মালয়েশিয়ায় বৈধতার নামে প্রতারণার ফাঁদে পা দিচ্ছেন বাংলাদেশী শ্রমিকরা

July 19, 2011, 8:41 AM, Hits: 1931

মালয়েশিয়ায় বৈধতার নামে প্রতারণার ফাঁদে পা দিচ্ছেন বাংলাদেশী শ্রমিকরা


হ-বাংলা নিউজ : বাংলাদেশের সাধারণ শ্রমিকদের মালয়েশিয়া সরকারের দেয়া বৈধতার সুযোগ নিশ্চিত করার প্রলোভন দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বিভিন্ন সংস্থা। বাংলাদেশ সরকারের কার্যকর প্রচারণা ও সাধারণ শ্রমিকদের সচেতনতার অভাবেই এসব প্রতারক চক্র নির্বিঘ্নে কাজ করে যাচ্ছে মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশে।

কুয়ালালামপুরের বাংলাদেশ হাইকমিশনার একেএম আতিকুর রহমান জানান, মালয়েশিয়ান ইমিগ্রেশন জানিয়েছে নিবন্ধনের জন্য শ্রমিকদের কোনো টাকা দিতে হবে না। একটি ফি আছে সেটা দেবে নিয়োগকারী পক্ষ। এক্ষেত্রে শ্রমিককে কোনো টাকা দিতে হবে না। তবে নিজ অর্থে পাসপোর্ট নবায়ন করতে হবে তাদের।

২০০৭-০৮ সালে আউটসোর্সিং কোম্পানির মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় যাওয়া ব্যক্তিদের প্রায় সবারই কাগজপত্র নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের কাছে। নিয়োগকারীদের এ টাকা দেয়ার কথা থাকলেও এখন তারা আপত্তি তুলেছেন। এ ক্ষেত্রে শ্রমিককেই ফির টাকা গুনতে হচ্ছে। মালয়েশিয়ার জনশক্তি ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত একটি সূত্র দাবি করেছে, মালয়েশিয়া সরকার নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের বাইরে কোনো শ্রমিকের কাছ থেকে অর্থ নেয়ার বিষয়ে কড়া নজর রাখেছে। এক্ষেত্রে মালয়েশিয়ার ব্যবসায়ীরা ফি কিছুটা কমানোর দাবি করেছে। এ বিষয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে একটি সমঝোতা হতে পারে। আর একটি সূত্র থেকে জানা গেছে, শ্রমিক নিবন্ধনে ২৫০ আউটসোর্সিং কোম্পানিকে অনুমতি দিয়েছে মালয়েশিয়া সরকার। এরা নিবন্ধনের জন্য কর্মী প্রতি ২০০ থেকে ৩০০ রিঙ্গিত (এক রিঙ্গিত ২৪ টাকা ৬০ পয়সা) ফি ধার্য করেছে। তবে এ আউটসোর্সিং কোম্পানিগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশী দালালরা যোগ দিয়ে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের ফিও নিচ্ছে শ্রমিকদের কাছ থেকে।

এদিকে, বৈধ করে দেয়ার কথা বলে স্থানীয় বহু শ্রমিকের কাছ থেকে অগ্রিম ৫০০-১০০০ রিঙ্গিত জমা নিয়েছে। বৈধ হতে যে টাকা খরচ হবে স্থানীয় এজেন্টরা তার কয়েকগুণ বেশি টাকা চাইছে। ইতোমধ্যে কিছু ভূঁইফোড় প্রতিষ্ঠানের জন্ম হয়েছে যারা অবৈধ কর্মীদের বৈধতা দিতে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিচ্ছে। ফি দিতে নিজেরাই চড়াসুদে কর্মীদের টাকা ধার দিচ্ছেন। এর সুদের হার এত বেশি যে, একজন কর্মী বৈধ হলে তার প্রায় দেড় বছরের বেতনের টাকা চলে যাবে ধার শোধ করতেই।

এর আগে,কলিং ভিসায় যাওয়া শ্রমিকদের যেমন ফাঁদে ফেলে হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছিল মধ্যস্বত্বভোগীরা, এখনো সে রকম পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাংলাদেশী এজেন্ট ও দালালরা শ্রমিকদের বৈধ করার কথা বলে দোকান খুলে বসেছে। এ চিহ্নিত চক্রটি আউটসোর্সিং কোম্পানির নাম ভাঙিয়ে শ্রমিকদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা উপার্জনের কৌশল বের করছে। প্রতারণার এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনের পক্ষ থেকে লিফলেট বিলি করা হয়েছে। তবে আরও প্রচারণার প্রয়োজন।

এ প্রসঙ্গে হাইকমিশনার একেএম আতিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশীদের একটি বিশাল অংশই কাজ করে শহর থেকে অনেক দূরের বনাঞ্চলে। তাদের কাছে প্রচারণা চালানোটাও অনেক সময় সম্ভব হয় না। প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. জাফর আহমদ খান বলেন, শ্রমিক বৈধ করা-সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক চিঠি এখনো পাই নি। তবে আগামী ১ আগস্টে রেজিস্ট্রেশন শুরু হবে এমন ঘোষণার কথা জেনেছি। কারও কথায় প্ররোচিত না হয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানান তিনি। অবৈধদের মধ্যে যাদের এখন চাকরি নেই তাদের সরাসরি ইমিগ্রেশনে গিয়ে বৈধ হতে আবেদন করার পরামর্শ দেন।

 
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ