১০০ কোটি পিস ১ ও ২ টাকার কয়েন সংগ্রহ করা হচ্ছে

July 27, 2011, 10:37 AM, Hits: 1087

১০০ কোটি পিস ১ ও ২ টাকার কয়েন সংগ্রহ করা হচ্ছে


হ-বাংলা নিউজ : ঢাকা থেকে : বাজারে ধাতব মুদ্রা সঙ্কট মোকাবেলায় ১০০ কোটি পিস এক ও দুই টাকার কয়েন ছাড়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিসংবলিত ১০০ কোটি পিস ধাতব মুদ্রা সংগ্রহ করতে সরকারকে ব্যয় করতে হবে ১৩০ কোটি টাকা। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে ২০০ কোটি পিস এক ও দুই টাকার ধাতব মুদ্রা সংগ্রহের অনুমতি দেয়ার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে অনুরোধ করা হয়েছিল। কিন্তু অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এ মুহূর্তে এত অধিক পরিমাণ ধাতব মুদ্রা সংগ্রহের কোনো যৌক্তিকতা নেই। প্রাথমিকভাবে ১০০ কোটি পিস মুদ্রা সংগ্রহ করলেই চলবে।


ইতোমধ্যে ১০০ কোটি পিস ধাতব মুদ্রা সংগ্রহের অনুমতি দেয়ার জন্য অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের কাছে একটি সারসংক্ষেপও পাঠানো হয়েছে। অর্থমন্ত্রীর অনুমোদন পাওয়ার পরই সংগ্রহের প্রক্রিয়াটি শুরু করা হবে। তবে এখন থেকে সংগ্রহের কাজ শুরু করা সম্ভব হলেও তা বাজারে ছাড়তে আরো এক বছর সময়ের প্রয়োজন হবে বলে বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানিয়েছে।


এ দিকে ধাতব মুদ্রা ছাড়ার সময় মুদ্রা স্বাস্থ্যকর দিকটি বিবেচনায় আনার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেছেন, ধাতব মুদ্রাগুলো অল্প কয়েক দিনের মধ্যে জীবাণুর সংক্রমে শিকার হয়। তারা মুদ্রা তৈরি করার সময় কিছু পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন।


সূত্র জানায়, অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে পাঠানো বাংলাদেশ ব্যাংকের চিঠিতে বলা হয়েছে চলতি ২০১১-১২ ও ২০১২-১৩ অর্থবছরের চাহিদা পূরণ, ক্রমান্বয়ে কাগজি নোটের প্রতিস্থাপন ও বর্ধিত চাহিদা বিষয় বিবেচনা এনে ১০০ কোটি পিস করে এক ও দুই টাকার মূল্যমানের মোট ২০০ কোটি পিস ধাতব মুদ্রা সংগ্রহ করা যেতে পারে। পুরো ২০০ কোটি পিস মুদ্রা সংগ্রহ করতে ব্যয় হবে ২৬০ কোটি টাকা। এই পরিমাণ ধাতব মুদ্রা সংগ্রহ করা সম্ভব হলে তা ২০১৩ সাল পর্যন্ত এক ও দুই টাকার চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম হবে।


অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এর আগে আর কখনো এক সাথে এত অধিক পরিমাণ ধাতব মুদ্রা সংগ্রহ করা হয়নি। ২০০৩ সালে এক টাকার সমমানের ৪০ কোটি পিস ধাতব মুদ্রা সংগ্রহ করা হয়েছিল। এরপর ২০০৯ সালে এক টাকার মূল্যের ৫০ কোটি পিস সংগ্রহ করা হয়। অন্য দিকে ২০০৪ সালে ২০ কোটি পিস দুই টাকা মূল্যের ধাতব মুদ্রা সংগ্রহ করা হয়েছিল। এরপর ২০০৮ সালে ১৮ কোটি পিস এবং ২০১০ সালে ৩০ কোটি পিস দুই টাকার মূল্যমানের ধাতব মুদ্রা কেনা হয়। তাই বর্তমান অবস্থা বিবেচনা করে ২০০ কোটি নয়, ১০০ কোটি পিস এক ও দুই টাকার ধাতব মুদ্রা সংগ্রহের অনুমতি প্রদান করা যেতে পারে।


সূত্র জানায়, ধাতব মুদ্রার পাশাপাশি ২০০৭ সালে দুই টাকার সমমূল্যের ২৭ কোটি ২৮ লাখ পিস কাগজি নোট বাজারে ছাড়া হয়েছিল। একইভাবে ২০০৮ সালে সাত কোটি ৬৫ লাখ, ২০০৯ সালে ১০ কোটি ৬৪ লাখ এবং ২০১০ সালে ২৬ কোটি ৫৭ লাখ ৫০ হাজার দুই টাকার কাগজি নোট বাজারে ছাড়া হয়। কিন্তু তার পরও বাজারে দুই টাকার কাগজি মুদ্রার সঙ্কট রয়ে গেছে। শুধু তাই নয়, দুই টাকার কাগজি মুদ্রা যেটি বাজারে প্রচলিত রয়েছে তা বেশির ভাগ ছেঁড়াফাটা ও নোংরা। বাজারে দুই টাকার নতুন কাগজি নোটের ব্যাপক চাহিদা সত্ত্বেও পর্যাপ্ত পরিমাণ ছাপানো সম্ভব হচ্ছে না।


সংশ্লিষ্ট এক ধাতব মুদ্রা বিশেষজ্ঞ বলেছেন, বাজারে ধাতব মুদ্রা ছাড়া হলে এর স্বাস্থ্যকর দিকটার দিকে কেউ নজর দিচ্ছে না। মানুষের হাতে হাতে থাকার জন্য ধাতব মুদ্রাগুলো অল্প কিছু দিনের মধ্যে মারাত্মক রোগ জীবাণুর সংস্পর্শে এসে পরে। এগুলো শিশুদের হাতে গেলে তাদেরও কঠিন রোগ হওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে। তাই ধাতব মুদ্রা বানানোর সময় এর কারিগরি দিকগুলো বিবেচনা করার প্রয়োজন রয়েছে। বিশেষ করে ধাতব মুদ্রা তৈরির সময় আন্তর্জাতিক ‘ডিআইএন ১০১১৩-৩ ও ডিআইএন ১০১৬১’ টেস্ট মেথড পরিপালনের বাধ্যবাধকতা থাকার প্রয়োজন রয়েছে। এতে করে মুদ্রায় রোগ জীবাণুর সংক্রামকের হার কমবে বলে তিনি দাবি করেন।

 

 


 
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ