সেরা ছবি মনপুরা, অভিনেতা চঞ্চল-ফেরদৌস, অভিনেত্রী পপি

July 21, 2011, 10:15 AM, Hits: 1906

সেরা ছবি মনপুরা, অভিনেতা চঞ্চল-ফেরদৌস, অভিনেত্রী পপি


 

alt

হ-বাংলা  বিনোদন রিপোর্ট : ২০০৯ সালের সেরা ছবি হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছে গিয়াসউদ্দিন সেলিমের 'মনপুরা'। শ্রেষ্ঠ অভিনেতার পুরস্কার পাচ্ছেন চঞ্চল চৌধুরী ও ফেরদৌস এবং অভিনেত্রী সাদেকা পারভীন পপি।
আজ বৃহস্পতিবার তথ্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের জন্য মনোনীতদের নাম ঘোষণা করেন। ২০০৯ সালের জন্য ২৬ ক্যাটাগরিতে ২৮ জনকে এ পুরস্কার দিতে মনোনীত করা হয়েছে।
আগামী শনিবার সন্ধ্যায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মনোনীতদের হাতে পুরস্কার তুলে দেবেন। পুরস্কারের জন্য মনোনীতরা একটি রেপ্লিকা, পদক, সনদপত্র ও নগদ অর্থ পাবেন।
আজীবন সম্মাননার নগদ ১ লাখ, শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রের জন্য ১০ হাজার এবং অন্য ক্যাটাগরির জন্য ৫ হাজার টাকা দেয়া হবে বলে জানান তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রী। ২০০৯ সালে চলচ্চিত্র ক্ষেত্রে অবদান রাখার জন্য আজীবন সম্মাননা পাচ্ছেন বিশিষ্ট অভিনেত্রী সুলতানা জামান।
মনপুরায় অভিনয়ের জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হয়েছেন চঞ্চল। একই ছবির খলনায়ক মামুনুর রশীদও পেয়েছেন শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি।
এ ছবির প্রযোজনার জন্য প্রযোজক হিসেবে পুরস্কার পেয়েছেন অঞ্জন চৌধুরী পিন্টু। এ চলচ্চিত্রে গান গেয়ে শ্রেষ্ঠ গায়িকার পুরস্কারও যৌথভাবে পাচ্ছেন কৃষ্ণকলি ও চন্দনা মজুমদার। শ্রেষ্ঠ পরিচালক হিসেবে মনোনীত হয়েছেন সৈয়দ ওয়াহিদুজ্জামান ডায়মন্ড তার 'গঙ্গাযাত্রা' চলচ্চিত্রের জন্য। তিনি একই সঙ্গে শ্রেষ্ঠ কাহিনীকারও হয়েছেন।
মনপুরায় অভিনয় করে চঞ্চল, গঙ্গাযাত্রায় ফেরদৌস একই চলচ্চিত্রে অভিনয় করেই সেরা অভিনেত্রী হয়েছেন পপি। শ্রেষ্ঠ গায়কের পুরস্কারটি পাচ্ছেন কুমার বিশ্বজিত। স্বামী-স্ত্রীর ওয়াদা ছবিতে গান গেয়ে তিনি এ পুরস্কারের জন্য মনোনীত হন। একই ছবিতে গানের সুর করার জন্যও তিনি পেয়েছেন শ্রেষ্ঠ সুরকারের পুরস্কার।
শ্রেষ্ঠ সঙ্গীত পরিচালক হয়েছে আলম খান। আমার প্রাণের প্রিয়া ছবিতে নৃত্য পরিচালনার জন্য শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি পেয়েছেন তানজিল।
বৃত্তের বাইরে ছবিতে অভিনয়ের জন্য পার্শ্ব অভিনেতা হিসেবে শ্রেষ্ঠ পুরস্কার পেয়েছেন শহীদুল ইসলাম সাচ্চু। শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেত্রীর পুরস্কার পেয়েছেন চাঁদের মতো বউ'র নিপুন। কৌতুক চরিত্রে 'মন বসে না পড়ার টেবিলে' ছবিতে অভিনয়ের জন্য শ্রেষ্ঠ পুরস্কার পেয়েছেন প্রবীন অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামান। শিশু শিল্প হিসেবে শ্রেষ্ঠ হয়েছে গঙ্গাযাত্রা ছবির সৈয়দা অহিদা সাবরীনা। এ শাখায় বিশেষ পুরস্কার পেয়েছে প্রিয়তমেষু ছবির পল্টু চরিত্রের অভিনেতা জারকান।
'মনপুরা'র চিত্রনাট্য লিখে শ্রেষ্ঠ চিত্র নাট্যকার হয়েছেন গিয়াসউদ্দিন সেলিম। তবে শ্রেষ্ঠ সংলাপ রচয়িতা হয়েছেন চাঁদের মতো বউ'র মুজতবা সউদ। শ্রেষ্ঠ গীতিকার হয়েছেন 'স্বামী-স্ত্রীর ওয়াদা'র কবির বকুল। বৃত্তের বাইরে ছবির জন্য আরো ৩টি শাখায় ৩জন শ্রেষ্ঠ হয়েছেন। এরা হচ্ছেন- শ্রেষ্ঠ চিত্রগ্রাহক মাহফুজুর রহমান খান, শ্রেষ্ঠ শব্দ গ্রাহক সুজন মাহমুদ ও শ্রেষ্ঠ সম্পাদক জুনায়েদ হালিম।
একই সঙ্গে গঙ্গাযাত্রা ছবির জন্য আরো তিনটি শাখায় তিনজন শ্রেষ্ঠ হয়েছেন। এরা হচ্ছেন- শ্রেষ্ঠ শিল্প নির্দেশক মো. কলমতর, শ্রেষ্ঠ মেকাপম্যান খলিলুর রহমান এবং শ্রেষ্ঠ পোশাক ও সাজ-সজ্জারর জন্য দিলীপ সিং।
এ পুরস্কার ঘোষণা করে তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ বলেন, গত কয়েক বছর দেশে ভালো ও সুস্থ ধারার ছবি তৈরি হয়নি। ফলে অনেক ছবিই এখন এ ধরনের পুরস্কারের জন্য আবেদনও করে না। যারা আবেদন করেছেন, তাদের মধ্যে থেকেই জুরি বোর্ড ২৬টি ক্যাটাগরিতে ২৮ জনকে মনোনীত করেছে। এক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম হয়নি।
তিনি চিত্র নির্মাতাদের সুস্থ ধারার ছবি নির্মাণে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এ ধরনের ছবির জন্য সরকার অনুদান দেবে।

 
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ