“আবার জমবে মেলা...”

June 10, 2017, 4:44 PM, Hits: 1713

“আবার জমবে মেলা...”

নন্দিনী রহমান,রয়্যালরোডসইউনিভার্সিটি, ভিক্টোরিয়া, ব্রিটিশ কলম্বিয়া : শিরোনামের গানটি যারা প্রবাসে এসে শুনেছেন তাদের বেশিরভাগই নতুন এক ধরণের আবেগের মুখোমুখি হয়েছেন বলে আমার ধারণা। আজথেকেদুবছরআগেঢাকাথেকেসিঙ্গাপুরহয়েদীর্ঘযাত্রাশেষেযখনভিক্টোরিয়াএয়ারপোর্টেপৌঁছেছিলামতখনবুঝেছিলামদেশেরসাথেসংযোগটাশিথিলহয়েগেলঃহয়তোদীর্ঘসময়েরজন্য।ছোট্ট, ছিমছিমএবংপ্রায়জনশূন্যএয়ারপোর্টথেকেবেরহবারপরট্যাক্সিতেকরেশহরেআসারপথেদুপাশেরবিরানপ্রান্তর,বনানীঘেরালেক, 

অচেনাগাছেরসারিদেখেমনেহচ্ছিলজনমানবহীনএইতল্লাটেনিজেকেমানিয়েনেওয়াসহজহবেনা। অনুমানটা মেলেনি । বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস শুরু করার পর দু’ একজন বাংলাদেশি সহপাঠি পেলাম।তারা অন্য বিভাগের ছাত্র-ছাত্রীহলে ও যোগাযোগ তৈরি হলো।তখন ও জানতামনা ভিক্টোরিয়ায় শতাধিক বাংলাদে শিবাস করেন এবং তারা বাস করেন একটা বৃহৎ পরিবারের মত।সে পরিবারের সদস্য হতে আমাকে দীর্ঘ অপেক্ষার প্রহর গুনতেহ য়নি।২০১৫-রস্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে সবার সাথে পরিচিত হলাম। দেখলাম বাংলাদেশে ফেলে আসা স্বজনদের মত পরস্পরের আনন্দ-বেদনা-সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করে তারা বসবাস করেন কানাডার এই প্রশান্ত মহাসাগর তীরবর্তী দ্বীপেঃ যার অন্য নাম ভ্যাঙ্কুভার আইল্যান্ড। এই দ্বীপে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের সংগঠন “কানাডা বাংলাদেশ কালচারাল এসোসিয়েশন ইন ভিক্টোরিয়া” প্রায় সব সামাজিক, ধর্মীয় ও জাতীয় দিবসে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে। এবারের পহেলা বৈশাখও তার ব্যতিক্রম ছিল না। 

জাতি হিসেবে আমাদের শৌর্য – বীর্য- সমৃদ্ধির ইতিহাস যতটা দীর্ঘসংস্কৃতিরঐতিহ্যতারচেয়েওঅনেকলম্বা।আলেকজান্ডারভারতআক্রমনেরসময়এইভুখন্ডেগঙ্গারিডইনামেআমাদেরযেপূর্বপুরুষরাবাসকরতআড়াইহাজারবছরপারকরেওআমরাতাদেরসংস্কৃতিথেকেখুববেশিদূরেসরেযাইনি।এরকারণহয়তোহিমালয়েরপলিমাটিদিয়েগড়াকোমলওসতেজপ্রকৃতিরওপরআমাদেরস্বতঃপ্রবৃত্তনির্ভরতা।ইউরোপআমেরিকায়মানুষবসবাসেরজন্যযেকৃত্রিমআবাসগড়েনিয়েছেতাপ্রকৃতিরসাথেমানুষেরএকটাস্থায়ীবৈরিতাপূর্ণদুরত্বতৈরিকরেদিয়েছে।আমাদেরকাছে প্রকৃতিই এখনও প্রান।নদীরকুলকুলধ্বনি, বর্ষায়ভেসেযাওয়াজনপদ, বানডাকাজ্যোৎস্না, দখিনাবাতাস, নবান্ন, মধুমাস,   সোনালিফসলেরমাঠ, বৈশাখেরঅগ্নিস্নানএখনওআমাদেরজীবনেরসাথেমিশেআছে।

নববর্ষ ১৪২৪…  

সংখ্যারহিসেবেযুক্তরাষ্ট্রেরপরদ্বিতীয়অভিবাসীরদেশকানাডা।বিশ্বের১৯০টিদেশের বিভিন্ন গোত্র-বর্ণ-ধর্মেরমানুষঅভিবাসীহিসেবেকানাডায়বাসকরে। আমি যতটুকু দেখেছি এখানে বসবাসকারী কোন দেশের মানুষ আমাদের মত স্মৃতিকাতর নয়। বরং মূল জনগোষ্ঠীর সাথে মিশে গিয়ে এক অদ্ভুত মিশ্র জাতীয়তার সৃষ্টি করেছে তারা। সেটা ভাল না খারাপ তা বোঝার জ্ঞান আমার নাই। আর সেটা বুঝতেও চাই না। কিন্তু আমরা বাংলাদেশিরা এই দূর পরবাসে যে আমাদের সাতন্ত্র্য ধরে রেখেছি সেটা বুঝতে পারি এবং সেটা নিয়ে আমি গর্বিত। কানাডা আমার দ্বিতীয় প্রবাস জীবন। এর আগে সিঙ্গাপুরে কয়েক বছরের অনিয়মিত একটা প্রবাস জীবন কাটিয়ে এসেছি। এই নগর রাষ্ট্রে যারা বসবাস করেছেন বা বেড়াতে গেছেন তারা জানেন সেখানেও একটা মিনি বাংলাদেশ গড়ে উঠেছে। আমি ভিক্টোরিয়া এবং ভ্যাঙ্কুভার ছাড়া অন্য শহরে যাইনি। শুনেছি টরোন্ট, মন্ট্রিয়েল, অটোয়ায় অনেক বড় বাংলাদেশি কমুনিটি আছে। বিভিন্ন জাতীয় দিবস ও উৎসব- পার্বণেপত্রিকায় প্রকাশিত তাদের অনুষ্ঠানাদির খবরপড়ে , ছবি দেখে বুঝতে পারি কতটা নিবিড় দেশাত্মবোধ নিয়ে তারা প্রবাস জীবন কাটাচ্ছেন।  

“কানাডা বাংলাদেশ কালচারাল এসোসিয়েশন ইন ভিক্টোরিয়া” সংগঠন হিসেবে নবীন হলেও বাংলাদেশের বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবস, শহীদ দিবস, নববর্ষ, ঈদ – এধরনের দিবসগুলো ঘটা করে পালন করে থাকে। তাদের সর্বশেষ আয়োজিত অনুষ্ঠান ছিল নববর্ষ ও পিঠা উৎসব। গত ৭ মে ভিক্টোরিয়া স্কয়াইমল্ট রিক্রিয়েশন সেন্টারে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছিলেন ভ্যাঙ্কুভার আইল্যান্ডে বসবাসকারী প্রায় ৭৫ জন বাংলাদেশি। আয়োজনে ছিল পোলাও, খিচুরি, বিরিয়ানি, মিষ্টান্ন ও বিভিন্ন রকমের পিঠা। আমাদের যে শিশুরা এই জনবিরল পাথুরে দ্বীপে বেড়ে উঠেছে, বাংলাদেশের সোঁদা মাটির গন্ধ তারা পায়নি। তারা জানে না বাংলাদেশে রাতের আকাশটা আরও গভীর কালো অন্ধকারে ছেয়ে থাকে, সন্ধ্যা হয় ঝিঁঝিঁ পোকার ডাকে, মধ্য দুপুরে ঘর্মাক্ত মাঝিরা ডিঙা বায়, সবুজ মাঠেফেরারি বাতাস নেচে যায়। এই শিশু কিশোরদের জন্য এধরনের উৎসব কিছু নতুন বার্তা বয়ে আনে। তারা আমাদের ঐতিহ্যগত খাবারের কথা জানতে পারে। সঙ্গীত, নৃত্য, কবিতা, কৌতুকের সাথে পরিচিত হয়। এবারের অনুষ্ঠানে রুমা, সৈয়দ মুহাম্মাদ নাজিম উদ্দীন, এবং ফরিদ আহমেদ মনোজ্ঞ সঙ্গীত পরিবেশন করে দর্শক-শ্রোতাদের মাতিয়ে রেখেছিলেন। বরাবরের মত শিশুদের পরিবেশনাও ছিল মনোমুগ্ধকর। “কানাডা বাংলাদেশ কালচারাল এসোসিয়েশন ইন ভিক্টোরিয়া” ইদুল ফিতরের দিন একইভাবে মিলিত হবার পরিকল্পনা করছে। আবার দেখা হবে প্রানের মেলায় – “বটতলা, হাটখোলা”। সেই শুভক্ষণের অপেক্ষায় আছি।  

 

 
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ