মালয়েশিয়ায় চাকুরী বদলের হিড়িক !

July 30, 2011, 1:44 PM, Hits: 1798

মালয়েশিয়ায় চাকুরী বদলের হিড়িক !


গৌতম রায় : মালয়েশিয়া থেকে : সকল অবৈধ শ্রমিকের রেজিষ্ট্রেশন 'অনির্দিষ্টকালের জন্য' স্থগিত। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর এ বক্তব্যের ২৪ ঘন্টা পার না হতেই স্বরাষ্ট্র সচিব ঘোষনা দিলেন ১ আগষ্ট থেকে মালয়েশিয়ায় সকল অবৈধ বিদেশী শ্রমিকের রেজিষ্ট্রেশনের মাধ্যমে সাধারন ৰমা শুরম্ন হবে । তার আগে অবশ্য তিনবার সিদ্ধানত্ম পরিবর্তন হয়েছে। প্রথমে ১১ জুলাই, তারপর ১৮ জুলাই এবং শেষ পর্যনত্ম অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়। এতে ওয়ার্ক পারমিট প্রত্যাশী শ্রমিকদের মাঝে হতাশার কালো ছায়া নেমে আসে। কিন্তু সবকিছু ছাপিয়ে ১২ জুলাই সিদ্ধানত্ম পরিবর্তনে নাটকীয় মোড় নেয়। চুড়ানত্ম করা হয় আগামী ১ আগষ্ট থেকে রেজিষ্ট্রেশন চলবে। কিন্তু কেন দিন তারিখ নিয়ে এত জটিলতা এত নাটকীয়তা? এ বিষয়ে বিসত্মারিত রয়েছে এই প্রতিবেদনে।


১১ জুলাই নয়, ১৮ জুলাই নয় এমনকি সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে স্থগিত হয়। মালয়েশিয়ায় ২০ লাখ অবৈধ শ্রমিকের বায়োমেট্রিক সিষ্টেমে রেজিষ্ট্রেশনে চলে এরকম দিন তারিখ বদল। তারপর সিদ্ধানত্ম চুড়ানত্ম হয় যে, ১ আগষ্ট থেকেই শুরম্ন হবে রেজিষ্ট্রেশন। তার আগে অবশ্য ১৩ জুলাই থেকে ৩১ জুলাই পর্যনত্ম চলবে বৈধ শ্রমিকদের রেজিষ্ট্রেশন। হঠাৎ ১২ জুলাই এ ঘোষনা আসে সরকারী তরফ থেকে। সরকার ঘোষিত ৬পি কার্যক্রমের প্রথম থেকেই নাটকীয়তা শুরম্ন হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় দুনর্ীতিমুক্ত স্বচ্ছ ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে ৬পি চালু করতে চাইলেও প্রভাবশালী বিভিন্ন লাইসেন্সের মালিকরা বিভিন্নভাবে তাদের প্রভাব বজায় রাখার চেষ্টা অব্যহত রাখে। ১,৩৯০ টি লাইসেন্স সরকারী অনুমোদনের জন্য দরখাসত্ম করে। কিন্তু এসব লাইসেন্সের অনেকের বিরম্নদ্ধে অভিযোগ উঠে, অনুমোদন পাবার আগেই তারা নিরীহ শ্রমিকদের কাছ থেকে ওয়ার্ক পারমিটের নামে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। আবার দরখাসত্মধারী বহু কোম্পানীর বিরম্নদ্ধে অতীতে শ্রমিক প্রতারনাসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। রয়েছে কালো তালিকাভুক্ত কোম্পানীও। শেষ পর্যনত্ম সরকারের কঠোর মনোভাবে ধারনা করা হয়েছিল ৫০/৬০ টি লাইসেন্স অনুমোদন পেতে পারে। কিন্তু শেষ পর্যনত্ম বিবেচনায় প্রায় আড়াই শ' লাইসেন্সকে বিভিন্নভাবে আমন্ত্রন জানানো হয়। বাদ দেয়া হয় বাকী সব লাইসেন্সকে। কিন্তু চুড়ানত্ম বিবেচনায় বর্তমানে ৩৪৮টি লাইসেন্সকে সরকার ৬পি কার্যক্রমে অংশ নেবার আমন্ত্রন জানিয়েছে। এরপরও জটিলতা থেকে যায়, বায়োমেট্রিক সিষ্টেমে রেজিষ্ট্রেশন বাবদ এজেন্সীগুলোর সার্ভিস চার্জ কত ধার্য্য হবে সেটা নিয়ে। সরকারের ইচ্ছা সেটা ১ শ' রিঙ্গিতের নীচে রাখা। আর এজেন্সী বা কোম্পানীগুলোর প্রত্যাশা সেটা ৩ শ' থেকে ৫ শ' রিঙ্গিতে উত্তীর্ণ করা। চলতে থাকে উপর্যুপরি সভা, আলোচনা, লবিং সবকিছুই। কিন্তু এরই মধ্যে ঘটে যায় আরো অনেক নাটক। দেন দরবার করতে করতে যখন বেলা ফুরিয়ে যায় তখন সবাই বুঝতে পারেন হাতে সময় নেই। প্রস্তুতিও সম্পন্ন হয়নি কোন পৰেরই। অতএব, ৭/১১ বা ১১ জুলাইয়ের পরিবর্তে ১৮ জুলাই রেজিষ্ট্রেশনের তারিখ পুনঃ নির্ধারন করা হয়। অবশ্য তারিখ পরিবর্তনের পেছনে আরো একটি কারন হলো মালয়েশিয়ায় নির্বাচন সংস্কারের দাবীতে ৯ জুলাই বিরোধী দলসমূহের বিৰোভ মিছিল সমাবেশ। রাজনৈতিক উত্তেজনার কারনেও সম্ভব হয়নি যথাসময়ে ৬পি'র যাত্রা। নতুন তারিখ ঘোষনার পর যখন সবাই নড়ে চড়ে বসেছে ঠিক তখনই বিভিন্ন ফ্যাক্টরী কোম্পানীর মালিকরা সরকারের কাছে অভিযোগ করেছে, সাধারন ৰমার সুযোগে বৈধ শ্রমিকরা নির্দিষ্ট কোম্পানী থেকে পালিয়ে যাচ্ছে এবং অবৈধ হয়ে ৬পি'র সুবিধা নিতে যাচ্ছে। প্রশাসনে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দেয়। ঘোষনা আসে এবার আগে বৈধ শ্রমিকদের রেজিষ্ট্রেশন করতে হবে তারপর অবৈধ শ্রমিকের রেজিষ্ট্রেশন। ধারনা করা হয়, ১৮ জুলাই থেকে শুধুমাত্র বৈধ শ্রমিকেরই রেজিষ্ট্রেশন চলবে। জটিলতা বাড়ে। প্রস্তুতি বাধাগ্রস্থ হয়। কোন সিদ্ধানত্মই ধরে রাখা সম্ভব হয় না। বাধ্য হয়ে প্রস্তুতি কর্মকান্ডে অসন্তুোষ প্রকাশ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী দাতুক সেরী হিশামউদ্দিন হুসেইন ১১ জুলাই অনির্দিষ্ট কালের জন্য রেজিষ্ট্রেশন স্থগিত ঘোষনা করে দেন। সমগ্র মালয়েশিয়ায় অবৈধ বাংলাদেশী শ্রমিকসহ বিভিন্ন দেশের অবৈধ শ্রমিকদের মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ে। আতঙ্কিত এসব শ্রমিকের মাঝে ধারনা জন্মায় সরকার আর ওয়ার্ক পারমিট দিচ্ছে না। কিন্তু এ ঘোষনার ২৪ ঘন্টা না পার হতেই ১২ জুলাই আকষ্মিকভাবে স্বরাষ্ট্র সচিব তার শ্রী মাহামুদ আদম প্রেস ব্রিফিং এ জানান, ১৩ জুলাই থেকে ৩১ জুলাই পর্যনত্ম সকল বৈধ শ্রমিকের বায়োমেট্রিক রেজিষ্ট্রেশন শুরম্ন হবে। ১ আগষ্ট থেকে শুরম্ন হবে অবৈধ শ্রমিকদের বায়োমেট্রিক সিষ্টেমে রেজিষ্ট্রেশন। এর মধ্য দিয়ে ঐ দিন থেকেই সাধারন ৰমার কার্যক্রম বা ৬পি কর্মসূচী চালু হচ্ছে। তবে এ রেজিষ্ট্রেশন প্রক্রিয়া কতদিন চলবে সেটা উলেস্নখ করা হয়নি। যদিও আগে বলা হয়েছিল সে সুযোগ থাকবে তিন সপ্তাহের জন্যই। অবৈধ শ্রমিক নির্ণয়ে সরকার চারটি ক্যাটাগরী উলেস্নখ করেছে।

৬পি কি?

৬ টি মালয় শব্দের অদ্যাৰর দিয়ে গঠিত এই ৬পি। ৬পি'র অর্থ হচ্ছে- চবহফধভঃধৎধহ (ৎবমরংঃৎধঃরড়হ) নিবন্ধনকরন, চবসঁঃরযধহ (ষবমধষরংধঃরড়হ) বৈধকরন, চবহমধসঢ়ঁহধহ (ধসহবংঃু) সাধারন ৰমা, চবসধহঃধঁধহ (ংঁঢ়বৎারংরড়হ) তদারকি, চবহমঁধঃশঁধংধধহ (বহভড়ৎপবসবহঃ) বাসত্মবায়ন, চবহমঁংংরৎধহ (ফবঢ়ড়ৎঃধঃরড়হ) নিজ দেশে ফেরত। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় পৰ থেকে বলা হচ্ছে, বিগত দিনে বৈধকরন পক্রিয়ার পদৰেপের মধ্যে এই ৬পি'ই হচ্ছে সবচেয়ে সমন্বিত ও কার্যকরী পদৰেপ। সরকার অবৈধ অভিবাসী শ্রমিকদের এ সূযোগ গ্রহনের জন্য ১ম ধাপে ১১ জুলাই থেকে রেজিষ্ট্রেশনের ঘোষনা দিলেও সেটা পিছিয়ে ১ আগষ্ট করা হয়েছে। এরপর ওয়ার্ক পারমিট অথবা বিনা জরিমানায় দেশে চলে যাবার সুযোগ। বায়োমেট্রিক সিষ্টেমে শ্রমিকের ছবি, আঙ্গুলের ছাপ ও কোম্পানী মালিকের আঙ্গুলের ছাপ নেয়া হবে। এভাবেই শ্রমিকদের ওয়ার্ক পারমিট বাসত্মবায়ন হবে ধাপে ধাপে। ৬পি'র আরেকটি ধাপ হচ্ছে- কোন বৈধ ট্র্যাভেল কাগজ পত্র ছাড়া কেউ ধরা পড়লে কঠোর আইনের মুখোমুখি হতে হবে। যেখানে জেল জরিমানাসহ রয়েছে তিনটি বেত্রাঘাতের বিধান।


অবৈধ শ্রমিক চেনার উপায়

মালয়েশিয়ার স্বরষ্ট্র মন্ত্রনালয় অবৈধ শ্রমিক বাছাইয়ে চারটি ক্যাটাগরী অনুসরণ করবে বলে জানিয়েছে। ১. যারা মালয়েশিয়ায় এসে অবৈধভাবে কর্মরত রয়েছে। ২. যাদের ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে অথবা বাতিল হয়েছে। ৩. যারা ভূয়া বা মিথ্যা কাগজ পত্র বা পরিচয় গোপন করে মালয়েশিয়া প্রবেশ করেছে। ৪. যারা তাদের মালয়েশিয়া প্রবশ অনুমোদন ও দলিল পত্রের অবমূল্যায়ন করেছে।
উলেস্নখিত চারটি ক্যাটাগরীতে যারা পড়বে তারাই সাধারন ৰমা পাবার যোগ্য হবে। সরকার দৃঢ় প্রত্যয় ঘোষনা করেছে, কোন পলাতক বৈধ শ্রমিককে এ সুযোগ দেয়া হবে না। সরকার তাদের পরামর্শ দিয়েছে পূর্বের কর্মস্থলে ফিরে যাবার এবং বৈধ শ্রমিক হিসাবে ৩১ জুলাইয়ের আগে রেজিষ্ট্রেশনে অংশ নেয়া। নতুবা পুলিশ বিভিন্ন উপায়ে তাদের তলস্নাশী করে দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করবে।

চাকুরী বদলের হিড়িক!

মালয়েশিয়ায় এখন বাংলাদেশী শ্রমিকদের মাঝে চাকুরী বদলের হিড়িক পড়েছে। কারন বাংলাদেশের এজেন্সী ও উভয় দেশের দালাল দ্বারা প্রতারিত হবার পরও ৩/৪ বছর পর্যনত্ম কোন উপায় না থাকায় অল্প বেতনে মালিকের প্রতারনা, অপমান, গঞ্জনা-লাঞ্চনা সহ্য করেও যারা মুখ বোঝে চাকুরী করতে বাধ্য হয়েছে এখন তাদের ধারনা, সামনে সুবর্ণ সুযোগ। এ সুযোগ কাজে লাগাতে পারলেই নতুন কোম্পানীর নামে নতুনভাবে ওয়ার্ক পারমিট করা যাবে। আর তাই দলে দলে শ্রমিকরা কোম্পানী বদল করে চলে যাচ্ছে। এতে চরম হুমকীর মুখে পড়েছে কোম্পানীর উৎপাদন। উদ্বিগ্ন মালিক পৰ সরকারকে বিষয়টি জানিয়ে ব্যবস্থা নেবার দাবী জানায়। আর পালিয়ে যাওয়া শ্রমিকদের এ স্রোত দমন করতেই সরকার আগে বৈধ শ্রমিকদের রেজিষ্ট্রেশনের কাজ শুরম্ন করেছে। কিন্তু প্রশ্ন দেখা দিচ্ছে, সরকারের এ উদ্যোগ কি বৈধ শ্রমিকের বিদায় যাত্রা ঠেকাতে পারবে? মালাক্কায় এক কোম্পানী থেকে পালিয়ে আসা শ্রমিক মমিন জানায়, আমি মরে গেলেও আর ঐ কসাইয়ের ফ্যাক্টরীতে ফিরে যাব না। পারমিট করতে না পারলে দেশে চলে যাব, কিন্তু ওখানে আর নয়। সে জানায়- তিন বছর কাজ করে ওভারটাইমসহ কখনোই মাসে ৮ শ' রিঙ্গিতের উপর বেতন উঠাতে পারিনি। অথচ আমার কাজে কোন ত্রম্নটি ছিল না। আর ফিরে গেলে পরিনতি আরো ভয়াবহ হবে। একই অবস্থা ঐ কোম্পানীর আরো কয়েক শ' শ্রমিকেরও। তারা অনেকেই পালিয়ে গিয়েছে, আবার অনেকে পালানোর পথ খুঁজছে। বাংলাদেশ হাইকমিশন, লেবার কোর্টে বিচার অভিযোগ দিয়েও খুব বেশী লাভ হয়নি। মমিনের মতো মালয়েশিয়ায় হাজার হাজার শ্রমিক রয়েছে যারা নির্দয় মালিকদের শোষনের শিকার হয়ে আজ পিছু হটতে বাধ্য হচ্ছে।

শ্রমিকরে পৰে কেউ নেই

বৈধ শ্রমিকরা কোন সুখের আশায়, কেন সে তার বৈধ কর্মস্থলকে ঘৃনা করে অন্যত্র চলে যাচ্ছে সে প্রশ্নটা কোথাও কেউ করছে না। কেউ মালিকদের দিকে আঙ্গুল উঁচিয়ে তাকে দায়ী করছে না। একদিন যে শ্রমিকদের তারা ক্রীতদাস বানিয়ে রেখেছিল বা পাসপোর্ট আটকিয়ে জিম্মি করে রেখেছিল আজ চোখের সামনে যে সুযোগ ওরা পাবে সেটাকেই কাজে লাগাতে চেষ্টা করবে। এটাই স্বাভাবিক। অধিকার বঞ্চিত এসব শ্রমিকের মানবাধিকার রৰায় কেউ এগিয়ে আসেনি। কিন্তু কে বলবে এ হাজারো শ্রমিকরে ফেলে আসা কষ্টের দিনগুলোর কথা। ওরা সুন্দরভাবে সৎভাবে সুনামের সাথে মালয়েশিয়ায় কাজ করতে চায়। যে স্বপ্ন নিয়ে ওরা মালয়েশিয়া এসেছিল সে স্বপ্ন পূরনে ওরা হাটতে চায়। এখানে কোন বাধাই যেন আজ ওদের দমাতে পারবে না।

মালয়েশিয়ায় বৈধ অবৈধ বিদেশী শ্রমিক কতজন?

অবৈধ শ্রমিকের সঠিক সংখ্যা জানা না গেলেও সরকারের ধারনা প্রায় ২০ লাখ বিদেশী এদেশে অবৈধভাবে রয়েছে। যাদের মধ্যে ইন্দোনেশীয়ার স্থান সবার উপরে। আর বৈধভাবে রয়েছে ১৮ লাখ শ্রমিক।

সাধারন ৰমার বাধা অপরাধীরাও

মালয়েশিয়ায় বহু অবৈধ বিদেশী খুন, ধর্ষন, ডাকাতি, অপহরনের মতো গুরম্নতর অপরাধে জড়িয়ে আছে। অবশ্য এরকম গুরম্নতর অপরাধের সাথে বাংলাদেশীদের জড়িত থাকার সংবাদ পাওয়া যায় না। পুলিশ এরকম হাজার খানেক অপরাধীর সন্ধান চালাচ্ছে। কিন্তু পুলিশের ধারনা এই অপরাধীরা সাধারন ৰমার সুযোগে পরিচয় গোপন করে রেহাই পেয়ে যেতে পারে এবং পুনরায় মুক্ত হয়ে অপরাধে জড়াতে পারে। কারন পুলিশ ও ইমিগ্রেশনের ডাটাবেজে তাদের কোন তথ্যই সংগ্রহে নেই। পুলিশ বিষয়টি তদারকির জন্য ইমিগ্রেশনকেও জানিয়েছে।

চাকুরীর নামেও প্রতারনা চলছে

"বস্ খুব ভালো। মালয়েশিয়ায় এমন বস খুব কমই আছে। দৈনিক ৪৫ রিঙ্গিত বেসিক। ওভার টাইম খোদার তিরিশ দিনই আছে। ৫০ জন লোকের প্রয়োজন। বস পারমিটের অর্ধেক টাকা দিবে। আর অর্ধেক আপনাকে দিতে হবে। খাওয়া নিজের থাকা মালিকের। থাকার জায়গাও সেরকম। মাস শেষে বেতন কম করে হলেও তো ১৬ শ' রিঙ্গিত উঠবে। তবে একটা শর্ত ওখানে ঢুকতে হলে ৩ শ' রিঙ্গিত লাগবে। কারন ম্যানেজারকে কিছু দিতে হবে।" এ সংলাপ চাকুরীসন্ধানরত পালিয়ে আসা এক বৈধ শ্রমিকের সাথে দালালের। যে শ্রমিক মাসে ৭ শ' রিঙ্গিতও বেতন পায়নি তার কাছে ঐ প্রসত্মাব খুবই লোভনীয়। ভালো চাকুরীর প্রতি পলাতক শ্রমিকদের অনির্বাণ টানকে পুঁজি করে এক শ্রেনীর দালাল মাঠে নেমে পড়েছে। ওরা চাকুরী দেয়। ওদের মিষ্টি কথায় কেউ কেউ প্রলুব্দ হয়। এই সহজ সরল শ্রমিকরা আবার বিপদে পড়বে। কারন, ওরা অনেকেই জানে না দালাল যা বলছে সেটা সর্বাংশে সত্য নয়। কৌশলে তার কাছ থেকে টাকাটা হাতিয়ে নিতে পারলেই হলো আর পায় কে? অনেক দালাল আবার অগ্রিম টাকা ছাড়া কোম্পানীতে নিবে না। কিন্তু পুরাতন শ্রমিকদের সাথে আলাপ করলেই জানা যাবে, হয়তো কসাই মালিকের কারনে বৈধ শ্রমিকরা সেখান থেকে পালিয়ে গেছে সেখানেই দালালরা আবার জেনে শুনে নিজের দেশের মানুষকে শূন্যস্থান পূরনে ক্রীতদাস বানাতে ভর্তি করাচ্ছে। যেখানে ১৬ শ' রিঙ্গিত বেতন বলা হচ্ছে সেখানে হয়তো সারা মাস কাজ করেও ৮ শ' রিঙ্গিত পাবে না তারা। কিন্তু দালালের অমৃতবচন বড়ই মধুর লাগে।

 

 

 


 
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ