মুমিনুল–লিটনের দৃঢ়তায় জয়ের সমান ড্র

February 4, 2018, 8:04 AM, Hits: 660

মুমিনুল–লিটনের দৃঢ়তায় জয়ের সমান ড্র

হ-বাংলা নিউজ : মাহমুদউল্লাহ উইকেটেই ছিলেন। তাই আক্ষরিক অর্থেই দুই অধিনায়ক এগিয়ে এসে হাত মেলানোর সুযোগ পেলেন। সে হাত মেলানোই নিশ্চিত করল, চতুর্থ দিনের ১২ ওভারের নাটকের পরও বাংলাদেশ হারছে না চট্টগ্রাম টেস্ট। সিরিজের প্রথম টেস্টে ড্র মেনে নিয়েছে দুই দল। পঞ্চম দিনের ১৭টি ওভার তাই অব্যবহৃত থাকল।প্রতীক্ষার ক্ষণগণনা শুরু ৭০তম ওভার থেকে। সেই ওভারের শেষ বলে মুমিনুল হক গেলেন স্ট্রাইকে। গ্যালারির আসন ছেড়ে উঠে দাঁড়ালেন দর্শকেরা। গোটা বাংলাদেশও কী উঠে দাঁড়িয়েছিল! সবার চোখেমুখে তখন এক বিরল দৃশ্যের সাক্ষী হয়ে থাকার তৃষ্ণা। কিন্তু লাহিরু কুমারার শেষ বলটি শর্ট অব লেংথ থেকে বেশ উঠে আসায় মুমিনুল খেলার চেষ্টাই করলেন না। বাড়ল প্রতীক্ষা।

মুমিনুল স্ট্রাইক পেলেন পরের ওভারের চতুর্থ বলে। ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে বরাবর কাট করেছিলেন। বল ফিল্ডারের হাতে জমা পড়ায় রান হলো না। গ্যালারিতে উৎকণ্ঠা। হবে তো! পরের বলেই হয়ে গেল। সান্দাকানের ঝুলিয়ে দেওয়া ডেলিভারিটি অফ সাইডে ঠেলে দিয়েই জায়গা বদল করলেন মুমিনুল। এরপর সেই চিরাচরিত সেঞ্চুরির উদ্‌যাপন। শ্রীলঙ্কার ড্রেসিং রুম থেকে চন্ডিকা হাথুরুসিংহে দৃশ্যটি নিশ্চয়ই দেখেছেন?

দেখে থাকলে তিনি কী ভেবেছেন, বাংলাদেশের কোচ পদে আসার পর টেস্টে মাত্র ১ সেঞ্চুরি ছিল মুমিনুলের। তিনি আসার পর ক্যারিয়ার নিয়েই শঙ্কা জন্মেছিল মুমিনুলের। কিন্তু প্রতিপক্ষ দলের কোচ হিসেবে হাথুরুর বিপক্ষে প্রথম ম্যাচেই সেই একই ব্যাটসম্যান সেঞ্চুরি তুলে নিলেন দুই ইনিংসেই! এটা কি ক্রিকেটের লীলা, না অবহেলার জবাবে চোয়ালবদ্ধ প্রতিজ্ঞায় দেওয়া সামর্থ্যের বিবৃতি?জহর আহমদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে মুমিনুল তাঁর উইলো দিয়ে সেই বিবৃতি লিখতে গিয়ে গড়েছেন ইতিহাস। টেস্টে এ পর্যন্ত ৮৭ ক্রিকেটার বাংলাদেশের সাদা জার্সি গায়ে তুলেছেন। তাঁদের মধ্যে প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে টেস্টে দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরি তুলে নিলেন মুমিনুল। ভীষণ চাপের মধ্যে মুমিনুলের গড়া এই কীর্তি নেই শচীন টেন্ডুলকারেরও!

বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে ১৭৬ রান করার পর দ্বিতীয় ইনিংসে ১০৫ রান করে ধনঞ্জয়ার শিকার হন মুমিনুল। তাঁর আউটের মধ্যে দিয়ে ভেঙে যায় চতুর্থ উইকেটে বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে সর্বোচ্চ ১৮০ রানের জুটি। মুমিনুল ফেরার পর বেশিক্ষণ থাকেননি লিটন দাসও। প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরির সুবাস পেতে পেতে তাঁর কী হয়েছিল কে জানে! ব্যক্তিগত ৯৪ রানে হেরাথের বলটি কেন তুলে মারতে গেলেন, সেটা শুধু্ লিটনই বলতে পারবেন।ধনঞ্জয়ার যে বলটিতে মুমিনুল আউট হলেন, তার চেয়ে ঢের কঠিন বল এই ইনিংসেই খেলেছেন তিনি। কিন্তু দীর্ঘ সময় ব্যাটিংয়ের ক্লান্তিতেই কি না, ধনঞ্জয়া অফস্টাম্প দিয়ে বেরিয়ে যাওয়া বলটিতে ব্যাট পেতে দিলেন। ব্যাটের কানায় লেগে সেটি চলে গেল স্লিপে দাঁড়ানো দিমুথ করুণারত্নের হাতে।চট্টগ্রামের জহুর আহমদ চৌধুরী স্টেডিয়াম এই টেস্টে তাঁকে দুহাত ভরে দিয়েছে। দ্বিতীয় ইনিংসেও তাঁকে ফিরিয়ে দেয়নি। তাঁর অসাধারণ এই ইনিংসে ব্যক্তিগত রেকর্ডের পাতা সমৃদ্ধ হয়েছে ঠিকই, কিন্তু এটি ইনিংস পরাজয়ের লজ্জা থেকে বাংলাদেশকে রক্ষা করেছেন। রেকর্ডের চেয়েও এই সেঞ্চুরির মহিমা এটিই। তাঁর এই ইনিংসটি তিনি সাজিয়েছেন ১৭৪ বলে, ৫টি চার ও ২ ছক্কায়।লিটন-মুমিনুল চতুর্থ উইকেটে ১৬৭ রানের জুটি গড়ার সময়ই আগের রেকর্ডটি ছুঁয়ে ফেলেন। চতুর্থ উইকেট এর আগে সর্বোচ্চ রানের জুটি ছিল নাঈম ইসলাম ও সাকিব আল হাসানের, ২০১২ সালে ঢাকায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। 

 
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ