কার হাতে উঠছে ঢাকা ১৫ আসনের নৌকা প্রতীক?

July 12, 2017, 6:05 PM, Hits: 5550

কার হাতে উঠছে ঢাকা ১৫ আসনের নৌকা প্রতীক?

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেমন হবে তা নিয়ে মানুষের আগ্রহের শেষ নেই। নির্বাচনের বাকী এখনও অনেক সময় থাকলেও, কে কোন আসনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন পাবে তা নিয়ে সারা দেশ ব্যাপি চলছে গবেষনা। যদিও আওয়ামীলীগ ছাড়া অন্য দলগুলোতে এই নিয়ে এখনও তেমন উত্তাপ ছড়ায় নেই।

এই উত্তাপ মূলতঃ প্রধানমন্ত্রীর এক ঘোষনার পরপরই ছড়িয়ে পড়ে। প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘এবার কাউকে পাস করানোর দায়িত্ব আমি নিতে পারবো না। এবার যার যার জয় সে-ই ছিনিয়ে আনতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, আগামী নির্বাচন নিয়ে নেত্রীর নিজস্ব চিন্তাভাবনা ও হিসাবনিকাশ শুরু হয়ে গেছে। কাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে, কে মনোনয়ন পাওয়ার যোগ্য, এসব বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। নিয়মিত এগুলো নিয়ে স্ট্যাডি করছেন প্রধানমন্ত্রী এমন তথ্যও জানিয়েছে তার ঘনিষ্ঠ সূত্র। অন্য দুটি সূত্র জানায়, সভাপতি শেখ হাসিনা এবার দুইশ আসনে এমন প্রার্থী দিতে চান, যারা মনোনয়ন পাওয়া মানেই তাদের বিজয় নিশ্চিত। এ ধরনের প্রার্থী খুঁজে বের করতে কাজ করছেন তিনি। এছাড়াও গোয়েন্দা প্রতিবেদনের উপরও বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। 

গোয়েন্দা প্রতিবেদন সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী মনোনয়ন ঝুুঁকিতে আওয়ামী লীগের যে ৮০ সংসদ সদস্য রয়েছে তার মাঝে উল্লেখ যোগ্য, ঢাকা ১৫ আসনের সংসদ সদস্য কামাল আহমেদ মজুমদার। 

নেতা-কর্মী ও স্থানীয় জনগনের সাথে তেমন কোন যোগাযোগই নেই বর্তমান সংসদ কামাল আহমেদ মজুমদারের। তিনি মূলতঃ মোহনা টিভি এবং মনিপুর স্কুল নিয়েই ব্যস্ত সময় কাটান। তিনি বসেন মোহনা টিভিতে।

তার বিরুদ্ধে রয়েছে, মনিপুর স্কুল নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ। এছাড়াও, স্থানীয় নেতা-কর্মী ও জনগন থেকে একেবারেই বিছিন্ন তিনি। এই অবস্থায় গোয়েন্দা প্রতিবেদনে সম্ভব্য প্রার্থীদের তালিকায় তাই তার নামই উঠে আসেনি।

গোয়েন্দা প্রতিবেদন, স্থানীয় নেতা-কর্মী এবং আওয়ামীলীগ সূত্রে জানা যায়, ঢাকা ১৫ আসনের নৌকা প্রতীক নিয়ে এবার মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে স্বোচ্ছাসেবকলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক গাজী মেজবাউল হোসেন সাচ্চু এবং ঢাকা মহানগন উত্তর যুবলীগের সভাপতি মঈনুল হোসেন খান নিখিলের সাথে।

সকল গোয়েন্দা প্রতিবেদনে সবার থেকে এগিয়ে স্বোচ্ছাসেবকলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক গাজী মেজবাউল হোসেন সাচ্চু। দীর্ঘদিন থেকে স্থানীয় মানুষের সুখে দুঃখে পাশে থাকার কারণে সবার ভালবাসা তিনি বরাবরই পেয়ে এসেছেন। মিরপুরের স্থানীয় জনগণ ভালবেসে তাকে বলে, মিরপুরের মাটি ও মানুষের নেতা। মিরপুর এলাকায় আওয়ামীলীগের যে কোন সভা সমাবেশে সবচেয়ে বেশী জন সমাগম হয় গাজী মেজবাউল হোসেন সাচ্চু'র যে কোন মিছিল মিটিং-এ। ব্যক্তি গাজী মেজবাউল হোসেন সাচ্চু সৎ রাজনীতিবিদ হিসেবে সকল মহলে পরিচিত। অন্য নেতাদের মতো তার বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক কোন দূর্নিতির অভিযোগ কেউ কখনও করতে পারেনি। এই হিসেবে, ঢাকা ১৫ আসনে বিএনপির যত ভোট ব্যাংকই থাকুক না কেন, গাজী মেজবাউল হোসেন সাচ্চু নৌকা প্রতীকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে কেউ তাকে পরাজিত করা প্রায় অসম্ভব। কেননা, শুধুমাত্র ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা দিয়েই তিনি নির্বাচিত হতে পারবেন বলে মনে করে ঢাকা ১৫ আসনের বেশীর ভাগ মানুষই।

অন্যদিকে ঢাকা ১৫ আসনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী মঈনুল হোসেন খান নিখিল। মহানগর যুবলীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। ব্যক্তি জনপ্রিয়তা গাজী মেজবাউল হোসেন সাচ্চু'র মতো না হলেও যুবলীগে তার রয়েছে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা। মহানগর উত্তর যুবলীগ মূলতঃ দুই ভাগে বিভক্ত। সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক আলাদা আলাদা ভাবে এই দুইভাগ নিয়ন্ত্রণ করেন। সেই হিসেবে যুবলীগের একটি অংশের নিয়ন্ত্রণ করছেন  মঈনুল হোসেন খান নিখিল। তার নেতা-কর্মীদের ধারণা, প্রধানমন্ত্রী বিশেষভাবে স্নেহ করেন মঈনুল হোসেন খান নিখিলকে। তাই তার মনোনয়ন পাওয়া এক প্রকার নিশ্চিত। যদিও প্রধানমন্ত্রী মনে করেন, আগামী নির্বাচন হবে অংশগ্রহণমূলক। এখানে দলীয় প্রতীকের পাশাপাশি প্রার্থীর ব্যক্তিগত ইমেজ-কারিশমাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। 

তাই সব কিছু বিবেচনায় আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা ১৫ আসনে আওয়ামীলীগের  মনোনয়ন পাওয়ার পাল্লা গাজী মেজবাউল হোসেন সাচ্চু দিকেই ভারী। 

 
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ