মজার গল্প নারীর জন্য কতটুকু মজার ? !

June 27, 2011, 9:22 AM, Hits: 3958

মজার গল্প নারীর জন্য কতটুকু মজার ? !


হ-বাংলা নিউজ : চাকরির নিয়োগপত্র হাতে পেয়ে প্রথমবার মনে হয়েছিল তার জীবনে মেঘের পর বৃষ্টি এলো। চাকরিটা তার বড় বেশি প্রয়োজন ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের হাসি আনন্দের বাঁধ ভেঙে কর্মজীবনের বাস্তবতায় প্রথমেই হোঁচট খেতে হলো প্রথমাকে। মাল্টিন্যাশনাল একটি প্রাইভেট ফার্মে প্রথমাসহ মেয়ে দুজন। চাকরিতে যোগ দেয়ার পর মনে হলো অফিসের কয়েকজন স্টাফ তাদের ব্যাপারে বেশি উৎসুক। অন্য নারী সহকর্মীর মুখেও শুনে ফেলেছে পুরুষ সহকর্মীদের আচরণের কথা। অন্য নারী সহকর্মী বিবাহিত। অফিসে পুরুষ সহকর্মীরা যখন সাবলীলভাবে অশ্লীল ভাষায় অন্যের সমালোচনা করে, অন্য কোনো নারীর বদনাম করে তখন সে পরিবেশ তার অসহ্য হতে লাগল। কয়েকজন সহকর্মী গল্পের ছলে তার সঙ্গেও আজেবাজে কথাবার্তা বলতে শুরু করল। হাসিমুখে প্রথমা যখন বলল, সে এসব গল্প পছন্দ করে না। অন্য নারী সহকর্মীকে ও তার দাম্পত্য জীবনের গল্প, স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ককে রসালোভাবে গল্পের ছলে অফিসে উপস্থাপন করতে লাগল। তখন সে সহকর্মীরও অস্বস্তির সীমা ছিল না। অফিসে পুরুষ সহকর্মীদের প্রায়ই বলতে শোনা যেত এসব গল্প কেবলই মজা করা। কিন্তু প্রথমা তার বিশ্ববিদ্যালয় জীবন, পরিবারে কখনোই গল্পের ছলে এসব মজা করতে শেখেনি। অশ্লীল ভাষায় নারীর শরীর নিয়ে কোনো গল্প করতে শুনেনি।


চাকরির শুরুতে নন্দিতার অফিসে সময় ভালো কাটলেও পরে কিছু তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে লাগলে সে। চোখের সামনেই ঘটে যেতে লাগল নারী পুরুষ বৈষম্যের কিছু তিক্ত ঘটনা। অফিসে বেশি কাজ করেও নন্দিতাকে সবসময়ই অফিস প্রধানের কাছে তিক্ত পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। মেয়ে বলেই অবলা মনে করে অফিসের কেউ কেউ কটু পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পিছপা হলো না। কিন্তু নন্দিতার প্রতিদিনই এসব তিক্ত পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে করতে মাঝে মাঝে ক্লান্ত লাগে। কিন্তু এভাবে পিছপা হতেও রাজি না নন্দিতা।


এরকম হাজারো তিক্ত পরিস্থিতি মাথায় নিয়ে একজন নারীকে তার কর্মস্থলে কাজ করে যেতে হয়। আন্তরিকতা, সততা, শ্রম দিয়ে সে তার নির্দিষ্ট কাজ করলেও কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা একজন নারীর ভিতরটা অনেক বেশি ভেঙে দেয়। শুরু হয় মানসিক টানাপোড়েন। বর্তমানে কর্মক্ষেত্রের সুযোগ বেশি সৃষ্টি হওয়ায় পুরুষের সঙ্গে নারীরাও কর্মক্ষেত্রে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করছে। কিন্তু সেই প্রতিষ্ঠা পাওয়ার পিছনের কাহিনীটা খুব বেশি সুখকর নয়। নারীরাই বলছেন, প্রতি মহূর্তেই অনেক নারীকে তার কর্মক্ষেত্রে বৈরী পরিবেশের সঙ্গে লড়তে হয়। বৈরী পরিবেশে একজন নারীর কর্মক্ষেত্রে কী করা উচিত এ প্রশ্নের জবাবে নগরীর ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল লিটল জুয়েলস স্কুলের প্রিন্সিপাল দিলরুবা আহমেদ বলেন, একজন নারীকে এসব ক্ষেত্রে ডোন্ট কেয়ার ভাবে থাকতে হবে। দৃঢচিত্তে কাজ করে যেতে হবে। তিনি তার নিজের অভিজ্ঞতার কথা শুনিয়ে বলেন, আমি স্বাধীনতার বেশ কয়েক বছর পর যখন চিটাগাং ক্লাবে ছোট্ট পরিসরে আমার স্কুলটার যাত্রা শুরু করি তখন এমন উদ্যোগী হওয়ার চিন্তাটাও অনেক নারীর কাছে অকল্পনীয় ছিল। কিন্তু আমি আমার আত্মবিশ্বাস থেকে ফিরে যাইনি। আমি সারাজীবন আমার মূল কাজটাই করে গেছি। কে কি বলল তা নিয়ে কখনোই মাথা ঘামাইনি। তিনি আরো বলেন, সমালোচকরা সমালোচনা করবেই। আর একজন নারীর উচিত সব সমালোচনাকে পায়ে দলে শুধু তার কাজটাই করে যাওয়া। বৈরী পরিবেশ সৃষ্টিকারী সেই দল একসময় ঠিকই উপলব্দি করবে এসব করে নারীর পথচলাকে রুদ্ধ করা সম্ভব নয়।


আইনজীবী ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর রেহানা বেগম রানু বলেন, একটি চলন্ত ট্রেনে যখন কোনো যাত্রী উঠে ভিড়ের মধ্যে তাকে কেউ জায়গা ছেড়ে দেয় না।
এক সময় ট্রেনে ঠিকই সিট ফাঁকা হয়। দাঁড়ানো যাত্রী সেই সিটে বসে পড়ে। তিনি আরো বলেন, সমাজে একদল লোক আছে, যারা নারীদের দমিয়ে রাখতে চায়। সমালোচনা ও মনোবলকে ভেঙে দিয়ে নারীর চলার পথকে রুদ্ধ করে দিতে চায়। কিন্ত অন্য দলের মানুষ থাকে যারা নারীদের সম্মান করে। নারীদের কর্মক্ষেত্র সুগম করতে সাহায্য করে। তারা আলোর মানুষ। সেইসব আলোর মানুষের কাছে অন্ধকার খুব বেশিদিন টিকতে পারে না।

 


 
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ