কোটি বাঙ্গালীর স্বাধীনতার চেতনায় মুখর সারাবিশ্ব

December 14, 2017, 7:25 PM, Hits: 525

কোটি বাঙ্গালীর স্বাধীনতার চেতনায় মুখর সারাবিশ্ব

খন্দকার ইমতিয়াজ আহমেদ ইমু, হ-বাংলা নিউজ, হলিউড থেকে:  বিজয়ের মাস ডিসেম্বর, আমাদের গৌরবের মাস। যাদের জন্য আমাদের এই গৌরব,তারা আমাদেরই আশেপাশে,আমাদেরই স্বজন,আমাদের আত্মার আত্নীয়,আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের অকুতোভয় যোদ্ধা,যারা অনেকেই আমাদের মাঝে আর নেই,অনেকেই তাদের জীবন উৎসর্গ করে গেছেন যুদ্ধ ক্ষেত্রে। আবার অনেকেই চলে গেছেন না ফেরার দেশে নীরবে,আমাদেরই অজান্তে,হয়ত তারা স্বাধীনতার সুফল ভোগই করেননি,আমরা দিতে পারিনি যথার্থ সম্মান,আমরা ক্ষমা চাই।তাদের জন্য আমাদের বিনম্র শ্রদ্ধা।

আমাদের মহান মুক্তিযাদ্ধাদের অনেকেই বেঁচে আছেন ক্ষোভ,কষ্ট,জ্বালা,অযত্ন আর অবহেলায়। অপেক্ষায় আছেন জীবন প্রদীপের শেষ শিখাটি নিভবার,যারা এখন বয়স ষাট উর্ধ্ব,যাদের কোন চাওয়া পাওয়া নেই, এইসব অকুতোভয় বীর মুক্তিযাদ্ধাদের সেইদিনের চাওয়া ছিল 'দেশ স্বাধীন' আর যুদ্ধপরাধী মুক্ত বাংলাদেশ। দেশ স্বাধীন, দেশ কি যুদ্ধপরাধী মুক্ত???আজও উনারা কষ্ট পান যখন বলা হয় 'এত বছর পর কেন ওদের বিচার'।

এইসব মহান মুক্তিযোদ্ধাদের কথা আমরা ক'জন জানি বা চিনি,যারা জীবন বাজি রেখে দেশ স্বাধীন করেছিলেন,নতুন প্রজন্ম কতখানি জানে এই মহান যোদ্ধাদের আত্মত্যাগের ইতিহাস। আমরা একটু একটু করে চেষ্টা করতে পারি এইসব মহান যোদ্ধাদের বীরত্বের ইতিহাস বলতে ও লিখতে,নতুন প্রজন্মকে জানাতে।  এভাবেই প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম আমাদের মহান বীর মুক্তিযাদ্ধারা থাকবেন আমাদেরই মাঝে চিরজীবন। এমনই একজন বীর মুক্তিযাদ্ধা আব্দুর রব ফিরোজ,উনার জন্ম বৃহত্তর কুমিল্লার সীমান্তবর্তী অন্চল কসবার চরনাল গ্রামে।

উনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুশেখ মুজিবর রহমানের ডাকে সাডা দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহন করেন। ১৬ এপ্রিল ১৯৭১ তিনি কসবা সীমান্ত পাড় হয়ে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলার দেবীপুর মৌজার মুক্তিযুদ্ধের ক্যাম্পে যোগ দেন।ট্রেনিং শেষ হলে ওনাকে ৪র্থ ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে নিয়োগ দেওয়া হয়।উনি ২ নম্বর সেক্টরে সেক্টর কমান্ডার মেজর জেনারেল খালেদ মোশাররফ(বীর উত্তম) এর অধীনে যুদ্ধে অংশগ্রহন করেন। উনার সাব সেক্টর কমান্ডার ছিলেন লে: কর্নেল আবদুর গাফ্ফার(বীর উত্তম)। মুক্তি যুদ্ধের মাঝামাঝি সময়ে ওনারা সম্মুখ যুদ্ধে অবতীর্ন হন।ওনাদের অন্যতম বড় ধরনের যুদ্ধ জয় ছিল ৩রা নভেম্বর ১৯৭১ 'সালদা নদী' এবং ১৪ ১৫ই আগষ্ট'৭১ 'ডেউস-মন্দভাগ এ্যামবুশ অপারেশন',যা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সমৃদ্ধ বইগুলোতে অসংখ্যবার উল্লেখ করা হয়েছে।

৯ম ইষ্ট বেঙ্গল অধিনায়ক ক্যাপ্টেন আইনউদ্দিন(বীর উত্তম) পরবর্তীতে মেজর জেনারেল এবং ৪র্থ ইষ্ট বেঙ্গল অধিনায়ক লে:কর্নেল গাফ্ফার(বীর উত্তম) যৌথভাবে যুদ্ধ পরিচালনা করে শক্তিশালী পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে পরাভূত করে কুমিল্লা স্বাধীন করেন ৩রা ডিসেম্বর,এই যুদ্ধে বীর মুক্তিযাদ্ধা আবদুর রবসহ ওনার সহযোদ্ধারা বীরত্বের পরিচয় দেন।

১২ই জানুয়ারী ১৯৭২ জয়দেবপুর ক্যানটনমেন্ট থেকে বীরের বেশে উনার বাড়ি কসবার চরনাল গ্রামে ফিরে আসেন। বর্তমানে উনি শিক্ষকতা শেষে আবসরে আছেন।এই নির্লোভ মানুষটির ক্ষোভ মুক্তি যুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করা এবং স্বাধীনতা বিরোধীদের ব্যাপকভাবে রাজনীতিতে অংশগ্রহণ। উনার অহংকার বর্তমান প্রধান মন্ত্রি শেখ হাসিনা,আর জীবনের শ্রেষ্ঠ পাওয়া 'স্বাধীন বাংলাদেশ'আর 'মুক্তি যুদ্ধে' অংশ নেওয়া। আমরা আবদুর রব ফিরোজের দীর্ঘায়ু কামনা করছি। 

 
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ