আরাফাত রহমান কোকো'র ৩য় মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি

January 26, 2018, 9:38 AM, Hits: 603

আরাফাত রহমান কোকো'র ৩য় মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি

হ-বাংলা নিউজ, হলিউড থেকে:  আরাফাত রহমান কোকো'র ৩য় মৃত্যুবার্ষিকীতে গণমাধ্যমে বিবৃতি দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ক্যালিফোর্ণিয়া শাখা। আজ ২৪ জানুয়ারি বুধবার মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বাংলাদেশের প্রথম নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান (বীর উত্তম) ও বিএনপি চেয়ারপারসন, সাবেক তিনবারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কনিষ্ঠ পুত্র, বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক আরাফাত রহমান কোকোর তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী। ক্যালিফোর্ণিয়া বিএনপির সভাপতি মোঃ আঃ বাছিত ও সাধারণ সম্পাদক বদরুল আলম চৌধুরী শিপলু স্বাক্ষরিত এ বিবৃতিতে বলা হয়-

২০১৫ সালের ২৪ জানুয়ারি দেশের গণ-আন্দোলনের এক শ্বাসরুদ্ধকর সময়ে মা বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া গুলশানের নিজ অফিসে পুলিশি অবরুদ্ধ থাকাবস্থায় মালয়েশিয়ায় আকস্মিক মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন আরাফাত রহমান কোকো। তার অকালমৃত্যুতে দেশবাসী শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়েছিল। অবরুদ্ধ মা বেগম খালেদা জিয়ার প্রিয় পুত্রের লাশ ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন। সরকারের পক্ষে তার লাশ দেখা ও সমবেদনা নিয়ে করা হয়েছিল ঘৃণ্য রাজনীতির কূটকৌশল। সাবেক প্রেসিডেন্ট ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর আদরের ছোট সন্তান হলেও কোকোকে দেশ-বিদেশের মানুষ প্রথম তাকে জানতে পারে ১/১১-এর সেনাসমর্থিত মইন-ফখরুদ্দীন সরকার কর্তৃক মা বেগম জিয়ার সাথে ২০০৭ সালের ৩ সেপ্টেম্বর তার গ্রেফতারের পর থেকেই। 

রিমান্ডে নিয়ে শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রচন্ড নির্যাতন করে তাকে পঙ্গু করা হয়। নির্যাতনের ফলে কোকোর হৃদযন্ত্রে সমস্যা দেখা দেয়। সে সময় সংবাদপত্রের ছবি এবং টিভির ভিডিওগুলোর কথা যাদের মনে আছে তারা হয়ত স্মরণ করতে পারবেন যে, কোকোকে সব সময় বুক চেপে ধরে থাকতে দেখা যেত। সেই সময় থেকেই তিনি হৃদযন্ত্রের সমস্যায় ভুগছিলেন। ২০০৮ সালের ১৭ জুলাই জামিনে মুক্তি পেয়ে চিকিৎসার জন্য সপরিবারে থাইল্যান্ডে যান কোকো। সেখান থেকে তিনি মালয়েশিয়ায় স্ত্রী ও দুই কন্যাসহ অবস্থান করছিলেন। একদিকে বিদেশে তিনি গুরুতর অসুস্থ ছিলেন, অন্যদিকে দেশে মা বেগম খালেদা জিয়ার ওপর সরকারের অত্যাচার-নির্যাতনের খবরে তিনি ছিলেন চরম দুশ্চিন্তাগ্রস্ত। এ অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন।

উল্লেখ্য যে, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীরউত্তম ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ঘর আলোকিত করে ১৯৭০ সালের ১২ আগস্ট আরাফাত রহমান কোকো জন্মগ্রহণ করেছিলেন। এর কিছুদিন পরই শুরু হয় আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ। বাবা তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সাথে বিদ্রোহ করে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের শুরু করে দেন। মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে কিছুদিন আত্মগোপন করে থাকার পর ১৬ মে ১৯৭১ সালে নৌপথে মা বেগম খালেদা জিয়া দুই পুত্রসহ ঢাকায় চলে আসেন। বড় বোন খুরশীদ জাহানের বাসায় ১৭ জুন পর্যন্ত থাকেন সপরিবারে।

২ জুলাই ১৯৭১ সিদ্ধেশ্বরীতে এস আব্দুল্লাহর বাসা থেকে পাকিস্তানি সেনারা দুই পুত্র তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকোসহ মা বেগম খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার করে। ১৯৭১ সালের ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট বন্দি ছিলেন। ১৬ ডিসেম্বর ’৭১ বাংলাদেশ স্বাধীন হলে মা-ভাইসহ কোকোও মুক্তি পান। ১৯৮১ সালের ৩০ মে পিতা প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান একদল বিপথগামী সেনা সদস্যের হাতে শহীদ হওয়ার পর মা বেগম খালেদা জিয়ার একক স্নেহ, ভালোবাসা ও সার্বিক তত্ত্বাবধানে বড় হয়ে ওঠেন আরাফাত রহমান কোকো। ছোটকাল থেকেই চুপচাপ স্বভাবের কারণেই তার ওপর মার দুর্বলতাটা একটু বেশিই ছিল। রাজনৈতিক পরিবারে তার জন্ম হলেও তিনি রাজনীতিক হিসেবে নয়, একজন ব্যবসায়ী ও ক্রীড়া সংগঠক হিসেবেই বেশি পরিচিত ছিলেন।

ব্যবসা, ক্রীড়া ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডেই নিজেকে সর্বদা নিয়োজিত রেখেছিলেন। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সন্তান হয়েও তার মধ্যে কোনো অহঙ্কার ছিল না। একজন সাধারণ মানুষের মতো তিনি জীবনযাপন করতেন।

ক্যালিফোর্ণিয়া বিএনপি'র বিবৃতিতে আরও বলা হয়, মিতভাষী, সজ্জন এ মানুষটির খুব ঘনিষ্ঠজনরা জানেন তার সাদাসিধে জীবন সম্পর্কে। একজন সাবেক প্রেসিডেন্ট এবং প্রধানমন্ত্রীর ছেলে হয়েও নব্বইয়ের দশকে তিনি বাকিতে মোটরসাইকেলের তেল কিনতেন। অবিশ্বাস্য মনে হতেই পারে। এ ছাড়া তিনি মাঝেমধ্যেই খেলনা আর চকলেট নিয়ে পথশিশুদের কাছে ‘সারপ্রাইজ’ হিসেবে হাজির হতেন। তাদের সাথে ক্রিকেট খেলতেন। মালয়েশিয়ায় অবস্থানকালেও তিনি খুবই সাদাসিধে জীবনযাপন করতেন। একটি দুই বেডের ভাড়া বাসায় স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে থাকতেন। নিজেই প্রতিদিন দুই মেয়েকে স্কুলে নিয়ে যেতেন এবং নিয়ে আসতেন। বিনয়ী ও প্রচারবিমুখ কোকোর চরম শত্র“রাও তার ব্যক্তিচরিত্রের কোনো ত্র“টির কথা বলতে পারবেন না। 

ক্রিকেটপ্রেমী হিসেবে বাংলাদেশের ক্রিকেটের উন্নয়নে এ ক্রিকেটপ্রেমী ছুটে বেড়িয়েছেন শহর থেকে গ্রামে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হিসেবে ২০০৩ সালে কাজ শুরু করেছিলেন তিনি। সেই সাথে বিসিবির একজন সদস্যও ছিলেন তিনি। ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে ক্রিকেটের উন্নয়নের জন্য যে কর্মসূচি শুরু করেছিলেন তিনি বর্তমানে তার সুফল পাচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। জাতীয় পর্যায়ে ক্রিকেট খেলোয়াড় তৈরি করার জন্য ক্রিকেটকে জেলা থেকে শুরু করে উপজেলা, গ্রাম পর্যায়ে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন তিনি। তাছাড়া তিনি মোহামেডান ক্লাবের এক্সিকিউটিভ কমিটির কালচারাল সেক্রেটারি ছিলেন। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সাথে যুক্ত হওয়ার পর ক্রিকেটের অনেক উন্নয়ন করেছেন তিনি। ক্রিকেটের উন্নয়নের জন্য যা যা করার দরকার তাই করেছেন মরহুম এই ক্রীড়াপ্রেমী।

আরাফাত রহমান কোকো'র তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকীর বিবৃতিতে ক্যালিফোর্ণিয়া বিএনপি'র পক্ষে স্বাক্ষর করেছেনঃ মোঃ আঃ বাছিত, বদরুল আলম চৌধুরী শিপলু, সৈয়দ দেলোয়ার হোসেন দিলির, নজরুল ইসলাম চৌধুরী কাঞ্চন, খন্দকার আলম, আবুল ইব্রাহিম, মুর্শেদুল ইসলাম, মাহবুবুর রহমান শাহীন, সালাম দাঁড়িয়া, মানিক চৌধুরী, মাতাব আহমদ, আব্দুল হাকিম, মিশর নুন, আবু তাহের সাজু, এ আর মাহবুবুল হক, মুরাদ হামিদ খান সানী, সাইদ আবেদ নিপু, ফারুক সরকার, খন্দকার তসলিম, মোঃ সামছুল ইসলাম, জহিরুল কবির হেলাল, মোঃ শাহজাহান, হাসানুজ্জামান মিজান, বাদল, সৈয়দ নাসিরউদ্দিন জেবুল, মোয়াজ্জেম আহমেদ রাসেল, মারুফ খান, ইলিয়াস মিয়া, লায়েক আহমেদ, বদরুল আলম মাসুদ, 

শাহীন হক, শাহতাব কবির ভূঁইয়া শান্ত, নাঈমুল ইসলাম চৌধুরী, হোসেন আহমেদ, রেজাউল হায়দার চৌধুরী, হুমায়ুন কবির, মিজানুর রহমান, খসরু রানা, শাহানুর কবির ভুঁইয়া শুভ্র, আজমউদ্দিন চৌধুরী দুলাল, সুমেন আহমেদ, রেজাউল করিম জামিল, জুয়েল আহমেদ, কামরুল হাসান তরুন, মিকায়েল খান রাসেল, খায়রুল ইসলাম, তানভীর আহমেদ, জাভেদ বখত্ , আবদুল মোতালেব, আলতাফ হোসেন, আহসান আহমেদ, মিল্টন খান, ওমর ফারুক, কামাল হোসেন, ফয়সল হোসেন সিদ্দিক, আমজাদ হোসেন, খোরশেদ আলম রতন, জিল্লুর রহমান চৌধুরী, তারেক খান, রওনক সালাম, তাসনুভা বেগম, রুহুল আমিন বাবু, 

সাজ্জাদ পারভেজ, হেলাল মজুমদার, ইসলাম উদ্দিন, শাহেদ আহমেদ, সিদ্দিক আহমেদ, জুনেল আহমেদ, মোঃ গোলাম সারোয়ার হোসেন, ইলিয়াস শিকদার, আবুল বাশার, আবদুল আহাদ, আবদুল হাকিম, কামরুল আলম চৌধুরী, গিয়াস আহমদ, মজিবর রহমান, ফখরুল ইসলাম, নজরুল ইসলাম, মোঃ শামীম উদ্দিন, আবদুল মুনিম, আশিকুর রহমান, হাবিবুর রহমান, আবদুল হাসিব বাবুল, আবদুল কাদির, মাঈনুল আহমেদ, রিপন চৌধুরী, এড. নুরুল হক, জামিল আহমেদ, মোঃ রহমান রফিক, সফিকুল ইসলাম পলাশ, আবুল কালাম আজাদ, মোঃ মুকুল, আবদুল্লাহ আল ফরহাদ, এনাম চৌধুরী, মোঃ আলম খোকন, সৈয়দ আলী আক্তার, রফিকুল আলম চৌধুরি প্রমুখ। 

 
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ