আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের পরিণতি কী?

November 23, 2017, 9:40 AM, Hits: 87

আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের পরিণতি কী?

এর আগের পর্বে পরীক্ষায় যৌক্তিক সমন্বয় (Reasonable adjustment) নিয়ে লিখেছিলাম। এক পর্বে অনেক সময় অনেক কিছুই বিশদভাবে লেখা সম্ভব হয় না। কারণ সীমিত শব্দের ভেতর প্রতিটি আর্টিকেল শেষ করতে হয়। কিন্তু এই লেখার পরবর্তী অংশ সুপ্রিয় পাঠক ইসহাকের মন্তব্যে পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে। আপনারা যারা তার মন্তব্য পড়েননি দয়া করে একটু পড়ে নিলে ভালো হয়। গৎবাঁধা প্রশ্ন আর পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের মধ্যে আমি কোনো তফাৎ দেখি না। পরীক্ষায় এক বছর একটি প্রশ্ন না এলে পরের বছর সেই প্রশ্ন আসবেই আসবে। না হয় এর পরের বছর।

নিউজ ফিড থেকে গত সপ্তাহে পড়া একটি গল্প উল্লেখ করতে চাই। গল্পটা কোন অনলাইন নিউজ পোর্টালে প্রকাশিত হয়েছে মনে নেই। এতটুকু মনে আছে এটি একটি পোর্টালে প্রকাশিত হয়েছে। আমাদের দেশে আজকাল অনেক অনেক পত্রিকা ও অনলাইন পোর্টাল। কোনটার নাম মনে রাখব আর কোনটার নাম মনে না রাখলেও চলবে অনেক সময় বুঝে ওঠা মুশকিল। আমি আবার মস্তিষ্কের মেমোরির টিস্যুগুলো অযথা নষ্ট করতে চাই না। পাঠকের চেয়ে পত্রিকা ও পোর্টালের সংখ্যা বেশি না হলেই হলো! এটা কিন্তু খারাপ কিছু নয়। বেশি বেশি পত্রিকা ও পোর্টাল থাকা জাতির প্রগাঢ় ও অভিজাত মননের বহিঃপ্রকাশ। বাংলা ভাষায় এখন একটি শীতল হাওয়া বহমান। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আরেকটি নোবেল পুরস্কার আসুক, তাই চাই।

আমাদের দেশে যত পত্রিকা ও অনলাইন পোর্টাল, ইংল্যান্ডে তত পত্রিকা ও অনলাইন পোর্টাল যে নেই তা নির্দ্বিধায় বলতে পারি। ইংল্যান্ডে যারা লেখক অথবা যারা মিডিয়ায় কাজ করেন তারা আবার অনেক অর্থ উপার্জন করেন। লেখকদের চাহিদা অনেক বেশি। বেশি বেশি পত্রিকা বা অনলাইন পোর্টাল মানে বেশি বেশি চাহিদা। আর বেশি বেশি চাহিদা মানে লেখকদের বেশি বেশি অর্থ উপার্জনের কথা। কিন্তু আমাদের দেশে আমার মতো লেখকদের অর্থনৈতিক দৈন্যতা নতুন নয়। এই আধুনিক প্রযুক্তির যুগে পত্রিকা ও অনলাইন পোর্টালের সম্পাদক মহোদয়েরা আরও বেশি বেশি করে নতুনত্ব নিয়ে আসলে বিজ্ঞাপনেও হয়তো একটা বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসত। অনলাইন পোর্টালগুলো দেশে বিদেশে যত বেশি পাঠক পড়বেন, তত বেশি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিজ্ঞাপনের বাজার সৃস্টি হবে গুগল ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক মিডিয়া থেকে। তা বলে দেওয়া জরুরি নয়।

যা হোক, নিউজফিডে পড়া গল্পটা লিখেছেন একজন শিক্ষক অথবা সাবেক শিক্ষক। আজ থেকে ২০ বৎসর আগের ছোট একটি গল্প। তিনি গর্বভরে লিখেছেন, পরীক্ষার হল থেকে কত ছাত্রছাত্রীদের বহিষ্কার করেছেন তিনি। এ রকমও রেকর্ড আছে তার, কোনো কোনো দিন তিনি ২০ থেকে ২৫ জন ছাত্রছাত্রীকে বহিষ্কার করেছেন। এক ছাত্রী নাকি করজোড়ে তাকে অনুরোধ করেছিল যে বহিষ্কার মানে তার বিয়ে ভেঙে যাওয়া, কিন্তু তিনি তাকে রেহাই দেননি। এত দিন পরে তার মনে পড়েছে ছাত্রীটির চেহারা, মেয়েটির কান্না মাখা সেই চেহারা তার চোখের সামনে ভেসে উঠছে। গল্পটির সমালোচনা লেখার ভাষা আমার জানা নেই!

কী বলে আমাদের পরীক্ষা ব্যবস্থার সমালোচনা করব! আমার হৃদয় চলে যায় সেই সব ছাত্রছাত্রীদের প্রতি যাদের তিনি বহিষ্কার করেছেন। নিশ্চয়ই তাদের লেখাপড়া করা হয়নি আর! সে জন্য কে বা কারা দায়ী? সেই শিক্ষক একা দায়ী নন নিশ্চয়! তিনি গৌরবের সঙ্গে স্মরণ করেছেন সেই ঘটনা। কিন্তু তিনি আফসোস করছেন না তাদের জন্য, যাদের লেখাপড়া শেষ হয়ে গেল সেই দিনই।

গর্ব করে গল্প করার মতো বিষয় এটি অবশ্যই নয়। আমাদের দেশে পরীক্ষায় থাকে গৎবাঁধা প্রশ্নপত্র। তাই সেগুলো হয়তো ছাত্রছাত্রীরা মুখস্থ করবে নয়তো নকল করবে। অন্যদিকে পরীক্ষার আগেই প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে যাওয়া। গৎবাঁধা প্রশ্ন করা আর প্রশ্ন ফাঁস করা একই কথা। ইংল্যান্ডে আইনশাস্ত্রে অধ্যয়ন করে আমার অভিজ্ঞতায় দেখেছি, পরীক্ষার হলে বই নিয়ে ঢুকে সারা দিন খোঁজাখুঁজি করলেও উত্তর খুঁজে পাওয়া যাবে না। এখানে প্রতিটি বিষয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে শিক্ষা দেওয়া হয় এবং পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা নেওয়া হয়। ছাত্রছাত্রীরা নির্ধারিত বিষয়ে কতটুকু জ্ঞানার্জন করেছেন তা পরীক্ষা করার উদ্দেশ্যেই প্রশ্নপত্র তৈরি করা হয়।

আমাদের দেশের যৌক্তক সমন্বয়ের কথা কখনো শুনিনি। বরং পরীক্ষার সময়ে থাকবে নানাবিধ সমস্যা। দু-একটি উদাহরণ দিতেই হয়! নিজের অভিজ্ঞতা দিয়ে শুরু করি। কিছুদিন আগে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সৌভাগ্য হয়েছিল আমার। বাংলাদেশের যেকোনো পরীক্ষায় অংশ নেওয়াই বস্তুত সৌভাগ্যের ব্যাপার। কারণ এগুলোতে থাকে উত্তেজনা।

 

 
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ