বিএনপিকে রেজিষ্ট্রারের মধ্যে সীমাবদ্ধ করা যাবে না -জাতীয়তাবাদী ফোরাম

December 31, 2017, 11:10 PM, Hits: 108

বিএনপিকে রেজিষ্ট্রারের মধ্যে সীমাবদ্ধ করা যাবে না -জাতীয়তাবাদী ফোরাম

হ-বাংলা নিউজ :  নিউইয়র্ক:“বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল”(বিএনপি) গণমানুষের সর্ববৃহৎ রাজনীতি দল। দেশ ও প্রবাসে কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ের স্পন্দন এ দলকে রেজিষ্ট্রার করে সীমাবদ্ধ করা যাবে না। যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নামে ইন-কর্পোরেশন করে জ্যাকব মিল্টন ইতিমধ্যে ধৃকিত হয়েছেন। আর গণতান্ত্রিক সংগঠন জাতীয়তাবাদী ফোরামকে ব্যক্তি বিশেষের নামে ইন কর্পোরেশন করেছেন তারাও ধৃকিত হবেন। যারা সংগঠনকে নিয়ে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছেন তারাই আস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হবে। 

গত ২৭ ডিসেম্বর জ্যাকসন হাইটসে জনার্কীন সাংবাদিক সম্মেলনে এ অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ফোরাম অব নর্থ আমেরিকার নেতৃবৃন্দ। সাংবাদিক সম্মেলন সংগঠনের সভাপতি প্রফেসর রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে লিখিত বক্তব্য রাখেন প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি রাফেল তালুকদার। এ সময়ে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠাতা সদস্য সারওয়ার খান বাবু, একেএম রফিকুল ইসলাম ডালিম। পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক গোলাম এন হায়দার মুকুট।লিখিত বক্তব্যে বলেন, দেশে গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধার করতে এবং গণমানুষের হারানো অধিকার ফিরিয়ে আনতে নতুন নিরপেক্ষ, নির্দলীয় সরকারে অধীনে একটি নির্বাচন করা জরুরী হয়ে পড়েছে। গণমানুষের এ সব অধিকার আদায়ে প্রয়োজন ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ফোরাম, যুক্তরাষ্ট্র ২০১২ সালে গঠিত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে বিভেদমান বিএনপিকে ঐক্যবদ্ধ করার প্রয়াসসহ দেশ ও প্রবাসে গণমানুষের অধিকার আদায়ের পথকে সুগম করার লক্ষ্যে। দীর্ঘ ছয় বছর আমরা এ সংগঠনের ছায়াতলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার চেষ্টা  

করেছি। কারণ জাতীয়তাবাদী শক্তির ই আমাদের প্রাণ। এ সংগঠনে কে কখন সদস্য হয়েছে সেটা বড় কথা নয়। সদস্য হওয়ার পর থেকে এ সংগঠনকে যেমনটি পেয়েছি তার চেয়ে অধিকতর সুন্দর করে রেখে যেতে পারলেই বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আত্মা শান্তি পাবে। এই বিশ্বাস ছিল আমাদের প্রত্যেকটা নেতাকর্মীর।

তিনি বলেন, সম্প্রতি ফোরামের কমিটি নিয়ে যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এতে আমাদের কর্মীরা হতাশ নয়। ২০১২ সালে এ সংগঠন মূলে ছিল রাফেল তালুকদার, প্রফেসর রফিকুল ইসলাম, সারওয়ার খান বাবু, একেএম রফিকুল ইসলাম ডালিম। ইতিমধ্যে বিভিন্ন মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পারলাম আমাদের গড়া সংগঠন (বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ফোরাম, যুক্তরাষ্ট্র) কে বা কাহারা রেজিষ্ট্রশন করেছে। এতে আমরা অখুশী নয়। তবে সমস্ত নেতাকর্মীরা মর্মাহত হয়েছে। 

লক্ষ্য যদি ঠিকই শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শ বাস্তবায়নের জন্য থাকে; তাহলে এ বিষয়ে আমাদের কোন কথা নেই। আমরাও চাই যে যেভাবে পারে, দেশ ও প্রবাসে শহীদ রাষ্ট্রপতির জিয়াউর রহমানের আদর্শ এবং বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এবং আগামীর রাষ্ট্রনায়ক তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করতে সংগঠিত হয়ে কাজ করতে। আমরা যখন ফোরামের ব্যানারে সংগঠিত হয়ে কাজ করছি, ঠিক তখন আমাদেরকে না জানিয়ে রেজিষ্ট্রশন করে কর্মীদেরকে হতাশ করা সাংগঠনিক কাঠামোতে পরে না।

লিখিত বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, যে কোন সংগঠন স্বাধীনভাবে কাজ করার অধিকার রাখে। সংগঠন হলেই নেতৃত্বের প্রয়োজন। আমাদেরকে স্বরণ রাখতে হবে, আদর্শ সংগঠনে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা থাকবে কিন্তু পদের লোভ থাকতে পারে না। নেতৃত্বের লড়ায়ে মতাদর্শিক পার্থক্য থাকতে পারে কিন্তু একটি সুসংগঠিত সংগঠনকে বিভক্তি করা যায় না। কারণ একটা সংগঠন দাঁড় করাতে অনেক লোকের শ্রম, মেধা ও অর্থের ক্ষতি সাধিত হয়। শহীদ জিয়ার আদর্শ কর্মীরা মনে করে, সংগঠন বিভক্তি করণ সত্যিই অনৈতিক কাজ। এতে কোন কল্যাণ থাকতে পারে না। 

উদ্বুদ্ধ পরিস্থিতি সংগঠনের কাজ আরো স্বচ্ছ ও গতিশীল হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। ফোরাম প্রতিষ্ঠার পর অনেক বাধাঁ এসেছে। সব বাধাঁ উপেক্ষা করে আজ আমরা ৬ষ্ঠ বছরে পর্দাপন করছে। এবং সকল বাধাঁ বিপত্তি উপেক্ষা করে এ সংগঠন তার ইস্পিত লক্ষে পৌঁছবে ইনশাআল্লাহ। 

তিনি বলেন, বিশ্বায়নের এই যুগে মানুষের সাথে প্রতিযোগিতা শুধু সময়ের। সময়ের সাথে নিরন্তর পাল্লায় যারা যোগ্য, কৌশলী, সৃজনশীল ও পরিশ্রমী তারাই টিকে থাকবে। বাকিরা পিছিয়ে পড়বে এটা প্রতিষ্ঠিত সত্য। প্রবাসে জাতীয়তাবাদী শক্তিকে সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে ইস্পিত লক্ষ্য পৌঁছাতে এবং পুরো উত্তর আমেরিকায় এর পরিধিকে বিস্তৃতি করতে এ সংগঠনটির নামের আংশিক পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন থেকে “বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ফোরাম অব নর্থ আমেরিকা” নামে সংগঠন পরিচারিত হবে। যার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ৯ ডিসেম্বর ২০১২ অপরিবর্তিত থাকবে। বাংলাদেশ বর্তমানে এক ক্রান্তি কাল অতিক্রম করছে। দেশে এমনি একটি সরকার গায়ের জোরে ক্ষমতায় বিদ্যমান আছে, যারা দেশের জনগণের দ্বারা নির্বাচিত নয়, জনগণের দ্বারা পরিচালিত নয় এবং জনগণের কল্যাণে নিয়োজিত নয়। মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও ভোটাধিকার বর্তমানে আওয়ামী সরকারের বাক্সে বন্দি। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও ভোটাধিকার জনগণের কাছে ফেরত দেয়ার জন্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। সে লক্ষ্যে দেশের সকল জনগণকে সাথে নিয়ে জাতীয়তাবাদী শক্তির প্রতিনিধি বিএনপি বর্তমানে এক কঠিন সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। দেশ রক্ষার এই সংগ্রামে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসীদের শরিক করার ব্রত নিয়ে এ সংগঠন যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে ইনশাআল্লাহ। এ সংগঠনের সকল কর্মীরাই হবে আমাদের প্রেরণার উৎস। এ সংগঠনের কার্যক্রমের মাধ্যমে আমরা জাতীয়তাবাদী শক্তি বিশ্বাসী সকলকে উজ্জীবিত করতে চাই। ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ফোরাম অব নর্থ আমেরিকা’র প্রত্যেক কর্মী শহীদ রাষ্ট্রপ্রতি জিয়াউর রহমানের আদর্শকে লালন করে এই সংগঠনকে ইস্পিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে কাজ করে যাবে এ প্রত্যাশা করিছ। 

বিজয় দিবস: সমসাময়িক রাজনীতির উপর আলোচনা সভা

সাংবাদিক সম্মেলনের পর বিজয় দিবস: সমসাময়িক রাজনীতির উপর আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভাপতি প্রফেসর রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি ছিলেন, সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির হারুনুর রশিদ, গেষ্ট অফ অনার ছিলেন, সাবেক সংগঠন সৈয়দা আসিফা আসফারী পাপিয়া, বিশেষ অতিথি ছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহ সভাপতি প্রফেসর দেলোয়ার হোসেন, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সহ সভাপতি আজহারুল হক মিলন, ফোরামে প্রধান উপদেষ্টা হাজী নূরুল ইসলাম, উপদেষ্টা মুক্তিযোদ্ধা মীর মশিউর রহমান, মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি রাফেল তালুকদার, প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও সাবেক সারওয়ার খান বাবু, প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও সাবেক প্রধান উপদেষ্টা একেএম রফিকুল ইসলাম ডালিম। 

বক্তারা বলেন, আমরা সৌভাগ্যবান যে শহীদ জিয়াউর রহমানের মত নেতা আমাদের দেশকে অগ্রগতির পথে নিয়ে এসেছিলেন এবং তারেক রহমানের মত নেতা আমাদের দেশকে ‘ইমার্জিং টাইগার’ পরিচিতি দিয়ে উন্নয়নের রানওয়েতে নিয়ে এসেছিলেন। ষড়যন্ত্রকারীদের কারণে আমাদের উন্নয়নের বিমান উড্ডীন হয়নি। এখন আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে এইসব ষড়যন্ত্র ও ষড়যন্ত্রের হোতাদের মোকাবেলা করে দেশে ও দশের উন্নয়নের জন্য তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা নিতে হবে এবং তার বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারণাকারীদের রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করতে হবে।

 

 
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ