চির ত্যাগী এবং সদা সুখী আমার মা

May 18, 2017, 11:06 AM, Hits: 3528

 চির ত্যাগী এবং সদা সুখী আমার মা

শুধু মা দিবসেই নয়, প্রতি মুহূর্তে প্রতিটি সন্তানের মায়ের প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা অফুরন্ত। এ ভালোবাসা কোনো দিবস দিয়ে, কোনো মাপকাঠি দিয়ে পরিমাপ করা সম্ভব নয়। মা কে নিয়ে কিছু লিখতে হাত কাঁপে। বুক কাঁপে। আমার জন্মলগ্নে মা আমার এক দুরারোগ্য চক্ষু ব্যাধিতে আক্রান্ত হলেন। বহু চিকিৎসা হলো। অসুখ তাঁর সারেনি। মা দুরারোগ্য চোখের অসুখ নিয়ে আমাকে লালন করলেন। নিজের ব্যথা আর কষ্ট সহ্য করে প্রতি নিয়ত আমাকে দেখভাল করে স্বাভাবিক জীবন ধারার যে নিশ্চয়তা দিয়েছেন তা উপলব্ধি করা আমার পক্ষে অসাধ্য।

প্রবাস জীবনে আমি মাকে প্রতিনিয়ত মিস করি। তার স্বভাবসুলভ ডাক। মাথায় হাতের স্পর্শ, কিংবা ছোট বেলায় তার শাড়ির আঁচলে মুখ লুকানো-আজও আমার সুখকর স্মৃতি। শৈশবকাল থেকে দেখে আসছি বাবা চাকরিতে ব্যস্ত। মা তাঁর শত অসুবিধা নিয়ে আমি সহ আমার ছোট তিন বোনের প্রতিটা চাহিদা পূরণে সদা সচেষ্ট। মা বরাবরই বলতেন, জীবনে উন্নতির চাবিকাঠি হলো কঠিন পরিশ্রম ও অধ্যবসায়। যার কোনো বিকল্প নেই।

কথাগুলো মা আমাদের শিশু বেলাই জানিয়ে দিয়েছেন। অনবরত বলেছেন। আমার জীবনে মায়ের এ কথা আমি মেনে চলি প্রতি পদে।

আমার মায়ের শত গুণাবলির মধ্যে অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো অতিথি পরায়ণতা। সমাজের সর্ব স্তরের মানুষের জন্য তাঁর দরজা এখনো খোলা রাখেন। সুবিধাবঞ্চিতদের পাশে দাঁড়ানোর এক নিরন্তর অভ্যাস আমার মায়ের, যা ছোট বেলা থেকে দেখে বড় হয়েছি।

আমার জীবনে, মায়ের অবদানের কথা বলে শেষ করা যাবে না। তাঁর দূরদর্শিতা ও সন্তানদের ভালোমন্দ বিচার করার অলৌকিক শক্তি দেখেছি সব সময়। যা শুধু সন্তানের মঙ্গল এর জন্য নিহিত। এ এক অপরূপ ও নিঃস্বার্থ ভালোবাসা। অন্য সবার মায়ের মতো আমার ক্ষেত্রও ব্যতিক্রম নয়। আমার মা প্রতিটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত দিয়েছেন তাঁর জীবনে। এর মধ্যে আমার জীবন সঙ্গী নির্বাচন পর্যন্ত।

এখানেও আমার মা সফল! কথায় বলে, প্রত্যেক স্বামীর উন্নতির পেছনে স্ত্রীর অবদান থাকে সব থেকে বেশি। দেখেছি, আমার বাবার পেশাগত উন্নতির উচ্চ শিখরে উঠেছেন তাঁর পেশায়। এর পেছনে প্রধান কারণ আমার মায়ের অবদান আর তাঁর আত্মত্যাগ। মা নিজেকে বলিদান করেছেন নিজের স্বামীর সাফল্যের জন্য।

মহান সৃষ্টিকর্তার পরে মা সম্ভবত শেষ আশ্রয় স্থল। মায়ের সঙ্গ, অনুপ্রেরণা, শিক্ষা ও আদেশ সন্তানের প্রতি শুধু মাত্র আশীর্বাদ বয়ে আনে। দৈনন্দিন জীবন শত ব্যস্ততার মধ্যেও মায়ের সান্নিধ্য কিংবা টেলিফোনে ‘হ্যালো সাইফ’ কণ্ঠস্বর দিনের সকল ক্লান্তি দূর করে দেয় আজও। কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলার অদম্য শক্তি জোগায়।

দিবস দেখে কোনো দিন বলা হয়নি। আজ চারদিকে মা দিবসের ছড়াছড়ি। মা দিবস নিয়ে উন্মত্ত সন্তানেরা। প্রতিদিন, প্রতি মুহূর্তে যে কথাটি অনুভব করি, আজকের মা দিবসে তাই বলতে চাই।

“মা, তুমি হৃদয় জুড়ে বিরাজ করো সর্বক্ষণ। শিশুকালে যেমন ছিলে, আজও আছ এবং আজীবন থাকবে মা। মা, সদাই তোমার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করি।” 

 
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ