সৌদিতে বাংলাদেশী শ্রমিকদের শঙ্কা, মালয়েশিয়ায় আনন্দ

June 27, 2011, 8:40 AM, Hits: 1775

সৌদিতে বাংলাদেশী শ্রমিকদের শঙ্কা, মালয়েশিয়ায় আনন্দ

 

দীন ইসলাম: আগামী ১০ই সেপ্টেম্বর থেকে সৌদি সরকার তার দেশের নাগরিকদের চাকরিতে সুযোগ করে দিতে নতুন কোটা ব্যবস্থা চালু করতে যাচ্ছে। গত সপ্তাহে সৌদি সরকারের শ্রম মন্ত্রণালয় ‘নিকাকাত’ নামের এ কর্মসূচি ঘোষণা করে। এর আগে গত ৩১শে মে সৌদি সরকার এক ঘোষণায় ছয় বছর ধরে সৌদিতে অবস্থান করছেন এমন বিদেশী কর্মীদের কাজ করার অনুমতি (ওয়ার্ক পারমিট) না দেয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানায়। এমন ঘোষণায় সৌদিতে কর্মরত কয়েক লাখ বাংলাদেশী শ্রমিক নানা শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন।

আশঙ্কা করা হচ্ছে, সৌদি সরকারের কোটা ব্যবস্থা ও ৩১শে মে’র ঘোষণার ফলে দেশটিতে অবস্থানরত বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের কর্মীদের চাকরির সুযোগ কমবে। অনেকে চাকরিও হারাবেন। তাই সৌদি আরবে ওয়ার্ক পারমিট বা ভিসা নবায়ন সংক্রান্ত বিধি পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর পড়বে। ওদিকে মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসীদের বৈধ করে নেয়ার বহুপ্রতীক্ষিত কার্যক্রম আগামী ১১ই জুলাই থেকে শুরু হচ্ছে। এ কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন মালয়েশিয়াতে বসবাসরত বাংলাদেশী অবৈধ তিন লাখ শ্রমিক। একই মাসের ২৪শে জুলাই পর্যন্ত শ্রমিকরা নিকটস্থ অভিবাসন কার্যালয়ে গিয়ে নিজেদের নাম নিবন্ধন করতে পারবেন।

তবে নিবন্ধনের জন্য কাউকে কোন অর্থ খরচ করতে হবে না। মালয়েশিয়া সরকারের এমন ঘোষণায় ওই দেশে বসবাসরত বাংলাদেশী অবৈধ শ্রমিকের মধ্যে এখন চলছে আনন্দের বন্যা। মালয়েশিয়ার বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, অবৈধ শ্রমিকদের নাম নিবন্ধনের পর অন্যান্য প্রক্রিয়া শুরু হবে। এ বছরের ৩১শে ডিসেম্বর পর্যন্ত এ কার্যক্রম চলবে। ওদিকে জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি)-র পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৯৭৬ সাল থেকে চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত ৭২ লাখ ৮৫ হাজার ৮২২ জন কর্মী চাকরি নিয়ে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন। এর মধ্যে উপসাগরীয় ছয় দেশে গেছেন ৫৫ লাখ ৩৪ হাজার ৮৪৫ জন।

শুধুমাত্র সৌদি আরবেই এ পর্যন্ত গেছেন ২৫ লাখ ৮৩ হাজার ৯৪১ জন। তবে বিদেশ যাওয়া কর্মীদের মধ্যে কতজন ফিরে এসেছেন ওই বিষয়ে কোন তথ্য নেই। এক কর্মকর্তা জানান, অনেক অর্থ খরচ করে বাংলাদেশী কর্মীরা বিদেশে যান। যে মেয়াদের জন্য প্রাথমিকভাবে তারা বিদেশে যান, তা বর্ধিত করা না হলে অনেকের যাওয়ার খরচই ওঠে না। এ কারণে অনেকে বর্ধিত মেয়াদে বা অবৈধভাবে অবস্থানের চিন্তা করেন। তাই সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলোতে অনেক বাংলাদেশী অবৈধভাবে অবস্থান করছেন। তাদের অনেকে ভিসার মেয়াদ শেষ হলেও দেশে ফেরেননি। সৌদি সরকারের ঘোষিত নিকাকাত কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী ১০ই সেপ্টেম্বর থেকে সৌদির কোম্পানিগুলোকে মোট জনবলের অনুপাতে স্থানীয় নাগরিকদের নিয়োগ দিতে হবে।

সৌদি শ্রম মন্ত্রণালয় স্থানীয় ব্যক্তিদের জন্য খাতওয়ারি কোটা নির্দিষ্ট করে দিয়েছে। এর মধ্যে ৫০০ কর্মী কাজ করছে বা করবে এমন ব্যাংকে কমপক্ষে ৪৯ জন (৭ শতাংশ) সৌদি নাগরিককে নিয়োগ দিতে হবে। আবার ৫০০ কর্মী থাকবে এমন পাইকারি বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলোতে কমপক্ষে ১৯ শতাংশ (৯৫ জন) সৌদি কর্মী নিয়োগ দিতে হবে। গণমাধ্যম, বীমা ও সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও ১৯ শতাংশ কোটা সৌদি জনগণের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।

 

নতুন এ কোটা ব্যবস্থা কার্যকর করতে কোন প্রতিষ্ঠান ব্যর্থ হলে তার বিদেশী কর্মীদের সৌদি আরবে ‘কাজ করার অনুমতি’ (ওয়ার্ক পারমিট) বাতিল করা হবে। সৌদি সরকারের এমন সিদ্ধান্তের বিষয়ে প্রবাসীকল্যাণ সচিব ড. জাফর আহমেদ খান বলেন, আমিও বিষয়টি শুনেছি। তবে আমাদের দূতাবাস এখনও বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। যদি সত্যিই এমনটা হয় তবে আমাদের অভিবাসন ব্যয় কমানোসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রস্তুত হতে হবে।

ওদিকে সৌদি সরকারের নতুন কোটা ব্যবস্থা চালুর ফলে  দেশটিতে কর্মরত বাংলাদেশীদের ওপর কি প্রভাব পড়বে জানতে চাইলে বায়রা নেতারা ও কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, কেম্পানিগুলো কিভাবে কোটা ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করে তা না দেখে মন্তব্য করা যাবে না। তবে ১৯ শতাংশ সৌদি কর্মী অনেক কোম্পানিতেই নেই। ফলে বিদেশীদের চাকরি হারানোর আশঙ্কা থাকবে। কোম্পানিগুলো কিভাবে এটি সামাল দেবে তা-ও আমাদের দেখতে হবে। কেম্পানিগুলো বাংলাদেশী কর্মীদের যে বেতনে কাজ করাতে পারবে, সৌদি কর্মীদের তার চেয়ে তিন-চার গুণ বেশি বেতন দিতে হবে। সৌদি সরকারের সিদ্ধান্তের নানামুখী প্রভাব দেখা দিতে পারে।

মালয়েশিয়ার বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, শ্রমিকের নাম নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় এজেন্ট হিসেবে কাজ করার জন্য মালয়েশিয়ার ১৪০০ কোম্পানি আবেদন করেছে। তবে যাচাই-বাছাই করেই আবেদনকারীদের মধ্য থেকে কাজ দেয়া হবে। তবে নাম নিবন্ধনের জন্য কোন শ্রমিককে অর্থ খরচ করতে হবে না। বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, অবৈধ বিদেশী শ্রমিক ও তাদের নিয়োগদানকারীরা এ সাধারণ ক্ষমার সুযোগ নিলে তাদের বিরুদ্ধে কোন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে না। তবে কেউ এ সুযোগ নিতে ব্যর্থ হলে জেল-জরিমানার পরই তাদের নিজ দেশে ফিরতে হবে। বাংলাদেশী শ্রমিকদের বৈধতার  ক্ষেত্রে পাসপোর্ট একটি বড় প্রতিবন্ধকতা ছিল। কারণ অবৈধ শ্রমিকদের বেশির ভাগেরই পাসপোর্ট  নেই। এতসব ঝক্কি ঝামেলা পোহালেও মালয়েশিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশী শ্রমিকরা মুক্তমনে চলাফেরা করছেন। যেন তাদের কোন ভয় নেই।

 


 
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ