লেক টাহোতে বরফের রাজ্যে

October 29, 2017, 8:05 PM, Hits: 753

লেক টাহোতে বরফের রাজ্যে

সুবোধ কান্তি বড়ুয়া : আমরা গ্রীষ্মপ্রধান দেশের লোক। আমাদের কাছে আমেরিকা, কানাডা ও ইউরোপের দেশগুলো শীতপ্রধান দেশ হিসেবেই পরিচিত। এখানকার অধিকাংশ এলাকা শীতকালে তুষারে ঢাকা থাকে। বিভিন্ন সময় আমেরিকার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ঘোরাফেরা করেছি বটে। কিন্তু কখনো বরফ দেখার সুযোগ হয়নি। তাই অনেক দিন ধরেই বরফ দেখার একধরনের তীব্র আকুতি অনুভব করছিলাম। ক্যালিফোর্নিয়া আমেরিকার তৃতীয় বৃহত্তম অঙ্গরাজ্য। আমি থাকি এই অঙ্গরাজ্যের পৃথিবীর বিখ্যাত আইটি কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত সান হোসে শহরের পাশে নিরিবিলি এক আবাসিক এলাকায়, যেখানে আশপাশে কোথাও কখনো বরফ দেখা যায় না। শীতকালে এই রাজ্যের অধিকাংশ এলাকায় তুষারপাত না হলেও এর উত্তরে লেক টাহো এবং দক্ষিণে বিগ বিয়ার লেক অঞ্চলে প্রচুর তুষারপাত হয়।

চলতি বছরের ১৬ জানুয়ারি ছিল বর্ণবাদবিরোধী নেতা মার্টিন লুথার কিং দিবসের সরকারি ছুটি। এর আগের দুই দিন সাপ্তাহিক ছুটি, এর সঙ্গে আরও এক দিন যোগ করে নিতে পারলে সপরিবার বেশ আনন্দে কোথাও ঘুরে আসা যায়। যে চিন্তা সেই কাজ। এই ছুটিতে লেক টাহো ঘুরে এলে মন্দ হয় না। লেক টাহো সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় আট হাজার ফুট উচ্চতায় অবস্থিত উত্তর আমেরিকার বৃহত্তম অ্যাল্পাইন লেক। দৈর্ঘ্যে ৩৫ কিলোমিটার ও প্রস্থে ১৯ কিলোমিটার এই মনোরম সরোবরে রয়েছে সুদীর্ঘ ১১৬ কিলোমিটার তটরেখা এবং যার চারপাশ ঘিরে আছে অনন্যসুন্দর শৈলশ্রেণি। ধারণা করা হয়, প্রায় ২০ লাখ বছর আগে এই লেকের উৎপত্তি, যা বর্তমানে নেভাদা ও ক্যালিফোর্নিয়ার অন্যতম পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। লেক টাহোর আশপাশে রয়েছে অনেক স্কি রিসোর্টস।

জানুয়ারি শীতের মৌসুম। তাই লেক টাহো ও এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলো তুষারাবৃত বলে সেখানে থাকে এক অপরূপ শুভ্র সৌন্দর্য। সেখানকার চারপাশের পাহাড়ে এ সময় স্কি করার মৌসুম চলছে। আমাদের পরিবারের সদস্য অর্ণব, অরিন ও অনুপমের স্কি করার বেশ শখ। তাঁদের অভিজ্ঞতাও খারাপ নয়। তাই লেক টাহো যাওয়ার খবরে তাঁরা মহাখুশি। বরফের রাজ্যে আনন্দে ছুটোছুটি করা যাবে, স্কি, স্লেডিং করা যাবে। স্কি করার কলাকৌশল আমাদের খুব একটা জানা নেই বা অভ্যাসও নেই। ঠিক হলো, আমরা ধারেকাছে কোনো হোটেল বা রিসোর্টে বসেই সময় কাটাব।

১৩ জানুয়ারি সকালে সপরিবার রওনা হলাম লেক টাহোর উদ্দেশে। প্রায় ২৫০ মাইল দীর্ঘ পথ যেতে সময় লাগে চার ঘণ্টা। এখন মধ্য-জানুয়ারি, বরফ পড়ার মৌসুম। তাই লেক টাহো অঞ্চল এখন এক অতি আকর্ষণীয় ট্যুরিস্ট স্পটে পরিণত হয়েছে, বিভিন্ন এলাকা থেকে স্কি করতে উৎসাহী লোকজন ও সাধারণ পর্যটকেরা দলে দলে সেদিকে ছুটে চলেছে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকেই আমরা রওনা হলাম। লেক টাহো পৌঁছাতে পৌঁছাতে বিকেল সাড়ে চারটা প্রায়। হাড়কাঁপানো ঠান্ডা হিমশীতল আবহাওয়া, তাপমাত্রা হিমাঙ্কের অনেক নিচে। চারদিকে শক্ত বরফ জমে আছে, তার ওপর পেঁজা তুলার মতো নরম তুলতুলে মিহি তুষারের আবরণ। একেবারে লেকের ধার পর্যন্ত শুভ্র-ধবল বরফে ঢেকে আছে, যদিও-বা স্বচ্ছ নীল জলে টইটম্বুর শান্ত সরোবর এখনো বরফমুক্ত। পা রাখলেই প্রায় দেড় ফুট সাদা নরম তুলার মতো তুষারের মধ্যে ডুবে যাচ্ছে। আগে কখনো চারপাশে এ ধরনের স্তূপাকৃতি বরফ দেখিনি। আমাদের দেশে এ ধরনের দৃশ্য কল্পনা করাও কঠিন। আমার ও আমার স্ত্রীর জন্য এ এক অদ্ভুত রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা। সন্ধ্যা সমাগত প্রায়। টকটকে লাল সূর্যটা পশ্চিম আকাশ রাঙিয়ে নেমে যাচ্ছে অস্তাচলে। এ যেন ‘পশ্চিম সাগর তীরে সন্ধ্যা নামল মাথায় নিয়ে শান্তি ঘট’। আরও কিছুক্ষণ এদিক-ওদিক ঘোরাঘুরি করে আমরা হোটেলের উদ্দেশে রওনা দিলাম। রাস্তায় কিছু দূর পরপর শভেল লডার দিয়ে বরফ পরিষ্কার করা হচ্ছে। রাস্তার দুপাশেই বরফের স্তূপ, কোথাও কোথাও উচ্চতা ছয়-সাত ফুটের বেশি। দুদিকেই পাইনগাছের সারি, গাছগুলোর শাখায় শাখায় তুষার জমে এক অনিন্দ্যসুন্দর রূপ ধারণ করেছে। দূর থেকে মনে হচ্ছে যেন সাদা ফুলে ছেয়ে আছে গাছগুলো। জনমানবহীন গভীর অরণ্যের মধ্যেও প্রকৃতির সঙ্গে যুদ্ধ করে টিকে থাকা দু-একটা বাড়ি দেখা যায়। বাড়িগুলোর চালে জমে আছে এক থেকে দেড় ফুট পুরু সাদা বরফের আস্তরণ। মনে হচ্ছে যেন মাথায় সাদা টোপর পরে নিরুপায় দাঁড়িয়ে আছে। বরফ কেটে রাস্তা তৈরি করে বের হওয়া ছাড়া গত্যন্তর নেই। সে এক ভয়াবহ অবস্থা। অবস্থা দেখে বাড়ির বাসিন্দাদের যে কারও মনে করুণার উদ্রেক হতেই পারে। শীতের তীব্রতায় অতিষ্ঠ পশুপাখিও চলে গেছে অন্যত্র। অনবরত পরিষ্কার করা সত্ত্বেও কোথাও কোথাও কঠিন বরফের স্তর জমে রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে আছে, বেড়ে গেছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা। তাই গাড়িগুলো চলছে অতি সাবধানে ধীরগতিতে।

সন্ধ্যায় হোটেলে ঢোকার মুখেই চোখে পড়ল ক্যাসিনো, শত শত লোক সেখানে। স্লট মেশিনগুলোর মনিটরে ডিসপ্লে হচ্ছে হাজার হাজার ডলার জেতার হাতছানিসহ মনোমুগ্ধকর সুরের ঝংকার। আমার মতো অবসরপ্রাপ্ত লোকদের সময় কাটানোর এক অতি উত্তম ও উপযুক্ত স্থান এই ক্যাসিনো। ১৭ তলা হোটেলের ১৫ তলায় পাশাপাশি দুটো কক্ষ আমাদের। সারা দিনের দীর্ঘ যাত্রায় সবাই ক্লান্ত। নিচে খাওয়াদাওয়া সেরে কক্ষে ঢুকে বিছানায় গা এলিয়ে দিলাম।

পরদিন সকালে আমাদের দুজনকে রেখে অন্যরা মাউন্ট রোজ এলাকায় স্কি করার জন্য গেল। আমি কক্ষের জানালার পর্দা সরিয়ে সামনের দিকে তাকিয়ে আছি। যত দূর দৃষ্টি যায়, সাদা বরফে ঢেকে আছে বিস্তীর্ণ এলাকা। পার্কিং এলাকায় গাড়িগুলো বরফের স্তূপ মাথায় নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। সামনের পাহাড়গুলোর চূড়ায় সাদা বরফের ওপর ভোরের উদীয়মান সূর্যের আলো প্রতিফলিত হয়ে ধারণ করেছে এক অপরূপ সৌন্দর্য। বেলা আরেকটু বাড়লে আশপাশের এলাকা ঘুরে দেখার জন্য আমরা হোটেল থেকে বেরিয়ে পড়লাম। হাতে গ্লাভস, মাথায় টুপি কয়েক স্তরে সারা শরীর ঢাকার পরও শীতের আক্রমণ থেকে রেহাই মিলছে না। বেশ কিছুক্ষণ ঘোরাঘুরির পর ঢুকে পড়লাম ক্যাসিনোতে। কয়েক শ স্লট মেশিনের প্রায় সব কটিই ব্যস্ত। এই শীতের দিনেও জুয়াড়িদের মনোরঞ্জনের জন্য স্বল্পবসনা শ্বেতাঙ্গিনী সুন্দরী সেবিকারা ঘুরে ঘুরে বিনা পয়সায় ড্রিংকস দিয়ে যাচ্ছে, যেন জুয়াড়িরা আরও বেশি মনোযোগ নিয়ে খেলতে পারেন। প্রথম দিন অনেক সাবধানে বেশ কিছুক্ষণ খেলার পর মূলধনের সঙ্গে বাড়তি ৩৮ ডলার যোগ করতে সমর্থ হই এবং খুশিমনে বেরিয়ে আসি। দ্বিতীয় দিনেও প্রথমে বেশ কিছুটা লাভের দেখা পেয়েছিলাম, পরে লাভের অঙ্ক আরও বাড়াতে গিয়ে সবটুকুই হারিয়ে বসি। কী আর করা, তেতোমুখে বেরিয়ে আসা ছাড়া উপায়ই-বা কী! নেভাদা অঙ্গরাজ্যের লাস ভেগাস শহরটি জুয়াড়িদের স্বর্গরাজ্য হিসেবে মোটামুটি সবার কাছে পরিচিত। সেখানে যতবার গিয়েছি, ক্যাসিনোতে বসেছি এবং মনের আনন্দে খেলেছি। অবশ্য কখনোই লাভ নিয়ে উঠে আসতে পারিনি। সেখানে লক্ষ করেছি, লোকজন টাকাপয়সা হারানোর পর মানসিক বিষণ্নতা সত্ত্বেও চোখেমুখে একধরনের কৃত্রিম প্রসন্নতা নিয়ে বেরিয়ে আসে। হয়তোবা এটাই নিয়ম।

১৬ জানুয়ারি সান জোসে ফিরে যাওয়ার দিন। সকালেই হোটেল থেকে বেরিয়ে পড়ি। ফেরার পথে মাউন্ট রোজ স্কি রিসোর্টে এসে থামলাম। এখানেই আমাদের সঙ্গে আসা পরিবারের অন্য সদস্যরা সকাল থেকে বিকেল অবধি মনের আনন্দে স্কি করে কাটিয়েছে। এর পাশে আরও বেশ কয়েকটি স্কি রিসোর্ট আছে। ইতিমধ্যেই পার্কিং এলাকায় কয়েক শ গাড়ির ভিড় জমে গেছে। মিহি তুষারের আবরণে সম্পূর্ণ এলাকা ঢাকা পড়েছে, ৬-৭ বছরের শিশু থেকে ৭০-৮০ বছরের নারী-পুরুষ মহানন্দে স্কি করতে ব্যস্ত। আমাদের জন্য সে এক অভিনব দৃশ্য। ঠান্ডা থেকে রক্ষায় শরীরজুড়ে ব্যাপক প্রস্তুতি। বাইরে তাপমাত্রা মাইনাস ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে ঠান্ডা ততটা অসহনীয় নয় মোটেই। ডানে-বাঁয়ে, সামনে-পেছনে শুধু বরফ আর বরফ। বরফের রাজ্যে দাঁড়িয়ে আছি, ঠান্ডা তো একটু লাগবেই। আমার বাড়ির পাশেরই তুষার মৌলি এভারেস্টশৃঙ্গ তথা হিমালয় পর্বতমালার অসাধারণ নৈসর্গিক সৌন্দর্য এখনো দেখা হয়নি বলে মনে একধরনের আক্ষেপ রয়েই গেছে।

শীতে লেক টাহোর রাস্তাঘাট, পাহাড়–পর্বত, গাছপালা এভাবে বরফে ঢাকা পড়ে

উৎসাহী স্কিয়ারদের পাহাড়ের চূড়ায় নিতে রয়েছে চেয়ার লিফট বা বৈদ্যুতিক ঝুলন্ত রাস্তা। এর গ্রাউন্ড স্টেশনে আছে বিদ্যুচ্চালিত বিরাট এক চাকা ওপরে পাহাড়ের চূড়ায়ও রয়েছে তদ্রূপ আরেকটা চাকা। চাকা দুটির ওপর ঘুরছে মোটা শক্ত এক বেল্ট বা রোপ। সমান দূরত্বে বেল্টের সঙ্গে যুক্ত আছে অনেকগুলো ঝুলন্ত চেয়ার। বিদ্যুতের সাহায্যে চাকা দুটি ঘুরছে আর চেয়ারে বসা স্কিয়ারদের রেখে আসছে পাহাড়চূড়ায়, সেখান থেকে দলে দলে স্কি করে নেমে আসছে লোকজন। চেয়ার লিফটের সামনে শত শত লোকের দীর্ঘ সারি, এর সাহায্যে ওপরে উঠছে আর স্কি করে নেমে আসছে নিচে। অবশ্য এ কাজে সারা দিনের জন্য মাথাপিছু গুনতে হয় ১০০ ডলার। কিছু দূরে মোটা অঙ্কের বিনিময়ে হাতে-কলমে নিরাপদে স্কি করার কলাকৌশল প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে। নতুন, স্বল্প অভিজ্ঞ ও অভিজ্ঞদের ব্যবহারের জন্য রয়েছে আলাদা আলাদা স্যুট বা ঢালু পথ। স্কিয়াররা নিজ নিজ যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা অনুসারে স্যুট বেছে নিয়ে স্কি করে পাহাড়চূড়া থেকে নেমে আসছে দলে দলে। অভিজ্ঞদের মধ্যে কেউ কেউ এত দ্রুতগতিতে নেমে আসছে যে দেখে আশ্চর্য হতে হয়। আগে টিভিতে বহুবার দেখেছি এ ধরনের কাণ্ড, এবার সশরীরে দাঁড়িয়ে নিজের চোখের সামনেই দেখছি সে অভূতপূর্ব দৃশ্য। মাউন্ট রোজ স্কি রিসোর্টে বেশ কিছু সময় অতিবাহিত করে আমরা বেরিয়ে পড়লাম পরের গন্তব্যে।

পাহাড়চূড়ায় আঁকাবাঁকা পিচ্ছিল বরফঢাকা অত্যন্ত বিপৎসংকুল পথ, গাড়ি চলছে সাবধানে, ধীরগতিতে। আমরা এসে পৌঁছালাম স্লেডিং এরিয়াতে। রাস্তার দুপাশে খাড়া প্রায় ছয়-সাত ফুট উঁচু হয়ে জমে আছে বরফের স্তর। অতি কষ্টে বরফ কেটে একে অন্যের সাহায্য নিয়ে ওপরে উঠে এলাম। এখানেও দেখি লোকের ভিড়। ছোট ছোট তিন-চার বছর বয়সী শিশুরাও দেখি মহাখুশিতে স্লেডিং করছে। উন্নত দেশ, উন্নত অবকাঠামো, উন্নত এখানকার জনসাধারণের জীবনযাত্রার মান, তার সঙ্গে সংগতি রেখে চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে আনন্দ-বিনোদনের সুব্যবস্থাসহ অনেক পর্যটনকেন্দ্র। তাই দূরদূরান্ত থেকে বরফের রাজ্যে ছুটে এসে চিত্তবিনোদনের অনুষঙ্গ হাইকিং বাইকিং স্কিয়িং, স্লেডিংয়ে মেতে উঠেছে উৎসাহী লোকজন।

লেক টাহোয় শুভ্র সুন্দর, সমুজ্জ্বল, শান্ত, অচঞ্চল বরফে আচ্ছাদিত প্রকৃতির দুহাতে অকৃপণভাবে বিলিয়ে রাখা নয়নাভিরাম শোভা উপভোগ করতে এগিয়ে চলেছি। নিচে, অনেক নিচে তাকিয়ে দেখি শ্বেত শুভ্র হালকা-পলকা মেঘবালিকারাও দল বেঁধে যেন মনের আনন্দে ছুটে চলেছে আপন গন্তব্যে। বেশ কিছুক্ষণ চলার পর ধীরে ধীরে নেমে এলাম সমতলে। শুভ্র সুন্দর বরফের রাজ্যে আনন্দময় কিছু সময় অতিবাহিত করে আমরা আবারও ফিরে চললাম চিরচেনা আপন ভুবন, আপন নিবাস স্যান হোজের দিকে। 

 
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ