বিশ টাকার ঋণ

September 13, 2017, 6:43 PM, Hits: 2154

বিশ টাকার ঋণ

জাহাঙ্গীর বাবু : কমলার মা, ভিখারিনী। আমার মায়ের বিয়ের পর তার গুপ্তচর। কমলার মা আমার নানা বাড়ি গেলে,  মা, বেশি করে চাল আর টাকা দিতেন।

মা যখন আমাদের বাড়ীতে থাকতেন তখন কমলার মা কে দিয়ে সংবাদ পাঠাতেন নানুমামার কাছে, যেন নাইয়ুর নিয়ে যায়।

তার পর কতো বছর, আজো আমাদের বাড়ি আসে।আমার খবর নেয়।আমাকে বড় বাবা বলে।১৯৯৭ সালে আমি প্রথম প্রবাসে যাই,বাড়ির সামনের রাস্তায় তখন মা কাঁদছে, আত্মীয় স্বজনের চোখে মমতার অশ্রু।কমলার মা এলেন, তিনি কাঁদলেন।ঘোমটা টেনে হাত বাড়িয়ে আমার হাতে গুঁজে দিলেন বিশ টাকা।

বাসে বসে ঢাকায় আসার পথে আপন জনের ছবি গুলি চোখে ভেসে উঠেছিল।তার মাঝে ছিল বিশ টাকার নোটও।

বছর গড়িয়ে এক সময় বিয়ে করলাম।বিয়ের বছর প্রায় ছ মাস দেশে ছিলাম। মাঝে মাঝে  দেখতাম ভোরে কেউ উঠোন ঝাড়ু দিচ্ছে।সে আর কেউ নয় কমলার মা।

দুই  মেয়ে এক ছেলের মাঝে এক মেয়ে বেঁচে আছে।তবে  নি:স্ব।এক নাতি রিক্সা চালায়।কমলার মা আজো এসেছে।আমার ঘর তার আপন ঘর বলে তবে খুব বিপদ না হলে আসে না।

আমি বিশ টাকার নোটের ঋন কোন  দিন শোধ করতে পারবো না।তবে দেখা হলেই আমার মা,বাবা আমি, আমার স্ত্রী চেষ্টা করি সাহায্যের হাত বাড়াতে।কিন্তু সেই ভালোবাসার ঋন শোধ হবার নয়।

ফেস বুকের কল্যানে অনেকেই সাহায্যের জন্য নক করেন।আমি সাড়া দিতে পারিনা।কারণ আমার চারপাশে অনেকেই আমার অপেক্ষায় থাকে।

১৩-৯-২০১৭ ইং 

 
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ