মেধাবী ২০৭ ছাত্রের শিক্ষাব্যয় বহন করছেন জার্মানপ্রবাসী

July 27, 2011, 10:46 AM, Hits: 605

মেধাবী ২০৭ ছাত্রের শিক্ষাব্যয় বহন করছেন জার্মানপ্রবাসী


হ-বাংলানিউজ : সুদূর প্রবাস থেকে বাংলাদেশের জন্য এই অকৃত্রিম ভাবনা সত্যিই বিরল। বাংলাদেশের বেশ কিছু দরিদ্র মেধাবী ছাত্রের ব্যয়ভার বহন করার দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে তুলে নিয়েছেন জার্মানপ্রবাসী কয়েকজন বাংলাদেশী। শুরুটা ছিল ছোট আকারে, তবে ক্রমেই তা সংগঠিত হয়েছে। আর তা শুধু প্রবাসী বাংলাদেশীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বিস্তৃত হয়েছে জার্মানদের মধ্যেও।
মিউনিখের জিয়াউল মালিক ওই শহরের অধিবাসী অধ্যাপক রালফ হেরটিং, চিকিৎসক মার্টিন ব্রাউন, ফ্রাঙ্কফুর্টের ফাহিম, স্টুটগার্টের দীপন, রিগ্যানবর্গের ইব্রাহিম, বায়ারুথের শামিম, মিউনিখের সাইফুল্লাহ, তারিক, তুষার, সাব্বির, আনিস ছাড়াও আরও অনেকে। তাদের অধিকাংশ পেশায় সফটওয়্যার প্রকৌশলী। তারা এই মহতী উদ্যোগ আরও সুসংগঠিত করতে সম্প্রতি মিউনিখে আয়োজন করেছিলেন সংগঠনের পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে নিয়ে তাদের ভাবনার কথা, গৌরবের অভিব্যক্তির কথা জানানোর অনুষ্ঠানের।


অনুষ্ঠানে ২শতাধিক অতিথি হাজির হয়েছিলেন। হাজির হয়েছিলেন জার্মানিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মসহুদ মান্নানসহ নানা দেশের অতিথিরা। জার্মান ভাষায় সংগঠনটির নাম ‘বাংলাদেশ ইউগেন্ড ফরডারুং’, জার্মানিতে রেজিস্ট্রিকৃত এই সংগঠনের বাংলা অর্থ হলো ‘বাংলাদেশের তরুণদের সহযোগিতা’। উদ্যোক্তারা জানালেন কীভাবে তারা ১০৮ জন সদস্য নিয়ে শুধু নিজেদের সদস্য-চাঁদা দিয়ে বাংলাদেশের নানা প্রান্তের ২০৭ জন মেধাবী দরিদ্র তরুণ শিক্ষার্থীর পড়াশোনার খরচ মাসের পর মাস বহন করে চলেছেন। মিউনিখের অধ্যাপক রালফ হেরটিং আর চিকিৎসক মার্টিন ব্রাউন জানালেন, কেন তারা এই উদ্যোগে শামিল হয়েছেন। তারা আরো বললেন, গতানুগতিক সাহায্য সংস্থা না হয়ে নিজেদের ব্যক্তিগত উদ্যোগে এই প্রচেষ্টায় তারা যুক্ত হয়ে নিজেদের ধন্য মনে করছেন। সংগঠনের সভাপতি জিয়াউল মালিক শুরু থেকে নানা চড়াই-উৎরাই পার হয়ে কীভাবে এই মেধাবী ছাত্রদের সহযোগিতা করতে পারছেন,তার বিস্তারিত বিবরণ দিলেন। প্রবাসী বাংলাদেশীদের এ ধরনের উদ্যোগে সবাইকে সহযোগিতার হাত বাড়ানোর তাগিদ দিলেন রিগ্যানবর্গের সফটওয়্যার প্রকৌশলী ইব্রাহিম।


জার্মানিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মসহুদ মান্নান প্রবাসী বাংলাদেশীদের পাশাপাশি জার্মান মূলধারার অধিবাসী, যারা বাংলাদেশে শিক্ষার উন্নয়নে এ ধরনের প্রকল্পে সম্পৃক্ত হয়েছেন, তাদের বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানান।


অনুষ্ঠানে সংগঠনের নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা ছাড়াও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মনোজ্ঞ সংগীত পরিবেশন করেন নুরেনবার্গের সংগীত দল ত্রিকাল ব্যান্ড এবং সুদূর ভিয়েনা থেকে আসা বঙ্গ র‌্যাগি ব্যান্ড এবং স্থানীয় শিল্পী শাওন, দীপন, আনিস ও অন্যরা। সারা দিন আলোচনা ও সংগীতানুষ্ঠানের পর সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি টানেন এ এ ফাহিম।

 


 
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ