সাবধান ! ঢাকার ৫০ শতাংশ মাছে রঙের আবরণ !

July 26, 2011, 5:40 PM, Hits: 1314

সাবধান !  ঢাকার ৫০ শতাংশ মাছে রঙের আবরণ !


হ-বাংলা নিউজ : ঢাকা থেকে : 'নিরাপদ মাছে ভরব দেশ, বদলে যাবে বাংলাদেশ'-এ স্লোগানে সারা দেশে মৎস্য সপ্তাহ চলেছে। কিন্তু সম্প্রতি এক গবেষণায় ঢাকার বাজারে প্রায় ৫০ শতাংশ রুই, কাতলা, সিলভার কার্প ও তেলাপিয়া মাছে বিষাক্ত ও ক্ষতিকর রং মেশানোর প্রমাণ মিলেছে। ক্রেতা আকৃষ্ট করা ও মাছের দাম বাড়ানোর উদ্দেশ্যে অসাধু ব্যবসায়ীরা ওই পদ্ধতিতে মাছের অবয়বকে চাকচিক্য করার এ পন্থা অবলম্বন করছে। মাছের বহিরাবরণ অর্ধভেদ্য হওয়ায় ব্যবহৃত ওই সব রং সহজেই মাছের ভেতরে ঢুকে যায়, যা ক্যান্সারসহ মানবদেহে বহু জটিল রোগের সৃষ্টি করতে পারে। সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিসারিজ টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. এ কে এম নওশাদ আলম এসব তথ্য জানান।


দুপুরে 'কাঁচা মাছে মারাত্মক ক্ষতিকর রং ব্যবহার_নিরাপদ মাছ প্রাপ্তির অন্তরায়' শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে ড. নওশাদ আলম জানান, ২০০৯ সালের জুলাই থেকে ২০১০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মাছের বাজার বিশেষ করে ঢাকার পাইকারি ও খুচরা বাজারে অনুসন্ধান চালিয়ে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থার অর্থায়নে পরিচালিত 'পোস্ট হারভেস্ট লস রিডাকশন ইন ফিশারিজ, বাংলাদেশ' শীর্ষক এক প্রকল্পের অধীনে এ অনুসন্ধান পরিচালিত হয়। গবেষণাকাজে তাঁকে সহযোগিতা করেন একই বিভাগের লেকচারার মো. নূরুল হায়দার, পিএইচডি ফেলো মো. মোতালেব হোসেন ও মো. নাজমুল হাসান।


ড. নওশাদ আলম বলেন অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ঢাকার বাজারে দেশের দূর-দূরান্ত থেকে আসা মাছ প্রায়ই পচে যায়। কখনো কখনো বরফহীন অবস্থায় বেশি পানি ব্যবহারে অথবা বরফ বা ওপরের মাছের চাপে পড়ে নিচের মাছের রং নষ্ট হয়ে ফ্যাকাশে হয়ে যায়। আবার কখনো কখনো মাছের শরীরের পানি বের হয়ে গিয়ে দেহ খসখসে হয়। এসব পচা বা অর্ধপচা মাছকে তরতাজা দেখানোর জন্য অসৎ মাছ ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন রং ব্যবহার করেছে।


গবেষণা সহযোগী মো. মোতালেব হোসেন ও মো. নাজমুল হাসান জানান, রুই, কাতলা, সিলভার কার্প, তেলাপিয়া, বেলে, পাবদা, গুলসা, বাতাসী, শোল ইত্যাদি মাছে রং মাখানোর প্রমাণ পাওয়া গেছে। সাধারণত মুখ, কানকো, চোখ, বুকের পাখনা ও পেটের দিকে রং মাখানো হয়। তাঁরা বলেন, গবেষণার অংশ হিসেবে তাঁরা ঢাকার কারওয়ান বাজার, মৌলভীবাজার, যাত্রাবাড়ী, নিউ মার্কেট, কচুক্ষেত, মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, মহাখালী, কাপ্তান বাজার, মিরপুর, মুসলিম বাজার, কাজীপাড়া, নীলক্ষেত মার্কেটসহ প্রায় অর্ধশতাধিক পাইকারি ও খুচরা মাছের বাজারে অনুসন্ধান করেন। এ সময় তাঁরা বাজারে বিক্রিত প্রায় ৪৭ থেকে ৫৫ শতাংশ রুই, কাতলা, সিলভার কার্প ও তেলাপিয়া মাছে রং মেশানোর প্রমাণ পেয়েছেন বলে দাবি করেন। ড. নওশাদ বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনাইটেড ইউনিয়ন এবং এফডিএ মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর এ সব রঙের ব্যহার নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। অথচ জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর এসব রং দেশের মাছের বাজারে মাছকে তাজা দেখানোর উদ্দেশ্যে নির্বিচারে ব্যবহৃত হচ্ছে।

 


 
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ