বঙ্গবন্ধু নাট্যগ্রন্থটি পাঠ্যপুস্তক করতে পেরে আমরা আনন্দিত

January 14, 2018, 5:18 PM, Hits: 510

বঙ্গবন্ধু নাট্যগ্রন্থটি পাঠ্যপুস্তক করতে পেরে আমরা আনন্দিত

হ-বাংলা নিউজ :  ‘ এই বাংলাদেশে অনেক দেশ বরেণ্য নেতা জন্ম গ্রহন করেছেন। এদেশের মানুষকে পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করে একটি স্বাধীন-সার্বভৌম ও গর্বিত জাতি সত্ত্বার স্বাধীন দেশ প্রতিষ্ঠার জন্য শত শত বছর ধরে এ মাটির অনেক সšতানই উল্লেখযোগ্য ভুমিকা রাখার চেষ্টা করেছেন। তাদের প্রত্যেকের কাছেই আমরা ঋণী। তবু একথা স্বীকার করতেই হবে ঃ নির্যাতন বরণ, নিয়মতান্ত্রিক সংগ্রাম, আপোষহীন নেতৃত্ব এবং যুগপৎ আন্দোলনের ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যুগাšত সৃষ্টিকারী এক নেতা। তাঁর ত্যাগ, সাহস ও ব্যক্তিত্ব অতুলনীয়। 

তিনি নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনকে রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, ধৈর্য্য ও নেতৃত্বের প্রভাবে রূপাšতরিত করেছেন ঐক্যবদ্ধ বিপ্লবে। বিপ্লবকে পরিণত করেছেন সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে। আর মুক্তিযুদ্ধের ফসল আমাদের প্রাণপ্রিয় স্বাধীনতা। বাংলাদেশের ১ম সংবিধানের ৩৪ নং অনুচ্ছেদে বঙ্গবন্ধুর নাম জাতির পিতা হিসেবে উল্লেখ থাকা সত্বেও, তাঁর মৃত্যুর পর ষড়যন্ত্রের নোংরা রাজনীতির জন্য বঙ্গবন্ধুকে মূল্যায়নের সুযোগও বঞ্চিত করা হয়েছিল। ১৯৭৫-এর পরবর্তী ২১ বছর যাবৎ ষড়যন্ত্রের নোংরা রাজনীতির জন্য বঙ্গবন্ধুর অবদানকে ইচ্ছাকৃতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে। আমাদের চেতনাদীপ্ত ইতিহাসের অনেক প্রসঙ্গ বিতর্কিত করা হয়েছে। এজন্য জাতি হিসেবে আমরা অনেক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছি। এই অবস্থার পরিবর্তন একান্ত জরুরী। 

নিউইয়র্ক প্রবাসী নাট্যকার খান শওকত তার রচিত নাট্যগ্রন্থ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব-এ আমাদের ইতিহাসের অনেক বিষয় তথ্য ভিত্তিকভাবে তুলে ধরেছেন যা পড়ে আমাদের ইবাইস বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আকৃষ্ট হয়েছেন। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭০ জন অধ্যাপকের সভায় এগ্রন্থটি নিয়ে চুলচেরা আলোচনার পর ইংরেজী সাহিত্য বিভাগে এগ্রন্থটি পাঠ্যপুস্তক করলাম। এটি একদিকে যেমন বঙ্গবন্ধুর কর্মের মূল্যায়ন এবং তার আদর্শ ও চিন্তার প্রসারের প্রতি সম্মান দেখানো হলো, অন্যদিকে একজন প্রবাসী লেখকের লেখনী বাংলাদেশের তরুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরে প্রবাসীদের কর্মের স্বীকৃতির জন্য ভূমিকা রাখতে পেরে আমরা আনন্দিত। আমার বিশ্বাস এ নাট্যগ্রন্থটি বাংলাদেশের একটি জনপ্রিয় ঐতিহাসিক নাটক হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি পাবে।' কথাগুলো বলছিলেন গাঙচিল আসরে প্রধান অতিথী উত্তরাস্থ ইবাইস বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য্য ড. জাকারিয়া লিংকন। 

প্রবাসের সাহিত্য,সঙ্গীত, আবৃত্তি ও অভিনয় চর্চা বিষয়ক সংগঠন গাঙচিল সাহিত্য-সংস্কৃতি পরিষদের আয়োজনে গত ৭ই জানুয়ারী তারিখে অনুষ্ঠিত ৮৩তম আসরে তিনি উপরোক্ত কথাগুলো বলেন। তিনি আরও বলেন: জনশ্রুতি আছে জিয়াকে ডিঙ্গীয়ে শফিউল্লাহকে সেনাপ্রধান করায় বঙ্গবন্ধু হত্যায় জড়িত হন মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার ৯ দিন পর ১৯৭৫ এর ২৪ আগষ্ট তারিখে জিয়াকে সেনা প্রধান করেন খন্দকার মোশতাক আহমেদ। ১৯৭৪ সালে কুমিল¬া সেনা-নিবাসে শৃঙ্খলা ভঙ্গের ঘটনায় ২২ জন সেনা-সদস্যকে চাকরী থেকে বাধ্যতামূলক অবসর দেন বঙ্গবন্ধু। ১৯৭৫ এর ১৫ই আগষ্টে তারাই ঘটিয়েছিলো নারকীয় হত্যাকান্ড। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর হত্যাকারী ১৭জন সেনা কর্মকর্তাকে ১৯৭৫ এর ৩রা নভেম্বরে বিভিন্ন দূতাবাসে নিয়োগ দেয়া হয় মোশতাক আমলে। ১৯৭৭ এর মে মাসে মেজর নূর চৌধূরী, মেজর ডালিম, মেজর শাহরিয়ার, মেজর রাশেদ চৌধূরী সহ বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদেরকে সেনা-বাহিনীর চাকুরীতে ফিরিয়ে আনা হয় জিয়া আমলে। বঙ্গবন্ধু এবং তার পরিবারের সদস্যদের হত্যাকান্ডের বিচার বন্ধের জন্য ১৯৭৯ সালের ৯ই জুলাই তারিখে ইনডেমনিটি বিলটি সংবিধানে সংযুক্ত করা হয় জিয়া আমলে। অশান্ত সময়ের সেনা রাজনীতির এমন অনেক অজানা প্রসঙ্গ উঠে এসেছে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব’ নাটকে।

প্রধান অতিথিকে পুষ্পস্তবক অর্পন করেন কবি ফারজানা আফরোজ। এম লিয়াকত আলীর সভাপতিত্বে পরিচালিত এ আসরে বিশেষ অতিথী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক ও আলোকচিত্রী রিমন ইসলাম, কবি ও ফার্মাসিষ্ট আমিনুর রশিদ পিন্টু, দৈনিক জনকণ্ঠের নিয়মিত কলামিষ্ট প্রদীপ মালাকার, প্রবীন ব্যাংকার ও কবি রওশন আরা বেগম এবং গাঙচিল এর প্রতিষ্ঠাতা নাট্যকার খান শওকত। তরুন কবি ফারজানা আফরোজ এর চমকার উপস্থাপনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন: ডা: নার্গিস রহমান, শাহানাজ বেগম লিপি, কানিজ আয়শা, তানিয়া মুনতাজ, হরি নারায়ন বিশ্বাস, মোজাম্মেল সিকদার, এম এম হক, আবু নাসের, জালাল পাটোয়ারী, রকিবুল ইসলাম এবং সুপ্রভাত বড়–য়া। ঐতিহাসিক নাটক: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব গ্রন্থখানা ইবাইস বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজী সাহিত্য বিভাগে পাঠ্য-পুস্তক করার জন্য: গাঙচিল এর পক্ষ থেকে ড: জাকারিয়া লিংকন-কে ধন্যবাদ জানান সহ: সভাপতি ডা: নার্গিস রহমান এবং এম লিয়াকত আলী। মহান মুক্তিযুদ্ধে ১১টি সেক্টর রয়েছে। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রকে ১২ নং সেক্টরের মর্যাদা প্রদান এর দাবী জানানো হয় এ আসর থেকে। নিজেদের রচিত গ্রন্থ প্রধান অতিথীর হাতে তুলে দেন আমিনুর রশিদ পিন্টু এবং প্রদীপ মালাকার। স্বরচিত কবিতা পাঠ এবং সঙ্গীতানুষ্ঠানের পর অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। দর্শকরা মুগ্ধ চিত্তে পিন-পতন নীরবতায় আলোচনা উপভোগ করেন এবং করতালি দিয়ে অভিনন্দিত করেন। সবশেষে এম লিয়াকত আলী সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষনা করেন। বরাবরের মতো প্রতিমাসের ১ম রোববার হিসেবে আগামী ৪ ফেব্রুয়ারী তারিখে জ্যাকসন হাইটসে (৭১-২৪ রুজভেল্ট এভিন্যু, দোতলা) অনুষ্ঠিত হবে গাঙচিল এর ৮৪ তম নিয়মিত আসর। অংশ গ্রহণে আগ্রহীদেরকে ৯১৭-৮৩৪-৮৫৬৬ এবং ৬৩১-২৯০-১০৪৫ নং এ যোগাযোগের আহ্বান জানানো হয়েছে।

  

 
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ