ক্যালিফোর্ণিয়া জালালাবাদ কমিটির পদত্যাগ দাবী

October 27, 2017, 10:57 PM, Hits: 969

ক্যালিফোর্ণিয়া জালালাবাদ কমিটির পদত্যাগ দাবী

হ-বাংলা নিউজ,হলিউড থেকে: লস্ এঞ্জেলেস থেকে অদূরে হেমেট শহরে বসবাসকারী ধনকুবের ডা: কালিপ্রদীপ চৌধুরী সম্প্রতি বেশ চাঙ্গা। উত্তর আমেরিকার প্রায় সকল বাংলাদেশী অনুষ্ঠানে তিনি দান-অনুদান দিয়ে তিনি সকলের মূখে মূখে চায়ের আড্ডায় ঝড় তুলেছেন। ঐসব অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথি কিংবা বাংলাদেশ সকরকারের কোন মন্ত্রী প্রধান অতিথি হলে তিনি  বিশেষ অতিথি। উনি ব্যাক্তিগতভাবে অরাজনৈতিক কিংবা ধর্ম নিরপেক্ষ কিনা তা আমি জানি না, কিন্তু তিনি একজন আঞ্চলিক মানুষ-সিলোটি। সম্প্রতি ঢাকা শহরে তিনি ১৪২ তলা ভবনের টেন্ডার জমা দিয়ে আলোচনায় কেটলিতে গরম বুদ বুদ তুলেছেন। সয়ং অর্থমন্ত্রী মহাশয় বলে গেলেন, টেন্ডার আরো কিছু পড়েছে কিন্তু কাজটা ডা: কালিপ্রদীপ বাবু পেয়ে যাবেন। আমি বুঝে নিলাম আওয়ামিলীগ নামক যে রাজনৈতিক দল আজ বাাংলাদেশ চালাচ্ছে তার সাথে লেন দেন সখ্যতা করে বাবু দলটির একজন কাছের মানুষ বনে গেছেন। 

আওয়ামিলীগ উপদেষ্ঠা মন্ডলীর দ্বিতীয় ব্যাক্তি, দেশে গত ৫ই জানুয়ারীর নির্বাচনে সিলেট-১ আসনে আওয়ামিলীগের বিজয়ী (?) প্রার্থী আওয়ামী সরকারের দ্বিতীয় ব্যাক্তি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত ডা: কালিপ্রদীপ চৌধুরীর একান্ত ব্যাক্তিগত আমন্ত্রনে লস্ এঞ্জেলেস থেকে একশত পঁচিশ মাইল দূরে সান দিয়েগো শহরের একটি এয়ারপোর্টে প্রাইভেট জেটে অবতরন করেন। সেখানে তাকে ডা: কালিপ্রদীপ চৌধুরীসহ আওয়ামী ঘরানা সিলেটি নন সিলোটিরা ফুল দিয়ে অভ্যর্থনা জানান। ডা: কালিপ্রদীপ চৌধুরীর আলিশন বাসার বলরুমে একটি জাকজমক অভ্যর্থনা ও নৈশ ভোজের অনুষ্ঠান হয়। স্বভাবজাত ভাবেই মন্ত্রী রাজনৈতিক দল আওয়ামিলীগের নেতা-কর্মী কিংবা আওয়ামীমনা।

লস্ এঞ্জেলেসে বহুধাবিভক্ত আওয়ামীলীগের তিন গ্রুপের টানাটানিসহ সম্প্রতি আওয়ামীমূখী টার্ন নেওয়া বাফলা তাকে সম্বর্ধনা দেওয়ার চেষ্ঠা তদবির চালিয়ে আসছিলো শুরু থেকেই। লোকমূখে শোনা গেছে, ওয়াশিংটন ডিসি নিবাসী মন্ত্রীর ভাই বাফলার বিরোধিতা ও বহুধাবিভক্তির কারনে আওয়ামীলীগের সম্মর্ধনা নিতে মন্ত্রীর অপারগতার কথা জানান। একইভাবে তিনি আওয়ামী নিত পক্ষের বিরোধিতা ও যদ্ধপরাধী জামায়াত নেতাদের সাথে বাফলা নেতাদের সাথে ছবিসহ প্রমাণাদি পেয়ে বাফলার দেওয়া সম্বর্ধনায় মত দিয়েও পরে তাদের না বলে দেন।

বাফলা সভাপতি নজরুল আলম ছল চাতুরির আশ্রয় নেন। তিনি লস্ এঞ্জেলেসের আঞ্চলিক সংগঠন জালালাবাদের সাধারন সম্পাদকের পদটি ব্যবহার করেন। ডা: কালী প্রদীপ বাবু ও স্থানীয় আওয়ামীলী নেতাদের ব্যাবহার করে অাগের রাতে মন্ত্রীকে জালালাবাদের সম্বর্ধনায় অংশ নেয়ার সম্মতি আদায় করে নেন।

ক্যালিফোর্ণিয়া জালালাবাদের পিকনিক কিংবা ইফতারের মত বড় কর্মসূচিতে যাবার আগে সাধারন সভায় বিষয়টি উঠিয়ে সকলের মতামত নিয়ে নেয়ার রেওয়াজ রয়েছে। কিন্তু এক্ষেত্রে জনাব সালিক সোবাহানের রেস্ট্রুরেন্টে একদল প্রচারণা পিপাস দলবাজদের নিয়ে তড়িঘড়ি কয়েকটি সভায় এই সম্বর্ধনার গতি প্রকৃতি নির্ধারন করা হয়।

একইভাবে বিগত সপ্তাহ জুড়ে আওয়ামীলীদের তিন গ্রুপেরও এরকম পরামর্শ সভা চলতে থাকে। লস্ এঞেলেসে আরো একটি দল লোক আরে জোরেশোরে পরার্মশ সভা চালিয়ে আসছিলো মুনার উপর। ২০১২-২০১৪ বিএনপি এর নির্বচন জেতার সম্ভাবনায় এরা দল বেধেঁ অংশ নিতে বিএনপি দলীয় সভায়। আর এখন নিরাশ হয়ে নব্য আওয়ামীলীগ। বঙ্গবন্ধুর নাম ছাড়া এরা এখন ভাতের লোকমা মূখে নেয় না, ধর্ম নিরপেক্ষ ও রাজনীতি বিবর্জিত বাফলা।

শোনা যায়, লস্ এঞ্জেলেসের আওয়ামীলীগের নেতা কর্মীদের পিছনে ফেলে প্রচার পাগল বাফলা নেতাকর্মীর অংশ গ্রহন- মাঠ দখল- ফটোসেশন নিশ্চিত করতেই সম্বর্ধনায় একটা অরাজনৈতিক ধর্ম নিপপেক্ষভাব আনার চেষ্ঠা চালানো হয়েছিলো। লস্ এঞ্জেলেস এ জালালাবাদের যে কোন অনুষ্ঠানে ৮০ভাগ সিলেটের লোক সহ সর্বধিক জনসমাগমের রেকর্ড রয়েছে। আর এই অনুষ্ঠানে সবচেয়ে বেশি  লোকজন ছিলো বাফলা বিএনপি ও মুনার, সিলেটের নির্দলীয় লোকজনই ছিলোনা । লস্ এঞ্জেলেসের সিলোটি বিএনপি গ্রুপের হাতে ছিলো আওয়ামী মন্ত্রীর অনুষ্ঠানের নিয়ন্ত্রন??

যারা কখনোই জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু কিংবা স্বাধীনতার স্বপক্ষের কথা শুনে অভ্যস্থ নয়। এমনকি এই অনুষ্ঠানের উপস্থাপক একজন বিএনপি কর্মী ও যুদ্ধপরাধী কাদের মোল্লার ফাঁসিতে মর্মাহত ব্যাক্তি। আওয়ামীলীগ সভাপতি শফিকুর রহমান জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু বললে যারা তেড়ে গিয়েছেনে অস্বস্তি প্রকাশ করেছেনে তাদের কেউ কেউ বিএনপি মুনার অনুষ্ঠানের নিয়মিত বক্তা, কেউ কেউ পাকিস্তান ফেরত সেনা, কেউবা অন্তরে জামায়াতী। সভাপতির বিপক্ষের দুটি আওয়ামী গ্রুপের নেতারাই ছিল চেয়ারে বসে স্থির । বঙ্গবন্ধু জয় বাংলা শুনলে তাদের মারমূখী তেড়ে যাবার কথা নয়। এমনটা হয়নিও।

এ ঘটনার সাথে আমি লস এঞ্জেলেসের আরেকটি ঘটনা উল্লেখ করতে চাই। যেখানে এই অর্বচীন আয়োজকরাই বাফলার ব্যানারে এরকমই একটি নিরপেক্ষ অরাজনৈতিক অনুষ্ঠানে শাহাবাগের পুচকে প্রীতমের সাথে বিএনপি কেন্দ্রীয় প্রথম সারির নেতা এনাম আহমেদকে নিয়ে এসে দুজনকেই বিব্রত ও অবদস্থ করেছিলো। 

বাফলা এমনকিছু হয়ে যায়নি যে, তারা একই অনুষ্ঠানে আওয়ামীলীগ আর বিএনপি নেতা কর্মীদের বসিয়ে অরাজনৈতিক অনুষ্ঠান করতে পারবে যদি আওয়ামীলীগ আর বিএনপি নেতা কর্মীরা না চায়। যদিও কিছু লোককে খাসি বানিয়ে তারা নব্য আওয়ামীলীগ-বিএনপি সার্কাস চালিয়ে আসছে। যার যার মত সংগঠনগুলোতো ভালোই চলছে। কেউ তো একে ওপরের সাথে মারামারিতে জড়িয়ে যাচ্ছেনা । তাহলে অরাজনৈতিকভাবে একজন রাজনীতিকের সম্বর্ধনা কার স্বার্থে? পারলে বাফলা অথবা জালালাবাদ একটা ধর্মনিরপেক্ষ ঈদের জামায়াত করে দেখাক না। ক্যালিফোর্ণিয়া জালালাবাদের কোন অনুষ্ঠান আজ পর্যন্ত পবিত্র কোরআন তেলয়াত ছাড়া শুরু হয়নি। তবে আজ কেন?

আমি জালালাবাদের সাধারন সভায় অর্থমন্ত্রীর সম্বর্ধনার কথা না উঠানো, পবিত্র কোরআন তেলয়াত এর রেওয়াজ ভঙ্গ ও বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী সিলেটের গর্ব আবুল মাল অব্দুল মুহিতের সামনে লস্ এঞ্জেলেসে প্রবাসী সিলেটবাসী, ডা: কালিপ্রদীপ, ক্যালিফোর্ণিয়া আওয়ামীলীগ সভাপতি জনাব শফিকুর রহমান সহ সকল লস্ এঞ্জেলেস প্রবাসী বাংলাদেশীদের অবদস্থ করার কারনে জালালাবাদের কমিটির গণ পদত্যাগ, অথবা বিলুপ্তি এবং আয়োজকদের বিচার প্রার্থনা করছি।

 

 
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ