এক বিচিত্র অভিজ্ঞতা;: জালালাবাদের সম্বর্ধনা অনুস্টান

October 22, 2017, 3:13 AM, Hits: 687

 এক বিচিত্র অভিজ্ঞতা;: জালালাবাদের সম্বর্ধনা অনুস্টান

লস এঞ্জেলেসে আছি বেশ কিছুদিন হয়, আমাদের এখানে সচরাচর প্রধানমন্ত্রী বা নামীদামী মন্ত্রীরা আসেন না।হঠাৎ বন্ধু-বান্ধব এবং সামাজিক মাধ্যমে জানতে পারলাম বাংলাদেশের বেশ প্রভাবশালী মন্ত্রী মহোদয় আমাদের এখানে আসছেন।বেশ ভালই লাগলো যদিও উনার চিন্তা-ভাবনা বা পলিসির সাথে কোন অবস্থাতেই একমত হয়নি এবং আমার মনে হয় যে কোন বাংলাদেশী যাদের দেশের প্রতি ভালবাসা আছে তারা সাড়ে চার হাজার কোটি টাকাকে সামান্য ভাবে, অথবা ঘুষের টাকাকে স্পীডমানি হিসাবে মনে করে (আরও অনেক উদাহরণই দেয়া যাবে)।তারপরও উনি আমার দেশের প্রভাবশালী একজন মন্ত্রী এবং অত্যন্ত উচ্চ শিক্ষিত, তাই একজন বাংলাদেশী আমেরিকান হিসাবে নিজের উপস্থিতি থাকা উচিত বলেই অনুস্টানে উপস্থিত হলাম।এই উপস্থিতির কারণেই আমার বিচিত্র অভিজ্ঞতার কিছু শেয়ার করতে যাচ্ছি।

আমি জার্মানিতে যে কয়দিন ছিলাম, প্রচুর সিলেটিদের সাথে আমার চলাফেরা ছিল, হৃদ্যতা ছিল। একই ভাবে লন্ডনে আমি অনেক সিলেটিদের সাথে ছিলাম এবং তাদের একটা ভাল গুণ বা দোষ যাই বলেন, যখনই কোন সিলেটি পায় সাথে সাথে সিলেটি কথা শুরু হয়ে যায় এবং তারা খুব আঞ্চলিক তাতে কোন সন্দেহ নাই।তারা খুজতে খুজতে বের করে ফেলে কোন না কোন যোগসূত্র।তাদের বিয়ে শাদী, আত্মীয়তা বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই সিলেটিদের সাথে।আমার সব সময় এই বিষয়টাকে খুব ভাল লাগতো যেটা আর কোন জেলায় দেখা যায় না।তারা খুব দৃঢ়তার সাথে সিলেটি বলে পরিচয় দেয় আর আমরা প্রায় সকলেই প্রথমে বলি ঢাকার।যাইহোক, আমি এখানে এসেও দেখেছি হাতে গুণা মাত্র কয়েকজন সিলেটি  অন্যান্য বাংলাদেশীদের সাথে মিশতেন যদিও এখন সেটা বদলে যাচ্ছে।তারা নিজেদের মধ্যে বাংলা ভাষারও পরিচর্যা করছেন, হয়ত এক-দুই জেনারেশন পার হলে আর সিলেটি টান দেখা যাবে না।গত বোধবার, ১৮ তারিখের ঘটনা বর্ণনার আগে কিছুটা পিছনে না গেলে বুঝা কষ্টকর হবে, আমি অনলাইন পত্রিকা এবং কয়েকজনের সাথে আলাপ করে তথ্যগুলি সংগ্রহ করেছি। 

মাননীয় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত(নামটা কঠিন, সিলেটিরাও বলতে পারেন নাই; গুলিয়ে ফেলেছিল অনেকেই), ব্যবসায়িক কারণে সান্দিয়াগোর হেমেটে বিত্তবান ডঃ কালি প্রদীপ দত্ত বাবুর বাড়িতে আসছিলেন।আমাদেরে দেখার বা কথা বলার কোন পরিকল্পনা করে আসেননি।উনি আসছেন খবর পেয়ে লস এঞ্জেলেসের "বাফলা" সিদ্ধান্ত নেয় উনাকে সম্বর্ধনা দেয়ার।উনারা ভ্যানু (হল) ঠিক করে প্রস্তুতি শুরু করার পরেই কে বা কারা মন্ত্রী সাহেবের কাছে খবর দিয়েছে বাফলা'র বিতর্কিত কোন কিছু যার ফলে উনি তা বিশ্বাস করেই বাফলার অনুস্টানে আসবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছিলেন।তারপর শুরু হল আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সম্বর্ধনার প্রস্তুতি এবং যেহেতু উনি আওয়ামী সরকারের মন্ত্রী(যদিও উনি ইরশাদ সাহেবের মন্ত্রী সভায় ছিলেন, কতটুকু মনেপ্রাণে আওয়ামী লীগ তা বলা মুশকিল), সেই হেতু আওয়ামী লীগের দাবী অবশ্যই অগ্রাধিকার যোগ্য।কারণ লস এঞ্জেলেসে বাংলাদেশ এসোসিয়েশন বলে কোন শক্তিশালী সংগঠন নেই, থাকলে তারাই দিতে পারতো।কিন্তু সমস্যা দেখা দিল নিজেদের দলেই, একে অন্যকে হেয় করে মন্ত্রীর কানে বলতে লাগলেন কারণ আওয়ামী লীগ নিজেদের মধ্যেই ভিবক্ত এই লস এঞ্জেলেসে।মন্ত্রী বিরক্ত হয়ে আওয়ামী লীগের সম্বর্ধনা নাকচ করে দিলেন।তখন শুনা গেলো উনি বলেছেন একমাত্র সিলেটিরা যদি উনাকে সম্বর্ধনা দেয় তাহলেই উনি আসবেন।এই খবর পেয়ে বাফলার সভাপতি(একজন সিলেটি) তোরজোড় করে সম্বর্ধনার আয়োজন করে সবাইকে জানালেন, ভ্যানু (হল) একই যা বাফলা সব সময়ই ব্যবহার করে আসছে।কিন্তু দুঃখজনক ভাবে সাথে সাথে তারা সবাইকে জানালেন যে সম্বর্ধনা হচ্ছে না, উনি আসবেন না। 

কিন্তু সান্দিয়াগো বিমান বন্দরে জালালাবাদের এবং বাফলার কয়েকজনকে দেখা গেলো সামাজিক মাধ্যমে ছবি সহ। ঐ রাতে উনাদেরকে প্রদীপ বাবুর বাড়িতেও দেখা গেলো।পরের দিন আবার সামাজিক মাধ্যমে জানানো হল একই হলে একই দিনে সম্বর্ধনা হবে জালালাবাদের পক্ষ থেকে, সবাই আমন্ত্রিত।বাফলার আব্দুস সামাদ (সিলেটী) উনার ফ্লায়ারে সময় দেন সন্ধ্যা ৫ টা থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত।আমরা ইচ্ছা করেই একটু সময় নিয়েই যাচ্ছিলাম যাতে দলীয় কথাবার্তা শেষ হলে মন্ত্রী মহোদয়ের কাছ থেকে দেশের কিছু কথা শুনতে পারবো আর সুযোগ পেলে এক-দুটা প্রশ্নও করতে পারবো।কিন্তু প্রায় ৭ টার দিকে যেয়েও দেখা গেলো মন্ত্রী সাহেব তখনও আসেন নাই।এই হলে আগেও এসেছি বাফলার অনুস্টানে, আজও মনে হল বাফলারই অনুস্টান।বাফলার সভাপতিকেই সব চেয়ে তৎপর মনে হল।আমরা একটু দূরে (ষ্টেজ থেকে) একটা টেবিলে বসলাম।প্রদীপ বাবুর সাথে সবাই খুব উৎসাহ নিয়ে ছবি তুলছেন দেখে মনে হল উনি বোধহয় সিলেটের খুব নামী কোন ব্যক্তিত্ত হবেন তাই সিলেটিরাও উনার পিছনে পিছনে হাটছেন ছবি তোলার জন্য।প্রায় আট টার দিকে মন্ত্রী আসলেন, মঞ্চে সিলেটি ছাড়া কাউকে দেখলাম না শুধু কনসাল জেনারেল ছাড়া।অনুস্টান পরিচালনায় বি এন পি'র একজনকে এবং বাফলার সভাপতিকে দেখা গেলো।আমার কেন জানি তখন মনে হল অনুস্টানটা জালালাবাদের নামে বাফলার তত্তাবধায়নে হতে যাচ্ছে।বাফলার সাধারণ সম্পাদককেও পিছনে দেখা গেলো, জিয়াকেও দেখলাম।অনুস্টান শুরুটা ভালই ছিল কিন্তু সিলেটিরা অনুস্টান যে ভাবে শুরু করে তা করা হল না।সিলেটিরা অথিতিপরায়ন, ভদ্র, শালীনতা বজায় রাখে এবং অত্যন্ত ধার্মিক কিন্তু কোরআন তেলাওয়াত দিয়ে শুরু করা হয়নি।ভাবলাম প্রদীপ বাবুর সন্মানে হয়ত তাদের ধার্মিক দিকটা গোপন রাখা হল তা না হলে তারা কোন অনুস্টান কোরআন তেলাওয়াত ছাড়া শুরু করে না।অনুস্টান খুব সুন্দর ভাবেই চলছিল কিন্তু যখন সফিকুর রহমান সাহেবকে জালালাবাদের উপদেষ্টা হিসাবে বক্তব্য দিয়ে মঞ্চে ডাকা হল, ভদ্রলোক দু'টি বাক্য বলতে পারেন নাই, হঠাৎ করে কোথা থেকে বেটে মত একজন লোক পাগলের মত এসে মাইক কেড়ে নিতে চেষ্টা করলো।আমরা পিছন থেকে ঠিক দেখতে পাচ্ছিলাম না তাই উঠে একটু এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলাম।দেখলাম একটু আগে যিনি বলে গেছেন উনার নাম ছালিক, উনিই এসে মাইক কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করেছেন।উনিও একজন উপদেষ্টা, সকলের কাছেই উনার এহেন ব্যবহার খুব অভদ্র, অশালীন মনে হল।হলের প্রায় প্রতিটি লোক (আমি যা দেখেছি) উনার এই প্রচেষ্টাকে খুব খারাপ ভাবে দেখেছে।উনাদের মধ্যে ব্যক্তিগত কোন দ্বন্দ্ব থাকলে এত বড় অনুস্টান পণ্ড করার কোন যুক্তিকথা অনেকেই খুজে পায়নি।আমি শুনতে পেলাম উনি বলছেন, আমি কথা দিয়েছি।আরও কাছে যেতে চাইলে এক যুবক অত্যন্ত কঠিন এবং অভদ্র ভাবে আমাদেরকে গায়ে ধাক্কা দিয়ে সিলেটি ভাষায় গালি দিয়ে বেরিয়ে যেতে বলল।আমি আস্তে করে নিজের টেবিলে চলে আসি।আমার মনে হল অনুস্টানের মৃত্যু ছালিক সাহেবই দিয়ে দিলেন।  সফিকুর সাহেব তখনও বলেই যাচ্ছিলেন কিন্তু ছালিক সাহেবের এই ব্যবহার কেন তখন আমরা কেউ বুঝতে পারিনি।এক পর্যায়ে জালালাবাদের খুব পরিচিত মুখ কবির সাহেবকে দেখে জিজ্ঞেস করলাম, সফিকুর সাহেবের কি ষ্টেজে যাওয়ার কথা ছিল না? কাকে ওয়াদার কথা বলছিলেন ছালিক সাহেব? কেন আপনারা এই জগন্য কাজটা করলেন? কবির সাহেব বললেন, "উনার সামান্যতম ধারণা নাই কেন এই কাজ করা হল, কোন সমস্যা থাকলে আমরা পরে আলাপ করে নিতে পারতাম।আমরা জালালাবাদ কারো কাছে অঙ্গিকার দিয়ে অনুস্টান করার প্রশ্নই উঠে না।এত সুন্দর অনুস্টান এই ভাবে পণ্ড করে দেয়ার কোন কারণ দেখিনি।" আমার মনে হল, যে দ্রুত গতিতে ছালিক সাহেব ছুটে এসেছিলেন তা পূর্ব পরিকল্পিত, তা না হলে এত তাড়াতাড়ি পৌছাতে পারতেন না ষ্টেজে। অবস্থা শান্ত হওয়ার পর বাফলার সভাপতিও কিছু বললেন, এবং মঞ্চের সকলেই কিছু কিছু বললেন। তবে শুধুমাত্র প্রদীপ বাবু সিলেটি ভাষায় কথা বললেন এক পর্যায়ে, আমার টেবিলের অনেকেই বুঝতে না পারায় আমি বুঝিয়ে দেয়ার চেষ্টা করলাম, বিলেতের সিলেটিদের সাথে চলাফেরা কিছুটা কাজে আসলো।আমি আরও লক্ষ্য করলাম তাদের নিরাপত্তার লোকেরা কিন্তু কিছুই করতে পারে নাই ঐ সময় অথচ সারাক্ষণ অথিতিদের সাথে খুব দুর্ব্যবহার করে যাচ্ছিল।আরও একটা বিষয় লক্ষ্য করলাম, যিনি মাইক কেড়ে নিতে এসেছিলেন উনি সারাক্ষণ মন্ত্রী মহোদয়ের কাছের চেয়ারে বসেছিলেন আর গুন গুন করে সুযোগ পেলেই  কোন ধান্দাবাজির কথা বলছিলেন।হয়ত উনি জালালাবাদের বড় ধরণের কোন কর্ণধার হবেন। যাইহোক খাওয়া শেষে অনেকেই মন্ত্রী মহোদয়ের সাথে ছবি তুলছিলেন, কানে কানে কথা বলছিলেন।হঠাৎ করে আবার শুরু হয়ে গেলো হট্রগোল, চেয়ার টানাটানি, গালাগালি।নিরাপত্তার লোকেরা একজনকে "লক" করে রেখে দিল, আবার আরেকজনকে পিস্তল বের করে ধকম দিল।শুরু হল একটি জগন্য অধ্যায় মন্ত্রী মহোদয়ের সামনে দ্বিতীয় বারের মত।মন্ত্রী মহোদয় এবং প্রদীপ বাবু দ্রুত গতিতে মান-সন্মান বাঁচাতে বেরিয়ে গেলেন।আমরাও ভয়ে বেরিয়ে গেলাম। 

পরের দিন অনেকেরই ভিডিও ক্লিপ দেখলাম, কবির সাহেবের একটা পোষ্ট সামাজিক মাধ্যমে দেখে মনে হল এই ব্যাপারেই দিয়েছেন।আমারও তাই মনে হয়েছে, জালালাবাদকে ব্যবহার করেছে আওয়ামী লীগ এবং বাফলা, ছিনতাইও করেছে বাফলা আপনাদের অনুস্টান কিন্তু সামাল দিতে পারে নাই তাই অসন্মান আপনাদের, দুর্নাম আপনাদের আর বিশ্বাসঘাতকতা করেছে আপনাদের নিজেদের লোকেরা।আমাদেরকে ডেকে এনে সন্মান দিতে পারেননি, পারেননি সন্মান দিতে আপনাদের মন্ত্রী মহোদয়কে। উনি হয়ত আওয়ামী লীগের সম্বর্ধনা নিলে এমন জগন্য অবস্থার সৃষ্টি হত না।আপনাদের অথিতি পরায়নতা, ভদ্রতা, শালীনতা ধূলিসাৎ করে দিলেন।আমাদের লস এঞ্জেলেসে এই ধরণের জগন্য আচরণ কোন অনুস্টানে কবে হয়েছে আ 

 
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ