ব্রিটিশ নাগরিককে খুন : বাংলাদেশী নাগরিক বাবুলকে ব্রিটেনের কাছে হস্তান্তর

July 12, 2011, 10:43 AM, Hits: 1598

ব্রিটিশ নাগরিককে খুন : বাংলাদেশী নাগরিক বাবুলকে ব্রিটেনের কাছে হস্তান্তর

U_K_-_Ban-_SaKiL


লন্ডনে খুনের অভিযোগে পলাতক বাংলাদেশী নাগরিক মহিউদ্দিন বাবুলকে ব্রিটিশ সরকারের প্রতিনিধিদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষ সোমবার বেলা সোয়া ২টায় তাকে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করে। ১৪ বছর আগে লন্ডনে এক ব্রিটিশ নাগরিককে খুন করে পালিয়ে দেশে চলে আসেন বাবুল। এরপর তাকে নিজেদের কাছে সমর্পণে বাংলাদেশের কাছে অনুরোধ জানায় ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার দুপুরে তাকে ব্রিটিশ সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হল। দু’দেশের মধ্যে বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় বাবুলকে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। কারা সূত্র জানায়, সিলেট জেলার বাসিন্দা মহিউদ্দিন বাবুল লন্ডনে থাকার সময় এক ব্যক্তিকে খুন করেছেন বলে অভিযোগ ছিল ব্রিটিশ পুলিশের কাছে। এ অভিযোগের সত্যতা আরও নিশ্চিত হয় যখন তিনি খুনের ঘটনার পরপরই লন্ডন থেকে বাংলাদেশে চলে আসেন। দেশে এসেও বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়েন বাবুল। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সিলেটের বাসিন্দা মহিউদ্দিন বাবুল লন্ডনে থাকার সময়ে একাধিক ব্যক্তিকে খুন করেন। সর্বশেষ ১৯৯৭ সালে এক ব্রিটিশ নাগরিককে খুন করে দেশে পালিয়ে আসেন তিনি। দেশে এসেও বাবুল বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়েন। একটি অস্ত্র মামলায় ১৯৯৯ সালের ৪ এপ্রিল সিলেট পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।

এরপর থেকে তিনি সিলেট কারাগারে বন্দি ছিলেন। ২০০১ সালে অস্ত্র মামলায় তার ১০ বছরের সাজা হয়। চলতি বছরের ১০ ফেব্র“য়ারি বাবুলকে সিলেট থেকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। বাবুলের বিরুদ্ধে সিলেটের কোতোয়ালি থানায় অস্ত্র ও ডাকাতিসহ সাতটি মামলা হয়। অস্ত্র মামলায় শাস্তি ভোগের পর অন্যান্য মামলার কয়েকটিতে খালাস ও জামিন পান। মহিউদ্দিন বাবুলের আটকের খবর জানার পর ব্রিটিশ সরকার বাংলাদেশ সরকারকে জানায়, বাবুল ব্রিটিশ নাগরিককে খুন করে পালিয়ে এসেছে। তারা তাদের কাছে বাবুলকে সমর্পণের আবেদন করেন। ২০০৮ সালে বাবুলের শাস্তির মেয়াদ শেষ হয়। কিন্তু সাজার মেয়াদ শেষ হলেও সরকার তাকে জেল থেকে মুক্তি দেয়নি ব্রিটিশ সরকারের আবেদনের কারণে।


এদিকে বাবুলের আটকাদেশের বিরুদ্ধে তার বাবা হাইকোর্টে মামলা করেন। উচ্চ আদালত এ মামলা খারিজ করে দিয়ে বাবুলকে ব্রিটিশ সরকারের কাছে সমর্পণের তাগিদ দিয়ে সরকারকে নির্দেশ দেন। উচ্চ আদালতের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ১৯৭৪-এর বহিঃসমর্পণ আইন অনুযায়ী বাবুলকে ব্রিটিশ সরকারের কাছে সমর্পণের সিদ্ধান্ত নয়। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সুপার পার্থ গোপাল বণিক সাংবাদিকদের জানান, লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রতিনিধি ও ঢাকাস্থ ব্রিটিশ হাইকমিশনের প্রতিনিধির কাছে বাবলুকে হস্তান্তর করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (রাজনৈতিক) ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ড. কামাল উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশের বহিঃসমর্পণ আইনের মাধ্যমেই মহিউদ্দিন বাবুলকে ব্রিটিশ সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ব্রিটিশ আদালতে বিচার কাজে বাবুলকে বাংলাদেশী দূতাবাসের মাধ্যমে সহযোগিতা করা হবে বলেও জানান তিনি। তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনার পথ সুগম করতে সরকারের এমন সিদ্ধান্ত কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, দুটি বিষয় একেবারেই ভিন্ন। একটির সঙ্গে অপরটির কোন সম্পর্ক নেই। এ সময় তার সঙ্গে উপ-সচিব শফিকুর রহমানসহ ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া বাংলাদেশের ব্রিটিশ হাইকমিশনের প্রতিনিধি ডানকান ব্রাউন এবং স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের একজন কর্মকর্তাও উপস্থিত ছিলেন সেখানে।

 


 
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ