এডিসি হারুনের দেশ ছাড়ায় পুলিশ প্রশাসনে তোলপাড়

July 23, 2011, 5:27 PM, Hits: 602

এডিসি হারুনের দেশ ছাড়ায় পুলিশ প্রশাসনে তোলপাড়

হ-বাংলা নিউজ : ঢাকা থেকে : এডিসি হারুনের দেশ ছেড়ে পলায়নের ঘটনায় পুলিশ প্রশাসনে তোলপাড় শুরু হয়েছে। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে রাজি না হলেও অনেকেই বলেছেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা এভাবে কাউকে কিছু না বলে বিদেশ চলে যাওয়া বিধিসম্মত হয়নি। প্রশ্ন জেগেছে চাকরির বিধি লঙ্ঘনের দায়ে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় কোনো ব্যবস্থা নেয়া হবে কি না? এডিসি হারুনের ঘনিষ্ঠজনদের কেউ কেউ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী স্ত্রীকে ম্যানেজ করতেই হারুন হঠাৎ করে কাউকে কিছু না বলে চলে গেছেন। ৬ জুলাই সংসদ ভবন এলাকায় বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুকের ওপর নির্মম নির্যাতনের পর থেকে হারুনের ফোন রিসিভ করেননি তার স্ত্রী।


গত ৬ জুলাই বিরোধীদলীয় জোট আহূত হরতালে সংসদ ভবন এলাকায় জয়নুল আবদিন ফারুকের ওপর নির্যাতন চালায় পুলিশ। এডিসি হারুন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপের গায়ে হাত তোলেন। তাকে পিটিয়ে রাস্তার ওপর ফেলে পুলিশ বুট দিয়ে তার শরীর রাস্তার ওপর পিষে। পুলিশের লাঠির আঘাতে মাথা ফেটে যায় জয়নুল আবদিনের। এ ঘটনায় দেশ-বিদেশে বিতর্কের ঝড় ওঠে। ঘটনাস্থলে লাঞ্ছিত হন বিএনপির কয়েকজন মহিলা সংসদ সদস্য। ঘটনার পরপরই আহত জয়নুল আবদিন ফারুককে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এডিসি হারুনের সাথে পুলিশের তেজগাঁও জোনের এসি বিপ্লব কুমার সরকারও বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের ওপর হামলায় নেতৃত্ব দেন। এ ঘটনার পর সারা দিন ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করলেও নাটকীয়ভাবে সন্ধ্যার দিকে তারা দু’জন রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে ভর্তি হন। হাসপাতালে তাদের শরীরে ব্যান্ডেজও বাঁধা হয়। কিন্তু যেসব অংশে ব্যান্ডেজ বাধা হয় দিনের বেলায় ওই সব অংশ অক্ষতই দেখেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। তাদের আবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পুলিশের আইজিপিসহ সরকার ও পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিরা দেখতে হাসপাতালে যান।


সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এডিসি হারুনের এ কর্মে তার নিজ পরিবারের সদস্যরাও হতবাক হয়ে যান। একজন পুলিশ কর্মকর্তা কিভাবে একজন রাজনৈতিক নেতা ও সংসদ সদস্যের ওপরে এভাবে হামলে পড়েন তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে ব্যাপক সমলোচনা হয়। জানা গেছে, ওই ঘটনার পর হারুনের যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী স্ত্রী তার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। হারুন রাজারবাগ হাসপাতালে বসে স্ত্রীকে বারবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার ভোরে একমাত্র ঢাকার পুলিশ কমিশনারকে একটি মেসেজ পাঠিয়ে আর কাউকে কিছু না বলে হারুন আমেরিকার উদ্দেশে চলে যান। পুলিশ প্রশাসন ও ইমিগ্রেশনসহ সব দফতর হারুনের চলে যাওয়ার বিষয়টি আড়াল করার চেষ্টা করে। হারুন যে দেশ ছেড়ে চলে গেছেন, তা ওই জোনের ডিসিও জানেন না।


এ দিকে এডিসি হারুনের চলে যাওয়ার পর বিষয়টি জানাজানি হলে পুলিশ প্রশাসনে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়। প্রশ্ন জেগেছে পুলিশের একজন কর্মকর্তা হয়ে কিভাবে বিধিসম্মতভাবে ছুটি না নিয়ে হারুন দেশ ছেড়ে চলে গেলেন। তার বিরুদ্ধে এ ব্যাপারে বিভাগীয় কোনো ব্যবস্থা নেয়া হবে কি না? পুলিশ কর্মকর্তাদের অনেকেই বলেছেন, এটি পুলিশ বিভাগের শৃঙ্খলা লঙ্ঘন। কেউ এভাবে দেশ ছাড়তে পারেন না। বিদেশে যাওয়ার জন্য একজন সরকারি কর্মকর্তাকে অনেক বিধি মানতে হয়। হারুন তার কোনো কিছুই মানেননি। এভাবে এর আগে যেসব কর্মকর্তা বিদেশে গেছেন তাদের প্রত্যেকের ব্যাপারেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।


উল্লেখ্য, হারুন ও বিপ্লব সরকার ছাত্রজীবনে বর্তমান ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতা ছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে এর আগেও নানা অভিযোগ ছিল। নানা অভিযোগ ও মামলা থাকার পরও তারা সরকারি চাকরি পেয়েছেন। সরকার পরিবর্তন হলে তারা দীর্ঘ দিন লাপাত্তা ছিলেন। বর্তমান সরকার আবার ক্ষমতা লাভের পর তারা চাকরিতে পুনর্বহাল হন।



 
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ