কোকোর থাইল্যান্ড ছাড়ার কারণ বন্দি বিনিময় চুক্তি

July 14, 2011, 4:08 PM, Hits: 1593

কোকোর থাইল্যান্ড ছাড়ার কারণ বন্দি বিনিময় চুক্তি

KoKo_-_SaKiL

হ-বাংলা নিউজ : থাইল্যান্ডের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্দিবিনিময় চুক্তি রয়েছে। এর আওতায় উভয় দেশ বন্দি ব্যক্তিদের বা সরকারের চাহিদা অনুযায়ী অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বন্দি করে বিনিময় করতে পারে। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকো মুদ্রাপাচার মামলায় দণ্ডিত। তিনি চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ডে অবস্থান করছিলেন। যেহেতু অভিযুক্ত, অতএব বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধে থাই সরকার তাঁকে দেশে পাঠিয়ে দিতে পারে। এই ভয়েই কোকো অন্যত্র পালিয়েছেন বলে ধারণা করছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো। আর মালয়েশিয়া মুসলমানদের জন্য সহানুভূতিশীল হওয়ায় তিনি ওই দেশে পালিয়ে থাকতে পারেন।


প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার ঢাকায় নিযুক্ত থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত তাসানাওয়াদি মিনাশ্যারোয়েন সাংবাদিকদের জানান, 'কোকো থাইল্যান্ডে নেই। তিনি মালয়েশিয়ায় আছেন এবং আপনাদের এ বিষয়ে মালয়েশীয় রাষ্ট্রদূতকে জিজ্ঞেস করা উচিত।'


সূত্র জানায়, একমাত্র থাইল্যান্ডের সঙ্গেই বাংলাদেশের বন্দিবিনিময় চুক্তি রয়েছে। ১৯৯৮ সালের ৯ জুলাই দুই দেশের মধ্যে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তির আওতায় ওই বছরই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনি মেজর বজলুল হুদাকে ঢাকায় ফিরিয়ে আনা হয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে, বন্দিবিনিময় চুক্তির কারণেই কোকো থাইল্যান্ড ছেড়ে অন্য দেশে গেছেন। তা ছাড়া গত বছরের শেষদিকে কোকোর বিরুদ্ধে বাংলাদেশে মামলা চলাকালে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে থাইল্যান্ডের কাছে অর্থপাচার রোধে সব ধরনের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছিল। গত ৩০ ডিসেম্বর পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি থাইল্যান্ড সফরের সময় অর্থপাচার রোধে দেশটির নেতাদের সহযোগিতা চান।


এ বছরের শুরুতে সিঙ্গাপুরের একটি আদালত কোকোর পাচার করা প্রায় ২২ কোটি ১৯ লাখ ৭০ হাজার টাকা (৩১ লাখ ৭১ হাজার ডলার) রাখা এবং এ বিষয়ে দুর্নীতি তদন্তকারী কর্তৃপক্ষকে না জানানোর অপরাধে কোকোর এক সহযোগীকে ছয় লাখ ৩০ হাজার টাকা (৯ হাজার ডলার) অর্থদণ্ড দেন। তখন সিঙ্গাপুরের সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, কোকো থাইল্যান্ডে আছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, তিনি চিকিৎসার জন্য সেখানে আছেন। কিন্তু চিকিৎসার জন্য সাময়িক মুক্তির শর্ত ভাঙায় বাংলাদেশ সরকার তাঁর প্যারোল বাতিল করে।


সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ধারণা, প্যারোল বাতিল ও মুদ্রাপাচারের অভিযোগে বাংলাদেশে সাজা হওয়ায় তাঁকে সরকারের অনুরোধে আটক করে দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হতে পারে। এ আশঙ্কাতেই তিনি থাইল্যান্ড ছেড়ে অন্যত্র পালিয়েছেন।


মালয়েশিয়ায় যাওয়ার কারণ সম্পর্কে খোঁজ করতে গিয়ে জানা গেছে, থাইল্যান্ড থেকে তিনি হয়তো প্রথমে ইন্দোনেশিয়া এবং পরে মালয়েশিয়ায় গেছেন। মুসলমানদের প্রতি সহানুভূতিশীল_এই বিবেচনায় এ বছরের শুরুর দিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীও মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।


সূত্র আরো জানায়, কোকো থাইল্যান্ডের হাসপাতালে থাকতেন না, বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতেন। তাঁর আবাসিক ঠিকানা থাইল্যান্ডে বাংলাদেশ দূতাবাসের জানা ছিল না। গত বছরের ৮ মার্চ ব্যাংককে বাংলাদেশ দূতাবাসে 'পাওয়ার অব অ্যাটর্নি' সত্যায়নের জন্য যান কোকো। দূতাবাসের কর্মকর্তারা সে সময় তাঁর আবাসিক ঠিকানা জানতে চাইলে তিনি তা জানাতে অস্বীকৃতি জানান।


উল্লেখ্য, ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি এ দেশে জরুরি অবস্থা জারির পর ওই বছরের ৩ সেপ্টেম্বর বিএনপির চেয়ারপারসনের সঙ্গে কোকোও গ্রেপ্তার হন। এরপর ২০০৮ সালের ১৭ জুলাই সরকার এক নির্বাহী আদেশে উন্নত চিকিৎসায় বিদেশে যাওয়ার জন্য মুক্তি দেয়। পরদিনই তিনি থাইল্যান্ডে চলে যান। এর পর থেকে তিনি দীর্ঘদিন সেখানে ছিলেন বলে ধারণা করা হয়। মুদ্রাপাচার মামলায় গত ২৩ জুন আদালত তাঁকে ছয় বছর কারাদণ্ড দেন। সেই সঙ্গে তাঁর ১৯ কোটি টাকা জরিমানাও হয়।

 


 
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ