অসম্পূর্ণতা দূর করে ২য় সংশোধনীপূর্ব ’৭২ এর সংবিধান পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবিতে সংসদ অভিমুখে বাসদের মিছিল অনুষ্ঠিত

July 1, 2011, 8:50 AM, Hits: 1604

অসম্পূর্ণতা দূর করে ২য় সংশোধনীপূর্ব ’৭২ এর সংবিধান পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবিতে সংসদ অভিমুখে বাসদের মিছিল অনুষ্ঠিত

 

bas-ix_-_SaKiL

বার্তা প্রেরক : মাঈন উদ্দিন চৌধুরী:
হাইকোর্টের রায়ের পরও “বিসমিল্লাহ”, “রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম”, “ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল করার বিধান” রেখে সংবিধান সংশোধনের সরকারি অপতৎপরতার প্রতিবাদে এবং অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা, চিকিৎসা, বাসস্থান ও কাজ এই ৬টি মৌলিক অধিকারকে সংবিধানের তৃতীয় ভাগে যুক্ত করা, আদিবাসী-ক্ষুদ্র জাতিসত্ত্বার জনগণের সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদান, সম্পত্তির উত্তরাধিকারে নারী-পুরুষের সমানাধিকার নিশ্চিত, ৭০ অনুচ্ছেদ ও জরুরী আইন জারীর বিধান বাতিলসহ অসম্পূর্ণতা দূর করে ২য় সংশোধনীপূর্ব ’৭২ এর মূল সংবিধান রাষ্ট্রীয় ৪ মূলনীতি সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ ও ধর্মনিরপেক্ষতাসহ পুনঃপ্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নে পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল- বাসদ এর উদ্যোগে ৩০ জুন দুপুর ১২টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ শেষে সংসদ অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হবে। প্রেসক্লাবের সামনে বাসদ সাধারণ সম্পাদক কমরেড খালেক্জ্জুামানের সভাতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাকেন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড শুভ্রাংশু চক্রবর্ত্তী, বজলুর রশীদ ফিরোজ ও রাজেক্জ্জুামান রতন। সমাবেশ শেষে সংসদ অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিল হাইকোট, মৎস্য ভবন হয়ে শাহবাগের দিকে আগোতে থাকলে পুলিশী বাধার মুখে পড়ে। পরে মিছিলটি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ভিতর দিযে জাদুঘরের সামেন সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। কমরেড খালেকুজ্জামান তার বক্তব্যে বলেন, ১৯৮৮ সালে স্বৈরাচারী এরশাদ যখন তার অবৈধ শাসন বৈধ করার জন্য রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বিল পাস করেছিল তখন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বিল পাসের সহায়তাকারীদের ‘জাতীয় শত্রু’ আখ্যা দিয়ে তাদের প্রতিহত করতে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন। আর তখন খালেদা জিয়া বলেছিলেন, এরকম ‘স্বৈরাচারী সরকার ইসলামকে রাষ্ট্রীয় ধর্ম করার নামে জাতিকে বিভ্রান্ত করছে ও বিভেদ সৃষ্টির পাঁয়তারা চালাচ্ছে।’ বর্তমান মহাজোটের শরীক হোসেন মোহাম্মদ এরশাদ অবৈধ সামরিক শাসনকে বৈধ করার জন্য ধর্মীয় প্রতারণার ঢাল হিসাবে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম করেছিল।


মুক্তিযুদ্ধের একক দাবিদার আওয়ামী লীগ এগুলোকেই তাদের স্বাতন্ত্র এবং বৈশিষ্ট হিসাবে দাবি করে আসছিল।এখন হাইকোর্ট ৫ম এবং ৭ম সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করার পরও সংবিধানে ধর্মীয় প্রতারণার হাতিয়ার কথিত বিসমিল্লাহ, রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম এবং ধর্মভিত্তিক রাজনীতি করার বিধান বহাল রেখেই তারা সংবিধান সংশোধনের বিল সংসদে উত্থাপন করেছেন। তারা জীবিতস্বৈরশাসক এরশাদের বিচারের প্রশ্ন এড়িয়ে গেছেন। এতোদিন যারা আওয়ামী লীগকে মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনার ধারক বাহক হিসাবে নানাভাবে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ সমর্থন সহযোগিতা করে এসেছিলেন, তাদের সহযাত্রী হয়েছিলেন তারাও বিপাকে পড়েছেন। আমাদের কথায় কর্ণপাত করলে এবং বুঝার চেষ্টা করলে তারা বুঝতে পারতেন, যত দিন যাবে ততই বুর্জোয়া শক্তিসমূহের কৌশলগত পার্থক্য রেখাও মুছে যেতে থাকবে। কারণ তাদের শ্রেণী উদ্দেশ্য এক এবং অভিন্ন, যতই তাদের বাস্তবায়ন কর্মসূচি ও ঐতিহ্যগত পার্থক্য ও বাচনিক ভিন্নতা থাকুক।


সমাবেশে নেতৃবৃন্দ হাইকোর্টের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে “বিসমিল্লাহ”, “রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম”, “ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল করার বিধান” বাতিল করে সংবিধান সংশোধন এবং
অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা, চিকিৎসা, বাসস্থান ও কাজ এই ৬টি মৌলিক অধিকারকে সংবিধানের তৃতীয় ভাগে যুক্ত করে, আদিবাসী-ক্ষুদ্র জাতিসত্ত্বার জনগণের সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদান, সম্পত্তির উত্তরাধিকারে নারী-পুরুষের সমানাধিকার নিশ্চিত, ৭০ অনুচ্ছেদ ও জরুরী আইন জারীর বিধান বাতিলসহ অসম্পূর্ণতা দূর করে ২য় সংশোধনীপূর্ব ’৭২ এর মূল
সংবিধান রাষ্ট্রীয় ৪ মূলনীতি সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ ও ধর্মনিরপেক্ষতাসহ পুনঃপ্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নে পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারে প্রতি
জোর দাবি জানান। একই সাথে সরকারকে বাধ্য করার জন্য যে সকল বামশক্তি শাসকগোষ্ঠীর সাথে নানা বিরোধপূর্ণ অবস্থান নিয়ে আছেন তাদেরকে বেরিয়ে এসে মুক্তিযুদ্ধের
প্রকৃত চেতনা বাস্তবায়ন, অপূর্ণতা দূর করে ২য় সংশোধনীপূর্ব ’৭২ এর মূল সংবিধান পুনঃপ্রতিষ্ঠা দাবিতে বৃহত্তর ঐক্যবদ্ধ গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

 
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ