে বিশ্ব ব্যাংক-ইউএনওডিসি প্রকাশনায় জাতীয় সম্পদ চুরির উদাহরণ হিসেবে বিএনপি প্রধান বেগম খালেদা জিয়ার কনিষ্ঠ পুত্রের ৩০ লাখ ডলার আত্মসাতের কথা তুলে ধরা হয়।
‘এ্যাসেট রিকভারী হ্যান্ডবুক’ শীর্ষক এই প্রতিবেদন দু’দিন আগে ভিয়েনা থেকে প্রকাশিত হয় এবং যা হাতে এসেছে।
জাতিসংঘ ড্রাগস এ্যান্ড  ক্রাইম (এইএনওডিসি) কার্যালয়ের সহযোগিতায় বিশ্ব ব্যাংকের ‘স্টোলেন এ্যাসেট রিকভারী’ (এসটিএআরÑ আত্মসাতকৃত সম্পদ পুনরুদ্ধার) উদ্যোগের আওতায় এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়।
২৭০ পৃষ্ঠার এই প্রকাশনার (পুস্তক) ৫৩ ও ১৯৬ পৃষ্ঠায় আরাফাত রহমান কোকোর মামলার উল্লেখ রয়েছে।
এতে জবাবদিহিতা এবং মামলার এক্তিয়ার সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়ও তুলে ধরা হয়।
কোকো বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। জানা যায়, তিনি থাইল্যান্ড থেকে মালয়েশিয়া গেছেন। তাকে চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ড থাকার অনুমতি দেয়া হয়েছিল।
কোকোকে ২০০৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর গ্রেফতার করা হয়। তাকে ব্যাংককে চিকিৎসার জন্য ২০০৮ সালের ১৭ জুলাই প্যারোলে মুক্তি দেয়া হয়। তার প্যারোলের সময় ২০১০ সালের ১৯ আগস্ট শেষ হয়েছে এবং তাকে অবিলম্বে দেশে ফিরে আসার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

 


 
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ