আবদুর রহমান বিশ্বাসের ইন্তেকালঃ ক্যালিফোর্ণিয়া বিএনপি'র শোক প্রকাশ

November 5, 2017, 6:08 PM, Hits: 474

আবদুর রহমান বিশ্বাসের ইন্তেকালঃ ক্যালিফোর্ণিয়া বিএনপি'র শোক প্রকাশ

হ-বাংলা নিউজ, হলিউড থেকে: সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুর রহমান বিশ্বাস (৯৩) আর নেই (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্নাইলাইহি রাজিউন)। গতকাল শুক্রবার রাত পৌনে ৯টার দিকে ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে তিনি ইন্তেকাল করেন। তিনি বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন। গতকাল শুক্রবার তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁর বনানীর বাসভবন থেকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুর রহমান বিশ্বাসের মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়ে গণমাধ্যমে বিবৃতি দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ক্যালিফোর্ণিয়া শাখা।

শোকবার্তায় উল্লেখ করা হয়,রাষ্ট্রের অভিভাবক হিসেবে সাবেক রাষ্ট্রপতি আব্দুর রহমান বিশ্বাসের অবদান ছিল অবিস্মরণীয়। তাঁর রাজনৈতিক জীবনের ব্রত ছিল মানবকল্যাণ। এই কারণে তিনি রাজনীতিতে যোগ দেয়ার পর থেকে অসংখ্যবার জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়ে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে আসীন হয়েছিলেন। তিনি ছিলেন জাতীয় রাজনীতিরও একজন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। তাঁর বর্ণাঢ্য জীবনে একজন খ্যাতিমান আইনজীবী ও প্রাজ্ঞ রাজনীতিবিদ হিসেবে তিনি নিজেকে জনমনে কীর্তিমান মানুষের অভিধায় অভিষিক্ত হয়েছিলেন । দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নিজেকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। রাষ্ট্রপতি হিসেবে তাঁর সুযোগ্য নেতৃত্বে বহির্বিশ্বের দেশগুলোর সাথে বাংলাদেশের জনগণের হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ককে তিনি আরো দৃঢ় করেছিলেন। 

গণতন্ত্রের প্রতি তাঁর আন্তরিক নিষ্ঠা তাঁকে একটি স্বতন্ত্র মাত্রা দিয়েছিল। তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনকালে গণতন্ত্রকে সুসংহত করতে এবং সংবিধানের ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে অদম্য সাহসী ভূমিকা পালন করেছিলেন। মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারের সংগ্রামে তিনি ছিলেন আপোষহীন লড়াকু যোদ্ধা। দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক ও মৌলিক অধিকার সুরক্ষায় তিনি যে অবদান রেখেছেন তা গোটা জাতি চিরদিন শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে। আদর্শ ও অঙ্গীকারে অটল এবং দেশ ও মানুষের প্রতি সহমর্মী মরহুম আব্দুর রহমান বিশ্বাস রাজনীতির পাশাপাশি সমাজসেবার নানা কাজের সঙ্গেও আজীবন যুক্ত ছিলেন। বিএনপি’র জন্মলগ্ন থেকেই বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদী দর্শণে উদ্বুদ্ধ হয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দলকে সুসংগঠিত করা এবং সরকারের নানা পদে দায়িত্ব পালন করে দেশের উন্নয়ন কর্মকান্ডে যথাসাধ্য অবদান রেখেছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে শোকাহত পরিবারের সদস্যদের মতো আমরা ক্যালিফোর্ণিয়া বিএনপির কর্মীরা গভীরভাবে ব্যথিত হয়েছি।

প্রসঙ্গত, আবদুর রহমান বিশ্বাস বাংলাদেশের ১১তম রাষ্ট্রপতি ছিলেন। তিনি ১৯২৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর বরিশালের শায়েস্তাবাদ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। আবদুর রহমান বিশ্বাসের স্কুল ও কলেজজীবন বরিশালে কাটে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ (সম্মান) ও ইতিহাস এবং আইনে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। প্রথমে তিনি স্থানীয় সমবায় ব্যাংকের সভাপতি হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। শিক্ষা বিস্তারেরে উদ্দেশ্যে তিনি কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন। এই কাজের জন্য সরকার ১৯৫৮ সালে তাঁকে স্বেচ্ছাসেবী সমাজকর্মী হিসেবে স্বীকৃতি দান করে। 

ষাটের দশকে কিছুদিন বাবুগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। পরে বরিশালে আইন পেশায় জড়িয়ে পড়েন। ১৯৬২ ও ১৯৬৫ সালে তিনি পূর্ব পাকিস্তান আইনসভার সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৬৫ থেকে ১৯৬৯ পর্যন্ত তিনি সংসদ সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৭ সালে তিনি জাতিসংঘের ২২তম সাধারণ সভায় অংশগ্রহণ করেন। ১৯৭৪ ও ১৯৭৬ সালে তিনি বরিশাল বার আসোসিয়েশনের সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৭৭ সালে তিনি বরিশাল পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ১৯৭৯ সালের সাধারণ নির্বাচনে আবদুর রহমান বিশ্বাস সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭৯-৮০ সময়ে তিনি রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মন্ত্রিসভায় পাটমন্ত্রী ছিলেন এবং ১৯৮১-৮২ সালে রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবদুস সাত্তারের মন্ত্রিসভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ছিলেন।

বাংলাদেশে সংসদীয় শাসনব্যবস্থা চালু হওয়ার পর ১৯৯১-এর ৮ অক্টোবর দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন আবদুর রহমান বিশ্বাস। রাষ্ট্রপতি থাকাকালে তিনি দেশের এক সামরিক ক্যু প্রতিহত করেন। ১৯৯৬ সালের ৮ অক্টোবর তাঁর রাষ্ট্রপতি হিসেবে মেয়াদ শেষ হয়। রাষ্ট্রপতি থাকাকালেই ১৯৯৬ সালের এক সেনা ক্যু ঠেকিয়ে দেশবাসীর কাছে যথেষ্ট প্রশংসা কুড়ান। রাষ্ট্রপতির পদ ছাড়ার পর আবদুর রহমান বিশ্বাস রাজনীতি থেকে অবসর নেন। তিনি রাষ্ট্রপতি পদ ছাড়ার আগেই তার নির্বাচনি আসনে বড় ছেলে এহতেশামুল হক নাসিম ১৯৯৬ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৮ সালের ১২ মার্চ ঢাকায় এক বিয়ের দাওয়াতে খাবারের বিষক্রিয়ায় মারা যান নাসিম। এ ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন আবদুর রহমান বিশ্বাস। মৃত্যুর আগে ঢাকার গুলশানের বাসায় কোরআন শরীফ তেলাওয়াত, আল্লাহর জিকির ও মর্নিং ওয়াক করে দিন কেটেছে জনাব আবদুর রহমান বিশ্বাসের।

ক্যালিফোর্ণিয়া বিএনপি'র শোকবার্তায় আরও বলা হয়,সাবেক রাষ্ট্রপতি আব্দুর রহমান বিশ্বাসকে জাতির একজন সাহসী, নির্ভিক, প্রাজ্ঞ ও বরেণ্য ব্যক্তি। তিনি দেশের ক্রান্তিকালে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষার অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে ভূমিকা পালন করেছিলেন। রাষ্ট্রপতি হিসেবে মরহুম বিশ্বাস রাষ্ট্রের সত্যিকারের অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। কোন হুমকি তাঁকে তাঁর কর্তব্যকর্ম থেকে বিচ্যুৎ করতে পারেনি। তাঁর দৃঢ়প্রত্যয় নীতি উত্তর প্রজন্মকে যুগযুগ ধরে প্রেরণা যোগাবে। স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং গণতন্ত্রের আপোষহীন নেত্রী বিএনপি চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ঘনিষ্ঠ সহকর্মী হিসেবে সরকার এবং দলে তাঁর অবদান দেশবাসী ও দল কোনদিন বিস্মৃত হবে না। আমরা মরহুম আব্দুর রহমান বিশ্বাস এর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দূঃখ প্রকাশ করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারবর্গ ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।

ক্যালিফোর্ণিয়া বিএনপি'র সভাপতি মোঃ আব্দুল বাছিত ও সাধারণ সম্পাদক বদরুল আলম চৌধুরী শিপ্‌লু ছাড়াও শোকবার্তায় আরও স্বাক্ষর করেছেন- সৈয়দ দেলোয়ার হোসেন দিলির, নজরুল ইসলাম চৌধুরী কাঞ্চন, খন্দকার আলম, আবুল ইব্রাহিম, মুর্শেদুল ইসলাম, মাহবুবুর রহমান শাহীন, সালাম দাড়িয়া, মানিক চৌধুরী, সাইদ আবেদ নিপু, জহিরুল কবীর হেলাল, অপু সাজ্জাদ, মিশর নুন, মোয়াজ্জেম আহমেদ রাসেল, আলমগীর হোসেন, সৈয়দ নাসিরউদ্দিন জেবুল, লায়েক আহমেদ, বদরুল আলম মাসুদ, মারুফ খান, ইলিয়াস মিয়া, শাহতাব কবীর ভূইয়া শান্ত, শাহীন হক, হোসেন আহমেদ, মিয়াকেল খান রাসেল, মিজানুর রহমান, আমজাদ চৌধুরী দুলাল, রেজাউল হায়দার চৌধুরী, নাঈমুল ইসলাম চৌধুরী, মিল্টন খান, জাভেদ বখ্‌ত, খসরু রানা, ফয়সাল সিদ্দিক, খোরশেদ আলম রতন, রুহুল আমিন বাবু, জিল্লুর রহমান চৌধুরী, আবুল মোতালেব, সাজ্জাদ পারভেজ, হেলাল মজুমদার, ইসলাম উদ্দিন, জুনেল আহমদ, শাহেদ আহমদ, তানভীর আহমেদ, শাহানুর কবীর ভূইয়া, আবদুল হাকিম, কামরুল ইসলাম চৌধুরী, আবু তাহের সাজু, ফুয়াদ, নুর, মঈনুল আহমেদ, সামসুল ইসলাম, ফারুক সরকার, রেজাউল করিম জামিল, এহসান হক, ওমর ফারুক, কামাল হোসেন, মাহবুবুর রহমান, আবদুল কাদির, নজরুল ইসলাম, ইহসান আহমেদ,হুমায়ূন কবীর প্রমুখ। 

 
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ