চোখজুড়ানো নায়াগ্রা

May 7, 2017, 7:35 AM, Hits: 3012

চোখজুড়ানো নায়াগ্রা

নিউইয়র্ক সিটি থেকে খুব ভোরে গাড়িতে রওনা দিয়ে যখন নায়াগ্রা পৌঁছাই, তখন দুপুর ১২টা। একটানা সাত ঘণ্টা ভ্রমণে শরীরটা ছিল বেশ ক্লান্ত। কিন্তু দূর থেকে নায়াগ্রার রূপ দেখেই সব ক্লান্তি ভুলে মনটা খুশিতে টগবগ করে ওঠে। আমি চারদিকে তাকিয়ে দেখি। সবুজে ঢাকা শান্ত-নিরিবিলি পরিবেশ। আকাশ পানে চেয়ে দেখি। মেঘমুক্ত পরিষ্কার নীল আকাশ এবং সাদা ফকফকা রোদ। এমনই এক স্বপ্নিল পরিবেশে আমি গাড়ি থেকে নামি। এরপর নায়াগ্রা ইউএসএ ভিজিটর সেন্টারের ভেতর যাই। সেখানে কাউন্টার থেকে টিকিট কেটে নায়াগ্রা জলপ্রপাতের গেট দিয়ে ভেতরে ঢুকি।

নায়াগ্রা জলপ্রপাত আমেরিকার নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য এবং কানাডার অন্টারিও প্রদেশের দুদিকজুড়ে বিস্তৃত। এই অপরূপ জলপ্রপাতের জলধারা নায়াগ্রা নদীতে অবিরত গড়িয়ে পড়ে। নায়াগ্রা জলপ্রপাতের তিন ভাগের এক ভাগ আমেরিকায়। এর নাম ‘আমেরিকান ফলস’। বাকি দুভাগ কানাডায়। এর নাম ‘কানাডিয়ান ফলস’। এটার আকার অনেকটা ঘোড়ার খুরের মতো বাঁকা। তাই একে ‘হর্সসু ফলস’ও বলা হয়। নায়াগ্রা জলপ্রপাতের উচ্চতা ১৬৭ ফুট। জলপ্রপাত থেকে প্রতি সেকেন্ডে ৬৪ হাজার ৭৫০ ঘনফুট পানি নদীতে আছড়ে পড়ে। উত্তর আমেরিকায় এটি সবচেয়ে জোরালো জলপ্রপাত। শুধু সৌন্দর্যে নয়, এটি জলবিদ্যুৎ উৎপাদনেরও এক বিরাট উৎস বটে।

আমি হাঁটতে হাঁটতে চারদিকে তাকিয়ে নায়াগ্রা জলপ্রপাতের নৈসর্গিক সৌন্দর্য উপভোগ করি। সারা এলাকা নানা জাতীয় গাঢ় সবুজ গাছপালায় ভরা। বাগানে রংবেরঙের ফুল ফুটে আছে। আমি কিছুদূর হেঁটে এলিভেটরের নাগাল পাই। এখানে দর্শনার্থী লোকজন লাইন ধরে এলিভেটরে ওঠা-নামা করছে। আমিও তা-ই করি। এলিভেটরে ১৭৫ ফুট নিচে নায়াগ্রা নদীর তীরে যাই। সেখানে ‘মেড অব দ্য মিস্ট’ বোটে উঠি। এখানে একজন পার্করেঞ্জার যাত্রীদের প্রত্যেকের হাতে একটি করে রেইনকোট ধরিয়ে দেন। জলপ্রপাতের পানির ছিটায় যেন ভিজে না যাই, সে জন্য সেটি পরি। মেড অব দ্য মিস্ট বোটের ইতিহাস অতি পুরোনো। উনিশ শতকের পঞ্চাশের দশক। তখন আমেরিকা ও কানাডার মধ্যে যাত্রী পারাপারের জন্য মেড অব দ্য মিস্ট নাম দিয়ে ফেরি সার্ভিস চালু করা হয়। এর কয়েক বছর পর নায়াগ্রা নদীর ওপর ব্রিজ তৈরি হয়। ফলে ফেরি সার্ভিস তার ব্যবসা হারিয়ে বন্ধ হয়ে যায়। অবশেষে এই মেড অব দ্য মিস্ট বোট পর্যটকদের বিনোদনের জন্য ব্যবহার করা শুরু হয়।

নায়াগ্রা নদীর পাড় থেকে তোলা নায়াগ্রা জলপ্রপাতের এই মেড অব দ্য মিস্ট বোটে চড়ে বিশ্বের সেরা নামকরা কয়েকজন সাবেক রাষ্ট্রনায়ক নায়াগ্রা জলপ্রপাতের সৌন্দর্য উপভোগ করেছেন। তাঁরা হলেন আমেরিকার থিউডোর রুজভেল্ট ও জিমি কার্টার, রাশিয়ার আলেক্সি কোসিগিন ও মিখাইল গর্বাচেভ, কানাডার পিয়েরে ট্রুডো, ভারতের জওহরলাল নেহরু এবং গণচীনের লি ঝিয়াননিয়ান। প্রিন্সেস ডায়ানা ও বিখ্যাত চলচ্চিত্র অভিনেত্রী মেরিলিন মনরোও এই বোটের যাত্রী হয়ে নায়াগ্রা জলপ্রপাতের সৌন্দর্য উপভোগ করেছেন। মেড অব দ্য মিস্ট বোট এবার যাত্রীদের নিয়ে ঘাট থেকে ছাড়ে। এরপর ধীরগতিতে চলে আমেরিকান জলপ্রপাতের অতি নিকটে যায়। 

এখানে কাছ থেকে আমেরিকান জলপ্রপাতের অপরূপ রূপ দেখি। এবার বোট গতি পরিবর্তন করে। বোট নায়াগ্রা নদীর বুক চিরে কানাডা জলপ্রপাতের কাছে আসে। কানাডা জলপ্রপাতে পানির স্রোতের তীব্রতা আরও অনেক বেশি। সমস্ত এলাকা পানির ছিটায় কুয়াশাচ্ছন্ন। এখানে জলপ্রপাতের পানি পতনের কলকল গর্জন কানে মধুর সংগীতের মতো বাজে। একসময় বোট নদীতে স্থির হয়ে দাঁড়ায়। এদিকে জলপ্রপাত থেকে অনবরত পানির ছিটা প্রবলবেগে বোটযাত্রীদের গায়ে এসে পড়তে থাকে। পানির ছিটা তো নয় যেন মুষলধারে বৃষ্টি নামছে। আমার গায়ে রেইনকোট থাকাতে আমি পানিতে ভেজা থেকে রক্ষা পাই। বোট এখানে কিছুক্ষণ থেকে আবার ঘাটে ফিরে আসে। আমি বোট থেকে নেমে এলিভেটরে আবার ওপরে উঠে আসি।
আমি এবার আমেরিকান জলপ্রপাতের কাছে বিখ্যাত রেনবো ব্রিজের একপাশে গিয়ে দাঁড়াই। দুনয়নে পুরো এলাকা বারবার তাকিয়ে দেখি। নায়াগ্রা জলপ্রপাতের মনোমুগ্ধকর নৈসর্গিক দৃশ্য দেখে আমি বিস্ময়ে হতবাক! অবারিত পানির ধারা, বিরামহীন পানি পতনের কলকল গর্জন, নদী আর পাহাড় মিলে এখানে এক অপরূপ দৃশ্যের অবতারণা করেছে। প্রকৃতি যে এত সুন্দর হতে পারে, তা নিজের চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না। এই অপূর্ব মনোহর দৃশ্য দেখে সত্যি চোখ জুড়িয়ে যায়।
নায়াগ্রা নদীর ওপারে হলো বিশ্বের আরেক সমৃদ্ধিশালী দেশ কানাডা। আমি নায়াগ্রা নদীর ওপর রেনবো ব্রিজ দিয়ে সেই কানাডার উদ্দেশে ধীরগতিতে এগিয়ে যাই। রেনবো ব্রিজ নায়াগ্রা নদীর ওপর একটি আন্তর্জাতিক আর্চ স্টিল ব্রিজ। এই ব্রিজ দুটি বন্ধুপ্রতিম দেশ আমেরিকা ও কানাডাকে নায়াগ্রা নদীর ওপর দিয়ে আড়াআড়িভাবে সংযুক্ত করেছে। রেনবো ব্রিজ দিয়ে যেতে আমি নায়াগ্রা জলপ্রপাতের উভয় দিকের নৈসর্গিক দৃশ্য চেয়ে চেয়ে দেখি। আমি রেনবো ব্রিজের ওপর দিয়ে খানিক চলে কানাডার চেকপোস্টে নেমে অভ্যর্থনাকেন্দ্রে যাই। সেখানে অভিবাসনের কাজ সেরে সোজা হোটেলে গিয়ে বিশ্রাম নিই।
বিকেলবেলা হালকা নাশতা আর এক কাপ কফি খেয়ে আমি জানালার পাশে গিয়ে দাঁড়াই। তখন কানাডা নায়াগ্রা সিটির অপরূপ সৌন্দর্য আমার চোখে ভেসে ওঠে। অনতিদূরে আমেরিকান নায়াগ্রা সিটিও দেখতে পাই। এই দ্বৈত নগরীর মাঝ দিয়ে নায়াগ্রা নদী বয়ে গেছে। নায়াগ্রা নদী দক্ষিণে লেক এরি থেকে উৎপত্তি হয়ে উত্তরে লেক অন্টারিওতে পড়েছে। নায়াগ্রা নদীর পশ্চিম পারে আমেরিকান নায়াগ্রা ফলস সিটি। লোকসংখ্যা ৫০ হাজারের অধিক। আর নদীর পূর্ব পাড়ে হলো কানাডিয়ান নায়াগ্রা ফলস সিটি। লোকসংখ্যা ৮৩ হাজার। নায়াগ্রা জলপ্রপাত বিশ্ব পর্যটকদের এক মিলনমেলা। গরমকালে এখানে দেশি-বিদেশি পর্যটকের ঢল নামে। এ সময় পর্যটকের পদভারে নায়াগ্রা জলপ্রপাত মুখর হয়ে ওঠে। প্রতিবছর বিশ্বের দূরদূরান্ত থেকে দুই কোটির বেশি ভ্রমণপিপাসু পর্যটক নায়াগ্রা জলপ্রপাত দেখতে আসেন। আবার হানিমুন কাটানোর জন্য নায়াগ্রা ফলস সিটি বিশ্বের সবচেয়ে এক উৎকৃষ্ট স্থান। তাই এই দ্বৈত নগরীকে ‘বিশ্ব হানিমুন রাজধানী’ বলা হয়।
অপরূপ দৃশ্য। জলপ্রপাতের পাশে মেড অব দ্য মিস্ট বোট দেখা যাচ্ছেঅপরূপ দৃশ্য। জলপ্রপাতের পাশে মেড অব দ্য মিস্ট বোট দেখা যাচ্ছেতখন বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামে। গোধূলির লাল আভায় চারদিক ছেয়ে যায়। এবার আমি নায়াগ্রা জলপ্রপাতের রাতের দৃশ্য দেখতে বের হই। আমি হেঁটে নায়াগ্রা নদীর পাড়ে গিয়ে বসি। সেখানে পার্কে গিয়ে দেখি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পর্যটকের উপচে পড়া ভিড়। ছোট ছেলেমেয়ে, যুবক-যুবতীসহ সব বয়সী লোকজন নায়াগ্রা জলপ্রপাতের সৌন্দর্য উপভোগ করছে। জোছনা রাতের রুপালি আলোয় নায়াগ্রা জলপ্রপাতের অপরূপ রূপ দেখে আমি মুগ্ধ। তখন হারিকেন ডেক থেকে কৃত্রিম রংধনু এসে জলপ্রপাতকে আলোকিত করছিল। একেকবার একেক রকম রংধনুর ছটায় নায়াগ্রা জলপ্রপাতকে দেখতে অপূর্ব লাগে। সেই মোহনীয় দৃশ্যের সত্যি জুড়ি মেলা ভার।
রাত ১০টায় শুরু হয় আতশবাজির খেলা। লাল-নীল-সবুজ রঙের আতশবাজি আকাশে সশব্দে বিস্ফোরিত হতে থাকে। সবকিছু দেখে মনে হলো যেন বিরাট এক আনন্দ উৎসব চলছে এখানে। প্রতিবছর ১৫ মে থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতি শুক্র ও রোববার রাত ১০টায় আতশবাজির এই খেলা চলে। জুলাই ও আগস্ট মাসেও প্রতি বুধবার আতশবাজির এই উৎসব হয়। আমি পার্কে বসে আতশবাজির এই উৎসব উপভোগ করি। দেখতে দেখতে অনেক রাত হয়। চাঁদনি রাতের এই মনোহর দৃশ্য দেখে আমি হোটেলে ফিরে আসি। এরপর ঝটপট রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ি।
পরদিন একটু দেরিতেই আমি ঘুম থেকে উঠি। নায়াগ্রার বিশুদ্ধ জল দিয়ে গোসল সারি। এরপর সকালের নাশতা খেতে হোটেল থেকে বের হই। হোটেলের কাছেই হাতের নাগালের মধ্যে দু-তিনটি রেস্টুরেন্ট। তার একটিতে ঢুকে নাশতার পাট চোকাই। রেস্টুরেন্ট থেকে বেরোব এমন সময় চারদিক অন্ধকার হয়ে মুষলধারে বৃষ্টি নামে। আমি বেশ শঙ্কিত হই। ভাবি, এভাবে বৃষ্টি হলে আজ আমার পুরো দিনটাই নষ্ট হবে। কিন্তু কিছুক্ষণ পর বৃষ্টি থামে। আবার এদিকে মেঘ কেটে ফকফকা রোদ ওঠে। আমি হাঁপ ছেড়ে বাঁচি। এমনই এক মিষ্টি-মধুর রোদের মাঝে আমি আইম্যাক্স থিয়েটারে যাই। সেখানে কাউন্টার থেকে টিকিট কেটে থিয়েটারে ঢুকি। ৬২০ আসনবিশিষ্ট শীতাতপনিয়ন্ত্রিত বিরাট এক থিয়েটার। ৬০ ফুট উঁচু বিশাল পর্দা। আর থিয়েটারের ভেতরে চারপাশে বসানো ১২ হাজার ওয়াটসের ডিজিটাল সাউন্ড সিস্টেম। আমি এখানে নায়াগ্রা জলপ্রপাতের ওপর জনপ্রিয় ছবি নায়াগ্রা: মিরাকলস, মিথস অ্যান্ড ম্যাজিক ছবিটি দেখি। ছবিতে অতীত দিনের লোককাহিনি দিয়ে নায়াগ্রা জলপ্রপাতের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে। পুরো ছবিতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। ছবিতে মাঝেমধ্যে নায়াগ্রা জলপ্রপাতের বজ্রতুল্য সাউন্ড শুনতে পাই। ছবিটি দেখে আমার বেশ ভালো লাগে।
আইম্যাক্স থিয়েটারের পাশেই হলো স্কাইলন টাওয়ার। আমি ১০ মিনিটে হেঁটে সেখানে যাই। আমেরিকা-কানাডাসহ উন্নত বিশ্বে মাগনা বলতে কিছু নেই। কিছু দেখতে হলে পয়সা ব্যয় করতে হবে। তাই অগত্যা এখানেও কাউন্টারে গিয়ে টিকিট কাটি। এরপর লাইনে গিয়ে দাঁড়াই। বিরাট লম্বা লাইন। ঘণ্টাখানেক লাইনে অপেক্ষা করি। এরপর এলিভেটরে স্কাইলন টাওয়ারের অবজারভেশন ডেকে যাই। স্কাইলন টাওয়ার হলো নায়াগ্রা জলপ্রপাত এলাকায় সবচেয়ে উঁচু ভবন। ১৯৬৫ সালে এই টাওয়ার প্রথম চালু হয়। সমতলভূমি থেকে এর উচ্চতা ৫২০ ফুট। আর জলপ্রপাতের তলদেশ থেকে এর উচ্চতা ৭৭৫ ফুট। আমি অবজারভেশন ডেক থেকে আমেরিকান ও কানাডিয়ান উভয় জলপ্রপাতের মনোহর দৃশ্য অবলোকন করি। আবার অবজারভেশন ডেকের চারদিক ঘুরে ওপর থেকে নায়াগ্রা জলপ্রপাতের শ্বাসরুদ্ধকর নৈসর্গিক দৃশ্য দেখি। নায়াগ্রা জলপ্রপাতের নান্দনিক দৃশ্য দেখার অভিজ্ঞতাই আলাদা। এটা কখনো ভোলার নয়। আজীবন তা আমার স্মৃতিপটে গেঁথে রইল।
সময় তখন দুপুর গড়িয়ে যায়। লাঞ্চের সময় হয়। স্কাইলন টাওয়ারে খাওয়ার ভালো বন্দোবস্ত আছে। দাম একটু চড়া হলেও সুযোগটা আমি হাতছাড়া করিনি। লাঞ্চ খেতে আমি বিশ্ববিখ্যাত ঘূর্ণমান রেস্টুরেন্টে ঢুকি। এই আধুনিক রেস্টুরেন্ট প্রতি ঘণ্টায় একবার স্কাইলন টাওয়ারের চারপাশ ঘুরে আসে। রেস্টুরেন্টের চারদিক মোটা পুরু কাচ দিয়ে ঘেরা। আমি জানালার পাশে গিয়ে বসি। সেখানে বসে খেতে খেতে বাইরে নিচে জলপ্রপাতের চমৎকার দৃশ্য দেখি। এখানে খাওয়া ও দেখা দুটোই একসঙ্গে হয়। এক ঢিলে দুই পাখি মারি। স্কাইলন টাওয়ারে ঘণ্টা চারেক কাটিয়ে আমি এলিভেটরে নিচে নেমে আসি। সূর্য তখন পশ্চিমে হেলে পড়েছে। রোদের তাপও কমেছে। এই অপূর্ব সময়ে আমি হোটেলে ফিরে আসি।
আমি হোটেলে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিই। জীবনে আর কখনো নায়াগ্রা আসতে পারব কি না তার কোনো ঠিক-ঠিকানা নেই। তাই অবসরের এই বিকেলটা আমি কাজে লাগাই। আবার নায়াগ্রা জলপ্রপাত দেখতে যাই। চারদিকে ঝকমকে রোদ আর পরিষ্কার নীল আকাশ। বিকেলবেলার এমনি মনোরম আবহাওয়ায় আমি নায়াগ্রা নদীর তীরে গিয়ে বসি। নায়াগ্রা জলপ্রপাতের চোখজুড়ানো আর মনভোলানো অপরূপ দৃশ্য চেয়ে চেয়ে দেখি।
প্রকৃতির অপরূপ সৃষ্টি নায়াগ্রা জলপ্রপাত। নায়াগ্রার সৌন্দর্য অবর্ণনীয়। যতই একে দেখেছি, ততই ভালো লেগেছে। বারবার দেখেও যেন মন ভরে না। আরও দেখতে ইচ্ছে করে। নায়াগ্রা জলপ্রপাতের নান্দনিক দৃশ্য দেখতে দেখতে আমার চোখে আনন্দাশ্রু এসে যায়। আমি অশ্রুসজল নয়নে সৃষ্টিকর্তার এই অপূর্ব সৃষ্টির মনোলোভা দৃশ্য প্রাণভরে উপভোগ করি। তখন সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসে। গোধূলির রক্তিম আভায় সারা জলপ্রপাত ছেয়ে যায়। জলপ্রপাতের সাদা ধবধবে পানিতে সূর্যের লাল আভা মিশে এক অপূর্ব দৃশ্যের সৃষ্টি করে। সেই অপরূপ দৃশ্য দেখে চোখ জুড়াই। এবার আমার ওঠার পালা। আমি ধীর পায়ে হেঁটে কিছু দূর আসি। আবার পেছন ফিরে নায়াগ্রা জলপ্রপাতের দিকে শেষবারের মতো তাকাই। এরপর নায়াগ্রা জলপ্রপাতকে বিদায় জানিয়ে হোটেলের দিকে রওনা হই। পর্যটননগর নায়াগ্রায় হোটেল-মোটেল আর রেস্টুরেন্টের ছড়াছড়ি। পথিমধ্যে এক রেস্টুরেন্টে ঢুকে ডিনার সারি। এরপর হোটেলে ফিরে ঘুমিয়ে পড়ি।

এম আবুল কাসেম: আমেরিকার কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত। 

 
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ