প্রবাসে ঈদে আনন্দের মাঝে লজ্জার দৃশ্য

July 8, 2017, 9:02 PM, Hits: 339

প্রবাসে ঈদে আনন্দের মাঝে লজ্জার দৃশ্য

সাইদুল ইসলাম, মুহাররক (বাহরাইন) থেকে : প্রতিবার ঈদের খুশির দিনে মনের গভীরে জমে থাকে একটা চাপা কষ্ট। তা আজ সবার সঙ্গে ভাগাভাগি করতে চাই।

দীর্ঘ প্রায় দুই যুগ হয়ে গেল প্রবাসে ঈদ কাটাচ্ছি। ঈদের নামাজটা চেষ্টা করি এখানকার জাতীয় মসজিদে গিয়ে আদায় করতে। যদিও এটা আমার জন্য বাতুলতা প্রায়। তারপরও বলতে গেলে এটুকুতেইতো আমাদের মতো প্রবাসীদের ঈদ আনন্দ সীমাবদ্ধ থাকে।

যা হোক, ফুরফুরে একটা ভাব নিয়ে মসজিদে ঢুকতে সদর দরজা পর্যন্ত গেলেই সেই ভাবটা মুহূর্তেই উবে যায় বিশেষ একটা কারণে। আর বের হওয়ার সময়ও সেই একই কারণে লজ্জায় মাথা নিচু করে বেরিয়ে আসি।

গত কয়েক বছর হলো আমার দুই ছেলেও আমার সঙ্গে ঈদের নামাজে যায়। যথারীতি এবারও গেল। বড় ছেলেটা একটু সহজ সরল বলে ওর অনেক কিছুতেই কোনো আকার বিকার নেই। কিন্তু ছোটটা ঠিক উল্টো। মসজিদে ঢোকার সময়টা খুব ভোরবেলা আর তাড়াহুড়ার কারণে হয়তো ওর চোখে পড়েনি। কিন্তু নামাজ শেষে বের হওয়ার সময় আর তা এড়ায়নি। মসজিদের সদর দরজার সামনে কিছু দূর পরপর কয়েকজন করে লোক মাথার রুমাল আর কেউবা জায়নামাজ বিছিয়ে তার ওপর কিছু লোকাল কারেন্সি ছড়িয়ে রেখে বাংলা আর হিন্দি–উর্দু মিশেলে বলছেন, ‘সাহায্য করেন ভাই, আল্লাহর ওয়াস্তে...’।

আমার ছোট ছেলেটার কানে বাংলা কথাগুলো ভেসে আসতেই আঙুল তুলে তাদের দেখিয়ে আমাকে বলল, বাবা ওই আঙ্কেলরা কীসের সাহায্য চাচ্ছে, কেন জায়নামাজ বিছিয়ে টাকা রেখে দিয়েছে, মানুষেরা কেন ওখানে টাকা দিচ্ছে?

ছেলেকে তৎক্ষণাৎ কি উত্তর দেব ঠিক বুঝে উঠতে পারিনি। আমি ওকে এটা-সেটা বোঝানোর ফাঁকে কয়েকটা ছবি তুলে ওখান থেকে পালিয়ে বাঁচলাম। কিন্তু ওর প্রশ্নতো অবিরাম...আর থামছেই না।

এমনিতেই প্রবাসে বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে আমরা বাংলাদেশিদের প্রচণ্ড ইমেজ সংকট যাচ্ছে। যদিও আমরা বাংলাদেশিরা অন্যান্য জাতির চাইতে বেশি পরিশ্রম করি তুলনামূলক কম পারিশ্রমিকে। আমদের দিয়ে কাজ করিয়ে খুব সহজেই অন্যেরা তার ক্রেডিট নেয় শুধুমাত্র আমাদের সচেতনতার অভাবে। আবার অনেক বাঙালিরা নিজের মেধা, পরিশ্রম আর নিষ্ঠা দিয়ে খুব অল্প সময়েই এখানে ও দেশে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে নিয়েছেন। কিন্তু তাদের অনেকেই পারতপক্ষে লোকাল বাঙালি কমিউনিটিতে মিশতে চান না। আবার কেউ কেউ ঠিক উল্টো। তবে ওনারা হাতে গোনা।

জানি না পৃথিবীর অন্যান্য কোনো দেশে এমন জনসমক্ষে বাংলাদেশি কোনো ভাইয়েরা ভিক্ষা করে কিংবা চাঁদা তুলে ভিনদেশিদের সামনে স্বজাতির মান সম্মান বিকিয়ে দেন কিনা। তবে এখানে আমাদের এমন অপকর্মগুলোর জন্য পুরো জাতি যে চরম মূল্য দিচ্ছে তা নির্দ্বিধায় বলা যায়। প্রয়োজন মনে করলে আশা করি সংশ্লিষ্টরা এই ব্যাপারটাতে দৃষ্টি দেবেন। 

 
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ