দুই টার্ম অর্ন্তবর্তীকালীন সরকার আসতে পারে

June 28, 2011, 10:14 AM, Hits: 1891

দুই টার্ম অর্ন্তবর্তীকালীন সরকার আসতে পারে


ঢাকা থেকে : তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্তির পর সৃষ্ট রাজনৈতিক সংকটের সমাধান হতে পারে অর্ন্তবর্তীকালীন সরকার। সর্বোচ্চ আদালতের অবজারভেশন অনুসরণ করে দুই টার্ম এ পদ্ধতির সরকারের বিধান করা যেতে পারে বলে মনে করছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগসহ অনেক রাজনৈতিক দল।

প্রধান বিরোধী দলসহ সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী সকল রাজনৈতিক দল একমত হলে এ বিধান করা যেতে পারে বলে আওয়ামী লীগ নেতারা জানিয়েছেন। আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়েও এ বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে বলে জানা গেছে। আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে এ অন্তর্র্বর্তী সরকারের প্রধান করা যাবে। এ বিষয়ে ঐকমত্য হলে আগামী দুটি নির্বাচন এ অন্তর্র্বর্তী সরকারের অধীন হতে পারে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা।

আওয়ামী লীগসহ মহাজোটের নেতাদের কারো কারো মতে, রাষ্ট্রপতি, সংসদ নেতা, বিরোধী দলের নেতা ও স্পিকার আলোচনা করে ঠিক করতে পারেন এ অন্তর্র্বর্তী সরকারের প্রধান কে হবেন। তবে আওয়ামী লীগ এখনই আনুষ্ঠানিক এবং খোলামেলাভাবে এ বিষয়টি প্রকাশ করতে চাচ্ছে না। যেহেতু বিএনপি আলোচনায় আসতে চাচ্ছে না, সেহেতু এখনই আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এ ধরনের যে কোনো বিকল্প প্রস্তাব দিলে তা নাকচ হয়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন তারা। যদিও আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি, সংবিধান বিশেষজ্ঞ সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বিষষটি সম্পর্কে কিছুটা ইঙ্গিত দিয়েছেন। গত ২৩ জুন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনায় তিনি এ ব্যাপারে প্রথম কথা বলেন।
আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে এ আলোচনা সভায় সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বিএনপিকে আলোচনায় আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সংসদে আসুন, অন্তর্র্বর্তীকালীন সরকারের বিষয়ে আলোচনা করা যেতে পারে। শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় দ্বিতীয়বার তিনি এ বিষয়টি উপস্থাপন করেন। এ সভায় সুরঞ্জিত বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে, না অন্তর্র্বর্তী সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে সেটা আলোচনা করে ঠিক করা যাবে। তার এ বক্তব্য ও অন্তর্র্বর্তী সরকার সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অন্তর্র্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে নির্বাচন হচ্ছে। গণতন্ত্রে এ নিয়ম আছে। বিএনপি আলোচনায় এলে এটা নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে। আওয়ামী লীগ নেতাদের মতে, বিএনপি যদি সংসদীয় গণতন্ত্রের রীতি অনুযায়ী নির্বাচিত সরকারের মেয়াদ শেষে সে সরকারের অধীন নির্বাচন করতে না চায় তাহলে নতুন কোনো পথ খুঁঁজে বের করতে হলে আলোচনার কোনো বিকল্প নেই।
আলোচনার ভিত্তিতে ঐকমত্যই একমাত্র পথ। তাদের মতে, ১৯৯০ সালে গণআন্দোলনের মধ্য দিয়ে স্বৈরাচারী এরশাদ সরকারের পতনের পর ঐকমত্যের ভিত্তিতে এ ধরনের সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়। তখন সকল রাজনৈতিক দলের আলোচনার ভিত্তিতে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদকে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি করা হয়। তখন দেশে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা চালু ছিল। তার অধীনে ’৯১-এর জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। প্রসঙ্গত, সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা অবৈধ হয়ে যাওয়ার পর তা সংবিধান থেকে বাদ দেয়ার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সংবিধান সংশোধন প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর তা সংসদে উপস্থাপন করা হয়েছে। গত শনিবার আইন মন্ত্রণালয় থেকে বিলটি সংসদে উপস্থাপন করা হয়। বিলটি পাশের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল হয়ে যাবে। এদিকে রায়ের পর থেকেই প্রধান বিরোধী দল তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের বিরোধিতা করে আসছে।
এ ব্যবস্থা বাতিল হলে দলীয় সরকারের অধীনে তারা নির্বাচনে যাবে না বলেও ঘোষণা দিয়েছে। বিরোধী দলের বিরোধিতার মুখে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বারবার আহ্বান জানানো হয়েছে। আদালত তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে অবৈধ ঘোষণার পাশাপাশি একটি অবজারভেশনও দিয়েছে। অবজারভেশনে বলা হয়েছে, সংসদ চাইলে এ ব্যবস্থা আরো দুই টার্ম বহাল রাখতে পারে।
সূত্র জানায়, সংকট এড়াতে আদালতের অবজারভেশন অনুযায়ী আরো দুই টার্ম নির্দলীয় সরকার রাখার ব্যাপারে আওয়ামী লীগের চিন্তাভাবনা রয়েছে। এর বিকল্প ফর্মুলা বের করার বিষয়টির ওপর গুরুত্ব দিয়েই আওয়ামী লীগ বারবার বিএনপিকে আলোচনায় আসার আহ্বান জানিয়ে যাচ্ছে। সে বিকল্প হিসেবে আগামী দুই টার্ম অন্তর্র্বর্তীকালীন সরকার হতে পারে বলে আওয়ামী লীগ নেতারা মন্তব্য করেছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক আইনমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট আব্দুল মতিন খসরু সাংবাদিককে বলেন, এটা নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
এ রকম আরো কোনো বিষয় থাকলে তা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। আগে বিএনপিকে তো আলোচনায় আসতে হবে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের শরিক বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, বিএনপি আলোচনায় এলে এ বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। অনেক ফর্মুলা আছে। সেগুলো আলোচনায় আসতে পারে। রাষ্ট্রপতি, সংসদ নেতা, বিরোধী দলের নেতা, স্পিকার আলোচনা করে ঠিক করবেন অন্তর্র্বর্তীকালীন কে সরকার প্রধানের দায়িত্ব পালন করবেন।

 
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ