জাতিসংঘের বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়

January 3, 2018, 7:08 PM, Hits: 414

জাতিসংঘের বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়

হ-বাংলা নিউজ : নিউইয়র্ক (ইউএনএ): জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন বলেছেন, নানা কারণেই জাতিসংঘে বিদায় ২০১৭ সাল ছিলো চ্যালেঞ্জের বিষয়। নতুন ২০১৮ সালও চ্যালেঞ্জের বছর হবে। তবে বাংলাদেশ সরকার সহ সংশ্লিস্ট সবার সার্বিক সহযোগিতায় ২০১৭ সালের মতো ২০১৮ সালের সকল চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বাংলাদেশ মিশন সফল হবে বলে আমি আশাবাদী। তিনি বলেন গত বছর জাতিসংঘে রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে বাংলাদেশকে নানা বেগ পেতে হয়েছে। 

তবে রোহিঙ্গা সমস্যা ইস্যু এখন আর শুধু বাংলাদেশের বিষয় না হয়ে আন্তর্জাতিক মহলের নজরদারীতে থাকায় সবার সহযোগিতায় এই সমস্যার সমাধান হবে এবং রোহিঙ্গারা নিজ বাসভুমে ফিরে যেতে পারবেন বলে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। প্রসঙ্গত তিনি বলেন, বিশেষ করে দ্যা নিউইয়র্ক টাইমস’র মতো পত্রিকায় রোহিঙ্গা সমস্যা বিষয়ক একাধিক রিপোর্ট প্রকাশিত হওয়ায় বাংলাদেশ সহজেই আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি কাটতে সক্ষম হয়েছে। যা আমাদের কাজে অনেক সাহায্য করেছে। 

রাষ্ট্রদূত মাসুদ বলেন, বাংলাদেশ মায়ানমারের সাথে ‘বাই লেটারালী’ রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান চায়। ইংরেজী নতুন বছর ২০১৮ সালকে স্বাগত জানিয়ে নিউইয়র্কের বাংলা মিডিয়ার সম্পাদক ও সাংবাদিকদের সাথে শুভেচ্ছা ও মতবিনিময় অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন এসব কথা বলেন। খবর ইউএনএ’র। 

ম্যানহাটানস্থ জাতিসংঘ ভবনের অদূরে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের ‘বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে’ ২ জানুয়ারী মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এই মতনিময় সভার আয়োজন করা হয়। সভার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন রাষ্ট্রদূত মাসুদ মিন মোমেন। এরপর বিদায়ী বছরে জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশনের কর্মকান্ড তুলে ধরেন বাংলাদেশ মিশনে নিযুক্ত উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি তারেক মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম। পরবর্তীতে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সভায় উপস্থিত নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেটে নিযুক্ত কনসাল জেনারেল মোহাম্মদ শামীম আহসান। এরপর রাষ্ট্রদূত মোমেন উপস্থিত সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন এবং নতুন বছর উপলক্ষ্যে সবাইকে সাথে নিয়ে কেক কাটেন। সভা পরিচালনা করেন মিশনের মিনিস্টার (প্রেস) নূর-ই এলাহী মিনা। এসময় মিশনের অন্যান্য কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন বলেন, দেশ-বিদেশে জাতিসংঘে বাংলাদেশের সাফল্য তুলে ধরতে গণমাধ্যমের ভূমিকা অনস্বীকার্য। প্রবাসে সাংবাদিকদের সৃজনশীল যেকোন উদ্যোগে বাংলাদেশ মিশন পাশে থাকবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিগত আগষ্ট মাসের পর থেকে নিউইয়র্ক টাইমস রোহিঙ্গা বিষয়ে একাধিক রিপোর্ট প্রকাশ করায় রোহিঙ্গা সমস্যার ব্যাপারে জাতিসংঘে বাংলাদেশের কথা বলা সহজ হয়। এর আগে এবিষয়ে অনেক বেগ পেতে হয়েছে। এজন্য তিনি নিউইয়র্ক টাইমস-এর লেখক ও সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানান এবং প্রয়োজনে তাদের সাথে মতবিনিময় করতে বাংলা মিডিয়ার সাংবাদিকরা উদ্যোগ নিয়ে মিশন সহযোগিতা করবে। তিনি বলেন, জাতিসংঘের ১৯৩টি দেশের সকলেই ইংরেজী ভালো না বুঝলেও নিউইয়র্ক টাইমস’র খবর অনেকের দৃষ্টি কেড়েছে। ১৯৭১ সালে বিবিসি সহ বিশ্ব গণমাধ্যম যেমন বিশ্ববাসীর দৃষ্টি কাড়তে সক্ষম হয়েছিলো, তেমনী আমেরিকার মিডিয়াগুলোয় রোহিঙ্গাদের খবর আমাদের সাহায্য করেছে। জাতিসংঘ আর আন্তর্জাতিক মহলের সহযোগিতায় রোহিঙ্গারা তাদের নিজ বাসভূমিতে ফিরে যাবে বলে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।   

কনসাল জেনারেল শামীম আহসান সবাইকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, নিউইয়র্ক ও লস এঞ্জেলেস কনস্যুলেট দ্বি-পক্ষিকভাবে বাংলাদেশ মিশন ও দূতাবাসের সাথে কাজ করছে। আগামী দিনেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে। 

মতবিনিময় অনুষ্ঠানে উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি তারেক মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম তার লিখিত বক্তব্যে ইরেজী নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশনের ২০১৭ সালের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম ও অর্জনের বিষয়গুলো বিশেষ করে জাতিসংঘের ৭২তম সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যোগদান, রোহিঙ্গা সমস্যা, জাতিসংঘের এসডিজি প্রসঙ্গ, নিরস্ত্রীকরণ কার্যক্রম, শান্তি রক্ষা কার্যক্রম, পিসবিল্ডিং কনফ্লিক্ট ও নিরাপত্তা, ইউএন রিফর্ম, কাউন্টারিং টেরোরিজম এন্ড প্রিভেন্টিং ভায়োলেন্ট এক্সিট্রিমিজম, জলবায়ু পরিবর্তন, অভিবাসন, বিভিন্ন থিমেটিক বিষয়ক আইনগত প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ, ১৯৭১-এর গণহত্যা, নিরাপত্তা পরিষদের কার্যক্রম, কালচার অব পিস রেজুলেশন, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, সিএমডব্লিউ নির্বাচন, পাবলিক ডিপ্লোম্যাসি প্রভৃতি তুলে ধরেন।

এছাড়াও তিনি ২০১৮ সালের জাতিসংঘের সম্ভাব্য তিনটি চ্যালেঞ্জ যথাক্রমে কিছু কিছু রাণ্ট্রের বহুপাক্ষিক কূটনীতি হতে সরে আসা এবং আসার ইঙ্গিত, জাতিসংঘে বাজেট হ্রাস এবং এসডিজি বাস্তবায়নে অর্থায়নের অপ্রতুলতার কথাও তুলে ধরেন উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি তারেক মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম। তিনি বলেন, আমরা বছরব্যাপি চেষ্টা করেছি জাতিসংঘে আমাদের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম, অবদান বা অর্জনকে মিডিয়ার মাধ্যমে তুলে ধরার জন্য। গত বছর মিশনের এই প্রচেষ্টা বিগত অনেকগুলো বছরের তুলনায় বেশী ছিল। বিশেষ করে রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে ধারাবাহিকভাবে আমাদের এ ইতিবাচক ভূমিকা জাতিসংঘসহ সর্বমহলে সমাদৃত হয়েছে। রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর মানবিক ও দায়িত্বশীল পদক্ষেপ উন্নয়নশীল দেশ হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে উদার দেশ হিসেবে পরিচিত করেছে। বিশ্ব সম্প্রদায় বার বার বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানিয়েছে। যা বাংলাদেশকে আরেকটি নতুন পরিচয়ে অভিষিক্ত করেছে। কূটনৈতিকভাবে বাংলাদেশকে অধিকতর মর্যাদার আসনে আসীন করেছে।

অনুষ্ঠানের প্রশ্নোত্তর পর্বে এক প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন বলেন, রোহিঙ্গাদের সরানো বা ফিরিয়ে নেয়ার ব্যাপারে মায়ানমার ছাড়া তৃতীয় কোন দেশের সাথে বাংলাদেশের কোন যোগাযোগ হয়নি। 

অপর এক প্রশ্নের উত্তরে রাষ্ট্রদূত বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে বহু মাত্রিক সম্পর্ক বিরাজমান। অপর এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বাংলাদেশে সুষ্ঠু, অবাদ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যাপারে জাতিসংঘ টেকনিক্যাল সাপোর্ট দিতে রাজী আছে। 

অপর এক প্রশ্নের উত্তরে রাষ্ট্রদূত মাসুদ বলেন, জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ দেয়ার সময় সন্ধ্যায় বিষয়টি আমাদেরও দৃষ্টিগোচর হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র সহ বিভিন্ন দেশের প্রায়োরিটি থাকায় বাংলাদেশের সময় সন্ধ্যায় পড়ে যাচ্ছে। তবে আমরা চেষ্টা করছি প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ দেয়ার সময় এগিয়ে আনা যায় কিনা। অপর এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন চলাকালীন সময় মূল অধিবেশনে সকল দেশের জন্য ৬টি আসন বরাদ্দ থাকে এবং অন্তত একজন প্রতিনিধি অধিবেশন কক্ষে থাকার কথা। আমরা চেষ্টা করছি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের সময় যাতে অধিবেশনের আসন কম খালি থাকে। 

 

 
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ