বেঁচে থাকা মানে শুধুই নিশ্বাস নেওয়া নয়

November 21, 2017, 12:24 PM, Hits: 159

বেঁচে থাকা মানে শুধুই নিশ্বাস নেওয়া নয়

সারা বুশরা: যুক্তরাজ্যপ্রবাসী :  বিদেশিদের সম্পর্কে আমাদের অনেকগুলো ভ্রান্ত ধারণার একটি হলো, এদের বিয়ের স্থায়িত্বকাল খুবই অল্প। শতকরা ৮০ শতাংশ বিয়েই ডিভোর্সে গড়ায়। বার্ধক্যে এসে বেশির ভাগ মানুষ একা একা ওল্ডহোমে কাটান আর মৃত্যুর প্রহর গোনেন। কথাটি শুধু যে ভুল তাই নয়, আমার কাছে বরং এর উল্টোটা সঠিক বলে মনে হয়। আমৃত্যু সততা ও আনন্দের সঙ্গে নিজের জীবনসঙ্গীর হাত ধরে রাখার দৃশ্য আমি আমার প্রবাস জীবনেই বেশি দেখেছি। যে হাত নির্ভরশীলতার হাত, সহমর্মিতার হাত এবং সর্বোপরি বন্ধুত্বের হাত।

গল্প উপন্যাসে পড়েছি, লোকমুখেও শুনেছি ভালোবাসার মানুষের সর্বাধিক প্রয়োজন পড়ে বৃদ্ধাবস্থায়। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে যখন আর চাওয়ার পাওয়ার কিছুই অবশিষ্ট থাকে না, তখন যে মানুষটি সর্বক্ষণ পাশে থাকে সেই যে সবচেয়ে বেশি আপন, এ কথা বলার আর অপেক্ষা রাখে না। আমরা বাংলাদেশে যখন কোনো বৃদ্ধ দম্পতি সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করতে যাই, আমরা বলি, বুড়ো বুড়ি একসঙ্গে বসে পান চিবুচ্ছে, টিভি দেখছে, শীতের চাদর কাঁধে চাপিয়ে একসঙ্গে মর্নিং ওয়াক করে বেড়াচ্ছে। কী প্রেম এই বয়সে বাবা!

হয়তো বলার সময় আমরা ভুলে যাই, আসল প্রেম দেখানোর যথার্থ সময় ওটাই। দুজনের পাশাপাশি বসার দৃশ্য দেখেই আমাদের মনে হয়, এই বয়সে এসে যেন তাদের টান আরও বেড়েছে। সারা জীবন পার করে এসে বুড়ো কালে আদিখ্যেতা দেখানো হচ্ছে। অথচ বাইরের দেশগুলোতে বৃদ্ধ দম্পতিদের এর থেকে অনেক অনেক বেশি অন্তরঙ্গ মুহূর্ত সারাক্ষণই সকল জায়গায় দেখতে পাওয়া যায়। বৃদ্ধ-বৃদ্ধারা দুজন দুজনকে চুমু খাচ্ছেন, বৃদ্ধা-বৃদ্ধর কাঁধে মাথা রেখে বসে আছেন, দুজন দুজনের হাত দুটো শক্ত করে ধরে হেঁটে বেড়াচ্ছেন, এসব সর্বত্র চোখে পড়ে। দৃশ্যটির শুদ্ধতা সব সময় আমাকে বিমোহিত করে এবং ব্যক্তিগতভাবে আমি বিশ্বাস করি এর থেকে সুন্দর আর শালীন দৃশ্য আর দুটি হয় না।

প্রবাসের বৃদ্ধ দম্পতিদের দেখলে নতুন একধরনের রিলেশনশিপ গোল সামনে চলে আসে। কিশোরী বয়সে রোমান্টিক কোনো উপন্যাস পড়ে বা সিনেমা দেখে যেমন প্রার্থনা করতাম যেন আমার জীবনেও এমন প্রেম আসে, ঠিক তেমনি এখন বুড়োবুড়িদের অটুট বন্ধন আর একে অপরের প্রতি মায়া আর ভালোবাসা দেখলে প্রার্থনা করতে ইচ্ছে করে, মৃত্যুকে আলিঙ্গন করার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত আমার হাতটিও যেন পরম নির্ভরতায় কারও হাতটা শক্ত করে ধরা থাকে। সেই অন্তিম জীবনটা যেন বাংলাদেশের বেশির ভাগ বৃদ্ধদের মতো নিরানন্দ না হয়, যেন হতাশায় আর অসুখ বিসুখে বিদীর্ণ না হয়। হ্যাঁ, যা আমাদের দেশেও প্রচুর সফল ও আইকনিক দম্পতি আছেন যারা সারা জীবন ধরে ভালোবাসার অটুট বন্ধনের স্বাক্ষর রেখেছেন। শেষ বয়সেও একে অপরের পরিপূরক হিসেবে আমাদের কাছে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকছেন।

কিন্তু আমাদের দেশের বয়োজ্যেষ্ঠদের মধ্যে সিংহভাগই জীবনের দ্বারপ্রান্তে এসে শুধুমাত্র ধর্ম-কর্ম করে মৃত্যুর জন্য দিন গুনতে থাকেন। জীবন থেকে নতুন কিছু চাওয়ার বা জীবনকে কিছু দেওয়ার ইচ্ছে তারা রাখেন না বা রাখতে চান না। বৃদ্ধ বয়সেও যে নিজের প্রিয় মানুষটিকে নিয়ে জীবনকে উপভোগ করা যায় এটা তেমন করে কেউ আমলেই নেন না। সব হাল ছেড়ে দিয়ে শুধু মরণের অপেক্ষায় দুজন মিলে নামাজ রোজা করে কাটিয়ে দেন। আর এখানেই বাইরের দম্পতিদের সঙ্গে আমাদের দেশের প্রবীণদের পার্থক্য। এরা জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত নিজের জীবনকে ভিন্ন ভিন্ন রূপে সাজাতে চান, সাজাতে জানেন। বেঁচে থাকার, আনন্দ করার ও আনন্দ পাওয়ার স্পৃহাতে কখনোই তারা ভাটা পড়তে দেন না। বেঁচে থাকার প্রেরণা তারা নিজেরা খুঁজে বের করেন। তাদের দেখলে মনে হয়, জীবনটা সত্যি সুন্দর।

এ রকমই এক দম্পতির গল্প আজ বলব।

কয়েক বছর আগে আমি ও আমার স্বামী লেক ডিস্ট্রিক্টে বেড়াতে গিয়েছিলাম। জায়গাটা ইংল্যান্ডের মধ্যে হলেও, ঠিক স্কটল্যান্ড বর্ডারের পাশেই। তাই স্কটল্যান্ডের চোখ ধাঁধানো মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্যের অনেকটাই লেক ডিস্ট্রিক্টের মধ্যেও বিদ্যমান। পাহাড়ের খাঁজে খাঁজে একেবেঁকে গিয়েছে বিশাল কিছু লেক। যে একবার যাবে সে আবারও যেতে চাইবে, সেরকম সুন্দর জায়গা। আমরা ঠিক করলাম এবার আর আমরা শহরের কোনো হোটেলে থাকব না, বরং ছোট কোনো গ্রামের একটা কটেজে থাকব। যাতে প্রকৃতিকে একবারে কাছ থেকে দুই চোখ ভরে থেকে অবলোকন করা যায়। যেন ঘুম থেকে উঠে চোখ মেলে জানালা দিয়ে বাইরে তাকালেই মনটা ভালো হয়ে যায়।

যেরকম ভাবা সেরকম কাজ। অনলাইনে অনেক খুঁজে পেতে পছন্দ হলো কাম্ব্রিয়ার ছোট্ট একটি গ্রামের ভেতর একটি দুই শ পুরোনো পুরোনো হাউস বা কটেজ। যার ভেতরটা নতুন করে রিফ্যাব্রিশ করা। নাম এপ্রিল কটেজ। বিস্তৃত মাঠের পাশে সাদা ইটের ছোট্ট বাড়িটি সবুজের ভেতর শুভ্রতার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে যেন। বুকিং দিয়ে দিলাম এবং নির্ধারিত দিনে যথাসময়ে পৌছে গেলাম এপ্রিল কটেজ নামের সেই বাড়িটিতে।

আমাদের অভ্যর্থনা জানাতে হাসিমুখে বেরিয়ে আসলেন একজন বৃদ্ধ। জানালেন তিনি ও তার স্ত্রী দুজন মিলে কটেজটি চালান। কটেজটির মালিকও তারাই। মোট চারটি বেডরুম আছে কটেজটিতে। একটিতে তারা থাকেন, বাকি তিনটি ভিজিটরদের জন্য। আমরা চাবি নিয়ে রুমে ঢুকতে যাব তখন বৃদ্ধের স্ত্রী এলেন। তিনিও যথেষ্ট আন্তরিক। আমাদের রুম বুঝিয়ে দিয়ে যাত্রা কেমন হলো, কোনো অসুবিধা হয়েছে কিনা ইত্যদি খোঁজ খবর নিলেন। শহরের প্রধান কিছু দ্রষ্টব্য স্থানগুলো ছাড়াও আশপাশের গ্রামগুলোতে কী কী দেখার মতো জায়গা আছে সেগুলো সম্পর্কে প্রাথমিক একটা ধারণা দিলেন এবং কোনো কিছু দরকার লাগলে যেন নিঃসংকোচে তাদের জানাই সেটাও বলে দিলেন।

আমরা ফ্রেশ হয়ে যখন নতুন জায়গা এক্সপ্লোর করব বলে বেরোচ্ছি তখন দুজনের সাথে আবার দেখা হলো। এবার অনেকক্ষণ তাদের সঙ্গে গল্প হলো। তাদের কাছেই শুনলাম তাদের ছেলেমেয়ে-নাতি-নাতনি সবাই শহরে থাকে। প্রত্যেকে স্ব স্ব ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত। বিশেষ বিশেষ অকেশনে তাদের সঙ্গে দেখা হয়। বাকি সারা বছর বুড়ো-বুড়ি এখানেই থাকেন। খুব সুখী তারা। কটেজে পুরো বছর ধরেই কমবেশি অতিথিদের যাওয়া আসা লেগে থাকে। বিভিন্ন রকমের লোক আসেন থাকতে। তাদের সান্নিধ্য পান, গল্প করতে পারেন, নতুন নতুন দেশের লোকের সঙ্গে পরিচিত হতে পারেন, সেই সঙ্গে রুমগুলো ভাড়া দিয়ে ইনকামটাও মন্দ হয় না। সব কাজ নিজেরা করেন এবং আনন্দ নিয়ে করেন। সব ব্যাপারে ভীষণ উৎসাহ ও উদ্দীপনা।

প্রাণশক্তিতে ভরপুর এই বৃদ্ধ দম্পতিকে ভীষণ ভালো লাগল আমাদের। বয়স সত্তর-পঁচাত্তরের কম হবে না। তবে দুজনই প্রচণ্ড ফিট। বার্ধক্য গ্রাস করতে পারেনি একবিন্দু। বুড়ো আবার খুব রসিক। সব কথার মধ্যে একটা হাসির কিছু জুড়ে দিয়ে পুরো আড্ডার পরিবেশকে আলোকিত করে তুলতে পারেন। একপর্যায়ে খাবার নিয়ে কথা উঠল। কটেজটিতে রুমের সঙ্গে ব্রেকফাস্ট অ্যাডেড মানে ফ্রি ব্রেকফাস্ট পরিবেশন করা হবে। বৃদ্ধা জানালেন, তিনিই সেটা তৈরি করেন। আমরা রোজার দিনে গিয়েছিলাম। তাদের বললাম আমাদের ব্রেকফাস্টের প্রয়োজন নেই, আমরা ফাস্টিং করছি।

তারা রোজার নিয়ম অতি আগ্রহ নিয়ে জানতে চাইলেন। পুরোটা শুনে দুজনই প্রায় একসঙ্গে বললেন, তার মানে তোমরা দুটো মিল খেতে অ্যালাউড। তাহলে তোমরা মিডনাইটে যেটা করো সেটাই ব্রেকফাস্ট। ওটাই তাহলে তোমাদের আমরা পরিবেশন করব। আমরা নিষেধ করতে গেলাম তখন তারা যুক্তি দিলেন, আমরা অলরেডি অনলাইনে পেমেন্ট করেছি বেড ও ব্রেক ফাস্ট হিসেবে তাই এখানে না বলার কোনো অবকাশ নেই। এবার আর অসম্মতি জানাতে পারলাম না।

গ্রীষ্মকালে ইংল্যান্ডের রোজাগুলো ১৮ ঘণ্টার একটু বেশি। রাত ৯টার পর ইফতার হয়। ততক্ষণ দিনের আলো থাকে। যা হোক, সারা দিন রোজা রেখে প্রচুর ঘোরাঘুরি করে কটেজে ফিরতে ফিরতে প্রায় ৯টাই বেজে গিয়েছিল আমাদের। আসার সময় চিপস, শুকনো কেক—এ রকম হালকা কিছু খাবার সেহরিতে খাবার জন্য নিয়ে এসেছিলাম। আমরা কটেজে ঢুকতেই বৃদ্ধ ভদ্রলোক বললেন, তোমাদের ব্রেকফাস্ট কি এখন সার্ভ করব? রাত ৯টার সময় ব্রেকফাস্ট শব্দটি শুনতে খুব অদ্ভুত লাগছিল। তারপরও হেসে সায় দিয়ে বললাম, প্লিজ, যদি তোমাদের খুব কষ্ট না হয়। নট এট অল বলে বুড়ো গুনগুন করে গান গাইতে গাইতে কিচেনে চলে গেলেন।

কটেজটির ডাইনিং রুমটিও দেখার মতো। তাদের সারা জীবনের বহু অবিস্মরণীয় মুহূর্তের স্মৃতি তারা ফ্রেমবন্দী করে সাজিয়ে রেখেছেন। সঙ্গে আছে নানা দেশ থেকে সংগ্রহ করা বিভিন্ন শেপের অস্ত্র, বেশ কিছু স্মারক ও দারুণ সব পেইন্টিংস। সেগুলো দেখতে দেখতে খাবার সময়টা ভালোই পার হয়ে গেল। তাদেরকে ধন্যবাদ দিয়ে নিজেদের রুমে চলে যাওয়ার জন্য পা বাড়াতেই বৃদ্ধা এসে জানালেন তাদের লিভিং রুমও তারা অতিথিদের এন্টারটেইনমেন্টের জন্য রেখেছেন। তারা সেখানে বসে টিভি দেখতে পারে, আড্ডা দিতে পারে, মিউজিক শুনতে পারে। পাশের রুমের একজন অতিথি সেখানে বসে হাইভলিউমে অলরেডি টিভি দেখছেন বুঝতে পারলাম। লিভিং রুমটা দেখার বাসনা ছিল কিন্তু আমরা খুবই ক্লান্ত ছিলাম তাই সেদিন আর সেখানে বসা হলো না।

পরদিন সকালে উঠে সবার আগে লিভিং রুমে গেলাম। গিয়েই মুগ্ধ হয়ে গেলাম। লিভিং রুমের জানালা দিয়ে এই ছোট্ট গ্রামটার একাংশ দেখা যাচ্ছে। ব্রিটিশ গরু আর ভেড়ার পাল মাঠে চড়ে বেড়াচ্ছে, দূরে দেখা যাচ্ছে ছোট বড় কিছু পাহাড়। ভোরের নরম আলোয় অসম্ভব মায়াবী লাগছে পুরো দৃশ্যটা। এক মুহূর্তের জন্য মনে হলো, এ রকম একটা জায়গায় যারা জীবনটা কাটাতে পারছেন তারা কত ভাগ্যবান। প্রকৃতির মাঝে মিশে যেতে পারছেন। জীবনকে প্রাণ ভরে উপভোগ করছেন। একাকিত্বের বেদনা ও যন্ত্রণা কোনোটাই তাদের স্পর্শ করতে পারছে না। তারা দুঃখকে জয় করেছেন, জয় করছেন বয়সকেও। নিজেদের মনে ইচ্ছে মতো গুন্ গুন্ করে গান গাইতে পারেন। একসঙ্গে বাজার করেন, রান্না করেন, প্রতিদিন সকালে গেস্টরুম গুলো ক্লিন করেন, নিজ হাতে পুরোনো চাদর বালিশের কভার চেঞ্জ করে নতুন লাগিয়ে দেন। ঘর সাজান, সাজান বাগানকেও। অন্যদের শোনান তাদের জীবনের গল্প, বৈচিত্র্যময় সব অভিজ্ঞতার কাহিনি।

এভাবেই দিব্যি কেটে যায় তাদের জীবন। কোনো আলস্য নেই, নেই কিছু হারিয়ে যাওয়ার বা না পাওয়ার বেদনা। না আছে আরও প্রতি কোনো অভিযোগ-অনুযোগ, না কোনো কিছুর পাওয়ার প্রত্যাশা। নিজেদের নিয়েই খুশি তারা। নিজেদের মধ্যেই খুঁজে নিয়েছেন সানন্দে বেঁচে থাকার সার্থকতা। শেষ দিন যখন তাদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে গাড়িতে উঠলাম মনটা বিষণ্ন বেদনা বিধুর হয়ে গেল। পেছনে তাকিয়ে দেখি বৃদ্ধার কাঁধে তার স্বামী হাত রেখে দাঁড়িয়ে আছেন। কিছু একটা বলছেন। দুজনের মুখ দুটো বেশ হাসি হাসি। বুঝতে পারলাম দুঃখকে তারা কখনোই তাঁদের স্পর্শ করতে দেবেন না। আবার আরেকটি নতুন পরিবার আসবে। তাদের নিজেদের ভালোবাসার গল্প শোনাবেন, তাদের কাছ থেকে তাদের জীবনের, সংস্কৃতির, ধর্মের ও দেশের গল্প শুনবেন। নিজেরা সমৃদ্ধ হবেন, তাদের সমৃদ্ধ করবেন। এভাবেই সেলিব্রেট করে যাবেন জীবনকে।

মোট তিন দিন ছিলাম। তিন দিনেই যতবার তাদের সঙ্গে কথা বলেছি আর তাদের হাসি আনন্দে ভরা চোখ মুখ দেখেছি ততবার নতুন করে জীবনের দুটো সার কথা অনুভব করেছি। এক, বেঁচে থাকা মানে শুধুই নিশ্বাস নেওয়া নয়, সর্ব অবস্থায় জীবন যাপনকে উপভোগ্য করে তুলতে পারাই হলো বেঁচে থাকা। আর দুই, এই বেঁচে থাকার জন্য একজন খাঁটি জীবন সঙ্গী অপরিহার্য। যে সঙ্গীটি যৌবনের সফল বা গ্ল্যামারাস দিনগুলো শেষ হয়ে যাওয়ার পরও ভালোবাসতে জানে, পাশে থাকতে জানে। আর নিজের এই জানাটা, এই উপলব্ধিটা নিজের আপনজনদের সঙ্গে, নিজের দেশের মানুষের সঙ্গে শেয়ার করার ইচ্ছেকে দমন করতে পারলাম না।

আমি জানি, বাংলাদেশে দ্বিতীয়টি মানে জীবনসাথিরা আমৃত্যু সঙ্গ দান ও সহমর্মিতায় কখনো কার্পণ্য করেন না। কিন্তু প্রথমটির এখনো বড় অভাব। বেঁচে থাকাটাকেই যে বড্ড ভারী করে তোলেন তারা কষ্ট ও হতাশা মনে পুষে রেখে। যে যেমন আছেন, যে অবস্থায় আছেন, যতটুকু নিয়ে আছেন সেটুকুতেই যদি পরিতৃপ্ত হয়ে তার মধ্যে সুখ খুঁজে জীবনকে হালকা করে তুলতে পারেন, তাহলে অনেক দিক দিয়ে লাভবান তো হবেনই, সেই সঙ্গে তারা অসুস্থতাও জয় করে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকতে পারবেন বলে আমি বিশ্বাস করি। উন্নত দেশগুলোতে মানুষ বহুদিন বাঁচে যার অন্যতম কারণ হলো জীবনের প্রতি তাদের পজিটিভ দৃষ্টিভঙ্গি। এই মনোভাব যদি আমরা আমাদের দেশের বয়োজ্যেষ্ঠদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে পারি, তাহলে দেরিতে হলেও বাংলাদেশের বৃদ্ধ দম্পতিরা ওই এপ্রিল কটেজের দম্পতির মতো জীবনকে নতুন ভাবে মূল্যায়ন করতে পারবেন। এক অপূর্ব সুখে নিজেরা অভিভূত হবেন, আমাদেরও অভিভূত করবেন।

 
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ