বাবার আসনে ইভাঙ্কা ট্রাম্পের বসা নিয়ে ট্রাম্প-চেলসির কথার লড়াই

July 11, 2017, 3:02 AM, Hits: 429

বাবার আসনে ইভাঙ্কা ট্রাম্পের বসা নিয়ে ট্রাম্প-চেলসির কথার লড়াই

হ-বাংলা নিউজ:  বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার মেয়ের পক্ষে বলতে গিয়ে সোমবার টুইটারে এই তর্কের অবতারণা করেন। টুইটে ট্রাম্প জি-২০ সম্মেলনে তার চেয়ারে মেয়েকে বসানোর বিষয়টিকে ‘খুবই উপযুক্ত সিদ্ধান্ত’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, একই কাজ যদি হিলারি ক্লিনটনের হয়ে তার মেয়ে চেলসি করত, তাহলে সংবাদমাধ্যমগুলো বিষয়টি অন্যভাবে নিত।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্যের জবাবে পাল্টা টুইটে সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের মেয়ে চেলসি বলেছেন, তারা বাবা-মা কখনোই তাকে অমন কাজ করতে বলতেন না।হামবুর্গে শিল্পোন্নত ২০টি দেশের সম্মেলনের শেষদিন শনিবার এক বৈঠকে কিছু সময়ের জন্য ট্রাম্পের চেয়ারে বসে সমালোচনার মুখে পড়েন তার মেয়ে ও অবৈতনিক উপদেষ্টা ইভাঙ্কা। ওই ঘটনাকে ট্রাম্প প্রশাসনের ‘দুর্নীতির নমুনা’ হিসেবে তুলে ধরছে ডেমোক্রেটরা। তারা ট্রাম্পের বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতির পুরনো অভিযোগও সামনে এনেছে। দুই দিন পর ওই ঘটনা নিয়ে মুখ খোলেন ট্রাম্প; বলেন, মেয়েকে তিনিই তার আসনে বসতে বলেছেন।

“যথন আমি জাপান এবং অন্যান্য দেশের সঙ্গে স্বল্প সময়ের বৈঠকের জন্য সম্মেলন কক্ষ ছেড়ে যাই, তখন ইভাঙ্কাকে আমার আসনে বসতে বলি। এটি ছিল খুবই উপযুক্ত সিদ্ধান্ত। আঙ্গেলা মের্কেলও এর সঙ্গে একমত,” টুইটারে বলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট।

সমালোচকদের একহাত নিতে পরে আরেকটি টুইট করেন ট্রাম্প, সেখানেই টানেন চেলসিকে।

“চেলসি ক্লিনটনকে যদি তার মা তার আসনে বসতে বলত, যে কিনা আমাদের দেশটাকে অন্যদের দিয়ে দিয়েছে, তাহলে ভুয়া খবরওয়ালারা বলা শুরু করত, চেলসিকেই তারা প্রেসিডেন্ট দেখতে চায়।” ট্রাম্পের মন্তব্যের জবাবে ৩৭ বছর বয়সী চেলসি তার টুইট শুরু করেন, ‘সুপ্রভাত মিস্টার প্রেসিডেন্ট’ বলে। তিনি বলেন, “আমার বাবা কিংবা মা কখনোই আমাকে এই ধরনের (যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের আসনে বসার) কথা বলতেন না। আপনি নিশ্চয়ই আমাদের দেশকে অন্যদের হাতে তুলে দিচ্ছেন না? আমি  আশা করি, আপনি তা করছেন না।”

পরে হোয়াইট হাউজের একজন মুখপাত্র বলেন, ক্লিনটন পরিবারকে আক্রমণ করা প্রেসিডেন্টের উদ্দেশ্য ছিল না। হোয়াইট হাউজের একজন জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টাকে নিয়ে যেরকম সমালোচনা হচ্ছে, তার জবাব দিতেই প্রেসিডেন্ট ওই তুলনা করেছেন।  

“আমার মনে হয়, (ইভাঙ্কার) নামের শেষে অংশটি ট্রাম্প না হলে ক্রমাগত আক্রমণের বদলে প্রশংসাই জুটতো তার। মিস ট্রাম্পকে নিয়ে আমাদের গর্ব করা উচিত,” বলেন মুখপাত্র সারাহ হাকেবি স্যান্ডার্স।

বিবিসি লিখেছে, ২০১৬ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মা হিলারি ক্লিনটনের পরাজয়ের পর থেকেই টুইটারে ট্রাম্প এবং তার প্রশাসনের নীতির সমালোচনায় মুখর চেলসি। ক্লিনটন ও ট্রাম্প পরিবারের মধ্যে এখন রাজনৈতিক বৈরিতা থাকলেও ইভাঙ্কাকে নিজের ‘ভালো বন্ধু’ হিসেবেই দাবি করে আসছেন তিনি।  

 
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ