দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশি খুন - জিনিয়াকে বুকে নিয়ে আনন্দে ভাসবেন না জুয়েল

July 13, 2011, 1:23 PM, Hits: 1491

দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশি খুন - জিনিয়াকে বুকে নিয়ে আনন্দে ভাসবেন না জুয়েল

Jwel_-_Safi_-_SaKiL

বিশ্বজিৎ পাল বাবু, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে : আড়াই বছরের জিনিয়া আকাশে প্লেন উড়তে দেখলেই খুশিতে আত্মহারা হয়ে যায়। স্বজনদের কথা শুনে ভাবে, এই বুঝি বাবা ফিরে এলেন দেশের মাটিতে। মেয়েকে কোলে তুলে নিয়ে ভাসবেন খুশির বন্যায়। কিন্তু জিনিয়ার সেই স্বপ্ন পূরণ হবে না কখনো। বিদেশের মাটিতে ওর বাবা মোস্তফা ভঁূইয়া জুয়েল গত সোমবার নিহত হয়েছেন সন্ত্রাসীদের হাতে।


ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার মনিয়ন্দ ইউনিয়নের শিকারমোড়া গ্রামে গতকাল মঙ্গলবার ছিল শোকের পরিবেশ। জুয়েলের বাড়িতে মেজ ভাই শাহ আলম বিছানায় গড়াগড়ি করে কাঁদছিলেন। চাচাতো ভাই দানু মিয়ার চোখ বেয়েও গড়াচ্ছিল পানি। বাংলাদেশ সময় সোমবার গভীররাতে দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহত হন জুয়েল। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ঢুকে ছুরি বা অন্য কিছুর আঘাতে তাঁকে খুন করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ দুই সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করেছে।


জুয়েলের মা, স্ত্রীসহ পরিবারের অন্য কয়েক সদস্য ঢাকায় অবস্থান করছেন। আজ বুধবার সকালে বাড়িতে আসার কথা রয়েছে তাঁদের। তবে জুয়েলের লাশ দেশে আনতে আরো কয়েক দিন সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন স্বজনরা। দক্ষিণ আফ্রিকায় অবস্থানরত জুয়েলের এক আত্মীয় মো. মনসুর মুন্না প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে গতকাল বিকেলে মোবাইল ফোনে কালের কণ্ঠকে জানান, স্থানীয় সময় রাত ৯টার দিকে জুয়েল নিজ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বসে ছিলেন। সে সময় একদল সন্ত্রাসী তাঁর পেটে অস্ত্রের আঘাত করে। সেখানেই তিনি মারা যান। এরই মধ্যে পুলিশ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এক সন্ত্রাসীর পায়ে পুলিশের গুলি বিদ্ধ হয়েছে।


মনসুর মুন্না জানান, স্থানীয় কয়েক যুবক জুয়েলকে দোকানের কাজে সাহায্য করত। কয়েক দিন আগে জুয়েল একটা ল্যাপটপ কেনেন। হয়তো সেই ল্যাপটপ ও টাকাপয়সার লোভেই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। মেজ ভাই মো. শাহ আলম ভঁূইয়া বলেন, 'আফ্রিকায় ভালো ব্যবসার খবর পেয়ে প্রায় তিন বছর আগে জুয়েল সেখানে যায়। নিজের গড়া তিনটি দোকানের একটিতে নিজেই ব্যবসা করত জুয়েল। বাকি দুটি দোকান ভাড়া দিয়ে রেখেছিল। এর আগেও সন্ত্রাসীরা চাঁদার দাবিতে তার দোকানে দুবার হামলা চালিয়েছে।'


শাহ আলম বলেন, 'আগামী ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যেই জুয়েলের দেশে ফেরার কথা ছিল। সোমবার রাতেও সে জানায় যত তাড়াতাড়ি সম্ভব দেশে ফিরবে। এর কিছুক্ষণ পরই আফ্রিকায় অবস্থানরত অন্যদের মাধ্যমে জানতে পারি, জুয়েলকে মেরে ফেলা হয়েছে।'


জুয়েলের এক ভাবি জানান, বিয়ের চার মাসের মাথায় তিনি প্রবাসে চলে যান। এ কারণে একমাত্র সন্তানকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়নি। মেয়েকে কাছে পাওয়ার জন্য তিনি উদগ্রীব ছিলেন। মেয়েটাও (জিনিয়া) বাবার জন্য অপেক্ষায় ছিল।


পরিবারের লোকজন জানায়, ঘটনার পর থেকে ঢাকায় জুয়েলের বৃদ্ধ মা বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। জুয়েলের স্ত্রীও সন্তানকে কোলে নিয়ে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছেন। আফ্রিকায় অবস্থানরত জুয়েলের ভাতিজা মো. হানিফ গতকাল বিকেলে  জানান, লাশ একটি হাসপাতালে রাখা হয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব লাশ দেশে পাঠানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।



 
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ