নিউইয়র্ক সাবওয়ের ঘোষণা আরও মানবিক হচ্ছে

November 23, 2017, 11:35 AM, Hits: 144

নিউইয়র্ক সাবওয়ের ঘোষণা আরও মানবিক হচ্ছে

হ-বাংলা নিউজ:  নিউইয়র্কের সাবওয়ে ভ্রমণের সময় আগের মতোই শোনা যাবে গান কিংবা নাক ডাকার শব্দ। এসব অনুষঙ্গ অনেকটা অবিকৃতভাবে থেকে যাবে, যেমন আগেও ছিল। কিন্তু বদলে যাবে ঘোষণা। আগের মতো আর ‘ভদ্রমহিলা ও ভদ্রমহোদয়গণ’ বলে কোনো ঘোষণা শোনা যাবে না সাবওয়েতে। এ ঘোষণা বদলে আরও লিঙ্গনিরপেক্ষ হয়ে উঠবে। নিউইয়র্কের মেট্রোপলিটন ট্রান্সপোর্টেশন অথরিটি (এমটিএ) এমন উদ্যোগই নিয়েছে।

নিউইয়র্কের গণপরিবহন ব্যবস্থাকে আরও বেশি লিঙ্গনিরপেক্ষ করে তুলতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে এমটিএ। এ উদ্যোগের আওতায় শুরুতেই বদলে ফেলা হচ্ছে সাবওয়ের ঘোষণাটি। বর্তমানে সাবওয়েতে যাত্রীদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য ঘোষণার শুরুতেই ‘ভদ্রমহিলা ও ভদ্রমহোদয়গণ’ বলে সম্বোধন করা হয়। এ ঘোষণাটি বদলে ‘সবাইকে শুভ সকাল’ কিংবা ‘প্রিয় যাত্রীরা’ করা হবে অচিরেই। এরই মধ্যে এ ঘোষণা শুরু হয়ে গেছে। এর সঙ্গে রয়েছে আরও বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন।

নিউইয়র্ক টাইমস-এর ১৩ নভেম্বরের প্রতিবেদনের তথ্যমতে, এখন থেকে সাবওয়ের ঘোষণায় বিশেষ দিবসগুলোও যাত্রীদের স্মরণ করিয়ে দেওয়া হবে। উদাহরণস্বরূপ নির্বাচনে ভোট দেওয়া, কিংবা সৈনিক দিবস সম্পর্কে সবাইকে সচেতন করে দেওয়া। পাশাপাশি বিভিন্ন স্টপেজে নামার আগে ওই স্থানের বিশেষ দর্শনীয় স্থানগুলোও যাত্রীদের মনে করিয়ে দেওয়া হবে। আর সবচেয়ে বড় পরিবর্তনটি আসছে স্বয়ংক্রিয় ঘোষণার বিষয়ে। মনোযোগ দিয়ে শুনলে দেখা যাবে, সাবওয়ের ঘোষণায় স্বয়ংক্রিয় কণ্ঠের বদলে বাস্তব মানুষের কণ্ঠই বেশি শোনা যাচ্ছে।

দিনের শুরুতে সাবওয়ের যাত্রীরা হয়তো শুনতে পাবেন, ‘সব যাত্রীকে শুভ সকাল। ট্রেন চলার সময় নির্দ্বিধায় চলাচল করুন, কিন্তু দয়া করে দরজা খোলা রাখবেন না।’ অথবা বাজে আবহাওয়ার দিন শুনতে পারেন, ‘হ্যালো। আজ সাবওয়ে ফ্লোর ও স্টেশন প্ল্যাটফর্ম কিছুটা পিচ্ছিল থাকতে পারে। ট্রেনে চড়া ও নামার সময় এবং সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামার সময় সাবধান থাকুন।’

এসবই চলতি মাসের শুরুতে বিভিন্ন পরিবহনকর্মীর কাছে এমটিএর পাঠানো প্রচারপত্রে তুলে ধরা উদাহরণ। এমটিএ সাবওয়ের ঘোষণাকে আরও বেশি মানবিক, লিঙ্গ নিরপেক্ষ ও বর্ণনাধর্মী করতে চাইছে বলে ওই প্রচারপত্রে উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে সাবওয়েতে যাত্রী ভোগান্তি কমাতে এমটিএ চাইছে তার কন্ডাক্টররা প্রকৃত তথ্য আরও সবিস্তারে তুলে ধরুক। উদাহরণস্বরূপ, কোনো ট্রেন আসতে কেন দেরি হচ্ছে, ঠিক কতটা দেরি হবে ইত্যাদি তথ্য কন্ডাক্টররা যেন তুলে ধরেন সে নির্দেশনা দিয়েছে এমটিএ। পাশাপাশি নিউইয়র্কের রাস্তায় আবারও স্ট্রিটকার চালুর কথাও চিন্তা করা হচ্ছে। ১৮৩২ সালে প্রথম চালুর পর দীর্ঘদিন ধরেই নিউইয়র্কের গণপরিবহন ব্যবস্থার অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল ঘোড়ায় টানা এ গাড়িগুলো। তবে এখন নতুন আঙ্গিকে আধুনিক স্ট্রিটকার চালুর কথা ভাবা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে কুইন্স ও ব্রুকলিনের মধ্যে এসব স্ট্রিটকার চলাচল করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত নয়।

এ বিষয়ে এমটিএর মুখপাত্র জন ওয়েনস্টেইন নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন, ‘যাত্রীদের সঙ্গে যোগাযোগের প্রক্রিয়াটি আমরা পুরোপুরি বদলে ফেলছি। নিউইয়র্কের গণপরিবহন ব্যবস্থায় এটি বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে। মূলত গ্রাহকদের আরও স্পষ্ট ও বিস্তৃত সরবরাহ করতেই আমরা এটা করছি। আমরা চাই যাত্রীদের সঙ্গে আরও উন্নত যোগাযোগ গড়ে তুলতে।’ 

 
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ