ইউরোপের বিভিন্ন দেশের বিএনপিকে ধ্বংস করার চক্রান্ত, কোন্দল সৃষ্টি করে ত্যাগী নেতৃবৃন্দকে কোনঠাসা করার পায়তারা

July 18, 2011, 10:53 AM, Hits: 1497

ইউরোপের বিভিন্ন দেশের বিএনপিকে ধ্বংস করার চক্রান্ত, কোন্দল সৃষ্টি করে ত্যাগী নেতৃবৃন্দকে কোনঠাসা করার পায়তারা


অনিন্দ্য রহমান : ঢাকা থেকে : ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বিএনপির শক্তিশালী ভীতকে ধ্বংস করার চক্রান্তে  মেতে উঠেছে দলের ভিতরে ঘাপটি মেরে থাকা একটি সুবিধাবাদী অংশ। দলীয় কোন্দল সুষ্টি করে  ও পাল্টাপাল্টি কমিটি গঠনের মাধ্যমে দলের সাংগঠনিক ভীতকে কবর দেয়ার চুড়ান্ত আয়োজন করছে দলীয় পরিচয় প্রদানকারী এ মহলটি। সেই সাথে দলের দুঃসময়ের পরিক্ষিত ও ত্যাগী নেতৃবৃন্দকে কোনঠাসা করে দলীয় কার্যক্রম বিমূখ করে তুলছে তারা। সুসময়ে দলীয় সুবিধা ভোগকারী এ মহলটি দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে পাশ কাটিয়ে এবং কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের কোন তোয়াক্কা না করে মনগড়া ও নিজস্ব মস্তিষ্ড়্গপ্রসূত উদ্‌ভট সিদ্ধান্ত  গ্রহন করে  দলকে নানাভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। আর এ সব বিষয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন দুঃসময়ে দলের কান্ডারী ও পরিক্ষীত নেতারা। তা না হলে অচিরেই প্রবাসে বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রমে ধ্বস নামার আশংকা করছেন তারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ইংল্যান্ড, বেলজিয়াম, ফ্রান্স, ফিনল্যান্ড, সুইডেন, নরওয়ে, সুইজারল্যান্ড, ডেনমার্ক, জার্মান, স্পেন, পর্তূগাল, হল্যান্ড সহ ইউরোপের ২০টি দেশে বিএনপির শক্তিশালী সাংগঠনিক কমিটি রয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশন ঘোষিত আরপিও এর কারনে কেন্দ্রীয়ভাবে এসব কমিটিকে অনুমোদন প্রদান করা বর্তমানে সম্ভব হচ্ছে না। নির্বাচন কমিশনের নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, রাজনৈতিক দলের প্রবাসী শাখাকে অনুমোদন প্রদানের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ থাকার ফলে কিছু সুযোগ সন্ধানী ও স্বঘোষিত নেতারা এর সুযোগ নিচ্ছে। তারা কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের অনুমোদন ও সম্মতি ছাড়াই যাচ্ছেতাইভাবে পুরনো কমিটির বিপরীতে নতুন নতুন কমিটি ঘোষনা করছে এবং পত্রিকায় নানা বিবৃতি প্রদান করছে। ফলে বিদ্যমান কমিটির সাথে নানা কোন্দলে জড়িয়ে পড়ছে তারা। ত্যাগী নেতৃবৃন্দকে নিয়ে সুসংগঠিত বিদ্যমান কমিটি যেখানে দলকে শক্তিশালী ও সরকারের বিরুদ্ধে প্রবাসে আন্দোলন গড়ে তোলার চেষ্টা করছে, সেখানে নতুন গজিয়ে উঠা কমিটি দলীয় কোন্দল সৃষ্টি করে দলের মধ্যে ভাঙন ধরানোর পায়তারায় লিপ্ত হয়ে উঠছে। তারা সভা, সমাবেশ, সেমিনার, দূতাবাস ঘেড়াও, জনমত সৃষ্টি ও প্রবাসীদেরকে সাংগঠনিকভাবে সক্রিয় করার পরিবর্তে নেতৃত্ব লাভের নানা চক্রান্ত করে দলকে নিশ্চিহ্ন করার হীন প্রচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। মাঠ পর্যায়ে দলীয় কোন কার্যক্রম না করে শুধুমাত্র পত্রিকায় নানা বিবৃতি দিয়ে নিজেদেরকে নেতা প্রমান করার চেষ্টা করছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নরওয়ে বিএনপির সভাপতি বাদল ভূঁইয়া বলেন, গোটা ইউরোপে বিএনপিকে ধ্বংস করতে ইদানিং একটি চক্র অত্যন্ত সক্রিয় হয়ে উঠেছে। বিবৃতিবাজ এ চক্রটি আওয়ামী লীগের মন্ত্রী, এমপিদের  পরামর্শে অত্যন্ত সুকৌশলে বিএনপিকে সমূলে উৎখাত করার মিশন নিয়ে মাঠে নেমেছে। এরা দলের কোন মঙ্গল চায় না। এদের থেকে সতর্ক থাকার জন্য তিনি সকল নেতাকর্মীদেরকে সজাগ থাকার আহবান জানান। ডেনমার্ক বিএনপির সভাপতি আহম্মেদুল হক কর্নেল বলেন, দলীয় পরিচয় প্রদান করে দলের ক্ষতি করতেই এরা মাঠে নেমেছে।

দলের দুঃসময়ে এদের কোন অস্তিত্ব না থাকলেও এখন দলীয় পরিচয় প্রদান করে কোন্দল সৃষ্টির মাধ্যমে নিজেদের মুখোশ উন্মোচিত করছে এরা। তিনি দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহনের আহবান জানা। ইউরোপের অন্যতম দেশ ফিনল্যান্ড বিএনপির সাধারন সম্পাদক এবং ওয়ান ইলিভেন ও পরবর্তী সময়ে দলের অন্যতম সোচ্চার নেতা, সাংবাদিক জামান সরকার মনির আক্ষেপ করে বলেন, আমরা যারা প্রবাসে দলের জন্য জীবন দিতেও প্রস্তত তাদেরকেই কোনঠাসা করতে আজ একটি মহল উঠেপড়ে লেগেছে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে দলের সবচেয়ে নিবেদিতপ্রাণ নেতাকর্মীদেরকে তুচ্ছ করে একটি মহল নানা কোন্দল সৃষ্টি করছে। নামমাত্র কমিটি ও পাল্টা কমিটি গঠন করে তারা দলকে খন্ড খন্ড করছে। দলের জন্য অশুভ এ মহলকে সুবিধাবাদী একটি অংশ সাপোর্ট করে দলকে ধ্বংসের শেষ প্রান্তে নিয়ে যাচ্ছে। তিনি আরো বলেন, ইউরোপে কারা দলকে ভালবাসেন, কারা দলকে সুসংগঠিত করছেন, দুঃসময়ে কারা সর্বাগ্রে এগিয়ে আসেন, কারা নিবেদিতপ্রাণ – এসব বিষয়ে দলীয় হাইকমান্ডসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ অবগত আছেন। এ বিষয়ে তাদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া এ মুহুর্তে জরুরী মনে করছি। আর সকল নেতাকর্মীদেরকে চক্রান্তকারীদের  সম্পর্কে সজাগ থাকা প্রয়োজন। বর্তমানে দলের যে দুঃসময় চলছে, তাতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থেকে দলকে সুসংগঠিত করার আহবান জানান তিনি। সুইজারল্যান্ড বিএনপির সভাপতি এম মিজানুর রহমান জানান, ইদানিং ইউরোপের কিছু কিছু নেতারা যারা নিজ নিজ দেশে দলের সাংগঠনিক কর্মকান্ডকে সক্রিয় করার পরিবর্তে বহিঃর্বিশ্ব বা গোটা ইউরোপের নেতৃত্ব লাভের প্রতিযোগতায় নেমে স্বস্বদেশের নেতাকর্মীদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন পড়েছেন।

পর্তূগাল বিএনপির সাধারন সম্পাদক রাব্বির হাসান জানান, মাঠ পর্যায়ে দলীয় ত্যাগী নেতা-কর্মীদের সুসংগঠিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। তাই সাংগঠনিক কোন কার্যক্রম না করে শুধুমাত্র পত্রিকায় নানা বিবৃতি দিয়ে নিজেদেরকে নেতা প্রমান করার চেষ্টা করলে দলের তেমন কোন মঙ্গল আসবে না। বেলজিয়াম বিএনপির সাধারন সম্পাদক সাইদুর রহমান লিটন বলেন, কেন্দ্র বা দলীয় হাইকমান্ড আমাদের মূল্যায়ন করল বা না, সে অপেক্ষায় না থেকে দলীয় সভা, সমাবেশ, সেমিনার, দূতাবাস ঘেড়াও, জনমত সৃষ্টি ও প্রবাসীদেরকে সাংগঠনিকভাবে সক্রিয় করাই বেশী প্রয়োজন।



 
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ