গাছ আছে রসও আছে, গাছিরা গেল কই?

November 26, 2017, 9:03 AM, Hits: 3105

গাছ আছে রসও আছে, গাছিরা গেল কই?

গাছ আছে, রসও আছে; কিন্তু গাছ কাটার গাছি নেই। তাই প্রতি বছর শীতের সময় দূর থেকে রস কিনে এনে পিঠে-পায়েশ খাওয়াতে হয় আত্মীয়স্বজনদের। তার মধ্যে অর্ধেকটা থাকে পানি। অথচ নিজের ভিটার পাশে রয়েছে পঁচিশটি খেজুরগাছ।’ গতকাল দুপুরে বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার টেকের বাজারের অশীতিপর বৃদ্ধ রঞ্জিত রায় একটি দোকানের সামনে বসে আক্ষেপ করে এ কথাগুলো বলছিলেন।

তিনি আরো জানান, তার গ্রাম ও ইউনিয়নসহ চিতলমারী উপজেলায় প্রায় ১০ হাজার খেজুরগাছ রয়েছে। আজ থেকে ১২ বছর আগে শীত মওসুমে গাছিরা এসব গাছ পরিষ্কার করে কেটে তা থেকে রস আহরণ করতেন। প্রচুর রস হতো। প্রতিদিন গাছিকে দিয়ে যে অর্ধেকটুকু পেতেন তা দিয়ে শীতের সময় পিঠে-পায়েশ খেয়ে সারা বছরের গুড় বানিয়ে রাখতেন। সে ঘটনা এখন গল্প হয়ে গেছে। এখন শীতের সময় নাতি-নাতনীদের দূর-দূরান্ত থেকে প্রতি লিটার রস ৫০ টাকা দরে কিনে এনে পিঠে-পায়েশ খাওয়াতে হয়। তার মধ্যে অর্ধেকটা থাকে পানি। তা দিয়ে পিঠে-পায়েশ বানালে আগের মতো আর স্বাদ লাগে না। 

কুরমুনি গ্রামের বলরাম বিশ্বাস ও আবুল কালাম আজাদ জানান, নিজেদের গাছ থাকতেও তারা আর আগের মতো পিঠে-পায়েশ খেতে পারেন না। গাছিরা কোনো কিছুর বিনিময়ে এখন খেজুরগাছ কাটতে চান না।

এ ব্যাপারে কুরমুনি গ্রামের বাবু রাম বালা, সুরশাইলের চুবন মণ্ডল ও পাটরপাড়া গ্রামের কালাচাঁদ গাছি জানান, এখন গাছ কেটে যে রস ও গুড় পাওয়া যায় তা দিয়ে সংসারের খরচ চালানো সম্ভব নয়। কারণ যে হারে নিত্যপ্রয়োজনী দ্রব্যমূল্য বেড়েছে তাতে অন্য পেশায় না গিয়ে উপায় নেই। চিতলমারী বাজারের প্রবীণ গুড় ব্যবসায়ী সুমন্ত বসু ও বাবুল শিকদার জানান, এ উপজেলায় প্রতি বছর প্রায় দেড় শ’ টন খেজুরের গুড়ের চাহিদা রয়েছে, যা খুলনা ও যশোরর বিভিন্ন এলাকা থেকে এনে বিক্রি করতে হয়। বাগেরহাট বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা চিন্ময় মধু জানান, চিতলমারী উপজেলায় কমপক্ষে ১০ হাজার খেজুরগাছ রয়েছে। যা ঠিকমতো গাছিরা পরিচর্যা করলে বছরে শতাধিক টন খেজুরের গুড় উৎপাদন হতো।

বাগমারায় মাচায় লাউ চাষে সাফল্য

আবু বাককার সুজন বাগমারা (রাজশাহী)

রাজশাহীর বাগমারায় কৃষকদের মধ্যে মাচায় লাউ চাষের আগ্রহ ক্রমেই বাড়ছে। আকারে বড় ও সুন্দর, উৎপাদন বেশি, বাজারে কাটতি ও তুলনামূলক বেশি দাম পাওয়ায় এ অঞ্চলের কৃষকেরা এখন মাচায় লাউ চাষ করছেন। তা ছাড়া সাধারণ লাউয়ের চেয়ে বেশি সময় ধরে উৎপাদন ও অনেকটা পচনরোধী হওয়ায় কৃষকেরা এখন মাচায় লাউ চাষে ঝুঁকেছেন।

জানা যায়, কম্পো নদী, হিরা নদী, ফকিন্নী নদী ও বারানই নদীবিধৌত এলাকা হওয়ায় সেচসুবিধার কারণে এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় রাজশাহীর বাগমারায় নানা ধরনের ফসলের পাশাপাশি উপজেলার সর্বত্রই লাউ চাষ হয়। এলাকার চাহিদা মিটিয়ে এসব লাউ রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্রি হয়। কিন্তু আগে এ লাউ চাষ হতো মাটির ওপর খড় বা অন্যান্য অবর্জনা বিছিয়ে। বর্তমানে কয়েক বছর ধরে মাচায় লাউ চাষ করা হচ্ছে। এ বছর সবচেয়ে বেশি মাচানে লাউ চাষ হয়েছে বাগমারার গনিপুর, আউচপাড়া, শুভডাঙা, বাসুপাড়া, নরদাশ, সোনাডাঙা, কাচারী কোয়ালীপাড়া, ঝিকরা, মাড়িয়া ও হামরিকুৎসা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায়। এ ছাড়া সম্প্রতি ভবানীগঞ্জ ও তাহেরপুর পৌর এলাকার কৃষকেরাও ব্যাপকহারে মাচায় লাউ চাষ শুরু করেছেন।

উপজেলার ঝিকরা ইউনিয়নের মরু গ্রামের মাচায় লাউচাষি মানিক জানান, মাচায় চাষ করা হলে নিচের দিকে ঝুলে থাকায় লাউ আকার বড় হয়। ছায়ায় লাউ গাঢ় সবুজ রঙের হয়। এতে তুলনামূলক বাজারে কাটতি ও দামও বেশি পাওয়া যায়। গোয়াকান্দি ইউনিয়নের তেলিপুকুর গাঙ্গোপাড়া এলাকার কৃষক আসাদুল জানান, মাটির ওপর খড় বা অন্যান্য আবর্জনা বিছিয়ে চাষ করা হলে গাছ তাড়াতাড়ি মরে যায়। ফলে উৎপাদনও কম হয়।

কারণ একটু বৃষ্টি হলেই জমিতে পানি জমে গিয়ে গাছের লাউ দ্রুত পচে নষ্ট হয়ে যায় এবং একপর্যায়ে গাছও মরে গিয়ে ক্ষেত উজাড় হয়ে যায়। কিন্তু মাচায় চাষ করা হলে অতিবৃষ্টিতেও ক্ষেতের কোনো ক্ষতি হয় না। ফলে দীর্ঘ দিন গাছ টিকে থাকে এবং অধিক সময় পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়। এ কারণে পুরনো পদ্ধতিতে লাউ চাষে কৃষকদের এখন আর তেমন আগ্রহ নেই।

ভবানীগঞ্জ পৌরসভার নাজিরপুর গ্রামের কৃষক শাহাদত হোসেন জানান, গত বছর ১৫ শতক জমিতে মাচানে লাউ চাষ করে তিনি ১৫ হাজার টাকা লাভ করেছেন। এ কারণে এবার তিনি এক বিঘা ১০ শতক জমিতে মাচানে লাউ চাষ করেছেন।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, বাগমারায় এ বছর মোট ৯২৫ একর জমিতে লাউ চাষ হয়েছে। এর মধ্যে ২১২ একর জমিতে খড় ও অন্যান্য আবর্জনা বিছিয়ে এবং ৭১৩ একর জমিতে মাচায় চাষ করা হয়েছে। 

 
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ