হিলারিকে ঢাকা আনাই গেল না!

July 15, 2011, 10:44 AM, Hits: 1514

হিলারিকে ঢাকা আনাই গেল না! Hilare_-_SaKiL_52_bd

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি রডহ্যাম ক্লিনটনকে বাংলাদেশ সফরে আনতে পারলো না বাংলাদেশ সরকার।

দক্ষিণ এশিয়া সফরের অংশ হিসেবে আগামী ১৯ জুলাই মঙ্গলবার তিনি নয়াদিল্লি সফরে আসছেন। এই যাত্রায় তার ঢাকা আসার কথা কয়েক মাস আগেও শোনা যাচ্ছিল, তবে শেষ পর্যন্ত ঢাকাকে তার সফরসূচির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করতে পারলো না সরকার।

বর্তমান মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার কয়েক মাস পর থেকেই কূটনৈতিক মহলে গুঞ্জন ছিল, হিলারি ক্লিনটন ‘সুবিধাজনক’ যে কোনো সময়ে ঢাকা সফরে আসবেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচ্চ পদস্থরাও সে ধরনের ইঙ্গিত একাধিকবার দিয়েছেন।

হিলারিকে ঢাকা আসতে কূটনৈতিক চ্যানেলে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণপত্র জানানো হয়। এছাড়া ওয়াশিংটনের বাংলাদেশ দূতাবাসও বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করেছে। ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসেও যোগাযোগ রাখে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

হিলারি সফর সম্পর্কে জানতে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর পররাষ্ট্রসচিব মোহাম্মদ মিজারুল কায়েসের সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ করা হলে তার পক্ষ থেকে একবাক্যে জানানো হয়, ‘বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত হয়নি।’

পররাষ্ট্রসচিবের পক্ষ থেকে ‘চূড়ান্ত না হওয়ার’ কথা জানানো হলেও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট একটি অণুবিভাগ সূত্র জানায়, ‘হিলারি ক্লিনটন ঢাকা আসছেন না।’

হিলারি ক্লিনটনের ঢাকা না আসার পেছনের কারণ হিসেবে সমালোচকরা বলছেন, গ্রামীণ ব্যাংক থেকে ইউনূসকে অপসারণ ইস্যুই অণুঘটক হিসেবে কাজ করেছে।

যুক্তরাষ্ট্র চেয়েছিল, অপসারণ ইস্যুটির ‘সম্মানজনক’ সমাধান। যা ইউনূস ও সরকারের মধ্যে গ্রহণযোগ্যভাবে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্ট ও’ব্লেইক গত ২২ মার্চ ঢাকা সফরের শেষদিনের সংবাদ সম্মেলনে কূটনৈতিক রাখঢাকের ধার না ধরেই অনেকটা সতর্কবাণী আকারে সরাসরিই তিনি বলে দেন, ‘অধ্যাপক ইউনূসের সঙ্গে সমঝোতা না হলে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে তার প্রভাব পড়বে।’

ব্লেইক সেদিন আরও বলেন, ‘ইউনূস প্রসঙ্গে একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ সমাধান পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনের ঢাকা সফরের জন্য একটি বড় বিষয় হতে পারে।’

ইউনূসের অপসারণ ইস্যুটি শেষ পর্যন্ত সমাধান হলেও তা ‘সম্মানজনক’ কী না তা জানা যাচ্ছে, হিলারির সফর সূচিতে ঢাকার নাম না থাকায়।

১৯৯৫ ও ২০০০ সালে হিলারি বাংলাদেশে এসেছিলেন। অবশ্য তা ছিল গ্রামীণ ব্যাংকের আমন্ত্রণে। 

২০০৮ সালের ডিসেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে মনোনয়ন পাওয়ার পর নিউইয়র্কের ম্যানহাটন সেন্টারে এক অনুষ্ঠানে হিলারি বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশকে আমি ভালোবাসি এবং অদূর ভবিষ্যতে আমি বাংলাদেশে যেতে চাই।’

এদিকে ভারত-মার্কিন কৌশলগত সম্পর্ক উন্নত করতেই নয়াদিল্লি যাচ্ছেন হিলারি।

গত নভেম্বরে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গে তিনি শেষ বার ভারত সফরে এসেছিলেন।

কূটনৈতিক সূত্রের খবর, নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসএম কৃষ্ণর সঙ্গে তিনি হিলারি বৈঠকে ভারত-মার্কিন সম্পর্ক, মধ্য এশিয়া, পাকিস্তান, আফগানিস্তানসহ একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে আলোচনা হবে।

হিলারি-কৃষ্ণা বৈঠকে সর্বাধিক গুরুত্ব পাবে নেটওয়ার্ক হ্যাকিং প্রতিরোধ, সাইবার নিরাপত্তা ও বেসামরিক বিমান পরিষেবা। এই ইস্যুগুলো নিয়ে দু’দেশে মধ্যে বড়সড় চুক্তি হতে চলেছে। এশিয়ায় মার্কিন বন্ধু হিসেবে এতে লাভ হবে ভারতেরই।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র হঠাৎ করেই একতরফাভাবে পাকিস্তানকে ৮০০ মিলিয়ান ডলার সামরিক সাহায্য বন্ধ করে দিয়েছে। আমেরিকার স্পষ্ট অভিযোগ হল, সন্ত্রাস দমনে চলতি সামরিক অভিযান চালাতে দ্বিচারিতা করছে ইসলামাবাদ। তারা সন্ত্রাস দমনে মোটেও আন্তরিক নয়।




 
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ